ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্বকাপের সেরা ফ্যান কি তারাই?


বিশ্বকাপের সেরা ফ্যান কি তারাই?

মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা, মায়ামি হয়ে কানসাস সিটি; গত তিন সপ্তাহ ধরে কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা উত্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে গ্যালারিতে হলুদ জার্সির জোয়ার বেড়েছে। এবার সেই ‘হলুদ জ্বর’ কানাডায় আছড়ে পড়তে চলেছে। দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুভারে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হতে চলেছে নেস্টর লরেঞ্জোর শিষ্যরা। আর প্রিয় দলকে উৎসাহিত করতে ভ্যাঙ্কুভারের রাস্তায় হাজার হাজার কলম্বিয়ান সমর্থক ভিড় জমাচ্ছেন।

সমর্থকদের এমন অভূতপূর্ব দেশান্তরটি শেষবার দেখা গিয়েছিল ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। দীর্ঘ এক প্রজন্ম পর কলম্বিয়া বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ায় এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে ব্রাজিলে লাখো সমর্থক ছুটে গিয়েছিলেন। এবারের আসরে দলের অধিনায়ক হিসেবে উত্তর আমেরিকায় আসার আগে হামেস রদ্রিগেস সমর্থকদের সংযত ও ইতিবাচক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন, কারণ ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। রদ্রিগেস আশ্বস্ত করেছিলেন যে খেলোয়াড়রা মাঠে তাদের সবটুকু দিয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত এবং গ্যালারির এই ইতিবাচক শক্তি তাদের মাঝেও সংক্রামিত হবে।

চলতি বিশ্বকাপে রদ্রিগেস হয়তো এখনো পুরোপুরি চেনা ছন্দে ফিরতে পারেননি। ঘানার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে প্রথমার্ধের পর তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। তবে তার অনুপস্থিতিতে দলের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন লুইস দিয়াস, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করেছেন। কানসাস সিটির মতো কলম্বিয়ান জনসংখ্যা কম থাকা শহরেও ম্যাচের আগের রাতে হোটেলের বারান্দায় এসে ফুটবলারদের গান গেয়ে শোনান ভক্তরা, যা দেখে খেলোয়াড়রা বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

কলম্বিয়ার ম্যাচ দেখতে আসা ৫৪ বছর বয়সী হুয়ান কার্লোস মিলা জানান, এটি তার জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা। পুরো পরিবার নিয়ে মেক্সিকো সিটিতে প্রথম ম্যাচ দেখার পর তারা একটি মিনিভ্যান ভাড়া করে আমেরিকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রায় সাত হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছেন। যাতায়াত ও হোটেলের খরচ মেটাতে মিলার উদ্যোক্তা সন্তানরা স্টেডিয়ামের বাইরে কলম্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী টুপি, টি-শার্ট ও পতাকা বিক্রি করছেন। শুধু তাই নয়, পুরো পরিবারকে একসাথে ফুটিয়ে তুলতে তারা ছয় মিটার লম্বা একটি বিশাল পতাকা তৈরি করেছেন, যাতে ছয়টি মাথা গলানোর জন্য ছিদ্র রয়েছে এবং সেখানে লেখা ‘কলম্বিয়া বিশ্বকাপ ২০২৬’।

গ্যালারিতে কলম্বিয়ানদের এই গগনবিদায়ী চিৎকার প্রতিপক্ষ দলগুলোকে রীতিমতো ভড়কে দিচ্ছে। মায়ামিতে ম্যাচের আগে পর্তুগালের কোচ রবের্তো মার্তিনেস স্বীকার করেছিলেন যে এত বিপুল সংখ্যক কলম্বিয়ান সমর্থকের সামনে খেলাটা তাদের জন্য সবচেয়ে বড় মানসিক চ্যালেঞ্জ ছিল। অন্যদিকে, ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ, যিনি একসময় কলম্বিয়া দলের দায়িত্বে ছিলেন, ম্যাচ হেরে আক্ষেপ করে বলেন যে স্টেডিয়ামের ৬০ হাজার হলুদ জার্সির গর্জন জাতীয় সংগীতের সময় থেকেই তাদের অনভিজ্ঞ দলকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছিল। কলম্বিয়ার এই 'দ্বাদশ খেলোয়াড়' তাদের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।

তবে এই বিশ্বকাপ উম্মাদনার মাঝেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কলম্বিয়ার জার্সি নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের শুরুর সময়টাই ছিল দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। ডানপন্থী নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েয়া নির্বাচনী প্রচারণায় কলম্বিয়ার জার্সি পরে হাজির হলে তার বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ইভান সেপেদা এর তীব্র সমালোচনা করেন এবং ফুটবলকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। যদিও পরবর্তীতে ফুটবল ফেডারেশন এ বিষয়ে কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেপেদা নিজেও জার্সি পরে প্রচারণায় নামেন।

রাজনৈতিক বিতর্ক যাই থাক না কেন, ফুটবল পুরো কলম্বিয়াকে এক সুতোয় গেঁথেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভ্যাঙ্কুভার স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও গ্যালারি জুড়ে থাকবে কেবল হলুদ জয়জয়কার। সমর্থক হুয়ান কার্লোস মিলার কথায়, খেলোয়াড়রা মাঠে তাদের জীবন বাজি রেখে লড়বেন আর গ্যালারি থেকে কোটি ভক্তের প্রার্থনা ও ভালোবাসা তাদের সেই শক্তি দেবে।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবিতে বড়পর্দায় দেখা যাবে না আর্জেন্টিনার ম্যাচ, ঘটনা কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ পি.এম


ঢাবিতে বড়পর্দায় দেখা যাবে না আর্জেন্টিনার ম্যাচ, ঘটনা কি

বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাঁচটি ভেন্যুতে বড়পর্দায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

ফলে আজ বড়পর্দায় আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন না ফুটবলপ্রেমীরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, টানা বৃষ্টি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দর্শকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করা হয়েছে এবং আজকের সব আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।

আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বুধবার থেকে আবারও পাঁচটি ভেন্যুতেই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ বড়পর্দায় সম্প্রচার করা হবে।

প্রসঙ্গত, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সার্বিক সহযোগিতায় অ্যাথলেট স্পোর্টস গিয়ারের আয়োজনে টিএসসি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল খেলার মাঠ, কবি জসীম উদ্‌দীন হল খেলার মাঠ, জগন্নাথ হল উপাসনালয় এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল খেলার মাঠে বড়পর্দায় বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখানোর আয়োজন করা হয়েছিল।

সেই সঙ্গে আয়োজকরা বৈরী আবহাওয়ায় অপ্রয়োজনে বাইরে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি আবহাওয়া যদি স্বাভাবিক হয়, তাহলে বুধবার থেকে আগের সূচি অনুযায়ী বড়পর্দায় বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার পুনরায় শুরু হবে বলে জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক, অনলাইন জুয়া ও সাইবার অপরাধ দমনে জোর: এয়ারপোর্ট থানায় বিএমপি কমিশনারের নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৯ পি.এম


মাদক, অনলাইন জুয়া ও সাইবার অপরাধ দমনে জোর: এয়ারপোর্ট থানায় বিএমপি কমিশনারের নির্দেশনা

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে বিএমপি'র এয়ারপোর্ট থানা আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন।
বিএমপি মিডিয়া সেলের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুপুর সাড়ে ২টার দিকে তিনি থানায় পৌঁছে থানার সার্বিক কার্যক্রম, অফিসার ও ফোর্সের শৃঙ্খলা এবং গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টারসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দায়িত্ব পালনে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে পুলিশ কমিশনার থানার ফোর্সের কল্যাণে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, ব্যারাকে অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা এবং বিনোদনের জন্য টেলিভিশনসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক আবেদন অনুমোদন করেন। এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তা ও সদস্যরা এসব উদ্যোগের জন্য কমিশনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এছাড়া তিনি মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ, অনলাইন জুয়া দমন, মামলা তদন্তের গতি বৃদ্ধি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, সিডিএমএস ব্যবস্থাপনা, চুরি ও দস্যুতা প্রতিরোধ, ইভটিজিং, সাইবার অপরাধ, কিশোর অপরাধ দমন এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিস্তারিত নির্দেশনা দেন। পরিদর্শন শেষে তিনি পরিদর্শন বইতেও প্রয়োজনীয় মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বেলাল হোসাইন, পিপিএম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (এয়ারপোর্ট জোন) মার্জিয়া রহমান, এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেনসহ থানার অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

সব হারিয়েও মুখে হাসি! যা বলছে আধুনিক বিজ্ঞান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


সব হারিয়েও মুখে হাসি! যা বলছে আধুনিক বিজ্ঞান

লুকা মদ্রিচ (বাঁয়ে) ও কেন উইলিয়ামসনের হাসি ম্যাচের পরেও অব্যাহত থাকে। সংগৃহীত ছবিতে তাদের মুখে হারার পরও হাসি দেখা যায়।

খেলার মাঠে চরম পরাজয়ের সময় অনেক কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের হাস্যোজ্জ্বল মুখ দেখা যায়। লুকা মদ্রিচ, কেন উইলিয়ামসন, রজার ফেডেরার এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো খেলোয়াড়রা বড় ধরনের হার বা হতাশার মুহূর্তেও নিজেদের সংযত রেখে হাসি মাখা মুখ নিয়ে থাকেন। অনেকের কাছে এটি হলো স্পোর্টসম্যানশিপের পরিচয়, তবে আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের মতে, এর পেছনে মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করে।

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর লুকা মদ্রিচের হাস্যময় মুখ আবারও আলোচনায় এসেছে। কেন উইলিয়ামসনের শান্ত অভিব্যক্তি ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনালে হৃদয় ভেঙে যাওয়ার পর এই বিষয়টি নতুন করে নিয়ে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম মানসিক চাপ বা আবেগের মুহূর্তে মানুষের মস্তিষ্ক কখনও কখনও বিপরীতধর্মী আভাস প্রকাশ করে। মনোবিজ্ঞানে একে বলে ‘Incongruent Affect’ বা ‘Dimorphous Expression’। অর্থাৎ, প্রচণ্ড দুঃখের মাঝেও হাসি অথবা অতিরিক্ত আনন্দে চোখে জল আসা, দুটিই একই ধরনের মানসিক প্রতিক্রিয়া।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ড. ওরিয়ানা আরাগনের গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র আবেগের ভারসাম্য রক্ষা করতে মস্তিষ্ক এমন প্রতিক্রিয়া দেখায়। চরম পরাজয়ের পর শরীরে কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে, মস্তিষ্ক এন্ডোরফিন এবং ডোপামিন নিঃসরণ করে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করে। এর ফলস্বরূপ, অনেক সময় মুখে হাসির একটি ছাপ ফুটে ওঠে।

মনোবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে ‘Emotional Homeostasis’ বলা হয়। অর্থাৎ, মানুষের মস্তিষ্ক সবসময় আবেগের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে। অতিরিক্ত দুঃখ অথবা আনন্দ, দুই পরিস্থিতিতেই সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বিপরীতধর্মী আবেগ প্রকাশ হতে পারে।

ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড়রা দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ মোকাবেলার বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তাই তারা অবগত থাকেন যে ফলাফল সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তবে নিজের প্রচেষ্টা নিয়ন্ত্রিত রাখা যায়। এজন্য, পরাজয়ের পর অনেক সময় তাদের মুখে যে হাসি দেখা যায়, বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘Smile of Acceptance’ বা বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার প্রতীকেরূপে দেখেন।

২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে নাটকীয়ভাবে হারের পর কেন উইলিয়ামসনের হাস্যময় মুখটি আজও ক্রিকেট ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দৃশ্য। একইভাবে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারলেও লুকা মদ্রিচ, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং রজার ফেদেরারের সংযত হাসি তরুণ সতীর্থদের জন্য অনুপ্রেরণার বার্তা হিসেবে কাজ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হাসি পরাজয়ের আনন্দ বা উল্লাস নয়। বরং এটি মানসিক স্থিতিস্থাপকতা, আত্মসংযম এবং কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার ক্ষমতার স্পষ্ট প্রতিফলন। আধুনিক ‘Sports Psychology’ এবং ‘Neuroscience’ প্রদর্শন করে যে, অত্যন্ত কঠিন মুহূর্তে নিজেকে সামলাতে মস্তিষ্ক অনেক সময় হাসিকে বেছে নেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলছি, শুধু মেসির বিপক্ষে নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলছি, শুধু মেসির বিপক্ষে নয়

মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে পরিচিতি পেয়েছেন হামজা আবদেলকরিম। সম্প্রতি এই টিনএজ তারকা বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন এবং মিশরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ অভিষিক্ত খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আবিষ্কার এই তরুণ ফরোয়ার্ড আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা দ্রুতই সবার নজর কেড়েছে।

চলমান বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলটির অন্যতম চমক হামজা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বদলি হিসবে নামার মধ্য দিয়ে মিশর জাতীয় দলে বহু প্রতীক্ষিত অভিষেক হয়েছে তার। চোত ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এবার এই ১৮ বছর বয়সীর সামনে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মাঠে নামছে তার দল মিশর।

 

মেসির মতো সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে হামজা অবশ্য গোতা দলটিকে নিয়েই ভাবছেন। মেসিকে নিয়ে আলাদা করে ভাবতে নারাজ তিনি। হামজা বলেন, 'আমরা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলছি, শুধু মেসির বিপক্ষে নয়।'

 

মেসির মতো কিংবদন্তির মুখোমুখি হওয়ার চাপকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ আবদেলকরিম। তার মতে, প্রতিপক্ষকে একটি দল হিসেবেই দেখা উচিত।

 

 

তার নতুন ক্লাব বার্সেলোনার সর্বকালের অন্যতম সেরা আইকন মেসির বিপক্ষে খেলবেন, এ কথা মনে করিয়ে দেওয়া হলে তিনি দৃঢ়ভাবেই নিজের অবস্থান জানান। পরে মুন্দো দেপোর্তিভোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমি যখন মাঠে নামি, তখন যা আমাকে আনন্দ দেয় সেটাই করি। মাঠের বাইরে কে কী বলল বা করল, সেটা নিয়ে আমি ভাবি না। আমার পুরো মনোযোগ থাকে মাঠের খেলায়।'

 

মিশরের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ফুটবলার হলেও দলের প্রকৃত নেতা ও সবচেয়ে বড় তারকা যে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ, তা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই তার। সালাহর প্রভাব সম্পর্কে আবদেলকরিম বলেন, 'শুধু আমার সঙ্গেই নয়, পুরো দলের সঙ্গেই তিনি থাকেন। নিজের সব অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেন, আর আমরা সেগুলো থেকে শেখার চেষ্টা করি। সালাহর মতো একটি ক্যারিয়ার গড়া ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার পাশে থাকা আমার জন্য স্বপ্ন এবং গর্বের বিষয়।'

 

কে এই হামজা আবদেলকরিম?

 

২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন হামজা আবদেলকরিম। ১.৮২ মিটার উচ্চতার এই স্ট্রাইকারের ফুটবল যাত্রা শুরু হয় মালয়েশিয়ায়। সে সময় তার বাবা, যিনি একজন সাবেক ভলিবল খেলোয়াড়, কুয়ালালামপুরের একটি একাডেমিতে কাজ করতেন।

 

২০২০ সালে তিনি আল আহলির যুব একাডেমিতে যোগ দেন এবং দ্রুতই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মাত্র ১৭ বছর ১ মাস বয়সে আল আহলির সিনিয়র দলে অভিষেক হয় তার। এর মাধ্যমে তিনি এই শতাব্দীতে ক্লাবটির সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েন। এর মাধ্যমে তিনি রমাদান সোবহির রেকর্ডও ভেঙে দেন।

 

মিশরের বয়সভিত্তিক দলে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ইউরোপের একাধিক বড় ক্লাবের নজর কাড়ে। অনূর্ধ্ব-১৭ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস ও বিশ্বকাপে ২১ ম্যাচে ১২ গোল করে তিনি আলোচনায় চলে আসেন। ডাচ ক্লাব ফেইনুর্দ তাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখালেও আল আহলি দ্রুত তার চুক্তি নবায়ন করে।

 

তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বার্সেলোনা তাকে ধারে বার্সেলোনা বি দলে নিয়ে আসে।

 

মিশরীয় সংবাদমাধ্যমে 'নতুন সালাহ' নামে পরিচিত এই তরুণ শুরুতে বার্সেলোনার যুব দলে সুযোগ পেতে কিছুটা সময় নিলেও অভিষেক ম্যাচেই সবাইকে চমকে দেন। মাত্র ১৫ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেন, আর তিনটি গোলই ছিল হেড থেকে। সেই ম্যাচেই দলকে লিগ শিরোপা জিততে সাহায্য করেন।

 

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১১ ম্যাচে ৮ গোল করার পর বার্সেলোনা তার চুক্তিতে থাকা ১৫ লাখ ইউরোর স্থায়ী কেনার অপশন কার্যকর করে। বিষয়টি আল আহলিও নিশ্চিত করেছে। এমনকি প্রথম দলের কোচ হান্সি ফ্লিকও জানিয়েছেন, আসন্ন প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে হামজা তার পরিকল্পনার অংশ।

 

 

স্পেনে স্থায়ীভাবে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পরই মিশরের কোচ হোসাম হাসান দ্রুত তাকে ২০২৬ বিশ্বকাপ দলে ডাকেন। যদিও তখনও তার সিনিয়র দলে অভিষেক হয়নি এবং প্রথম বিভাগে খেলার অভিজ্ঞতাও ছিল খুবই সীমিত।

 

বিশ্বকাপে মাঠে নামার মাধ্যমে তিনি মিশরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। বয়স কম হলেও তাকে ঘিরে প্রত্যাশা বিশাল। দলে তার সঙ্গে আছেন মোহাম্মদ সালাহ, ওমর মারমুশ ও ত্রেজেগে, যারা মূলত উইঙ্গার। ফলে স্বাভাবিক স্ট্রাইকার হিসেবে স্কোয়াডে হামজাই একমাত্র প্রকৃত 'নাম্বার নাইন'। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে এই মিশরীয় বিস্ময়বালককে ঘিরে আলোচনার শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%