ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীনের বিরুদ্ধে ভারতের ‘হরমুজ কার্ড’ হতে যাচ্ছে গ্রেট নিকোবর?


চীনের বিরুদ্ধে ভারতের ‘হরমুজ কার্ড’ হতে যাচ্ছে গ্রেট নিকোবর?

গ্রেট নিকোবর দ্বীপকে কেন্দ্র করে ভারত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মূলত ভারত মহাসাগরে কৌশলগত প্রভাব বিস্তার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নিজেদের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে মোদি সরকার দ্বীপটিকে একটি বিশাল অর্থনৈতিক এবং সামরিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের (প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার) এই প্রকল্পের পেছনে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে, পরিবেশবিদদের মধ্যে এবং আদিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের কিছু অংশের মতে, মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত গ্রেট নিকোবর দ্বীপটি ভবিষ্যতে ভারতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে পরিণত হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের প্রভাবের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।

কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই দ্বীপটির গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রেট নিকোবর দ্বীপ ভৌগোলিকভাবে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উপকূলের অনেক কাছে অবস্থিত। এটি মালাক্কা প্রণালীর পশ্চিম প্রবেশপথের নিকটে অবস্থিত, যেখানে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে

বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়েই চলে। বিশেষ করে চীনের জন্য মালাক্কা প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি এবং দুই-তৃতীয়াংশ বৈদেশিক বাণিজ্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক ভাইস চিফ শেখর সিনহা বলেন, “গ্রেট নিকোবর মালাক্কা প্রণালীর মুখে অবস্থান করছে। এখান থেকে প্রণালীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এটি ভারতের সামুদ্রিক নজরদারি সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।”

মোদি সরকারের মেগা প্রকল্পের পরিপ্রেক্ষিতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গ্রেট নিকোবরে একটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর, বেসামরিক ও সামরিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পর্যটন অবকাঠামো এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য নতুন জনপদ নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন।

সরকারের দাবি, প্রকল্পটি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করবে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই প্রকল্পের লক্ষ্য আন্দামান সাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের উপস্থিতি শক্তিশালী করা, জাতীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা এবং দ্বীপাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।”

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি

তবে প্রকল্পটি শুরু থেকেই প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়েছে। গ্রেট নিকোবর দ্বীপে বসবাসকারী শম্পেন ও নিকোবারি আদিবাসীরা তাদের ভূমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং বিভিন্ন আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

দ্বীপটির মোট আয়তনের প্রায় ১৬ শতাংশ এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর প্রায় অর্ধেক অংশ আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকার অন্তর্ভুক্ত, যেখানে শম্পেন জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩৯ জন আন্তর্জাতিক গণহত্যা-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, এই প্রকল্প শম্পেন জনগোষ্ঠীর জন্য ‘মৃত্যুদণ্ডের সমতুল্য’ হতে পারে এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যার পর্যায়ে পড়তে পারে।

ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৬৪ হাজার গাছ কাটা হবে। একই সঙ্গে দ্বীপে আগামী তিন দশকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার নতুন বাসিন্দা বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বর্তমানে দ্বীপটির জনসংখ্যা ১০ হাজারেরও কম। ফলে জনসংখ্যা প্রায় ৪ হাজার শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।

গ্রেট নিকোবর ভারতের সবচেয়ে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। এটি সিসমিক জোন-৫ এর অন্তর্ভুক্ত, যা সর্বোচ্চ ঝুঁকির শ্রেণি। ২০০৪ সালের ভয়াবহ ভারত মহাসাগরীয় সুনামির সময় দ্বীপটির দক্ষিণাংশ প্রায় ৪ দশমিক ২৫ মিটার নিচে দেবে যায়। ফলে ইন্দিরা পয়েন্ট এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে অবস্থিত বাতিঘরটির একটি অংশও সমুদ্রের পানির সাথে আংশিক নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজালাল রুমিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান হয়নি: রাশেদ খাঁন

পরিবেশবিদদের মতে, এত বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প এই ভঙ্গুর দ্বীপের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী গ্রেট নিকোবর সফর করে স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “সরকার একে উন্নয়ন প্রকল্প বলছে। কিন্তু বাস্তবে মানুষের ঘরবাড়ি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি উপেক্ষা করা হচ্ছে। এটি উন্নয়নের ভাষায় সাজানো ধ্বংসযজ্ঞ।”

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, প্রকল্পটি ভারতের প্রাকৃতিক এবং আদিবাসী ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি ও গুরুতর অপরাধগুলোর একটি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

চীনের বিরুদ্ধে কৌশলগত অস্ত্রের সংক্রান্ত বিষয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের কৌশলগত বিশ্লেষকদের কিছু অংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে সংঘাত হলে গ্রেট নিকোবর ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসী গ্রুপের দুই সদস্য পলাশ ও তোতা মিয়া গ্রেফতার

তবে সাবেক নৌ কর্মকর্তা শেখর সিনহা এই ধারণাকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালী ইরান এবং ওমানের নিয়ন্ত্রণে। একইভাবে মালাক্কা প্রণালী মূলত ইন্দোনেশিয়ার জলসীমার মধ্যে রয়েছে। তাই ভারত চাইলে সহজে এটি অবরুদ্ধ করতে পারবে- এমন একটি ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।”

এছাড়াও, তিনি স্বীকার করেন যে, গ্রেট নিকোবর উন্নয়ন করা হলে ভারত মালাক্কা অঞ্চলে আরও কার্যকর নজরদারি চালাতে সক্ষম হবে এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অধিকতর স্পষ্ট ধারণা পাবে।

সমালোচকদের মতে, প্রকল্পটি মূলত একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ, যাকে এখন জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা বিশেষজ্ঞ মনীশ চান্দি বলেন, “এটি মূলত একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প। এর সম্ভাব্য লাভ অনিশ্চিত, কিন্তু পরিবেশগত ক্ষতি ব্যাপক হবে। শেষ পর্যন্ত এটি ভারতের জন্য সম্পদ নয়, বরং দায়ে পরিণত হতে পারে।”

ফলে, গ্রেট নিকোবর প্রকল্প বর্তমানে শুধুমাত্র একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; এটি ভারতীয় অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সামরিক কৌশল, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আদিবাসী অধিকার- এ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশকে সরাতে রাজপথে নামছে ইন্ডিয়া জোট, ৩০ অক্টোবর ‘জনতার অভিশংসন’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চমক রেখে সিরিজের দল ঘোষণা করল জিম্বাবুয়ে বিসিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


চমক রেখে সিরিজের দল ঘোষণা করল জিম্বাবুয়ে বিসিবি

সূচি অনুযায়ী, সিরিজের প্রথম দুইটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে। আগামী ৮ জুন প্রথম ম্যাচ এবং ১০ জুন দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই ম্যাচের জন্য একটি ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়েছে।

এরপর সিরিজটি স্থানান্তরিত হবে রাজশাহীতে, যেখানে অনুষ্ঠিত হবে ১৩ জুন তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচ। রাজশাহীর ম্যাচের স্কোয়াডে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বগুড়ার প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াডে আছে ইফতেখার হোসেন ইফতি, আকবর আলী এবং আলিস আল ইসলামের মতো পারফর্মাররা, তবে রাজশাহীর তৃতীয় ম্যাচের স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন আশিকুর রহমান শিবলি, রবিউল ইসলাম, আবু হাশিম এবং মঈন খান।

প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য বাংলাদেশের স্কোয়াড হলো: জাকির হাসান, শাহাদাত হোসেন, অমিত হাসান, ইফতেখার হোসেন ইফতি, ইয়াসির আলী চৌধুরী, আকবর আলী, সামিউন বসির রাতুল, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, চৌধুরী রেজওয়ান, খালেদ আহমেদ, মুশফিক হাসান, আলিস আল ইসলাম, রোহানাত দৌল্লাহ বর্ষণ এবং রকিবুল হাসান।

তৃতীয় ওয়ানডের জন্য বাংলাদেশের স্কোয়াড হলো: জাকির হাসান, শাহাদাত হোসেন, অমিত হাসান, আশিকুর রহমান শিবলি, ইয়াসির আলী চৌধুরী, জাকের আলী, সামিউন বসির রাতুল, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, চৌধুরী রেজওয়ান, রবিউল ইসলাম, আবু হাশিম, মঈন খান, রোহানাত দৌল্লাহ বর্ষণ এবং খালেদ আহমেদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে চীনের অভিনন্দন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৭ পি.এম


পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে চীনের অভিনন্দন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় চীন তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই অভিনন্দন জানানো হয়।

বার্তাটি উল্লেখ করে যে, ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা এবং বহুপাক্ষিকতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে দেশটির গঠনমূলক ভূমিকার অনন্য স্বীকৃতি বহন করে।

এছাড়াও চীন আশা প্রকাশ করে যে, ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি-নির্বাচিত ড. খলিলুর রহমান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্যকে সুদৃঢ় করবেন, রাষ্ট্রসমূহের সার্বভৌম সমতা সমুন্নত রাখবেন, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন রক্ষা করবেন এবং কার্যকর সংলাপ ও পরামর্শের মাধ্যমে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবেন।

বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ড. খলিলুর রহমান তার দায়িত্ব পালনে যাতে সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে পারেন, সে জন্য চীন সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

এই নির্বাচনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আংশিক দেনমোহর আদায়ে দাম্পত্য সম্পর্ক বৈধ কিনা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


আংশিক দেনমোহর আদায়ে দাম্পত্য সম্পর্ক বৈধ কিনা?

দেনমোহর কেবল একটি সংখ্যার ব্যাপার নয়। এটি অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। দেনমোহরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নারীদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা। যখন কেউ পুরুষ স্ত্রীর সঙ্গে সংসারে প্রবেশ করবে, তখন তাকে মর্যাদার সঙ্গে আনতে হবে। এর জন্য কিছু উপহার দেওয়ার প্রয়োজন যতটা সম্ভব, যা স্ত্রীর মর্যাদা বৃদ্ধি করবে।

অনেকে জানতে চান, আংশিক দেনমোহর আদায়ে দাম্পত্য সম্পর্ক কি বৈধ?

ফুকাহায়ে কেরাম এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, দেনমোহর এমন একটি সংখ্যা হতে হবে, যা নগদ পরিশোধ করা সম্ভব। যদি নগদ আদায় না করা হয়, তবে বিয়ে হবে সঠিক, তবে পরে আদায়ের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। কিন্তু কেউ যদি তাও না করে তেমন অবস্থায় শরিয়ত স্ত্রীকে এ অধিকার দিয়েছে যে, দেনমোহর পাওয়ার সময় না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী নিজেকে স্বামীর হাতে অর্পণ করতে পারবে না এবং এমন ক্ষেত্রে স্বামীকে স্ত্রীকে নিয়মিত খরচ দিতে হবে।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন,

وَ الۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ الۡمُؤۡمِنٰتِ وَ الۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ اِذَاۤ اٰتَیۡتُمُوۡهُنَّ اُجُوۡرَهُنَّ مُحۡصِنِیۡنَ غَیۡرَ مُسٰفِحِیۡنَ وَ لَا مُتَّخِذِیۡۤ اَخۡدَانٍ

আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারীদের এবং তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো। যদি তোমরা তাদের দেনমোহর প্রদান করো বিয়ের জন্য, প্রকাশ্য ব্যভিচার বা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণকারী হিসেবে নয়। (সুরা মায়েদা. আয়াত: ৫)

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি কেউ দেনমোহর আদায় না করার উদ্দেশ্যে কোনো নারীকে বিয়ে করে। আর মহান আল্লাহ নিশ্চয়ই জানেন যে, তার দেনমোহর আদায়ের উদ্দেশ্য নেই তখন সে মহান আল্লাহকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং অন্যায়ভাবে নারীর লজ্জা ভোগ করেছে। কেয়ামতের দিনে সে ব্যভিচারীরূপে উপস্থিত হবে। (আহমদ)

ফুকাহায়ে কেরাম স্পষ্ট ভাষায় এই মাসয়ালাটি বলেছেন যে, স্বামী দেনমোহর আদায় করে স্ত্রীর বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন। যদি (মোহর আদায় না করে স্ত্রীর বাড়ি নিয়ে যেতে চান এবং) স্ত্রী মোহর দাবি করে বাড়িতে অবস্থান করে, তাহলে স্ত্রীরা (মোহর তো পাবেই, উপরন্তু) নিয়মিত খরচের অধিকারী থাকবে। কারণ, স্ত্রী তার ন্যায্য দাবি আদায়ের স্বার্থেই বাড়ি যাচ্ছে। (নাফাকাত অধ্যায়)

মোহর পাওয়ার আগ পর্যন্ত স্বামীকে যৌন সম্পর্ক স্থাপন, এমনকি চুম্বন-আলিঙ্গন ইত্যাদি থেকে বিরত রাখার অধিকারও স্ত্রীর রয়েছে। (দুররে মুখতার)

উপরোক্ত বিবরণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, দেনমোহর একজন স্ত্রীর শরিয়ত দ্বারা প্রদত্ত অধিকার। কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে তা আদায়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসন্ন বিশ্বকাপে যেসব রেকর্ড নিজের দখলে নিতে পারবেন মেসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০৮ পি.এম


আসন্ন বিশ্বকাপে যেসব রেকর্ড নিজের দখলে নিতে পারবেন মেসি

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানানোর মাধ্যমে ফুটবল ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোতে ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ সম্ভাব্যভাবে মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার বয়স ৩৯ বছর পূর্ণ হবে। মেসি এখনও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এবং তার সামনে একাধিক ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে, যা টুর্নামেন্টটিকে স্মরণীয় করে তুলতে পারে।

প্রথমত, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলে সেটি হবে মেসির খেলা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এই মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের একজন হয়ে যাবেন। তবে এই রেকর্ডটি তাকে ভাগাভাগি করতে হবে তার আর্চ রাইভাল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গুইলের্মো ওচোয়ার সঙ্গে। তিনজনেরই থাকবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের কীর্তি। যদিও ওচোয়া ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে মাঠে নামেননি।

বর্তমানে পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কিংবদন্তিদের তালিকায় তাদের সঙ্গে আছেন লোথার ম্যাথাউস, জিয়ানলুইজি বুফন, রাফায়েল মার্কুয়েজ, আন্দ্রেস গুয়ারদাদো এবং আন্তোনিও কারবাহাল।

দ্বিতীয়ত, মেসির সামনে রয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ। এই মুহূর্তে এই রেকর্ডটিতে আধিপত্য করছে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার, যার গোল সংখ্যা ১৬। তার পেছনে অবস্থান করছেন রোনালদো নাজারিও (১৫) এবং গার্ড মুলার (১৪)। মেসি বর্তমানে ১৩ গোল নিয়ে রয়েছেন এবং যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্তেইনের সাথে। মেসি ২০০৬ সালে ১টি, ২০১৪ সালে ৪টি, ২০১৮ সালে ১টি এবং ২০২২ সালে বাকি গোলগুলো করেছিলেন। তবে, এই রেকর্ডের পথে মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিয়ান এমবাপ্পে, যার গোল সংখ্যা ১২টি এবং বয়স মাত্র ২৭।

তৃতীয়ত, মেসির সামনে আরও একটি সুযোগ রয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা হওয়ার। বর্তমানে তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা ৮টি। এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন পেলে, যার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১০টি। তবে, মেসির জন্য এই রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব নয়। ফিফার অফিসিয়াল হিসেব অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিকও মেসিই। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের আগে অ্যাসিস্ট হিসেবে না ধরা হওয়ার কারণে পেলের রেকর্ডটিকে মূলত ধরা হয় না। এই রেকর্ডে মেসির একজন সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্বদেশি দিয়েগো ম্যারাডোনা।

এছাড়া, মেসি এখনও পর্যন্ত দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন; ২০১৪ এবং ২০২২ সালে। যদি তিনি ২০২৬ সালেও ফাইনালে উঠতে পারেন, তাহলে তিনি যৌথভাবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়বেন। বিশ্বকাপের তিনটি ফাইনাল খেলার রেকর্ডটি একমাত্র ফুটবলার হিসেবে রয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রাইটব্যাক কাফু। এমবাপ্পেরও এই সুযোগ রয়েছে, কারণ তিনি ২০১৮ এবং ২০২২ এর ফাইনাল খেলেছেন।

আরেকটি রেকর্ড ইতোমধ্যেই মেসির দখলে রয়েছে, যা হলো বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড। তিনি এখন পর্যন্ত ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন। তার পেছনে রয়েছেন ম্যাথাউস (২৫), ক্লোসা (২৪) এবং পাওলো মালদিনি (২৩)। নতুন ফরম্যাটে একটি দল সর্বোচ্চ আটটি ম্যাচ খেলতে পারবে, ফলে মেসির সামনে তার নিজস্ব রেকর্ডটি আরও অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

একইভাবে, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি মিনিট মাঠে থাকার রেকর্ডটিও আরও সমৃদ্ধ করতে পারেন। মেসি বর্তমানে বিশ্বকাপে খেলা মোট সময় ২,৩০০ মিনিট। তাই, ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসির জন্য শুধুমাত্র শিরোপা রক্ষার মঞ্চ নই, বরং ইতিহাসের পাতায় আরও কয়েকটি অনন্য রেকর্ড যোগ করার সুযোগ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%