ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাগেরহাটে হত্যা মামলার আসামি আটক


বাগেরহাটে হত্যা মামলার আসামি আটক

চিতলমারীর বহুল আলোচিত কলেজ শিক্ষার্থী আমির হামজা হত্যা মামলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আত্মগোপনে থাকা এজাহারভুক্ত আসামি মো. সোহেল প্রধান ওরফে ‘বডি সোহেল’ (২৬) অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে। মামলার তদন্তে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সূত্রের খবর, রোববার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে র‌্যাব-৬ খুলনার সহযোগিতায় এবং চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে তাকে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নোয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সোহেল খুলনা সদর থানাধীন চানমারী বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তিনি চিতলমারী থানার হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

আরও পড়ুন: মাদক মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ, হামলায় আহত দুই সদস্য

মামলার নথি অনুসারে, ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ বিকেলে চিতলমারী উপজেলার শিবপুর গ্রামে নির্মম হত্যাকা-েণ্ডের শিকার হন আমির হামজা (২৩)। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে জীবিকার তাগিদে খুলনায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করতেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৬ জন হেলমেটধারী ব্যক্তি আমির হামজার বাড়িতে আসে। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে ডেকে বের করার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হামজা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে খালের পাড় ও চিত্রা নদী সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে তার মাথায় গুলি করা হয়। এরপর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এই হত্যাকা-েণ্ডের পর এলাকার জনগণের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিহতের পরিবার জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। ঘটনার পর থেকেই চিতলমারী থানা পুলিশ আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে একই মামলার আরেক এজাহারভুক্ত আসামি ‘ব্ল্যাক বাপ্পি’কে ঢাকার একটি এলাকা থেকে র‌্যাবের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ বডি সোহেলের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার তদন্ত আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাজাপুরে বিকাশ ব্যবসায়ীর ৭ লাখ টাকা ডাকাতি, এসআরবি-৮-এর অভিযানে আফজাল-লিটনসহ গ্রেপ্তার ৫

স্থানীয়দের মতে, চিতলমারী থানার ওসি রোকেয়া খানম দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন জটিল ও আলোচিত মামলার তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। আমির হামজা হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টা অভিযানে গতি এনেছে, এভাবে মনে করছেন অনেকেই।

পুলিশ নিশ্চিত করেছে, মামলার অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
কারওয়ান বাজার

‘কডা লাগবে, নিয়ে যান ঠকবেন না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১২ এম


‘কডা লাগবে, নিয়ে যান ঠকবেন না’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের লেভেলক্রসিং মোড়। হাতিরঝিল, তেজগাঁও এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মিলনস্থল মোড়টি। রাত ১১টার দিকে রেললাইন ধরে পার হচ্ছিলেন কামরুল ইসলাম। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একজন যুবক কামরুলের উদ্দেশে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কডা?’ কামরুল দেখলেন, ওই যুবকের হাতে ইয়াবা। কামরুল কিছু বললেন না। যুবক আবার জানতে চাইলেন, ‘কডা লাগবে?’ এবার কামরুল দাম জানতে চাইলেন।

জানালেন, প্রতি পিস ৩০০ টাকা। কামরুল বললেন, তিনি কখনো সেবন করেননি, এমনকি কিনতে আগ্রহীও হলেন না। কিন্তু ওই যুবক বলতে থাকলেন, ‘নিয়ে যান। ভালো মাল। খাইলে কাল আবার আসবেন। গাঁজাও আছে।’ এভাবে সেখান থেকে কামরুল এগোতে থাকলেন তেজগাঁও লেভেলক্রসিংয়ের দিকে। দৃশ্যটি গত মঙ্গলবারের।

হেঁটে ৩০ কদম এগোতেই আবার একই ডাক, ‘কডা লাগবে?’ হাতে ইয়াবা এবং গাঁজাসহ তিন যুবক দাঁড়িয়ে ছিলেন। কামরুল তাদের সামনে দিয়ে নির্বিকারভাবে এগোচ্ছিলেন। একজন যুবক তাঁর পিছু নেন এবং কামরুলের পাশে গিয়ে বলেন, ‘লয়ে যান। ঠকবেন না। দুই পিস ৫৫০ টাকা দিয়েন।’ সেই যুবকের হাতে একটি ধারালো ছুরিও ছিল। আরেকটু সামনে গেলে দেখা যায়, কয়েকজন নারী ও পুরুষ বসে আছেন। তাঁরা গাঁজা সেবন করছিলেন। কামরুলকে দেখে এক নারী বলে ওঠেন, ‘কয় পোঁটলা লাগবে?’ ওই নারী গাঁজা বিক্রি করছিলেন।

কারওয়ান বাজারের শুঁটকি ও চাল পট্টির পাশ দিয়ে রেললাইনে ওঠার সরু পথ চলছে। লাইনে বয়স্ক একজন ব্যক্তি গাঁজা বিক্রি করছিলেন। তাঁর কাছ থেকে একজন ক্রেতা গাঁজা কেনেন। কেনার সময় তিনি গাঁজার পুঁটলি খুলে দেখে নেন। বয়স্ক ব্যক্তিটি জানালেন, তিনি ইয়াবাও বিক্রি করছিলেন। মাদক সেবকের ছদ্মবেশে এই প্রতিবেদক তাঁোর পক্ষে জানতে চাইলেন, এখানে ইয়াবা সেবনের ব্যবস্থা করা যাবে কি না। তিনি হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেন, ‘রেললাইনের ওই ঘরে গেলে খাওয়া যাবে। আমাকে চা খাওয়াও। ফুয়েল আমি দিমুনে।’ নাম জানতে চাইলে তিনি নিজেকে মামুন বলে পরিচয় দেন।

মঙ্গলবার রাতের পর বুধ ও বৃহস্পতিবার সকালে আবারও কারওয়ান বাজারের রেললাইনে সরেজমিনে যাওয়া হয়। বুধবার দুপুর ২টার দিকে তেজগাঁও লেভেল ক্রসিং থেকে কারওয়ান বাজার লেভেল ক্রসিং পর্যন্ত হেঁটে দেখা যায়, রেলের দুই ধারে অন্তত ৩০ জন নারী-পুরুষ গাঁজার পুঁটলি বিক্রি করছিলেন। তাঁদের সবার হাতে কালো প্যাকেট। তাতে মাদকদ্রব্য ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে গিয়েও একই দৃশ্য দেখা গেছে। এই তিন দিনে একবারের জন্যও সেখানে পুলিশের অবস্থান দেখা যায়নি। রেললাইন দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে বিক্রেতারা প্রথমে আস্তে আস্তে ‘কডা’ শব্দটি উচ্চারণ করেন। প্রয়োজন পড়লে আরও একটু জোরে ‘কডা লাগবে’ বলে ডাক দেন। হেঁটে যাওয়া ব্যক্তি যদি মাদকসেবী হন কিংবা কিনতে যান, তখন তিনি বোঝেন। তখন লেনদেন সম্পন্ন করেন তাঁরা। এই দৃশ্য কেবল ওই তিন দিনের নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে ২৪ ঘণ্টা সেখানে মাদক বিক্রি হয়। এ ছাড়া কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন স্পটে সব সময় মাদকের বিকিকিনি চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারওয়ান বাজার এলাকায় অনেক মাদক কারবারি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে টঙ্গীর রতন, উত্তরার ইকবাল, নাখালপাড়ার প্রান্তি, মালিবাগের জাহাঙ্গীর ও মন্টু মিয়া বড় মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশও তাঁদের সম্পর্কে অবগত। তাঁরা মাদক বিক্রির জন্য অনেক লোক রাখেন। একজনকে আটক করা হলে সঙ্গে সঙ্গে একই জায়গায় তাঁদের অন্য লোকজন হাজির হয়ে যায়। এক পিস ইয়াবা বিক্রি করে দিলে ১০ টাকা কমিশন পায় বিক্রেতা। ক্ষেত্রবিশেষে আরেকটু বেশিও পাওয়া যায়। গাঁজা বিক্রি করে দিলেও কমিশন রয়েছে। মোল্লাবাড়ি বস্তির সেলিনা আক্তারসহ তাঁর বোনরাও মাদক বিক্রি করেন। এর বাইরেও ছোট-বড় আরো অসংখ্য ব্যক্তি পুলিশের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্য করছে। পুলিশ-প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে কারওয়ান বাজারে মাদক বিক্রি হচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ রয়েছে।

রেললাইনের কাঁচাবাজারের পাশের পশ্চিম অংশ তেজগাঁও থানা ও পূর্ব পাশের এলাকা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আওতাধীন। তেজগাঁও থানার আওতাধীন ঘরগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। যদিও রেললাইনের ধারের শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় অনেক ছোট ছোট ঘর রয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই সব ঘর মাদক কারবারি ও তাঁদের সহযোগীদের। কিন্তু কারবারিরা সেখানে থাকেন না। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তাঁদের আলাদা বাড়ি রয়েছে। মাদক বিক্রির জন্যই ঘরগুলো তৈরি হয়েছে।

রেললাইনের পাশে রয়েছে মোল্লাবাড়ি বস্তি। মোল্লাবাড়ি বস্তির এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করে দাবি করেন, ‘বস্তির অনেক লোক মাদকের সঙ্গে জড়িত। রেললাইনে যাঁরা বিক্রি করেন, তাঁদের প্রায় সবাই বস্তিতে থাকেন। বস্তি আর রেলের পাশের ঘরগুলোতে মাদক রাখেন। কেউ কিছু বললে তাকে বস্তিতে থাকতে দেন না। পুলিশ টাকা খায়। চাপে পড়ে বস্তিতে আসামি ধরতে গেল মারও খায়।’

কারওয়ান বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, রেললাইন থেকে মাদক কারবারিদের না ধরলেও ধরা হয় ক্রেতাদের। কারণ, বিক্রেতারা টাকা দেন। এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে অনেক মিডিয়া, তেজগাঁওয়ের দুই থানা, এই এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এরা সবাই জানে। কিন্তু কেন চুপ বুঝে নেন।’

মাদক কারবারিদের কাছ থেকে পুলিশ টাকা নেয়, এই অভিযোগ অস্বীকার করেন তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ঢাকাসহ সারা দেশের রেললাইনেই মাদক বাণিজ্য হচ্ছে। আমরা প্রতিদিন মাদক কারবারিদের ধরি। একজনকে যে জায়গা থেকে ধরব, ১৫ মিনিট পরই ওই জায়গায় নতুন কারবারি চলে আসে। আর যদি রেললাইনে বা বস্তিতে অভিযানে যাই, তখন ১০ জনের কম নিয়ে অভিযানে যাই না। কারণ, ওরা সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ করে।’

তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়দেব বলেন, ‘এক দিন ইয়াবাসহ রেললাইনে একজনকে ধরেছি। সে সময় আশপাশে থাকা করবারিরা চলে যায়। কিন্তু দুজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসে। আমরা দুজন পুলিশ ছিলাম। এ দৃশ্য দেখে আমরা আলতোভাবে সরে যাই। নতুবা ওরা অস্ত্র চালাবে। ওই সুযোগে কারবারিরা চলে যায়, ওরাও চলে যায়। কারওয়ান বাজার ভয়ংকর জায়গা। এক নারী কারবারিকে ধরলাম। তিনি জানালেন, প্রতি মাসে গাঁজা আর ইয়াবা বিক্রি করে তিনি ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা লাভ করছেন। জামিনের টাকা তুলতে সময় লাগে না। সে জন্য, বছরের পর বছর একই কাজ করছেন।’

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ‘এখানে মাদক কারবার আগে ছিল, এখনো চলছে। রেললাইনের পাশে যে বস্তি রয়েছে, ওখানে পরিবারসহ বসবাস করছে বেশ কিছু লোক। ওরাই মাদক বিক্রি করে। সিটি করপোরেশন যতদিন বস্তি তুলে না দেবে, ততদিন মাদক বন্ধ হবে না। আজ ধরি, দুই দিন পর আবার জামিনে চলে আসে। আসামি ধরতে গেলেও তারা আক্রমণ করে।’

সৌজন্যে কালের কণ্ঠ

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকে উঠে এল যেসব বিষয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৪ এম


তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকে উঠে এল যেসব বিষয়

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলোচনার মধ্যে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তকরণের আহ্বান জানান তিনি।

আজ সোমবার (২২ জুন) পুত্রজোয়ায় কাল সাড়ে ১০টায় আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আহ্বানটি উঠে আসে।

এছাড়া বৈঠকে বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ এবং ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, বাংলাদেশের আম, ফলমূল ও শাকসবজির জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন, Regional Comprehensive Economic Partnership-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা সম্পর্কে গুরুত্ব পেয়েছে।

এই বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ দমন (counter-terrorism) বিষয়ে গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময়ের তথ্য দেন।

দুটি দলিল বিনিময় করেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এরপর দুই দেশের সরকার প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ করেছি, আরো বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য। আমি অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের পুনরায় নিয়োগের বিষয়গুলোও উত্থাপন করেছি।’

তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমরা একমত যে নিয়োগ স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যের হওয়া উচিত, কর্মীদের জন্য মধ্যবর্তী এবং কম খরচ হওয়া উচিত।’

এসময় রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন এবং মায়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনে অব্যাহত সহায়তার জন্য মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।’

বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে চায়। আমরা আঞ্চলিক সুসংহত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে যোগ দিতে আগ্রহী। আমি তার আঞ্চলিক সংহতকরণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করি।’

এর আগে সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় একান্ত এই বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম। একান্ত বৈঠকে বসার আগে পরিদর্শন বইতে সই করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরপর দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এতে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম প্রমুখ। বৈঠকে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী পাঠানো, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম দফার বৈঠকে ‘আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি’, দাবি মধ্যস্থতাকারীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৬ এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম দফার বৈঠকে ‘আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি’, দাবি মধ্যস্থতাকারীদের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য শুরু হওয়া প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতে 'আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি' হয়েছে।

গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর রবিবার সুইজারল্যান্ডে এই আলোচনা শুরু হয়েছিল।

সোমবার কাতার ও পাকিস্তান একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে, একটি 'উচ্চ পর্যায়ের কমিটি' ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি 'রোডম্যাপ' বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। পুরো সপ্তাহজুড়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলতে থাকবে। আলোচনার অংশগ্রহণকারী এক মার্কিন কূটনীতিক জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য ইরানের বিভ্রান্তিকর বার্তার ব্যাখ্যা করতেই মূলত এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুল বোঝাবুঝি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর জন্য একটি 'যোগাযোগ ব্যবস্থা' গঠন করা হয়েছে। মার্কিন কূটনীতিক আরও জানান, আলোচনায় পারমাণবিক চুক্তির কিছু বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন শহরে বৈঠকে থাকা দুই দেশের প্রতিনিধিদল এই কার্যক্রমকে চলমান পরিস্থিতি আলোচনা করার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করবে।

গত সপ্তাহের প্রাথমিক চুক্তিতে ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর কর্মপরিকল্পনা ছিল। এতে লেবাননের 'সব ফ্রন্টে' যুদ্ধ বন্ধ করার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। যদিও এর পর দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়ে যায়। এছাড়া ইসরাইলি বিমান হামলায় বহু লেবাননি নিহত হন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে স্ত্রী ও শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়।

এদিকে সংঘর্ষ ও বিমান হামলা অব্যাহত থাকায়, শনিবার ইরান ঘোষণা দেয় যে, তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত ছিল।

কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার ব্যাপারে নিশ্চিত করার জন্য, লেবানন প্রজাতন্ত্র ও মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তার মাধ্যমে সব পক্ষ একটি বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল লুসার্নে আলোচনা শুরু করার পূর্বে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ইরানকে 'অবিলম্বে লেবাননে থাকা তাদের বড় অঙ্কের বেতন পাওয়া প্রতিনিধিদের সমস্যার সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে'। যদি তারা তা না করে, তাহলে তিনি 'আবারও খুব কঠোরভাবে ইরানের ওপর আঘাত হানার' জন্য হুমকি দেন। এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, 'তারা কি বুঝতে পারে না, তাদের হুমকির যদি সত্যিকার অর্থে কোনো প্রভাব থাকত, তাহলে আজ তাদের এমন অসহায় অবস্থায় থাকতে হতো না? তারা শুধু কথা বলে, এবং আমরা কাজ করে দেখাই।'

রবিবার সংঘর্ষের মাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে বলে জানা যায়। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, উত্তর ইসরাইলকে রক্ষা করার জন্য যতদিন প্রয়োজন হবে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাবাহিনী অবস্থান করবে। অপরদিকে, হিজবুল্লাহর নেতা নাইম কাসেম দাবি করেন, তারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। হিজবুল্লাহ নিজেদের রক্ষা করবে বলে জানান।

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে আলোচনা শুরুর পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনাকে নতুনভাবে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যদি ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা তৈরির প্রক্রিয়া এবং পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা বন্ধ করতে রাজি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও দেশটির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রস্তুত। তবে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলেই দাবি করে আসছে। ভ্যান্সের সঙ্গে ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে, গালিবাফের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ছিলেন। সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তান পুরো যুদ্ধজুড়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরও একটি দফা আলোচনার আয়োজনও করেছিল পাকিস্তান। কাতারও মধ্যস্থতায় অংশ নিয়েছে। রবিবার গভীর রাতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা অব্যাহত থাকায় তিনি তা স্বাগত জানাচ্ছেন।

সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেন। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথাও ছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছিল। এছাড়া, ইরানের বন্দরে যাওয়ার এবং সেখান থেকে আসা জাহাজের ওপর আরোপ করা সামরিক অবরোধ তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছিল। প্রাথমিক চুক্তিতে ইরানের 'পুনর্গঠন' পরিকল্পনার জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি কর্মসূচির কথাও ছিল। পাশাপাশি দেশটির ওপর থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি এখনো আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে, যা সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, তিনি বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনেন। পরে আবার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। রবিবার সামুদ্রিক জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিকের ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, কিছু জাহাজকে প্রণালিতে প্রবেশ, বের হওয়া এবং চলাচল করতে দেখা গেছে। যদিও ইরান দাবি করেছে, তারা প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিকেলের শেষের দিকে চারটি তেলবাহী জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। আরও চারটি পণ্যবাহী বা পরিবহন জাহাজ, গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রণালির পশ্চিম অংশে স্থির ছিল। পরে সেগুলোকে পূর্ব দিকে যেতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, আরও চারটি জাহাজ প্রণালি ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। সেগুলো ইরানের উপকূলসংলগ্ন জলসীমা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে সব ধরনের চলাচল এই তথ্যের মধ্যে ধরা নাও পড়তে পারে, কারণ কিছু জাহাজ তাদের অবস্থান জানানোর যন্ত্র বন্ধ করে রাখতে পারে।

প্রাথমিক চুক্তিতে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার কথা থাকলেও, লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর হামলায় পাঁচজন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরাইল বলছে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাদের সংঘাত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ নয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে তাদেরও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার কথা রয়েছে। এর কিছুদিন পর লেবাননও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট ছোড়ে। ইসরাইল লেবাননজুড়ে বোমা হামলা শুরু করে, যেখানে তারা দক্ষিণাঞ্চলে দেশটির প্রায় পাঁচ শতাংশ এলাকা দখল করে নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল উত্তর সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের দূরে সরিয়ে দেওয়া। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা সেখান থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা করেনি।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪ হাজার ৫৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বলছে, লেবাননে অন্তত ৩৪ জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। উত্তর ইসরাইলে নিহত হয়েছেন আরও চারজন বেসামরিক মানুষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের মুদ্রার বিনিময় হার জানুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৭ এম


আজকের মুদ্রার বিনিময় হার জানুন

 

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারসহ অন্যান্য প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার নতুন বিনিময় হার প্রকাশ করেছে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে ১০টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আন্তব্যাংক লেনদেনের চাহিদা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করেই টাকার এ মান নির্ধারিত হয়েছে।

বর্তমান মার্কিন ডলার কেনার মূল্য ১২২.৭৫ টাকা এবং বিক্রির মূল্যও ১২২.৭৫ টাকা; ইউরো কেনার মূল্য ১৪০.৭৬ টাকা এবং বিক্রির মূল্য ১৪০.৭৯ টাকা; ব্রিটিশ পাউন্ড কেনার মূল্য ১৬২.৪২ টাকা এবং বিক্রির মূল্য ১৬২.৪৫ টাকা; অস্ট্রেলিয়ান ডলার কেনার মূল্য ৮৬.০৬ টাকা এবং বিক্রির মূল্য ৮৬.১০ টাকা; জাপানি ইয়েন কেনার মূল্য ০.৭৬ টাকা এবং বিক্রির মূল্যও ০.৭৬ টাকা; কানাডিয়ান ডলার কেনার মূল্য ৮৬.৭০ টাকা এবং বিক্রির মূল্য ৮৬.৭৩ টাকা; সুইডিশ ক্রোনা কেনার মূল্য ১২.৭৮ টাকা এবং বিক্রির মূল্য ১২.৮৩ টাকা; সিঙ্গাপুর ডলার কেনার মূল্য ৯৪.৯৪ টাকা এবং বিক্রির মূল্য ৯৫.১৪ টাকা; চীনা ইউয়ান কেনার মূল্য ১৮.০৯ টাকা এবং বিক্রির মূল্যও ১৮.০৯ টাকা; ভারতীয় রুপি কেনার মূল্য ১.৩০ টাকা এবং বিক্রির মূল্য ১.৩০ টাকা; শ্রীলঙ্কান রুপি কেনার মূল্য ২.৭১ টাকা এবং বিক্রির মূল্য ২.৭২ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা করা দরের চেয়ে খোলাবাজারে মুদ্রার দাম কিছুটা বেশি থাকে। বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হারই নির্ভর করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%