আব্দুল আউয়াল মিছবাহ সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
০৪:৫৮ পি.এম
নামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় সারের ডিলারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের কাছ থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে অভিনব কায়দায় অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে অসংখ্য কৃষক এই প্রতিবেদককের কাছে অভিযোগ করেছেন - স্হানীয় বংশীকুন্ডা দক্ষিণ বাজারে ৩ জন ডিলার মেসার্স মোস্তফা কামাল,প্রো বাবুল মিয়া, মেসার্স ভাই ভাই প্রো মাহবুব আলম ও অনন্ত তারা প্রত্যকেই এক বস্তা সারের দাম নিচ্ছেন ১ হাজার ৪০০ টাকা। মেমোতে লিখে দিচ্ছেন ১ হাজার ৫০ টাকার। প্রতি বস্তায় ৩৫০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছেন।
উপস্হিত স্হানীয় কৃষক আব্দুল কুদ্দুস, আনোয়ার, কনুমিয়া, সাহিনুর, তাইজুদ্দিন, কবির, মঞ্জু, হাবিবসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন - ডিলাররা প্রতি বস্তার দাম নেন ১৪০০ টাকা মেমো দেন ১০৫০ টাকার। এটা আমাদের সাথে ভয়ানক প্রতারণা। তারা বলেন সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার দেওয়ার কথা বলিলে ডিলাররা নানা ভাবে হয়রানী করেন, সার অন্যত্র রেখে বলেন সার নেই বা উপজেলা ডিলারদের নিকট থেকে নিয়ে আসেন ইত্যাদি।ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান আমাদের জমিতে এখন বীজ রোপন করে সার প্রয়োগের সময় হয়রানী স্বীকার হওয়ার সময় নেই।
স্হানীয় সচেতন মহল জানান, কৃষকদের কৃষি উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত টাকা আদায় করা কোন ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন - অতিরিক্ত টাকা আদায় করে মেমোতে প্রকৃত টাকার পরিমাণ লিখা হচ্ছে না এটা সাধারণ কৃষকদের সাথে প্রতারণা।
ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা আকমল হোসেন জানিয়েছেন, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ইউনিয়ন বি এন পির সভাপতি শাহেবুর আলম বলেন - অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে আমার কাছেও অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন আমি বিষয় টা সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসার কে অবগত করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী সারের সরবরাহ রয়েছে। সারের কোনো সংকট নেই অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হচ্ছে এটার জন্য তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখিত সাব ডিলাররা বলেন - মধ্যনগরের উপজেলা ডিলার আমাদের কাছে থেকে প্রতি বস্তায় ২০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন সেই জন্য আমরাও কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছি।
প্রশ্ন উঠেছে, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে কেন?
ভুক্তভোগী কৃষকরা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে অভিযুক্ত ডিলারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মেমো অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মিলন সরদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী সালমা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাঁঠালিয়া উপজেলার মরিচবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন। পৈতৃক বাড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তিনি আমুয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন। আর্থিক সংকটের কারণে কেনা জমির একটি অংশে আগে ঘর নির্মাণ করতে পারেননি। সম্প্রতি ওই জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
প্রবাসীর স্ত্রী সালমা বেগমের অভিযোগ, স্থানীয় মিলন সরদার নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি একটি পক্ষের হয়ে জমিতে ঘর নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করছেন। এ-সংক্রান্ত ভিডিও প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন সালমা বেগম।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে স্থানীয় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন নিজাম মিরবহর সালিশের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সালিশ চলাকালে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সালমা বেগমের অভিযোগ, গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে মিলন সরদারের নেতৃত্বে নেতৃত্বে যুগল দাস, পিতা: বিজয় দাস, শ্যামল দাস, পিতা :মৃত মহেন্দ্র দাস, মিলন দাস, পিতা: বিজয় দাস, সাগর দাস, পিতা :সুভাষ দাস বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণ করতে আসেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী ইব্রাহিম ও তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় সালমা বেগম ঝালকাঠির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটির নম্বর ১৪৫/২৬ (কাঁঠালিয়া)। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কাঁঠালিয়া থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে।
অন্যদিকে, জমির মালিকানা নিয়ে পাল্টা অভিযোগ করেছেন মিলন সরদার। তাঁর দাবি, জমিটি তিনি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন এবং সালমা বেগম অবৈধভাবে ওই জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন। তিনি বাধা দিতে গেলে সালমা বেগম ও তাঁর লোকজন তাঁকে গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন।
অপরদিকে সালমা বেগমের দাবি, জমিটি তাঁর স্বামীর ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং তাঁরা নিজেদের জমিতেই ঘর নির্মাণ করছেন।
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু নাছের রায়হান জানান, উভয় পক্ষের কাছ থেকেই লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উভয় পক্ষকেই নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এটি জমি-সংক্রান্ত দেওয়ানি বিরোধ, তাই স্থায়ী সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় রাতের আঁধারে পুনরায় বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সালমা বেগম। তিনি বলেন, “মিলন সরদার আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি আমার প্রতিপক্ষের সঙ্গে মিলে আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় আমাদের ওপর আবারও হামলা হতে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কথিত বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত মিলন সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ