১০:২২ এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে, ৩৮৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। শহরটির বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের লাইভ র্যাংকিংয়ে সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষে থাকা দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এপিআই) স্কোর ৩৮৯। একই সময়ে ঢাকার স্কোর ছিল ১৮২, যা সকলের জন্য অস্বাস্থ্যকর।
বায়ুদূষণের তালিকায় ১৭২ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা। ১৬৭ স্কোর নিয়ে যৌথভাবে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং পাকিস্তানের লাহোর।
তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, যার স্কোর ১৫৮। সপ্তম স্থানে রয়েছে বাহরাইনের মানামা, স্কোর ১৫২ নিয়ে।
মালয়েশিয়ার কুচিং ১৪৯ স্কোর নিয়ে অষ্টম এবং একই স্কোর নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। তালিকার দশম স্থানে কাতারের দোহা রয়েছে, যার স্কোর ১৪২।
ঢাকার নিম্নমানের বাতাসের মূল কারণ হলো পিএম ২.৫ বা সূক্ষ্ম কণা। এই অতিক্ষুদ্র কণাগুলো, যাদের ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়ে কম, ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে হাঁপানি (অ্যাজমা), ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদ্রোগের মতো শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্যন্ত্রের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে তা বিশুদ্ধ বাতাস হিসেবে গণ্য হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
বায়ুদূষণের ফলে প্রতিবছর অনেক মানুষ স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এবং মারা যাচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড আটলান্টিক মহাসাগরে ছয় আরোহীসহ নিখোঁজ হওয়া একটি মেডিকেল বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেছে। ম্যাসাচুসেটসের ন্যানটাকেট দ্বীপের উপকূলে প্রায় ২৭ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর বিমানটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়।
কোস্ট গার্ডের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে বারমুডা থেকে বোস্টনের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পর বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ন্যানটাকেট দ্বীপের উপকূলে তল্লাশি চালিয়ে ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ পাওয়া যায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেটি নিখোঁজ বিমানটির বলে নিশ্চিত করা হয়।
বিমানটি ছিল একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। এতে একজন রোগী, তার পরিবারের একজন সদস্য এবং চারজন ক্রু ছিলেন। রোগী ও তার স্বজন বারমুডার নাগরিক। চার ক্রু ছিলেন কানাডার নাগরিক।
বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার আগে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রকেরা পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যায় পড়েন। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪৬ মিনিটের দিকে এক নিয়ন্ত্রক পাইলটকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি দিকনির্দেশনা দেখতে পাচ্ছেন কি না এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে চাইছেন কি না। তবে ধারণ করা রেডিও যোগাযোগের রেকর্ডে পাইলটের কোনো উত্তর শোনা যায়নি।
রেডিও যোগাযোগ থেকে জানা যায়, ন্যানটাকেটের কাছে পৌঁছানোর সময় বিমানটিতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এরপর স্থানীয় সময় রাত ১টার কিছু পর রাডার থেকে বিমানটি অদৃশ্য হয়ে যায়।
নিখোঁজ বিমানটি ছিল গালফস্ট্রিম জি১০০ মডেলের। ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত বিমানে থাকা ছয়জনের কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড নৌযান, উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার দিয়ে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, প্রায় ২৭ ঘণ্টার অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৬৪৪ বর্গমাইল বা ৪ হাজার ২৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উইলিয়াম স্পারলিং নামের একটি কোস্ট গার্ড নৌযানও সারা রাত অভিযান চালিয়েছে।
এদিকে, নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বারমুডা সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বার্ট এক বিবৃতিতে নিখোঁজদের পরিবারের প্রতি গভীর উদ্বেগ ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ছয়জনকেই নিরাপদে উদ্ধারের আশা প্রকাশ করে উদ্ধার ও তল্লাশি দলের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য পাকিস্তান আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড না রাখার অনুরোধও করেছে দেশটি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের তৃতীয় কমিটির সাধারণ বিতর্কে পাকিস্তানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন এই আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন জোরালোভাবে প্রয়োগ করা এবং অন্য পরিস্থিতিতে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
উসমান জাদুন বলেন, কাশ্মীরের জনগণ প্রায় আট দশক ধরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব প্রস্তাবে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অবাধ ও নিরপেক্ষ গণভোটের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের পর জম্মু ও কাশ্মীরে মৌলিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ ও দমন-পীড়ন বেড়েছে। একই সঙ্গে, অঞ্চলটির জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক চরিত্র পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগ পাকিস্তানের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।
ভারতের প্রতিনিধি জবাবে কাশ্মীরকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে পাকিস্তানের প্রতিনিধি সারফরাজ আহমেদ গোহর বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল এবং এর চূড়ান্ত মর্যাদা সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘের প্রস্তাব ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে পাকিস্তানের অবস্থান।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে উসমান জাদুন বলেন, বিশেষ করে গাজায় ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, বাধাহীন মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। একই নীতি জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের এই প্রতিনিধি। তিনি বলেন, এসব দেশ সংকুচিত আর্থিক সক্ষমতা, টেকসই নয় এমন ঋণ, জলবায়ুজনিত অভিঘাত এবং প্রযুক্তিগত বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছে। উন্নয়নের অধিকারকে মানবাধিকারের আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামবিদ্বেষ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উসমান জাদুন। ঘৃণাত্মক বক্তব্য, বৈষম্য, ধর্মীয় প্রতীক অবমাননা এবং মুসলিম ও তাদের উপাসনালয়ে হামলার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ধারাবাহিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তির সুফল যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোও সমানভাবে পায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
পরে আরেক দফা জবাবে ভারতের প্রতিনিধি ভাভিকা মাঙ্গালানন্দন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ততা ও সংখ্যালঘুদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন এবং কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে পুনর্ব্যক্ত করেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানের প্রতিনিধি বলেন, বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধানে ইসলামাবাদ সংলাপ, কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের নীতির আলোকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে ভারতকেও একই পথ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি। তথ্যসূত্র: দ্য ডন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সভার প্রতিপাদ্য ছিল ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভাটি শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই নগরায়ণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৃক্ষরোপণকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি, প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ