মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩২ এম
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি
গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত প্রকাশ করেছে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনে তারা সহযোগিতা করবে, এমনটাই জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ।
সোমবার জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য রাখেন।
আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গে বলেন, নেতিবাচক সামাজিক রীতি, কুসংস্কার ও অনলাইন বিদ্বেষসহ নারীদের যেসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়, তা সমাধানে আইপিইউ কিছু কার্যকর উপায় তৈরি করেছে। নারীদের মধ্যে সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের নারী সংসদ-সদস্যদের আইপিইউর নারী ফোরাম, জাতিসংঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গণ-অভ্যুত্থানের সময় তরুণদের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও ঐক্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি নতুন ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসন এবং নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অন্তত ৪০ নারী সংসদ-সদস্য অংশগ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি নির্বাচিত হয়েছেন।
স্পিকার আরও জানান, বাংলাদেশে পূর্ববর্তী শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল ও তার প্রতিনিধিদলকে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিন পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। তারা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং নির্যাতিত সংসদ-সদস্য, তাদের পরিবার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলবেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ চিরকালই গণতন্ত্রকামী এবং তারা গণতন্ত্রের মহান আদর্শ রক্ষায় বারবার জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষ নিজেদের অধিকার আদায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করতে পিছপা হননি। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, এদেশের সাধারণ মানুষ কখনোই কোনো স্বৈরাচারী শাসনকে মেনে নেয়নি বা সমর্থন করেনি।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের মানুষ অনেক কিছু হারিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষ হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, তাহসিনা রুশদী, আখতার হোসেন, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তার, সানজিদা ইয়াসমিন, মাধবী মার্মা, মারদিয়া মমতাজ এবং নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি আওয়ামী লীগ আমলের নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন ৬নং মৃগী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: তইয়ুব হোসেন খান ব্যাপকভাবে গণসংযোগ ও নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ করেছেন।
মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের ডিবিপি বাজারে তিনি শত শত ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোটারদের হাতে লিফলেট প্রদান করেন। এই সময় তিনি দোকানে দোকানে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং আগামী নির্বাচনে তার পাশে থাকার জন্য আহ্বান জানান।
গণসংযোগের সময় মো: তইয়ুব হোসেন খান বলেন, "মৃগী ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, শিক্ষিত ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার স্বপ্ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের সংস্কার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। আমি আপনাদের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এলাকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং তৃণমূলের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগের সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ তার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলে (এনইসি) অন্তর্র্বর্তীকালীন সময়ের জন্য সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এছাড়া ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম নির্বাচিত হয়েছেন কোষাধ্যক্ষ।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংগঠনের প্রথম সাধারণ সভায় তাদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়। সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রকাশিত ২৯টি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত সম্পাদকরা ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের উপস্থাপিত গঠনতন্ত্র এবং কিছু সংশোধনী অনুমোদন করেন। এনইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
শফিক রেহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় সম্পাদকরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও পেশাগত মানোন্নয়নে তাদের পরামর্শ তুলে ধরেন। সভায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলকে আমরা আরও বিস্তৃত করতে চাই। সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো উচিত। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সম্পাদকরা যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন, সেজন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি প্রথম সভাতেই গণতান্ত্রিকভাবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যাত্রা শুরু করেছে।’
যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, ‘গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতার নামে গণমাধ্যমে যা হয়েছে, তা ছিল ঘৃণার অযোগ্য। সংবাদমাধ্যম পচে-গলে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এখন সেখান থেকে আমাদের উত্তরণের চেষ্টা করতে হচ্ছে। প্রশ্ন নয়, প্রশংসার বদলে সত্যিকার অর্থে আমাদের এখন প্রশ্ন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই উপমহাদেশে গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ধূমকেতুর মাধ্যমে তিনি প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন সফল সম্পাদক।’
তিনি এডিটরস কাউন্সিলকে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম পদক প্রদানের আহ্বান জানান। সভায় পরে সে প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং এডিটরস কাউন্সিল প্রতিবছর সাংবাদিকতায় নজরুল পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশে সম্পাদকদের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম জরুরি ছিল। এনইসি যাতে সারা বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য কাজ করে যেতে হবে। এর মধ্য দিয়ে সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যাবে।’
সভাপতির বক্তব্যে শফিক রেহমান বলেন, ‘দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। গণতান্ত্রিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ তিনি সারা দেশের সম্পাদকদের একটি প্ল্যাটফর্মে আনতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সাধারণ সভায় আরও মতামত প্রদান করেন নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের লোটন একরাম, মানবকণ্ঠের শহিদুল ইসলাম, খবর সংযোগের শেখ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবরের সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ভোরের ডাকের কে এম বেলায়েত হোসেন, জনতার ওবায়দুর রহমান শাহীন, দ্য বাংলাদেশ পোস্টের সদরুল হাসান, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, খোলা কাগজের মনির হোসেন, রূপালী বাংলাদেশের সায়েম ফারুকী প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তাদের কবর জিয়াত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে জিয়া উদ্যান এলাকায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। খণ্ড খণ্ড মিছিলে জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।
নেতারা উল্লেখ করেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে সামনে রেখে দলকে আরও সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ আরও অনেক নেতাকর্মী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ