ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গুজবে কান নয়, তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করুন: আইসিটি মন্ত্রী


গুজবে কান নয়, তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করুন: আইসিটি মন্ত্রী

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, ‘ডাক বিভাগকে আরও জনপ্রিয় করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে। ‘নগদ’ বিক্রি নিয়ে যেসব গুজব বা রিউমার ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না।’

বাজার প্রতিযোগিতার জন্য এই ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানটির সরকারি ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেছেন, নগদের মতোই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দক্ষ, লাভজনক ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের উদ্বোধন এবং নগদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংগৃহীত রাজস্ব হতে মুনাফার অংশ হিসেবে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ডাক অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: জাগপা: বিএনপি ভারতের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, পোস্ট অফিস ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা নতুন কোনো ধারণা নয়; বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু বছর ধরে এটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ উদ্যোগের মাধ্যমে ডাকসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, জনগণ ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের সুবিধা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে, যাতে আরও উদ্যোক্তা এ কার্যক্রমে যুক্ত হন। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব পোস্ট অফিসকে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে, এতে একদিকে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়বে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি উদ্যোক্তাদের শুভকামনা জানিয়ে আশ্বস্ত করেন যে, কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো সমস্যা হলে ডাক বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

নগদের রাজস্বের চেক গ্রহণ শেষে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যেই নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নগদের মুনাফা অর্জন সেই সফলতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

তিনি বলেন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিরাপদ, সহজ ও সাশ্রয়ী সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডাক বিভাগের আধুনিকায়ন, নগদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আস্থাশীল ও জনবান্ধব করে তুলতে হবে।

আরও পড়ুন: পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, জানালেন ইশরাক হোসেন

আইসিটিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নগদের প্রতি মানুষের বিশেষ আস্থা রয়েছে। আধুনিক সফটওয়্যার, উন্নত গ্রাহকসেবা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে নগদকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও শক্তিশালী করা সম্ভব। একই সঙ্গে দেশের ৯ হাজারের বেশি ডাকঘরকে আধুনিক সেবাকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে ডিজিটাল ও আর্থিক সেবা পেতে পারেন।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, চলতি অর্থবছরে নগদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর ও রাজস্ব প্রদান করেছে, যা রাষ্ট্রের জন্য একটি ইতিবাচক অর্জন এবং দেশের রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, উন্নত নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি অপরিহার্য। ডাক বিভাগের সঙ্গে নগদের অংশীদারিত্বের ফলে জনগণের আস্থা, সরকারের রাজস্ব এবং ডাক বিভাগের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করেছে।

আরও পড়ুন: সরকারকে নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা না করতে বললেন বিরোধীদলীয় নেতা

উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ে ঢাকার অভ্যন্তরে ৪টি এবং ঢাকার বাইরে ৪টি ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালু করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে দেশের সকল অঞ্চলে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

এরপর মন্ত্রী ডাক বিভাগের অবিভাগীয় (ইডি) এজেন্টদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান।

বিপিও-নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কাজী আসাদুল ইসলাম। এসময় নগদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তা, ডাক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ৩৩,৮৫১ পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার্ককে কার্যকর করতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও নেপালের রাষ্ট্রদূত একমত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


সার্ককে কার্যকর করতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও নেপালের রাষ্ট্রদূত একমত

ঢাকা, ২৯ জুলাই, ২০২৬ : সার্ককে কার্যকর করতে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী একমত পোষণ করেছেন।

আজ ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে বাংলাদেশের জন্য নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন, সেখানে তারা এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা প্রসারিত করে দক্ষিণ এশীয় দেশসমূহের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সার্ক প্রতিষ্ঠা করেন।

এ সময় ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন, সার্ককে পুনরায় কার্যকর করে সে লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ এখনও রয়েছে।

এক্ষেত্রে তিনি নেপালকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালে নেপালের রাষ্ট্রদূত এতে একমত পোষণ করেন।

নেপালের সংসদ ফেডারেল পার্লামেন্ট অব নেপালে বাংলাদেশ-নেপাল পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠিত হয়েছে জেনে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার নেপাল সংসদের স্পিকার দোল প্রসাদ আর্যালকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার অচিরেই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেও বাংলাদেশ-নেপাল পার্লামেন্টারি মৈত্রী গ্রুপ গঠন করে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মত বিনিময় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উভয় দেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ কার্যকর হলে দুই দেশের জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি জোরদার হবে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, পারস্পরিক সংসদীয় সফর আয়োজন, আইন প্রণয়ন ও সুশাসনের অভিজ্ঞতা বিনিময়, আন্তর্জাতিক ফোরামে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা এবং উভয় দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত স্পীকার বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি, পানি, জ্বালানী, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্র প্রসারিত করার সুযোগ উভয় দেশ কাজে লাগাতে পারে।

এ সময় নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন অভিযাত্রার প্রশংসা করেন এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনে বিভিন্ন সূচকে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটির প্রশংসা করে তিনি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের এলডিসি গ্রাজুয়েশন অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব দ্যা মিশন প্রতিক কার্কি ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৪ ঘণ্টার বিরতিহীন ফ্লাইটে ইতিহাস গড়ল কোয়ান্টাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


২৪ ঘণ্টার বিরতিহীন ফ্লাইটে ইতিহাস গড়ল কোয়ান্টাস

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিরতিহীন উড়ে দীর্ঘতম বাণিজ্যিক ফ্লাইটের বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। বিশেষভাবে পরিবর্তিত এয়ারবাস এ৩৫০ মডেলের বিমানটি ২৪ ঘণ্টা ২৩/২৪ মিনিট আকাশে ছিল এবং এটি দক্ষিণ ফ্রান্সের তুলুজে অবতরণ করার আগে এই সময়কাল পার করেছে।

কোয়ান্টাস তাদের উচ্চাভিলাসী ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’-এর আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লাইটটি পরিচালনা করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে, কোয়ান্টাস ২০২৭ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল (সিডনি ও মেলবোর্ন) থেকে লন্ডন ও নিউইয়র্কের দিকে বিরতিহীন ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।

এয়ারবাস এবং ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ডেটা অনুসারে, বিমানটি ২৭ জুলাই স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২৭ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে রওনা হয়ে ২৪ ঘণ্টা ২৩/২৪ মিনিট উড়ে ২৮ জুলাই স্থানীয় সময় সকালে ৯টা ৫২ মিনিটে এয়ারবাসের সদরদপ্তর ফ্রান্সের তুলুজে অবতরণ করে।

ওড়ার পথে বিমানটি প্রশান্ত মহাসাগর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে ২৩ হাজার ৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। দীর্ঘতম বাণিজ্যিক ফ্লাইটের আগের রেকর্ডটি ছিল ২২ ঘণ্টা ৪২ মিনিটের। ২০০৫ সালে হংকং-লন্ডন পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের সময় এটি একটি বোয়িং ৭৭৭-২০০এলআর দ্বারা গড়েছিল।

এফ-ডব্লিউইউএলআর হিসেবে নিবন্ধিত এয়ারবাসের বিমানটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে অবতরণ করার ঠিক আগে কিছুক্ষণের জন্য একটি ‘গো-অ্যারাউন্ড’ সম্পন্ন করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্লাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, যাত্রাটি তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ট্র্যাক করা ফ্লাইটে পরিণত হয়েছে।

সারা বিশ্বের ৩৬ লাখেরও বেশি মানুষ ফ্লাইটটি অনুসরণ করেছে। কেবল রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কফিন বহনকারী ফ্লাইটটিই এর চেয়ে বেশি দর্শক আকর্ষণ করেছিল।

রেকর্ড গড়া বিমানটি একটি বিশেষভাবে পরিবর্তিত এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ইউএলআর। অতি-দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য, এতে একটি অতিরিক্ত ২০ হাজার লিটারের জ্বালানি ট্যাংক বসানো হয়েছে। দুই মাসের একটি সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে, এয়ারবাস জুন মাস থেকে এই বিমানটির পরীক্ষা চালিয়ে আসছে।

ঠিক এক সপ্তাহ আগে, এই বিমানটি ভারত মহাসাগর হয়ে তুলুজ থেকে মেলবোর্ন পর্যন্ত একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের সময় অবশ্যই ১৯ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে শেষ করেছিল।

এই সাম্প্রতিক মিশনে প্রকৌশলীরা পরিবর্তিত জ্বালানি ব্যবস্থা, কেবিনের শব্দের মাত্রা, বায়ু চলাচল এবং প্রায় পুরো একদিন স্থায়ী ফ্লাইটের জন্য ডিজাইন করা অন্যান্য সিস্টেমগুলো মূল্যায়ন করেছেন। বিমানটিতে ৮ জন এয়ারবাস ক্রু মেম্বার, ২ জন কোয়ান্টাস পাইলট এবং ২ জন এয়ারবাস প্রকৌশলীসহ মোট ১২ জন আরোহী ছিলেন।

‘প্রজেক্ট সানরাইজ’-এর জন্য, কোয়ান্টাস একই মডেলের মোট ১২টি বিমান অর্ডার দিয়েছে। প্রতিটি জেটে ২৩৮ জন যাত্রীর বসার আসন থাকবে এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এগুলো সিডনি বা মেলবোর্ন থেকে লন্ডন বা নিউইয়র্কের মধ্যে ১৯ থেকে ২১ ঘণ্টার মধ্যে বিরতিহীনভাবে ওড়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের প্রথম বিমানটি ২০২৭ সালের এপ্রিলে সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী বছরের অক্টোবরে সিডনি-লন্ডন দীর্ঘসন্ধানী বিরতিহীন সেবা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে, কোয়ান্টাস ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’ নিয়ে কাজ করছে। নানা কারণে বারবার বিলম্বিত হওয়া প্রকল্পটি এখন সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে।

১৯৪৭ সালে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক ক্যাঙ্গারু রুটে, একসময় সিডনি থেকে লন্ডন যেতে ৭টি বিরতিসহ প্রায় ৫ দিন সময় লাগতো। তবে এখন সেটি নেমে আসবে সর্বোচ্চ ২১ ঘণ্টার একটি বিরতিহীন ফ্লাইটে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সিঙ্গাপুর-নিউইয়র্কের মধ্যে ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইটই দীর্ঘতম বাণিজ্যিক ফ্লাইট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েল-ইরানের গোপন তেল পাইপলাইনই কি সৌদির নতুন ভরসা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ পি.এম


ইসরায়েল-ইরানের গোপন তেল পাইপলাইনই কি সৌদির নতুন ভরসা?

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের বারবার হামলায় সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর ফলে রিয়াদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি নেটওয়ার্কের এক বড় দুর্বলতা সামনে উঠে এসেছে।

এটি বর্তমানে দেশটির নীতিনির্ধারকদের জন্য ক্রমেই বড় মাথাব্যথার বিষয় হয়ে উঠছে।

সাম্প্রতিক কিছু দিন ধরে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী দাবি করছে যে, তারা জাজান ও ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এসব হামলার সময়টিতে লক্ষ্যণীয় যে, লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল দিন দিন আরো কঠিন হয়ে উঠছে।

তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছাতে এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। ইউরোপে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে রপ্তানিকারকদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের দায় স্বীকার করা এক হামলার পর গত ২৭ জুলাই সৌদি আরামকো তাদের দৈনিক চার লাখ ব্যারেল সক্ষমতার জাজান শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে। রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ওই হামলায় শোধনাগারের সমন্বিত গ্যাসিফিকেশন কম্বাইন্ড সাইকেল কমপ্লেক্স এবং তেল সংরক্ষণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলবে।

এখন সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনও পুরো সমস্যা সমাধান করতে পারছে না। এই পাইপলাইনটি দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবুতে নিয়ে যায়। এটি বিশেষভাবে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তেল ইয়ানবুতে পৌঁছানোর পরেও সেটিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি পেরিয়ে যেতে হয়।

হরমুজের মতো এই পথও এখন নিরাপদে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যদি এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দীর্ঘ সময় হুথিদের হুমকির মুখে থাকে, তাহলে সৌদি আরবকে অন্য কোনো পথ খুঁজতে হতে পারে। এমন একটি বিকল্প পথ ইতোমধ্যেই বিদ্যমান। তবে সেটি সবার চোখের সামনেই রয়ে গেছে, কিন্তু অনেকটা আড়ালে আছে। এটি ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন। এই পাইপলাইনটি লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত ইসরায়েলের ভেতর দিয়ে গেছে। প্রায় ছয় দশক আগে ইরানের অর্থায়ন ও ইসরায়েলের প্রকৌশল দক্ষতার মাধ্যমে এটি গোপনে নির্মাণ করা হয়েছিল। তখনও ইসলামী বিপ্লবের কারণে দুই দেশ পরস্পরের কট্টর শত্রু হয়ে ওঠেনি।

এই পাইপলাইনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে ইরানের অপরিশোধিত তেল এলাত বন্দরে পৌঁছে ইসরায়েল হয়ে আশকেলনে নিয়ে যাওয়া যায়। সেখান থেকে তা ইউরোপে পাঠানো হতো। এতে সুয়েজ খাল ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ত না। এটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে কম পরিচিত হলেও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি প্রকল্পগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এখন হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব—দুই পথই সংঘাতের কারণে ঝুঁকির মুখে। এই অবস্থায় ইসরায়েলের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই বলছেন, একই অবকাঠামো ব্যবহার করে সৌদি আরব ইউরোপের বাজারে তেল পাঠানোর আরেকটি পথ পেতে পারে।

এমন একটি প্রস্তাব কয়েক বছর আগেও রাজনৈতিকভাবে কল্পনা করাও কঠিন ছিল। কিন্তু আঞ্চলিক নৌপথে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন সরকার ও জ্বালানি পরিকল্পনাকারীদের পুরোনো ধারণা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। তেলের বাজার প্রায়ই দেশগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এমন প্রভাব ফেলে। কিন্তু এই পাইপলাইন শুধু একটি জ্বালানি অবকাঠামো নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক দশকের ইতিহাস এবং গোপন কূটনীতি। এটি একটি প্রশ্নও বাড়িয়ে তোলে। কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও, কৌশলগত প্রয়োজন কি একদিন সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড দিয়ে যেতে বাধ্য করবে?

১৯৬০ সালের দশকের শেষ দিকে ইসরায়েল ও শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনাধীন তৎকালীন ইম্পেরিয়াল ইরানের মধ্যে গোপন অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এই পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, ইসরায়েলের লোহিত সাগর উপকূলের এলাত বন্দরে পৌঁছানো ইরানের অপরিশোধিত তেল দেশটির ভেতর দিয়ে ভূমধ্যসাগর উপকূলের আশকেলনে নিয়ে যাওয়া। এরপর মিসরের সুয়েজ খাল এড়িয়ে সেই তেল ইউরোপে পাঠানো হতো। গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সিআইএর নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এই প্রকল্পকে এতটা কৌশলগত মনে করেছিল যে, এটি প্রেসিডেন্টের দৈনিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছিল।

সিআইএ এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বিশাল তেলবাহী জাহাজগুলো এলাত বন্দরে ইরানের অপরিশোধিত তেল খালাস করত। এরপর ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের একটি পাইপলাইন দিয়ে সেই তেল ইসরায়েলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নেওয়া হতো। পরে আশকেলনে ছোট আকারের জাহাজে তা আবার তোলা হতো এবং সেখান থেকে মূলত ইউরোপে পাঠানো হতো। সংস্থাটি ধারণা করেছিল যে, প্রকল্পের প্রথম ধাপে বছরে প্রায় দুই কোটি টন তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে। পরে ১৯৭০-এর দশকের মাঝামঝি সময়ে এর সক্ষমতা বাড়িয়ে বছরে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টনে নেওয়া যাবে। সিআইএ আরও বলেছিল, সুয়েজ খাল ব্যবহার করে বা কেপ অব গুড হোপ ঘুরে তেল পাঠানোর তুলনায় এই পথটি সম্ভবত কম খরচের হবে।

পরে এই অবকাঠামোর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটির নাম হয় ইউরোপ এশিয়া পাইপলাইন কম্পানি। সংক্ষেপে একে ইএপিসি বলা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলজুড়ে পাইপলাইন, তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং সমুদ্রবন্দরভিত্তিক টার্মিনাল পরিচালনা করে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর তেহরানের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর এই যৌথ প্রকল্পের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েল নিয়ে নেয়। পরে সুইজারল্যান্ডের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল সাবেক এই যৌথ প্রকল্পের বিষয়ে ইসরায়েলকে ইরানকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেয়। তবে ইসরায়েল সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে। কারণ তাদের যুক্তি ছিল, অর্থ পরিশোধ করলে দেশটির 'শত্রুর সঙ্গে বাণিজ্য আইন' লঙ্ঘন হবে। বর্তমানে এই কম্পানি ইসরায়েলের সবচেয়ে গোপনীয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের একটি হয়ে আছে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে ১৯৬৮ সালে চালু করা একাধিক গোপনীয়তা বিধানের আওতায় এখনও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অনেক তথ্য জনসাধারণের নজরের বাইরেই রয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া, ইসরায়েলভিত্তিক মুক্ত উৎস গোয়েন্দা বিশ্লেষক এবং ওএসআইএনটি৬১৩-এর প্রতিষ্ঠাতা জে লেটনি এনডিটিভিকে বলেন, ইসরায়েলের ভেতরে এ নিয়ে আলোচনা অনেকের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব নিয়ে চলছে। সৌদি আরব এই পাইপলাইন ব্যবহার করতে পারে—এখন এ সম্ভাবনা নিয়ে কতটা গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে লেটনি বলেন, 'খুবই গুরুত্ব দিয়ে।'

জুলাইয়ের শুরুতে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের কাছে সৌদি আরব থেকে এলাত পর্যন্ত ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ব্য unsuccessful হওয়ার পর এটিই ইসরায়েল সরকারের সবচেয়ে জোরালো উদ্যোগ। বিষয়টি এখন মন্ত্রিসভার পর্যায়েও সমর্থন পাচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে সৌদি আরবের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।'

ইসরায়েল কি ক্রমেই একটি আঞ্চলিক জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের চিহ্নিত করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'হ্যাঁ। এলি কোহেনের প্রকাশ্য প্রস্তাবও সেটিই নির্দেশ করছে।' উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ইসরায়েলের ভেতর দিয়ে ইউরোপে পাঠানো গেলে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ইসরায়েলের অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই পরিকল্পনার অনুযায়ী, প্রথমে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল দেশটির পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন দিয়ে ইয়ানবুতে পৌঁছাবে। এরপর তেলবাহী ট্যাংকারগুলো লোহিত সাগর দিয়ে উত্তর দিকে যাবে। সেখান থেকে তারা আকাবা উপসাগরে প্রবেশ করবে এবং ইসরায়েলের এলাত বন্দরে তেল খালাস করবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে সেই তেল ইসরায়েল অতিক্রম করে আশকেলনে পৌঁছাবে। সেখান থেকে আবার ভূমধ্যসাগরগামী ট্যাংকারে তেল তোলা হবে। এই পাইপলাইন উত্তরমুখীভাবে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। এটি সৌদি আরবের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির তুলনায় অনেক কম। প্রতিবেদনে сказано হয়েছে, দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ থেকে ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে। তবে আঞ্চলিক অস্থিরতার সময় এটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। লেটনি এনডিটিভিকে বলেন, 'এই পাইপলাইন একদিকে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। বিপরীত দিকে চালালে সর্বোচ্চ ১২ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত পরিবহন সম্ভব। সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ থেকে ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে। তাই সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালালেও এটি সৌদি আরবের মোট রপ্তানির মাত্র ৫ থেকে ১৫ শতাংশ বহন করতে পারবে। এটি কাজে লাগতে পারে অতিরিক্ত একটি পথ হিসেবে। তবে এটি হরমুজ প্রণালি বা সুয়েজ-ভূমধ্যসাগর পাইপলাইনের বিকল্প নয়।'

লেটনির মতে, এলাত বন্দরের বর্তমান অবকাঠামো সৌদি আরবের বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি সামলানোর মতো নয়। তিনি বলেন, 'হুথিদের হামলা শুরুর পর এলাত বন্দরের কার্যক্রম ৯০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি আর্থিক সংকটের কারণে বন্দরটি কার্যত বন্ধ হওয়ার অবস্থায় পৌঁছায়। সৌদি আরবের মতো বড় পরিমাণ তেল পরিচালনা করতে হলে সমুদ্রের তলদেশ আরো গভীর করতে হবে। খুব বড় তেলবাহী জাহাজ ভিড়ানোর জন্য নতুন জেটি তৈরি করতে হবে। তেল সংরক্ষণের সুবিধা বাড়াতে হবে। নিরাপত্তাও অনেক শক্তিশালী করতে হবে। এসব করতে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। তারপরই কেবল উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন সম্ভব হবে।'

তিনি আরও বলেন, পাইপলাইনটিও নিরাপত্তা ঝুঁকির বাইরে নয়। হুথিদের হামলা চলতে থাকায় এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় পরিসরে জোরদার করতে হবে। লেটনি বলেন, 'পাঁচ বছরে অন্তত ১১টি যন্ত্রপাতির ত্রুটিজনিত তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া নাশকতা বা মানবিক ভুলের কারণে আরও ৯টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের একটি রকেট হামলাও রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের হামলায় বাজান স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কারিশ ও লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়। মরুভূমির মধ্যে থাকা ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই অঞ্চলের অন্যতম সেরা। বিশেষ করে ড্রোন প্রতিরোধে এটি কার্যকর। যদিও এটি শতভাগ সফল নয়। ক্ষেপণাস্ত্র ও বড় আকারের ড্রোনের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের দাবি, ইরান ও হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিরুদ্ধে তাদের বাধা দেওয়ার হার ৯২ শতাংশ।'

তিনি আরো বলেন, 'সুয়েজ-ভূমধ্যসাগর পাইপলাইনের সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রতিদিন ২৫ লাখ ব্যারেল। এর মালিকানায় সৌদি আরামকোর ১৫ শতাংশ, কুয়েতের ১৫ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১৫ শতাংশ এবং কাতারের ৫ শতাংশ অংশ রয়েছে। তাই ইসরায়েলের এই পাইপলাইন মূল আগ্রাসক নয়। সুয়েজ-ভূমধ্যসাগর পাইপলাইন রাজনৈতিক কারণে সমস্যায় না পড়লে এটি কেবল একটি বিকল্প পথ হিসেবেই থাকবে।'

সৌদি আরব এখনও বলে আসছে যে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত হলো ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি স্পষ্ট পথ থাকতে হবে। গাজায় চলমান ইসরায়েলি অভিযান কার্যত সেই আলোচনা থামিয়ে দিয়েছে, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে গতি পেয়েছিল। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়াকে বলেন, 'ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা দেখা আমার স্বপ্ন।' কিন্তু সৌদি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রগতি হতে হবে। কিন্তু ইসরায়েলের বর্তমান সরকার সেই অবস্থান পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এনডিটিভিকে লেটনি বলেন, 'আব্রাহাম চুক্তি মানসিক বাধা ভেঙে দিয়েছে। এখন ইসরায়েলের কিছু পরিকল্পনাকারী মনে করেন, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার। প্রশ্ন হলো কবে, হবে কি না—তা নয়। তবে বাস্তবতা হলো, রিয়াদ বারবার বলেছে যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্ত পূরণ না হলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন।'

তিনি বলেন, 'পাইপলাইনের এই প্রস্তাব ইসরায়েলের একটি বিকল্প কৌশল। যৌথ অবকাঠামো, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়াকে এমনভাবে লাভজনক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব নিজেদের আগের শর্ত থেকে সরে আসার পথ খুঁজে পায়।' লেটনি আরও বলেন, 'মঙ্গলবার ইসরায়েলের মন্ত্রী এলি কোহেন মন্তব্য করেছেন, সৌদি আরবের ইসরায়েলকে যতটা প্রয়োজন, ইসরায়েলের সৌদি আরবকে ততটা প্রয়োজন নেই।' এই বক্তব্য বর্তমান ইসরায়েলি অবস্থানকে তুলে ধরে। এটি সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা নয়, বরং নিজেদের প্রভাব দেখানোর কৌশল। তবে এই আত্মবিশ্বাস বাস্তবসম্মত নাকি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, তা পুরোপুরি নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালির সংকট কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর।

ইউরোপ এশিয়া পাইপলাইন কম্পানির দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার কারণে একটি প্রশ্ন উঠছে। এমন কোনো বাণিজ্যিক ব্যবস্থা কি গোপন রাখা সম্ভব? তবে বর্তমান প্রযুক্তির যুগে সেটি সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। লেটনি বলেন, 'সীমিত পরিমাণ তেলের ক্ষেত্রে কিছুটা সম্ভব। গোপনীয়তার নির্দেশ, ভুয়া কোম্পানি বা জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে বিষয়টি কিছু সময় আড়াল করা যেতে পারে। কিন্তু বর্তমানে স্যাটেলাইটের ছবি ও পণ্যের চলাচল বিশ্লেষণের মাধ্যমে খুব দ্রুতই পুরো বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাবে।' তিনি আরো বলেন, 'দেশের ভেতরে সীমিত পরিমাণে গোপনে কাজ চালানো গেলে রাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু আঞ্চলিক ঝুঁকি অনেক বেশি। ইরান এমন যেকোনো তথ্য নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করবে। হুথিরা এটিকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরবে। এতে আরব ও মুসলিম বিশ্বে সৌদি আরবের অবস্থান আরো জটিল হয়ে উঠবে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা থেকে যে সুবিধা পাওয়া যাবে, তা অবশ্যই রাজনৈতিক ক্ষতির চেয়ে বেশি হতে হবে।'

লেটনি বলেন, 'আমার ধারণা, ইরান খুবই কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তেহরান যেকোনো চুক্তিকে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের জোট হিসেবে তুলে ধরবে। তারা তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে চাপ বাড়াবে এবং এই অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। হুথিরা ইতোমধ্যে দেখিয়েছে, জাহাজে হামলা চালিয়ে তারা এলাত বন্দরে জাহাজ চলাচল নিরুৎসাহিত করতে পারে। এমনকি বন্দরের জেটিতে সরাসরি হামলা না করেও তারা বীমার খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ইসরায়েলের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এই প্রকল্পের সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। লেটনি বলেন, 'এলি কোহেন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই ধারণা তুলে ধরেছেন। হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করা, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতির প্রয়োজন কমানো এবং ইউরোপকে রাশিয়া বা মিসরের বাইরের একটি বিকল্প জ্বালানি পথ দেওয়া—এসবই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে মিলে যায়। ওয়াশিংটন সম্ভবত সামনে না এসে পর্দার আড়াল থেকে বাধাগুলো দূর করতে চাইবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসির কাছে নানা দাবি তুলে ধরল জামায়াত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


ইসির কাছে নানা দাবি তুলে ধরল জামায়াত

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ বাতিল, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে মন্ত্রী-এমপিদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব দাবি তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এর আগে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জামায়াতের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে তারা এসব দাবি জানান।

বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় করতে তারা এসেছিলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দিয়েছেন।

এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা তাদের দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারেন। এ কারণে জামায়াত এ ধরনের পদে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মন্ত্রী ও এমপিরা যেন কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে না পারেন এ বিষয়েও নিষেধাজ্ঞার দাবি উঠেছে। যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব হিসেবে শামসুল আলমের নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জামায়াত এ নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিক পরিচয় থাকা কোনো ব্যক্তির নিয়োগ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ রাখার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ বাতিলের দাবি জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, ইসি এ বিষয়ে একটি সুপারিশ করেছে।

তবে তা এখনো সরকারের কাছে পাঠানো হয়নি বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এমন বিধিনিষেধ বৈষম্যমূলক। জাতীয় নির্বাচনে যেখানে তাদের অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই, সেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা গ্রহণযোগ্য নয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইতিহাসে শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করে আসছেন। কোনো আলোচনা ছাড়াই এ ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে তারা আপত্তি জানিয়েছেন।

এ ছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা দলের নেতা-কর্মীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিও জানিয়েছে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিলে তা নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%