১১:১৬ পি.এম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায়, কয়েকটি এতিমখানায় নির্ধারিত সংখ্যা অনুযায়ী এতিম শিক্ষার্থী না থাকার পরেও সরকারি বরাদ্দ উত্তোলন এবং দেশি-বিদেশি অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে এলাকার স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তীব্রভাবে চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ হলো, মঠবাড়িয়া উপজেলায় সরকারি তালিকায় থাকা প্রায় ২৮টি এতিমখানার মধ্যে সাপলেজা এলাকার দুটি সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে একটি হলো *সাপলেজা নেছারিয়া হাসান হোসাইন এতিমখানা*, যেখানে বিধি অনুযায়ী ১০০ জন এতিম শিক্ষার্থী থাকার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে এতিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেই। তবে বিভিন্ন নামে শিক্ষার্থী দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ উত্তোলন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখানকার জন্য খুবই কম।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে যে, ওই প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি খাত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা এবং দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে আরও প্রায় ২০ লাখ টাকার অনুদান পাওয়া গেছে। কিন্তু এসব অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে ৯৩ পূজামণ্ডপকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করেছে এসআরবি
অন্যদিকে, *সাপলেজা বায়তুস শরফ লায়লা মালেকিয়া লিল্লাহ বোর্ডিং*-এর সম্পর্কেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এখানে নির্ধারিত সংখ্যা থেকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ৬০ জন এতিম শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও এখানে বাস্তবে ৭-৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য বছরে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ আসে ৩২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতার পক্ষ থেকে ১০-১৫ লাখ টাকার অনুদান দেওয়ার কথাও স্থানীয়ভাবে শোনা যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে যে, এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও হাফেজের সংখ্যা নিয়ে যে কাগজপত্রে তথ্য দেখানো হয়, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষাকার্যক্রমের বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য সরকারি নথি, বরাদ্দের হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এদিকে, মঠবাড়িয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তদারকি নিয়েও স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়মিত এবং কার্যকর পরিদর্শন না হওয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারি সহায়তা পাওয়ায় অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছে। সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মরত কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কাগজপত্র অনুমোদনের অভিযোগ ও রয়েছে। তবে এই অভিযোগের প্রমাণস্বরূপ কোনো নথি তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অপর দিকে, স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মিলাদ, কবর জিয়ারত, কোরআন খতম ও বকশিশের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে থাকেন। এসব অর্থের হিসাব ও ব্যবহার নিয়েও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারা।
আরও পড়ুন: সালথা উপজেলা যুবদলের নতুন ৩৫ সদস্যের কমিটি, আহ্বায়ক হাসান আশরাফ ও সদস্য সচিব এনায়েত
অভিযোগের বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টিতে বিস্তারিত মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মঠবাড়িয়ার সব এতিমখানার সরকারি বরাদ্দ, প্রকৃত এতিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা, উপস্থিতি, অনুদান এবং ব্যয়ের হিসাব নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তাছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত এতিমদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডির পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ও সমাজসেবা বিভাগের বক্তব্য নেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে, তা পরবর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।
আরও পড়ুন: অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা, ১০ মরদেহের বিষয়ে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন