ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাতারে মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে বৈঠকের দাবি ট্রাম্পের


কাতারে মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে বৈঠকের দাবি ট্রাম্পের

 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অনুরোধে মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তবে তেহরান বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনা নেই।

মার্কিন-ইরান চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে তারা প্রথম আলোচনা করেছে এবং চুক্তিটিকে চাপের মুখে ফেলা হামলাগুলো বন্ধ করতে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্মত হওয়ার প্রেক্ষাপটেও এই ঘোষণা এসেছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

বার্তা সংস্থা এএফপি তেহরান থেকে এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, 'ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। আগামীকাল দোহায় সেটি অনুষ্ঠিত হবে!' তবে তিনি জানাননি, বৈঠকে কারা অংশ নিবেন।

পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এ সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে দোহায় যাবেন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সোমবার বলেন, দেশটির বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধি দল এ সপ্তাহে দোহা সফর করবে।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

কিন্তু তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, 'আমরা এখনও চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার পর্যায়ে প্রবেশ করিনি।' আগামী কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনার বৈঠক হবে না।

এদিকে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বারবার উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, 'বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক হামলার' জবাবে তারা ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

এর জবাব হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার অন্যতম প্রধান অচলাবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের সীমান্তে অবস্থিত। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।

আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে

সোমবার ইরান জানায়, চুক্তি স্বাক্ষরের পর তারা ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালী বিষয়ে প্রথম বৈঠক করেছে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, 'মাসকাট সফরের সময় যৌথ হরমুজ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।' হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সাধারণভাবে কোনো দেশই সেখানে নৌযান চলাচল বন্ধ করতে বা শুল্ক আরোপ করতে পারে না।

ইরান রোববার সতর্ক করে বলেছে, হরমুজে তাদের নির্ধারিত নৌপথ এড়িয়ে অন্য পথে চলাচলের চেষ্টা করলে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে। তেহরানের দাবি, প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে তাদের উপকূলসংলগ্ন করিডোর দিয়েই চলতে হবে।

সমঝোতা স্মারকটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে মাইন অপসারণের বিষয়টি নিয়ে ইরান অত্যন্ত সংবেদনশীল।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্যারিস ও মাসকাট যৌথভাবে মাইন অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এর প্রতিক্রিয়ায় গারিবাবাদি বলেন, চুক্তি অনুসারে শুধু ইরানই মাইন অপসারণের কাজ করবে। তিনি এক্স-এ লেখেন, 'পরিস্থিতি সংবেদনশীল ও জটিল। আমরা ফ্রান্সকে দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যেন তারা পরিস্থিতিকে আরও জটিল না করে।'

সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের শেষে প্রণালী দিয়ে চলাচল ধীর হয়ে যায়। শনিবার ২৯টি পণ্যবাহী জাহাজ ও রোববার ১২টি জাহাজ এ পথ অতিক্রম করে। ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ওমানের জলসীমার দক্ষিণাঞ্চলীয় করিডোর দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করেনি। অন্যদিকে এএক্সএস মেরিন জানায়, ৪৪টি জাহাজ তাদের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ বন্ধ রেখেছে।

চলতি মাসে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের পাঠ্যে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওমান ও উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে ইরান।

আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কো (আইআরজিসি) জানায়, তারা হরমুজে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিচ্ছে। যারা এ ব্যবস্থা লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার এক্সে লেখেন, যতদিন ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে, ততদিন ওয়াশিংটনের 'অঞ্চলে আধিপত্যবাদের স্বপ্ন' বাস্তবায়িত হবে না। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হরমুজে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে।

লন্ডনভিত্তিক থিংক ট্যাংক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের এইচ.এ. হেলিয়ার বলেছেন, ইরানের জন্য 'প্রণালীতে নিয়ন্ত্রিত চাপ বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া লাভজনক হতে পারে।' গত সপ্তাহে যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে নেমে আসা তেলের দাম সোমবার কিছুটা বেড়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সোমবার জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় হামলাটি হয়েছে। অথচ গত সপ্তাহেই শান্তিচুক্তির লক্ষ্য নিয়ে দুই দেশ একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছে।

আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড গেজেট প্রকাশের ঘোষণা শ্রমমন্ত্রীর

মার্চ মাসে ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। এর জবাবে ইসরাইল বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দায়িত্ব লেবাননের সেনাবাহিনীর। ইসরাইলি নেতারা বলেছেন, সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেনারা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান করবে।

তবে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এ চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামীকাল থেকে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি জমায় ‘এ-চালান’ বাধ্যতামূলক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৬ পি.এম


আগামীকাল থেকে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি জমায় ‘এ-চালান’ বাধ্যতামূলক

 সরকারের তরফে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার জন্য আগামীকাল থেকে এ-চালান ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আজ অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করতে, নগদ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ম্যানুয়াল চালান ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা কিংবা অধীনস্থ দপ্তর এ-চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বা অন্যান্য প্রাপ্তি সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবে না। বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত যে কোনো পৃথক ব্যবস্থা বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারের ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এ-চালান ব্যবস্থার ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে আদায়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এর কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে প্রক্রিয়াকৃত ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালান দিয়ে যাত্রা শুরু করা এ-চালান প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গত সাত অর্থবছরে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকৃত হয়েছে। এ সময় সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছে। অনলাইনে আদায়ের পরিমাণ ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৮৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। একই সময় ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) লেনদেনের মাধ্যমে জমা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

অর্থ বিভাগ উল্লেখ করেছে, এ-চালান পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারের প্রকৃত নগদ অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ছড়িয়ে থাকা অলস সরকারি অর্থ কমবে এবং নগদ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ হবে। এ-চালান চালুর ফলে সরকারি ফি ও রাজস্ব জমা দিতে নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটা কমেছে। অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালানের রসিদ তৈরি হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়, ফলে নাগরিক সেবা পাওয়া আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা কাউন্টার, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ও ট্যাপ নির্ভর বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া সম্ভব।

অর্থ বিভাগ জানায়, এ-চালানের মাধ্যমে জমা হওয়া অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়ে যায়। ফলে সরকারি প্রাপ্তির তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করছে।

এ-চালান ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তাৎক্ষণিকভাবে রাজস্ব আদায় ও লেনদেনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারছে। চালান যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কোনো চালানের সত্যতা দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হওয়ায় ভুয়া চালান, জাল দলিল এবং রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

উল্লেখ্য, বৃহত্তর সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের অংশ হিসেবে অর্থ বিভাগ ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ-চালান ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মূল লক্ষ্য সরকারি অর্থ দ্রুত কোষাগারে জমা নিশ্চিত করা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ভুয়া চালান প্রতিরোধ এবং সরকারের নগদ অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হতাশা নিয়েই জার্মানি অধ্যায়ের ইতি টানলেন নয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৬ পি.এম


হতাশা নিয়েই জার্মানি অধ্যায়ের ইতি টানলেন নয়ার

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় একটি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার ফলে চরম যাতায়াত দুর্ভোগে পড়েছেন ১৫টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। ভেঙে যাওয়া অংশের ওপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করে দিলেও, তার ওপরে কোনো হালকা কিংবা পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এর ফলে ব্রিজের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর জানিয়েছে, জনগণের সাময়িক কষ্ট লাঘবে দ্রুত বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হবে এবং নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের মাঝখানের একটি বড় অংশ ভেঙে নিচে খালের খাদে পড়ে গেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের মুছল্লীপাড়া এলাকায় হাজীনি খালের ওপর নির্মিত এই ব্রিজটি দিয়ে একটি ভারী ট্রাক্টর পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রাক্টরের অতিরিক্ত ভার সইতে না পেরে ব্রিজের পাটাতনটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনা ঘটার সময় ট্রাক্টরের ৬ জন আরোহী গুরুতর আহত হলেও অলৌকিকভাবে তাদের প্রাণে বেঁচে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এই দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ দুই সপ্তাহ ওই রুটে সব ধরনের পথচারী ও যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ব্রিজের ভাঙা অংশে গাছের খুঁটি ও কাঠের তক্তা দিয়ে একটি অস্থায়ী পাটাতন তৈরির ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে, এই নড়বড়ে জোড়াতালির ওপর দিয়ে কেবল পথচারী, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল আমি ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে পারছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের মতে, নওয়াবস, ছত্রপুর, নয়ারহাট, ভেলুরবাজারসহ চরাঞ্চলের ১০টি গ্রাম এবং মূল ভূখণ্ডের ৫টি গ্রাম মিলিয়ে মোট ১৫টি গ্রামের মানুষের জন্য এই ব্রিজটি জেলা শহর ও স্থানীয় প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। বর্তমানে সব ধরনের যাত্রীবাহী ও পণ্যবোঝাই হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তারা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

মুছল্লীপাড়া গ্রামের কৃষক আবু বকর বলেছেন, এই ভাঙা ব্রিজের ওপর কাঠের যে পাটাতন দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে মানুষ কোনো রকমে হাঁটতে পারলেও ফসলের বস্তা বা ভ্যান দ্বারা পার করা সম্ভব হচ্ছে না। মাঠের পর মাঠ যে ফসল ফলেছে, তা বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে চরের হাজার হাজার কৃষক ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তথ্যমতে, কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের মুছল্লীপাড়া এলাকায় হাজীনি খালের ওপর ১৯৯০ সালে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত ১৩২ ফুট দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটি। দীর্ঘ ৩৬ বছরের পুরোনো এবং উদ্দেশ্যহীন ব্রিজটি আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান জানান, ব্রিজটি ধসে যাওয়ার পর আমরা সেখানে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘যানবাহন চলাচল বন্ধ’ লেখা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছি। যেহেতু বর্তমানে ওই খালটিতে পানি প্রবাহ নেই, তাই মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা দ্রুত সময়ে খালের ওই অংশে মাটি ভরাট করে একটি বিকল্প চলাচলের রাস্তা (ডাইভারশন) তৈরি করে দেব। এছাড়া স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় পরিবহন ব্যবসায়ী হত্যার মামলায় ২ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


খুলনায় পরিবহন ব্যবসায়ী হত্যার মামলায় ২ জন গ্রেপ্তার

পরিবহন ব্যবসায়ী রফিক গাজী হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ‘আশিক গ্রুপ’-এর সদস্য দুই জনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৬।

মঙ্গলবার র‌্যাব-৬-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালি মোড় এলাকায় র‌্যাব-৬ সদর দপ্তরের একটি দল অভিযান চালিয়ে খুলনার লবণচরা এলাকার বাসিন্দা ইমন শরীফ (২৭) ও সজল খান (২৫)কে আটক করে।

র‌্যাব জানায়, রফিক গাজী হত্যার ঘটনায় লবণচরা থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তে এই দু’জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ জুন সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে পরিবহন ব্যবসায়ী রফিক গাজী (৪০) স্ত্রী এবং সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার সময় লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা এলাকার রায়পাড়ায় হামলার শিকার হন।

হেলমেট পরিহিত হামলাকারীরা তাঁকে গতিরোধ করে এবং পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত রফিক গাজীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওই দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে, তাঁর স্ত্রী রিনা বেগম লবণচরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব জানায়, আটকদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিসা ফি বাড়িয়ে বড় ধাক্কা দিল জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


ভিসা ফি বাড়িয়ে বড় ধাক্কা দিল জাপান

বিদেশি পর্যটক এবং অভিবাসীদের জন্য সূর্যোদয়ের দেশ জাপান ধীর গতিতে বড় দুঃসংবাদ দিয়েছেন। আগামীকাল ১ জুলাই থেকে দেশটিতে প্রবেশ করতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য আগের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি ভিসা ফি দিতে হবে। ১৯৭৮ সালের পর অর্থাৎ প্রায় ৪৮ বছর পর এই প্রথম ভিসা ফি বাড়ানোর একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত টোকিও নিয়েছে।

জাপান সরকারের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সিঙ্গেল-এন্ট্রি অর্থাৎ একবার প্রবেশের ভিসার আবেদন ফি ৩ হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১৫ হাজার ইয়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাল্টিপল-এন্ট্রি বা একাধিকবার প্রবেশের ভিসার খরচ ৬ হাজার ইয়েন থেকে বেড়ে ৩০ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে বিদেশি পর্যটকদের জন্য রেকর্ড উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এই বিপুল চাপের কারণে দেশটির সামগ্রিক অবকাঠামো এবং জনসেবার ওপর ব্যাপক চাপ আসছে। জাপান সরকার জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্ববাজারের মূল্যবৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক খরচ বৃদ্ধি এবং জাপানি মুদ্রা ইয়েনের রেকর্ড অবমূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই ভিসা ফি বাড়ানোর এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভিসা ফি বাড়ানোর পাশাপাশি সব ভ্রমণকারীর জন্য ডিপার্চার ট্যাক্স বা দেশ ত্যাগ করাও ১ হাজার ইয়েন থেকে বেড়ে ৩ হাজার ইয়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদন ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ইয়েন এবং রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস পরিবর্তনের ফি ১ লাখ ইয়েন করার আইন পাস করেছে দেশটির উচ্চকক্ষ।

অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আকস্মিক এই ফি বৃদ্ধির প্রধান উদ্দেশ্য অতিরিক্ত পর্যটকদের ভিড় সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী সামলানোর প্রশাসনিক ও পরিচালন খরচের একটি বড় অংশ বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা। তবে, ফি পাঁচ গুণ বেড়ানোর পরও নান্দনিক দেশ হিসেবে জাপানের যে চিরন্তন আবেদন রয়েছে, সেই কারণে পর্যটক বা দক্ষ অভিবাসীদের আসার সংখ্যায় খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন দেশটির নীতি-নির্ধারকেরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%