ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কলাপাড়ায় শুরু জাতীয় ফল মেলা


কলাপাড়ায় শুরু জাতীয় ফল মেলা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জাতীয় ফল মেলা শুরু হয়েছে। এ ফল মেলায় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফল প্রদর্শন করছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসীন সাদেক। অনুগ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সিপিপির সহকারী পরিচালক আছাদ উজ জ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম, সমবায় কর্মকর্তা আব্বাস আলী, জামায়াত ইসলামীর আমীর আবদুল কাইউম এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

আরও পড়ুন: সাজেকে অস্থিরতার নেপথ্যে শুধুই আধিপত্যের লড়াই ও চাঁদাবাজি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন ১টি থানা ও ৩টি উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৩ পি.এম


নতুন ১টি থানা ও ৩টি উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত

সরকার চট্টগ্রামের হাটহাজারীকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর সাথে ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ এবং গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন তিনটি উপজেলা গঠনের কথা বলছে।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম সভা আগামীকাল সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১০০০ নম্বর কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে গত রোববার জারি করা সভার নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, নতুন থানা ও উপজেলা গঠন, জেলা সীমানা পুনর্গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং আলোচনা হবে।

এ সভার আলোচ্যসূচিতে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উত্থাপন করবে।

এছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগ উপস্থাপন করবে।

সভায় আরও আলোচনা হবে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব নিয়ে।

অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশ ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার প্রশাসনিক সীমানা পুনর্গঠনের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

এ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

এছাড়া ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীনে আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও সভায় বিবেচিত হবে।

সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) সংশ্লিষ্ট একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের মন্ত্রী ও কমিটির সদস্যদের সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সভার কার্যপত্র আগেই সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সভা শেষে কার্যপত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও জনসেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নিকারের এ সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরব প্রেসক্লাব নির্বাচন: সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন খাইরুল ইসলাম সবুজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব কিশোরগঞ্জ

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


ভৈরব প্রেসক্লাব নির্বাচন: সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন খাইরুল ইসলাম সবুজ

আগামী ১৭ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ভৈরব প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক (২০২৬-২০২৮) নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক খাইরুল ইসলাম সবুজ। তার প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই ভৈরবের সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আড়াই বেপারী বাড়ির ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের বড় ছেলে খাইরুল ইসলাম সবুজ দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, সংস্কৃতি চর্চা ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রেখে পরিচিতি লাভ করেছেন। প্রায় ৩৪৫ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ভৈরব প্রেসক্লাবের এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সদস্যদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
২০০৪ সালে অ্যাড মিডিয়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা। পরবর্তীতে ২০০৬ সাল থেকে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতা করে তিনি একজন সাহসী, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকর্মী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন।
দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি এসএ টিভির ভৈরব প্রতিনিধি এবং দৈনিক আমাদের সময়-এর ভৈরব প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিন, দিগন্ত টেলিভিশন ও সাপ্তাহিক নিরপেক্ষ অরুণিমাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।
পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে দুই বছর মেয়াদি সাংবাদিকতা বিষয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) আয়োজিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে সনদ অর্জন করেন।
২০১১ সালে ভৈরব প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার পর সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে দুই দফা কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়ে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান বাচ্চু এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের উৎসাহে তিনি সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রেও সক্রিয়। সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নিবেদিতা নাট্যাঙ্গনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠিত ভৈরব কিডস একাডেমির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচনী অঙ্গীকার সম্পর্কে খাইরুল ইসলাম সবুজ বলেন, “সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, দক্ষতা বৃদ্ধি, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সাংবাদিকবান্ধব ভৈরব প্রেসক্লাব গড়ে তুলতে চাই। সকল সদস্যের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশিক্ষণ, পেশাগত নিরাপত্তা, কল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং সাংগঠনিক ঐক্যের মাধ্যমে ভৈরবের সাংবাদিকতার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে চাই।”
এদিকে সাংবাদিক সমাজের অনেকের মতে, দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি ও শিক্ষা উন্নয়নে সম্পৃক্ততা খাইরুল ইসলাম সবুজকে সাধারণ সম্পাদক পদের একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত আগামী ১৭ জুলাই সদস্যদের ভোটেই নির্ধারিত হবে ভৈরব প্রেসক্লাবের আগামী দিনের নেতৃত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাতারে মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে বৈঠকের দাবি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৫ পি.এম


কাতারে মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে বৈঠকের দাবি ট্রাম্পের

 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অনুরোধে মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তবে তেহরান বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনা নেই।

মার্কিন-ইরান চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে তারা প্রথম আলোচনা করেছে এবং চুক্তিটিকে চাপের মুখে ফেলা হামলাগুলো বন্ধ করতে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্মত হওয়ার প্রেক্ষাপটেও এই ঘোষণা এসেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি তেহরান থেকে এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, 'ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। আগামীকাল দোহায় সেটি অনুষ্ঠিত হবে!' তবে তিনি জানাননি, বৈঠকে কারা অংশ নিবেন।

পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এ সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে দোহায় যাবেন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সোমবার বলেন, দেশটির বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধি দল এ সপ্তাহে দোহা সফর করবে।

কিন্তু তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, 'আমরা এখনও চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার পর্যায়ে প্রবেশ করিনি।' আগামী কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনার বৈঠক হবে না।

এদিকে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বারবার উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, 'বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক হামলার' জবাবে তারা ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

এর জবাব হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার অন্যতম প্রধান অচলাবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের সীমান্তে অবস্থিত। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।

সোমবার ইরান জানায়, চুক্তি স্বাক্ষরের পর তারা ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালী বিষয়ে প্রথম বৈঠক করেছে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, 'মাসকাট সফরের সময় যৌথ হরমুজ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।' হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সাধারণভাবে কোনো দেশই সেখানে নৌযান চলাচল বন্ধ করতে বা শুল্ক আরোপ করতে পারে না।

ইরান রোববার সতর্ক করে বলেছে, হরমুজে তাদের নির্ধারিত নৌপথ এড়িয়ে অন্য পথে চলাচলের চেষ্টা করলে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে। তেহরানের দাবি, প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে তাদের উপকূলসংলগ্ন করিডোর দিয়েই চলতে হবে।

সমঝোতা স্মারকটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে মাইন অপসারণের বিষয়টি নিয়ে ইরান অত্যন্ত সংবেদনশীল।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্যারিস ও মাসকাট যৌথভাবে মাইন অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এর প্রতিক্রিয়ায় গারিবাবাদি বলেন, চুক্তি অনুসারে শুধু ইরানই মাইন অপসারণের কাজ করবে। তিনি এক্স-এ লেখেন, 'পরিস্থিতি সংবেদনশীল ও জটিল। আমরা ফ্রান্সকে দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যেন তারা পরিস্থিতিকে আরও জটিল না করে।'

সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের শেষে প্রণালী দিয়ে চলাচল ধীর হয়ে যায়। শনিবার ২৯টি পণ্যবাহী জাহাজ ও রোববার ১২টি জাহাজ এ পথ অতিক্রম করে। ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ওমানের জলসীমার দক্ষিণাঞ্চলীয় করিডোর দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করেনি। অন্যদিকে এএক্সএস মেরিন জানায়, ৪৪টি জাহাজ তাদের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ বন্ধ রেখেছে।

চলতি মাসে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের পাঠ্যে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওমান ও উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে ইরান।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কো (আইআরজিসি) জানায়, তারা হরমুজে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিচ্ছে। যারা এ ব্যবস্থা লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার এক্সে লেখেন, যতদিন ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে, ততদিন ওয়াশিংটনের 'অঞ্চলে আধিপত্যবাদের স্বপ্ন' বাস্তবায়িত হবে না। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হরমুজে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে।

লন্ডনভিত্তিক থিংক ট্যাংক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের এইচ.এ. হেলিয়ার বলেছেন, ইরানের জন্য 'প্রণালীতে নিয়ন্ত্রিত চাপ বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া লাভজনক হতে পারে।' গত সপ্তাহে যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে নেমে আসা তেলের দাম সোমবার কিছুটা বেড়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সোমবার জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় হামলাটি হয়েছে। অথচ গত সপ্তাহেই শান্তিচুক্তির লক্ষ্য নিয়ে দুই দেশ একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছে।

মার্চ মাসে ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। এর জবাবে ইসরাইল বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দায়িত্ব লেবাননের সেনাবাহিনীর। ইসরাইলি নেতারা বলেছেন, সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেনারা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান করবে।

তবে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এ চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামীকাল থেকে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি জমায় ‘এ-চালান’ বাধ্যতামূলক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৬ পি.এম


আগামীকাল থেকে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি জমায় ‘এ-চালান’ বাধ্যতামূলক

 সরকারের তরফে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার জন্য আগামীকাল থেকে এ-চালান ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আজ অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করতে, নগদ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ম্যানুয়াল চালান ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা কিংবা অধীনস্থ দপ্তর এ-চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বা অন্যান্য প্রাপ্তি সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবে না। বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত যে কোনো পৃথক ব্যবস্থা বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারের ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এ-চালান ব্যবস্থার ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে আদায়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এর কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে প্রক্রিয়াকৃত ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালান দিয়ে যাত্রা শুরু করা এ-চালান প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গত সাত অর্থবছরে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকৃত হয়েছে। এ সময় সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছে। অনলাইনে আদায়ের পরিমাণ ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৮৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। একই সময় ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) লেনদেনের মাধ্যমে জমা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

অর্থ বিভাগ উল্লেখ করেছে, এ-চালান পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারের প্রকৃত নগদ অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ছড়িয়ে থাকা অলস সরকারি অর্থ কমবে এবং নগদ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ হবে। এ-চালান চালুর ফলে সরকারি ফি ও রাজস্ব জমা দিতে নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটা কমেছে। অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালানের রসিদ তৈরি হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়, ফলে নাগরিক সেবা পাওয়া আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা কাউন্টার, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ও ট্যাপ নির্ভর বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া সম্ভব।

অর্থ বিভাগ জানায়, এ-চালানের মাধ্যমে জমা হওয়া অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়ে যায়। ফলে সরকারি প্রাপ্তির তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করছে।

এ-চালান ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তাৎক্ষণিকভাবে রাজস্ব আদায় ও লেনদেনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারছে। চালান যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কোনো চালানের সত্যতা দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হওয়ায় ভুয়া চালান, জাল দলিল এবং রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

উল্লেখ্য, বৃহত্তর সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের অংশ হিসেবে অর্থ বিভাগ ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ-চালান ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মূল লক্ষ্য সরকারি অর্থ দ্রুত কোষাগারে জমা নিশ্চিত করা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ভুয়া চালান প্রতিরোধ এবং সরকারের নগদ অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%