১১:৪৪ পি.এম
কখনও কখনো একটি দেশের সংকট এতটাই গভীর হয়ে ওঠে, যে এটি মানুষের রাগ, ক্ষোভ আর হতাশা মিলেমিশে পুরো একটি দেশকে থামিয়ে দেয়। দোকানপাট খালি হয়ে গেছে। জ্বালানি স্টেশনে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। দেশে চলছে ওষুধের সংকট, যার ফলে পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া ঠিক এমনই একটি অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী গোষ্ঠী ও কোকোচাষিরা দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ এবং অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। বহু সড়কে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই অবরোধে খাদ্য সংকট, জ্বালানি সংকট এবং অচল অর্থনীতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী নামাতে বাধ্য হয়েছেন। এই তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
এদিকে, টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, আগামী ৯০ দিনের জন্য দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকবে। এ সময় যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে এবং সামরিক বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপ মানুষের স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নেওয়ার জন্য নয় বরং এটি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘ব্যথার যন্ত্রণায় বিষপান করে এনসিপি নেতা তানভীরুল ইসলামের মৃত্যু’
প্রেসিডেন্টের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এল আল্টো শহরে সেনা এবং সশস্ত্র পুলিশের টহল শুরু হয়। ভারী বুলডোজার দিয়ে রাস্তার অবরোধ সরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক যান এবং পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দীর্ঘদিনের অবরোধে ক্লান্ত হয়ে পড়া অনেক বাসিন্দা সেনাদের স্বাগত জানিয়েছেন। কিছু মানুষ হাততালি দিয়ে তাদের উদ্দীপনা জানান দিয়েছে। বলিভিয়ার রাজধানী লাপাজেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে সামরিক পুলিশ এবং নৌবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট অবস্থান নিয়েছে।
গেলো দুই দশকের মধ্যে প্রথম অ-সমাজতান্ত্রিক সরকার হিসেবে ক্ষমতায় আসা রদ্রিগো পাজ দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যেই বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা চাচ্ছেন যে, তিনি উদার অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরে দাঁড়ান এবং পদত্যাগ করুন।
সরকার আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও পরিস্থিতি এখনো শান্ত হয়নি। একটি বড় শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা হলেও, কয়েকটি আদিবাসী গোষ্ঠী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এখনো ৪০টিরও বেশি স্থানে অবরোধ রয়েছে। বলিভিয়ার পাহাড়ি শহরগুলোতে অস্থিরতার ধোঁয়া এখনো বিদ্যমান।
আরও পড়ুন: আলজাজিরার অনুসন্ধানে যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ নেতার সদস্যপদ স্থগিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন