০৬:০৩ পি.এম
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা জনিত কারণে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে মোদি সরকারের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল দেশটির তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় তরুণদের নতুন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন প্লাটফর্মটির প্রধান অভিজিৎ দিপকে। তার নেতৃত্বে হওয়া টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের মুখে বিজেপি সরকার এক প্রকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে— পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান; মেনে নেওয়া হয়েছে আন্দোলকারীদের বাকি সব দাবি-দাওয়াও।
সফল এই আন্দোলনের পর এবার নতুন এক বার্তা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) প্রধান অভিজিৎ দিপকে। রোববার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘এটি কেবল শুরু, পথ এখনও অনেক বাকি।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকার সিজেপির অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়ায় এখন কিছুটা বিশ্রামের সময় এসেছে ককরোচ পার্টি প্রধানের। ৩০ বছর বয়সী এই মুখ আন্দোলনের দেশব্যাপী গড়ে ওঠা মুহূর্তগুলোকে পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করছেন।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
তেলাপোকা পার্টি প্রধান বলেছেন, ‘কী করতে হবে কিংবা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে—এসব চিন্তা না করেই আমি ঘুমাতে যেতে পারছি এবং নিজের শোবার ঘরে ঘুম থেকে উঠতে পারছি।’
রোববার সকালে পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ বলেছেন, এখন আর কোনও উৎকণ্ঠা নেই। আন্দোলনের ৩৭ দিনকে তিনি ‘সত্যিই অত্যন্ত কঠিন’ বলে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এটি কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির এখনও অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি রয়েছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণদেরকে ‘তেলাপোকা’ নাম দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করার পর জবাব হিসেবে গত মে মাসে সিজেপি প্রতিষ্ঠা করেন অভিজিৎ। পরবর্তী প্রায় ৭০ দিনের মধ্যে তা দেশটির জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের শক্তিকে এক সুতোয় গাঁথা বিশাল আন্দোলনে রূপ নেয়।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার ‘তেলাপোকা’—যারা নিজেদের সিজেপির সমর্থক বলে পরিচয় দেন; রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র দখল করে নেন। ভারতের ক্ষমতার প্রাণকেন্দ্রের একেবারে কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরে ককরোচদের ‘ইনকিলাব’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং চাকরিপ্রার্থীদের আত্মহত্যার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করেন শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভের মাধ্যমে তার পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন তারা। সরকারের গড়িমসিতে প্রতি মুহূর্তে হাজার হাজার সমর্থক যোগ দেন ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলনে।
আন্দোলনের ৩৭ দিনের মাথায় শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেইসঙ্গে সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।
তবে, এই পথ সহজ ছিল না বলে ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ স্মরণ করেছেন। অনেকে নানা সন্দেহ প্রকাশ করলেও যারা সিজেপিকে সমর্থন করেছেন, তাদের সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। টাইফয়েডে আক্রান্ত ও গায়ে জ্বর থাকার কারণে গতকাল যন্তর মন্তরে সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে না পারার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ভারতের এই তরুণ আন্দোলনকর্মী।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি
ভিডিওতে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘ ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অপেক্ষা করছিলেন, আমি আপনাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর আমি আপনাদের বলতে চাই, আপনারা এই দেশের জন্য যা করেছেন, তা আমি সত্যিই মন থেকে অনেক সম্মান করি।
যারা সমালোচনা করেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। অভিজিৎ দিপকে জানান, তাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও প্রশ্নের মাধ্যমেই তিনি নিজের ভুলত্রুটি শুধরে নিতে পেরেছেন এবং কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন