১১:৩৪ পি.এম
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন কার্যক্রমে পুনরাবৃত্তি বা দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) রয়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য তিন সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং আন্না মিনিজ।
আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যের চেষ্টা চলছে: নুর
সভায় প্রকল্পের ওপর একটি উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রকল্পের কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় এবং কাজের পুনরাবৃত্তি পরিহারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি মাথায় রেখে প্রকল্পের নাম ‘ই-পার্লামেন্ট’ পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য কার্যক্রমে পুনরাবৃত্তি বা কাজের দ্বৈততা রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার জন্য গঠিত তিন সদস্যের উপকমিটি সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিনিজকে নিয়ে গঠিত হয়েছে। এই উপকমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন মূল কমিটির কাছে জমা দেবে।
সভা শেষে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদকে যুগোপযোগী ও ই-পার্লামেন্টে রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের জনগণ যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণেরা বুকের রক্ত দিয়ে সংসদে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করেছেন। এটি আমাদের অঙ্গীকার। নাগরিকদের সরাসরি সংসদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাগজনির্ভর সংসদের পরিবর্তে কাগজবিহীন সংসদ গড়তে চাই।
আরও পড়ুন: ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম মুসলিম নারী ভিপি নাশরাকে সাদিক কায়েমের অভিনন্দন
সংসদের প্রতিদিনের কার্যক্রমে কয়েক টন কাগজ ব্যবহার হয়, যা পরিবেশের ক্ষতি করে। ই-পার্লামেন্ট চালু হলে কাগজের ব্যবহার কমবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংসদের অধিবেশন, বিল ও আইন পাস, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি এবং ভোট দেওয়ার রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া যাবে। এতে নাগরিকরা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবেন। অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে আইনের খসড়ার ওপর মতামত দেওয়া এবং ই-পিটিশন দাখিলের সুযোগ থাকবে। এমনকি গ্রামের মানুষও নিজেদের অভিযোগ সরাসরি সংসদে জানাতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদের কার্যক্রম, বাজেট ও আইনের খসড়া ছাপাতে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। ই-পার্লামেন্ট চালু হলে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমবে। সংসদ ভবনে প্রবেশ ও অবস্থানের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যাবে। এতে নিরাপত্তা, আসন ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ই-পার্লামেন্ট প্রকল্পের জন্য এখনো কোনো বরাদ্দ হয়নি। উদ্যোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা যাচ্ছে না। তবে গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এ উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: পোশাক শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে সাবেক ২ অতিরিক্ত আইজিপি ও আ.লীগ নেতার চক্রান্ত ফাঁস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন