০৩:৫৬ পি.এম
একসময় যে নদী দিয়ে বড় বড় সওদাগরি নৌকা চলাফেরা করতো, সেই ঘাঘট ও আলাই নদী বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। দখল ও দূষণের ফলে নদী দুটি এখন সরু খালে পরিণত হয়ে গেছে।
নদীর পানি এতটাই দূষিত হয়েছে যে, এটি এখন মশার প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে রূপ নিয়েছে। মরা ঘাঘটকে নান্দনিক লেকে রূপান্তরের জন্য সরকারি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, কিন্তু তা এখন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। বর্তমানে নদী ও খাল খনন কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় বাসিন্দারা নদী দুটিকে দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন।
সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী গাইবান্ধার একসময়ের খরস্রোতা নদী ছিল ঘাঘট। এ নদী দিয়েই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে নৌপথে ব্যবসাবাণিজ্য চলতো। নব্বইয়ের দশকে, জেলা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য শহরের উত্তর প্রান্তে লুপ কাটিং করে মূল প্রবাহ ঘুরিয়ে দেয়া হয়। এরপর শহরের ভেতরের প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশ মরা ঘাঘটে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
দখল ও দূষণের কারণে নদীটি এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনাসহ কচুরিপানার স্তূপ নদীর বুককে ভরাট করে ফেলেছে। নদীর চারপাশে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। নদীর বুক চিরে তৈরি হয়েছে একের পর এক পাকা ভবন। শহরের সব ড্রেনেজ লাইন এবং হাটবাজারের বিষাক্ত বর্জ্যের জন্য নদীটি শেষ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। পানির রং কুচকুচে কালো হয়ে গেছে এবং সেখানে মাছসহ কোনো জলজ প্রাণীও নেই। নদীটি এখন রোগব্যাধি ছড়ানোর একটি কারখানায় পরিণত হয়েছে।
গাইবান্ধা পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক জনি জানান, মরা ঘাঘট নদীকে একটি দৃষ্টিনন্দন লেক হিসাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ প্রশাসন নিয়েছিল। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হওয়ায় কাজটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে দুটি ব্রিজ ও কিছু কাজ করে সেই মহাপরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়েছে।
জেলা শহরের পাশে বয়ে চলা আলাই নদীরও একই অবস্থা। শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা ঘাঘট নদী থেকে উৎপন্ন আলাই নদীটি শহরের অংশে প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং মোট ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। নদীটির অস্তিত্ব এখন শুধুমাত্র সরকারি ম্যাপ ও খাতা-কলমে বিদ্যমান। বাস্তবচিত্র অনুযায়ী সেখানে আবাদি জমি এবং অধিকাংশ স্থানে স্থায়ী বাড়িঘর গড়ে উঠেছে। একসময়ের উত্তাল এই নদী বর্তমানে দূষণ ও দখলদারদের থাবায় মরা খালে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযান ও নদী খননের ঘোষণা বারবার এলেও তা কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকারের নদী ও খাল পুনঃখননের চলমান কার্যক্রমের আওতায় তারা এই নদী দুটির খনন চান।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
ঘাঘট পাড়ের বাসিন্দা গোলাম হোসেন বলেন, 'শহরের বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ নদীটি এখন রোগব্যাধি ছড়ানো ও মশার তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে।'
আরেক বাসিন্দা রনি মিয়া বলেন, 'নদীটিকে পরিকল্পিতভাবে খনন করা হলে এটি শহরের পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে। দু-পাড়ের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় শহরের কোলজুড়ে বয়ে চলা নদী দুটির দখল ও দূষণ বন্ধে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, 'নদী দুটি রক্ষায় বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ দূষণ বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন