ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বগুড়ায় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভোটগ্রহণ চলছে


বগুড়ায় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভোটগ্রহণ চলছে

বগুড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে বিরতিহীনভাবে ভোটারগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এটি চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দীর্ঘ দেড় যুগ পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন বগুড়ার ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, ভোটের প্রথম এক ঘণ্টাতেই শতাধিক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। দীর্ঘ সময় পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। এবারের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১২টি পদের বিপরীতে ২৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ১ হাজার ৭৭ জন ভোটার তিনটি আলাদা ব্যালটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের নেতৃত্ব বেছে নেবেন।

নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে দুটি প্যানেলের মধ্যে, বিএনপি সমর্থিত ‘বাদল-হিরু প্যানেল’ এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘সেলিম-এরশাদ প্যানেল’। এর বাইরে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনি মাঠে লড়ছেন। চেম্বারের সভাপতি পদে সরাসরি দ্বিমুখী লড়াই হচ্ছে দুই প্যানেলের শীর্ষ নেতার মধ্যে। বাদল-হিরু প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এমএসএম আতিকুর রহমান বাদল ‘গোলাপ ফুল’ প্রতীক এবং সেলিম-এরশাদ প্যানেলের মো. সেলিম রেজা ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আরও পড়ুন: ৩নং বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নবাসীর আমৃত্যু সেবক হয়ে কাজ করতে চান,চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ নাসির মিয়া

সহ-সভাপতি পদের ৪টি প্রতীকের বিপরীতে বাদল-হিরু প্যানেল থেকে মো. হামিদুল হক চৌধুরী হিরু (আনারস), সেলিম-এরশাদ প্যানেল থেকে মো. এরশাদুল বারী এরশাদ (হারিকেন) এবং মো. মামুনুর রশিদ মামুন (মোমবাতি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহামুদুর রহমান শিপন (খেজুরগাছ) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এছাড়া পরিচালক পদের জন্য ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে দুই প্যানেলের ১৮ জন এবং ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বগুড়া চেম্বারে সর্বশেষ সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৭ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় বিনা ভোটে কমিটি গঠিত হওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রথমে প্রশাসক এবং পরবর্তীতে জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুনকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের এই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হস্তান্তরের আগেই সেতুর পার্শ্বদেয়ালে ধস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৬ পি.এম


হস্তান্তরের আগেই সেতুর পার্শ্বদেয়ালে ধস

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর এলাকায় নির্মীয়মাণ সেতুর পার্শ্বদেয়াল সম্প্রতি ভেঙে হেলে পড়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে নুরাইনপুর খালের ওপর, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর নির্মাণ কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসন কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। হস্তান্তরের আগেই ভেঙে পড়া পার্শ্বদেয়াল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। উপজেলায় প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ৩০ মে ২০২৪ তারিখে এই সেতুর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সেতুটির জন্য দায়িত্ব পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লুকাইয়া ট্রেডার্স, হাজির হাট। কাজটি ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতুর জন্য নির্ধারিত ছিল। এর বরাদ্দকৃত অর্থ ছিল এক কোটি ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯ টাকা। কাজটি ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কাজের সিডিউল অনুসরণ না করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে শুরু থেকেই। নির্মাণ কাজের সময়ে নেমে এসেছে নানা অনিয়ম। সেতুর তলদেশের বিম সমতল না করে উঁচু-নিচু রাখা হয়েছে এবং গ্রেড বিম বাঁকা হয়ে গেছে। কাজের সময় প্রতিবাদ করলেও ঠিকাদারের লোকজনরা তা উপেক্ষা করেছেন। শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নুরাইনপুর খালের ওপর নির্মীয়মাণ সেতুর পশ্চিম পাশের একটি পার্শ্ব দেয়াল দুই ভাগ হয়ে গেছে। পূর্ব পাশের বাকি দুটি পার্শ্বদেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, যা ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘সেতুর কাজ শুরু করার পর দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। ঠিকাদার ইচ্ছেমতো কাজ করেছেন। অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করা হলেও কিছু হয়নি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা তদারকি কর্মকর্তাকে একবারও কাজের জায়গায় আসতে দেখা যায়নি।’ এ বিষয়ে লুকাইয়া ট্রেডার্সের ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। বাউফল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়া অংশ সিডিউল অনুযায়ী পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’ কাজের অনুকূলে এ পর্যন্ত ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধবিরতির মধ্যে প্রতিপক্ষ ভুল করলে চূড়ান্ত জবাব দেবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


যুদ্ধবিরতির মধ্যে প্রতিপক্ষ ভুল করলে চূড়ান্ত জবাব দেবে ইরান

যুদ্ধবিরতির সময় যদি প্রতিপক্ষ কোনও ভুল পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সশস্ত্র বাহিনী কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া। রবিবার(৫ জুলাই) তেহরানে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেখানে তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আকরামিনিয়া আরও জানান, ইরান সর্বদা যুদ্ধ-প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতির সময়টিকে কাজে লাগায়। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির যেকোনো সুযোগ আমাদের যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করা হয় এবং আমরা এক মুহূর্তও নষ্ট কিংবা উপেক্ষা করি না।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশাল জনগণের বিষয়বস্তুতে মন্তব্য করতে গিয়ে মুখপাত্র জানান, আমাদের শহীদ নেতা যেমন বলেছেন, এই মানুষগুলো নির্বাচিত এবং ঈশ্বরের ইচ্ছায় তারা এই বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। চূড়ান্ত ও প্রকৃত অভিভাবক ইমাম মাহদীর হাতে তা পৌঁছাবে।

আকরামিনিয়া এই সমাবেশের বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরেন, যেখানে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জনগণের উপস্থিতি ও নেতার আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিপীড়ন এবং বিশ্ব-অহংকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি জনগণের প্রশংসা করেছেন একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ঐতিহাসিক ঘটনা সৃষ্টি করার জন্য।

এর আগে শনিবার(৪ জুলাই) স্থানীয় সময় সকালবেলা তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে এবং ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে বিপুল জনসমাগম ঘটে। এতে প্রয়াত নেতা এবং তার পরিবারের সদস্যরা যেমন ড. মেসবাহুলহোদা বাঘেরি কানি, সাইয়্যেদা বোশরা খামেনি, জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানি উপস্থিত ছিলেন। তাদের স্মরণে অনুষ্ঠানগুলো রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোসাল্লায় চলবে। অতপর সোমবার(৬ জুলাই) রাজধানীতে একটি আনুষ্ঠানিক জানাজা বা শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তেহরানের কর্মসূচির পর, মঙ্গলবার(৭ জুলাই) মিছিলটি পবিত্র শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর বুধবার ৮ জুলাই ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে বিশেষ শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী সময়ে বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) মাশহাদে ইমাম রেজার পবিত্র মাজারে চূড়ান্ত শোক মিছিল ও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হবে।

সূত্র: ডন, ইরানা নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

নাটোরের সিংড়ায়, স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক গৌতমকে পিটুনি দিয়ে এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে পৌরসভার বালুয়া বাসুয়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। আটক ব্যক্তির নাম গৌতম, যিনি উপজেলার চৌগ্রামের গিরেন চন্দ্রের ছেলে এবং পেশায় অটোরিকশা চালক। স্থানীয় সূত্রে সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, দুপুরবেলা বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতির সময়, বালুয়া বাসুয়া এলাকার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীটি স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিল। এই সময়, চৌগ্রাম এলাকার গৌতম নামক যুবক জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে ওই ছাত্রীকে পাশে অবস্থিত একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যায়। ঘটনাকালীন, ওই ছাত্রী চিৎকার করতে থাকে এবং অভিযুক্ত যুবককে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। ওসি রফিকুল ইসলাম আরও জানান, স্থানীয়রা ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত যুবককে ধরেন এবং পিটুনি দিয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত গৌতমকে আটক করে এবং চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৌরীপুরে হারিয়ে যাচ্ছে খাল-বিল, বাড়ছে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ হুমায়ুন কবির, গৌরীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


গৌরীপুরে হারিয়ে যাচ্ছে খাল-বিল, বাড়ছে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট
 
 
একসময় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ খাল-বিল ছিল কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও নৌযোগাযোগের প্রধান অবলম্বন। কিন্তু দখল, ভরাট, অবৈধ স্থাপনা এবং দীর্ঘদিনের অবহেলায় উপজেলার শতাধিক খাল-বিলের অধিকাংশই এখন বিলুপ্ত বা অস্তিত্ব সংকটে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে ভুগছেন উপজেলার লাখো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেলেও অধিকাংশ খাল-বিল রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি সরকার খাল খননে গুরুত্ব দেওয়ায় প্রশাসন কিছু উদ্যোগ নিলেও এরই মধ্যে অধিকাংশ জলাধার দখল ও ভরাট হয়ে গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই খাল-বিলের একই চিত্র। মইলাকান্দা ইউনিয়নের সানজালকান্দা ও বগাদিয়া খাল প্রায় বিলুপ্ত। লংকা খাল এখনো কোনোমতে টিকে থাকলেও দখল ও ভরাটের কারণে অনেকটাই সংকুচিত। অচিন্তপুর ইউনিয়নের মুখুরিয়া, নয়াখাল ও চৌমনি খাল বিলুপ্তির পথে।
মাওহা ইউনিয়নের ঘোষখালি, সুরিয়া নদীর সংযোগ খাল, ধেরুয়া, কড়েহা, লুনাপাড়া ও বাউশালী খাল হারিয়েছে নাব্যতা। সহনাটি ইউনিয়নের অধিকাংশ খালের অস্তিত্বই এখন নেই। বোকাইনগর ইউনিয়নের মাইজহাটি, চাকুরীয়া ও ধনিয়া খাল খননের উদ্যোগ থাকলেও এরই মধ্যে অনেক ছোট খাল বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
রামগোপালপুর ইউনিয়নের ডুবলী, ক্যাইলা বিলের খাল, ভবানীপুর ও সাপমরা খাল দখল ও ভরাটের কারণে বিলুপ্তির পথে। একইভাবে ডৌহাখলা ইউনিয়নের আহসানপুর, রুকুন্দিপুর, নগুয়া, সতিষা, চরঘোড়ামারা, ডৌহাখলা, মাইজহাটি, বলরামপুর, বেতবান্দি ও পায়রা খালও অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ভাংনামারী ইউনিয়নের খুলিয়ার চর, চরভাবখালি ও মাঝেরটেক খালসহ অনন্তগঞ্জ, ভাটিপাড়া, বয়রা ও খোদাবক্সপুর এলাকার ছোট ছোট খাল দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়েছে।
একসময় গৌরীপুর পৌরসভায় প্রায় দুই ডজন খাল ছিল। বর্তমানে সতিষা, বালুয়া, নয়াপাড়া ও ভালুকা খাল কোনোমতে টিকে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব খালও ধীরে ধীরে দখল হয়ে গেলেও উদ্ধার কিংবা পুনঃখননের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. ফারুকুজ্জামান বলেন, একসময় পৌর শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত খাল ছিল। ভালুকা খাল থেকে বর্তমান মাছ মহাল পর্যন্ত বড় একটি খাল দিয়ে মহাজনি নৌকা চলাচল করত। এখন সেই খালের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। তাঁর দাবি, অধিকাংশ খালই প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে।
প্রবীণ বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গৌরীপুরে একসময় সিধলং, ডালিয়া, বড় বিল, শাপলা বিল, কচুরি বিল, বাউশালী বিল, দিঘা বিল, বক্সী বিল, কাজলা বিল, সিংড়া বিল, চৌকা বিল, বলেশ্বর বিল, সানজাল বিল, ইছুলিয়া বিল, কুমাইরা বিল, চান্দের বিল, খট্রিয়াপুরী বিল, বৈদা বিল ও মইল্যা বিলসহ অসংখ্য বিল ছিল। এছাড়া জলবুরুঙ্গা নামে একটি জলমহালও রয়েছে। এসব বিলে একসময় প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে অধিকাংশই ফিশারিতে রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের কাগজে-কলমে অনেক খাল-বিলের অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনো চিহ্ন নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিএস ম্যাপে খাল হিসেবে থাকা অনেক জায়গা বিআরএস ম্যাপে পরিবর্তিত দেখানো হয়েছে। ফলে দখলদাররা সেসব জায়গা নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে দাবি করছেন। শ্রেণি পরিবর্তনের সঙ্গে ভূমি কার্যালয়ের অসাধু কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে যেসব খাল এখনো টিকে আছে, সেগুলোর অনেকগুলোর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে ফিশারি। এতে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি ও জনজীবনে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, আর শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিচ্ছে তীব্র সেচ সংকট।
রামগোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও এসব খালে নৌকা চলত এবং ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহন করতেন। এখন অধিকাংশ খালেই পানির প্রবাহ নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই ফসল তলিয়ে যায়।
এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, সিএস ম্যাপে শতাধিক খাল-বিল থাকলেও অনেকগুলোর অস্তিত্ব বিআরএস ম্যাপে নেই। ফলে আইনি জটিলতার কারণে সেগুলো উদ্ধার বা খনন করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে সরকার দুটি খাল খননের কাজ করছে এবং আরও ১২টি খাল খননের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশনা পাওয়া গেলে আইনি প্রক্রিয়ায় দখলমুক্ত ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%