০২:২৫ পি.এম
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের জন্য এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছে। ফলে দেশের চা শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা করেছেন। তারা বাগানে বাগানে মানববন্ধন এবং গণবিক্ষোভ মিছিল করছে। তাদের স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের মাইজদিহি চা বাগান, জুড়ির সোনারুপা চা বাগানের পুচি ডিভিশন ও সাগরনাল চা বাগান, ফেঞ্চুগঞ্জের মনিপুর চা বাগান এবং চট্টগ্রামের নিউ দাঁতমারা চা বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। বাগান মালিকরা মনে করছেন, চায়ের ভরা মৌসুমে শ্রমিকরা আন্দোলন করলে উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটবে।
দেশের মোট ১৭২ টি চা বাগানে প্রায় ১ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। এই শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন। প্রতি তিন বছর অন্তর শ্রমিকদের ভোটে ইউনিয়নের নেতা নির্বাচন করা হয়। এই নির্বাচিত নেতারাই সরকারের সঙ্গে এবং মালিক পক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
২০১৮ সালে সর্বশেষ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার পর থেকে দীর্ঘ আট বছর ধরে আর নির্বাচন হয়নি। ২০২২ সালের পর থেকে শ্রমিকদের মজুরি (বেতন) বাড়েনি। গত চার বছর ধরে সরকার ও শ্রমিক-মালিকের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়নি। এর ফলে চা শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ, নেতৃত্ব সংকট এবং সাংগঠনিকভাবে স্থবিরতা চলছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পরেশ কালিন্দি বলেন, 'আর্থিক সংকট ও উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় সময়মতো নির্বাচন হয়নি। তবে এখন আর্থিক সংকট সমাধান হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি হলেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।'
নির্বাচন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে প্রতিদিন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ি, রাজনগর এবং বড়লেখা হবিগঞ্জের বাহুবল, চানুরুঘাট ও মাধরপুর, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বিভিন্ন চা বাগানে আন্দোলন করছেন চা শ্রমিকরা।
৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি প্রত্যাহার, নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, মানসম্মত মজুরি ও নির্বাচনের দাবি নিয়ে গত ৬ আগস্ট বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা শ্রীমঙ্গলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
এদিকে এমআর খাঁন চা বাগানের মালিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন কম হচ্ছে। আর তার উপর শ্রমিকরা আন্দোলনে গেলে চা শিল্পের বিশাল ক্ষতি হবে।'
বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গলের উপ-শ্রমপরিচালক মোহাব্বত হোসেন জানান, 'কিছুদিনের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এবং মজুরির বিষয়টি মালিকপক্ষই দেখবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন