ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হলে JCD লেখা নিয়ে প্রতিবাদ, কুবির শিক্ষার্থীকে জুনিয়রসহ মারধরের অভিযোগ


হলে JCD লেখা নিয়ে প্রতিবাদ, কুবির শিক্ষার্থীকে জুনিয়রসহ মারধরের অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের দেয়ালে ‘JCD’ লেখাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীকে জুনিয়রসহ কয়েকজন মিলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হলের ৫০৮ নম্বর কক্ষে ও বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মামুনুর রশীদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন একই বিভাগের আকাশ রাজবংশী ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সোহাগ চৌধুরী এবং আইন বিভাগের ফয়সাল। এছাড়া ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সনব দেবনাথ ও মারুফ হোসাইনকেও মারধরে অংশ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন মামুন।

আরও পড়ুন: কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান নূরুল ইসলাম মনি

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, নজরুল হলের ৪০৭ নম্বর কক্ষের বাইরের দেয়ালে ‘JCD’, ‘407’, ‘কি? খাবি? খুব আতাও’সহ বিভিন্ন লেখা দেখা যায়। এসব লেখা নিয়ে হলের গ্রুপে আলোচনা শুরু হলে মামুনুর রশিদের সঙ্গে অভিযুক্তদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহাগ, ফয়সাল ও আকাশ মামুনের কক্ষে গিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে জুনিয়র শিক্ষার্থী সনব ও মারুফও তাকে মারধর করেন বলে দাবি মামুনের।

মামুনুর রশিদ বলেন, “হল রাজনীতি করার জায়গা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জায়গা। দেয়ালে ছাত্রদল, শিবির বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নাম লিখলে হলের সৌন্দর্য নষ্ট হবে। যার যার রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু তা দেয়ালে লেখার প্রয়োজন নেই। আমি জুলাইয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এমন পরিবেশের জন্য লড়াই করেছি, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “দেয়ালে রাজনৈতিক লেখা নিয়ে প্রতিবাদ করায় কয়েকজন আমাকে গুপ্ত রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। এরপর ফয়সাল আমাকে ম্যাসেন্জারে কল দিয়ে ফোনে হুমকি দেয়। পরে সোহাগ, ফয়সাল, আকাশসহ কয়েকজন আমার রুমে এসে কেন ছাত্রলীগ বলেছি এ নিয়ে আমাকে মারতে আসে। মারামারির একপর্যায়ে জুনিয়র মারুফ এবং সনব আমাকে মারতে আসে, মারুফ আমার নাকে ঘুষি মারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহাগ চৌধুরী বলেন, তারা মামুনুর রশিদের সঙ্গে কথা বলতে তার কক্ষে গেলে মামুন তাকে ধাক্কা দেন। পরে ফুলের টব ও দা নিয়ে তাদের মারতে আসলে আত্মরক্ষার্থে হাতাহাতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, তাদের সঙ্গে কোনো জুনিয়র শিক্ষার্থী ছিল না।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঐতিহাসিক হবে: ভূমিমন্ত্রী

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফার্মেসি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচিং মার্মা বলেন, “আমি গিয়ে দেখি মারামারি শুরু হয়ে গেছে। লাইট বন্ধ থাকায় মুখগুলো ভালোভাবে চেনা যায়নি। মারামারি একপর্যায়ে আমাদের রুমের সামনে চলে আসে। দেখছিলাম মামুন ভাই মার খাচ্ছেন। আমি তাকে সেখান থেকে সরিয়ে আমাদের রুমে নিয়ে আসি।” এছাড়াও মামুনুর রশিদের হাতে হাতে কোন দা ছিলনা, একটি ফুলের টব ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী। পরে তিনি তার হাত থেকে সেটা নিয়ে নেন।

এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে থাকা জুনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করতে রাজি থাকলেও মামুন সাংবাদিকদের সামনে বা ভিডিওতে বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। তাই দুই পক্ষকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুপার বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতি, ৪ দফায় বাড়ল কত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


রুপার বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতি, ৪ দফায় বাড়ল কত?

দেশের বাজারে সর্বশেষ ৫ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ৪ বার রুপার দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সবশেষ টানা ৪ দফায় মোট ৮৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

শেষে শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে টানা ৪র্থ দফা রুপার দাম বাড়িয়েছে। এবার এ সংগঠনটি ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য বেড়ে গেছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম হলো ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা সম্ভব নয়। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম কার্যকর থাকবে।

এর আগে, গত ২০ আগস্ট রুপার দাম কর্তৃপক্ষ সমন্বয় করেছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ৬৪ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে দাম ৩৪ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ৩০ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় হয়েছিল, যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার এবং কমেছিল মাত্র ৩ বার।

এদিকে, ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায় ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ১০৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে দাম ৫৪ দফা বাড়ানো হয়েছে, ৫১ দফা কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত ২০২৫ সালে দেশে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; সেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড়শিতে ধরা পড়ল ৭৬ কেজির বিশাল আকৃতির মাছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


বড়শিতে ধরা পড়ল ৭৬ কেজির বিশাল আকৃতির মাছ

থাইল্যান্ডের বুং সামরান ফিশিং পার্কে মাছ ধরার সময় ৭৬ কেজি ওজনের মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ ধরেছেন বাংলাদেশের দুই শখের মাছশিকারি। তবে বিশাল এই মাছটি বিক্রি করে কোনো টাকা পাননি তারা। কারণ, পার্কটির নিয়ম অনুযায়ী মাছ ধরার পর ছবি তোলা হয় এবং তারপর আবার পানিতে ছেড়ে দিতে হয়।

ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তাদের দীর্ঘদিন মাছ ধরার সুযোগ হয়নি। কিন্তু বন্ধু ওমর হায়দারের আগ্রহের কারণে এবার নতুন অভিজ্ঞতার জন্য দেশের বাইরে মাছ ধরতে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন দুই বন্ধু।

থাইল্যান্ডে মাছ ধরার অনেক জায়গা থাকলেও তারা শেষ পর্যন্ত বেছে নেন প্রায় ৪২ বছরের পুরোনো বুং সামরান ফিশিং পার্ক। গত ৫ আগস্ট ব্যাংককে পৌঁছে পরদিন গাড়িতে প্রায় দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে তারা এই পার্কে পৌঁছান।

নিবন্ধনের পরে তাদের দেওয়া হয় একটি বাংলো এবং একজন গাইড। ফিশিং প্যাকেজে ছিল রড, হুইল, মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুবিধা। দুজন মিলে একটি ফিশিং রডের জন্য খরচ করেন ৬ হাজার বাথ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি এক দিনের মাছ ধরার লাইসেন্সের জন্য জনপ্রতি দিতে হয়েছে ২ হাজার বাথ।

প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই হ্রদে ৪০টির বেশি প্রজাতির মাছ রয়েছে। এর মধ্যে মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশের ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। রয়েছে ১০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের জায়ান্ট সিয়ামিজ কার্পও।

বাংলোয় ওঠার পর গাইড টোপ তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রায় ৩০ কেজি খাবার, চালের গুঁড়া, ছাতুসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে টোপ তৈরি করা হয়।

ছিপ ফেলার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই প্রথম মাছের টান পান ওমর হায়দার। প্রায় ২০ মিনিট লড়াই শেষে ধরা পড়ে ৩৬ কেজি ওজনের একটি মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ। পরে প্রায় ৫০ কেজি ওজনের আরও একটি মাছ ধরা পড়ে।

দিনের শেষ দিকে আসে সবচেয়ে বড় চমক। প্রায় ৭৬ কেজি ওজনের একটি বিশাল মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ বড়শিতে ধরা পড়ে। এত বড় মাছ সামলে নিতে তাদেরকে হিমশিম খেতে হয়।

তবে তারা মাছটিকে বিক্রি করে কোনো অর্থ পাননি। বুং সামরান ফিশিং পার্কে রয়েছে ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ’ নীতি, অর্থাৎ মাছ ধরার পর ওজন করা ও ছবি তোলার পর সেটিকে আবার নিরাপদে পানিতে ছেড়ে দিতে হয়।

পার্ক কর্তৃপক্ষ মাছের নিরাপত্তার বিষয়ে বেশ কঠোর। মাছের শরীরে ক্ষতি হলে বা মাছ মারা গেলে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়। এ কারণে সেখানে বিশেষ ধরনের বার্বলেস বড়শি ব্যবহার করা হয়, যাতে মাছের মুখ থেকে বড়শি সহজে খুলে ফেলা যায় এবং ক্ষতি কম হয়।

একদিনের মাছ ধরায় তারা প্রায় ২২ থেকে ২৩টি বড় মাছ ধরেন। কিন্তু দিনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে ৭৬ কেজির সেই মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ।

ফিশিং পার্কটিতে সর্বোচ্চ প্রায় ১২০ কেজি ওজনের মাছ ধরার রেকর্ড রয়েছে। ১০০ কেজির বেশি ওজনের মাছ ধরতে পারলে শিকারিদের ছবি স্থান পায় পার্কের ‘হল অব ফেমে’।

এবার সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও তারা আবারও থাইল্যান্ডে গিয়ে ১০০ কেজির বেশি ওজনের মাছ ধরে হল অব ফেমে জায়গা করে নেওয়ার ইচ্ছা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে খোকন তালুকদারের শুভেচ্ছা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে খোকন তালুকদারের শুভেচ্ছা

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।

মাদারীপুর-৩ আসনের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাৎকালে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন। পাশাপাশি দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

এ সময় মাদারীপুর-৩ আসনের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
শায়খ ড. আহমদ বিন আলী আল-হুজাইফি

তীব্র গরমে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন শায়খ হুজাইফি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


তীব্র গরমে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন শায়খ হুজাইফি

শুক্রবার মসজিদে নববীতে প্রদত্ত জুমার খুতবায় মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আহমদ বিন আলী আল-হুযাইফি বলেন, আল্লাহ তাআলা তাকওয়া অবলম্বনকারী, সৎকর্মশীল ও উত্তম প্রতিদানের প্রতি বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য কল্যাণের পথ সহজ করে দেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি দান করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং সর্বোত্তম পুরস্কারে বিশ্বাস রাখে, আমরা তাকে সহজতার দিকে আরো সহজ করে দেব।’ (সুরা : লাইল, আয়াত : ৫-৭)

শায়খ হুযাইফি বলেন, বর্তমানে অনুভূত তীব্র গ্রীষ্মের তাপ ও প্রখর মধ্যাহ্নের সূর্য মুমিনের জন্য আল্লাহর কুদরত ও প্রভুত্ব নিয়ে চিন্তা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। দিন-রাতের পরিবর্তন, ঋতুর আবর্তন এবং বছর ও যুগের পরিক্রমা—সব কিছুই আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও নিখুঁত পরিচালনার নিদর্শন।

তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহই দিন ও রাতের পরিবর্তন ঘটান, সময়ের প্রবাহ পরিচালনা করেন এবং সমগ্র সৃষ্টিজগৎকে তাঁর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী পরিচালিত করেন। তাই একমাত্র তিনিই প্রকৃত ইবাদতের যোগ্য।

এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সেই আয়াত স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ যদি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তোমাদের ওপর রাতকে স্থায়ী করে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য তোমাদের আলো এনে দিতে পারে? তবু কি তোমরা শুনবে না?’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭১)

এরপর শায়খ হুযাইফি বলেন, যদি আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত দিনকে স্থায়ী করে দিতেন, তাহলে কি এমন কোন উপাস্য আছে, যে মানুষকে বিশ্রামের জন্য রাত এনে দিতে পারত? এসব নিদর্শন মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়—পরম কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর।

আল্লাহ তাআলা এই পৃথিবীকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে এখানে কোনো অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়। সুখের পর দুঃখ আসে, সমৃদ্ধির পর সংকট আসে, আবার সংকটের পর স্বস্তিও ফিরে আসে। মানুষের জীবনও ঠিক এভাবেই পরিবর্তনশীল।

তিনি দুনিয়ার জীবনের ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতি বোঝাতে সুরা হাদিদের ২০ নম্বর আয়াতের মর্ম তুলে ধরেন। সেখানে আল্লাহ দুনিয়ার জীবনকে খেলাধুলা, বিনোদন, সৌন্দর্য প্রদর্শন, পারস্পরিক অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রতিযোগিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বৃষ্টির পর যেমন জমিনের ফসল সতেজ ও সবুজ হয়ে ওঠে, তা দেখে মানুষ আনন্দিত হয়; কিন্তু কিছুদিন পর সেই ফসল শুকিয়ে যায়, হলুদ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত খড়কুটোয় পরিণত হয়—তেমনি দুনিয়ার চাকচিক্যও সাময়িক। আজ যে ব্যক্তি সুখ-সমৃদ্ধিতে আছে, কাল সে হয়তো পরীক্ষা ও সংকটের মুখোমুখি হবে।

শায়খ আল-হুযাইফি বলেন, দুনিয়ার এই পরিবর্তনশীলতা মুমিনকে হতাশ করার জন্য নয়; বরং তাকে আখিরাতের স্থায়ী জীবনের জন্য প্রস্তুত করার শিক্ষা দেয়। কারণ দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই চূড়ান্ত সফলতার পথ।

হুযাইফি খুতবায় আরও বলেন, মানুষের স্বভাব হলো আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে ঝুঁকে পড়া। যখন জীবনে বিলাসিতা আসে, তখন অনেক সময় মানুষ ইবাদত, সৎকর্ম ও আত্মসংযমে অলস হয়ে পড়ে। আবার কোনো ভালো কাজে সামান্য কষ্ট থাকলেও নফস তা এড়িয়ে যেতে চায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি তাবুক অভিযানের সময় মুনাফিকদের মনোভাবের কথা উল্লেখ করেন। তারা প্রচণ্ড গরমের অজুহাত দেখিয়ে আল্লাহর পথে বের হতে অনীহা প্রকাশ করেছিল। আল্লাহ তাদের জবাবে বলেন, ‘বলুন, জাহান্নামের আগুন উত্তাপে আরও তীব্র।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৮১)

এই আয়াত মুমিনকে শিক্ষা দেয়—সাময়িক কষ্টকে ভয় পেয়ে সৎকর্ম থেকে পিছিয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ নেক আমলের পথে কিছু কষ্ট থাকলেও তার পরিণতি সুন্দর। বিপরীতে আরাম-আয়েশের জন্য আল্লাহর আনুগত্য ও সৎকর্ম পরিত্যাগ করা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

খুতবার শেষাংশে শায়খ আল-হুযাইফি বলেন, মুমিনের জীবনে যখন আরাম-আয়েশ ও পার্থিব সুবিধা তাকে আত্মতুষ্ট করে তোলে, তখন তার যথাযথ উচিত আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা স্মরণ করা। আবার যখন দুঃখ-কষ্ট ও সংকট আসে, তখনো মনে রাখতে হবে—কোনো অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়।

দিনের পর রাত আসে, শুষ্কতার পর বৃষ্টি আসে, কষ্টের পর স্বস্তি আসে—তেমনি দুনিয়ার প্রতিটি অবস্থারও পরিবর্তন রয়েছে। তাই মুমিনের কর্তব্য হলো সুখের সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা, দুঃখের সময় ধৈর্য ধারণ করা এবং প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর আনুগত্যে অটল থাকা।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দুনিয়ার সাময়িক স্বাচ্ছন্দ্যের পেছনে ছুটে আখিরাতের স্থায়ী কল্যাণকে বিসর্জন দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং মুমিনকে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে সৎকর্ম, ধৈর্য ও আল্লাহভীতির পথে অগ্রসর হতে হবে। তাই দুনিয়ার পরিবর্তনশীলতা মেনে নিয়ে মুমিনকে স্থায়ী আখিরাতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কেননা তাকওয়া, ধৈর্য, সৎকর্ম ও আল্লাহর সন্তুষ্টিই মানুষের প্রকৃত সফলতার পাথেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%