০৮:৫৫ এম
জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশও এই প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। দীর্ঘকাল ধরে জনস্বাস্থ্যের জন্য বায়ুদূষণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সেনেগালের রাজধানী ডাকারের বাতাসে দূষণের মাত্রা ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি, মেগাসিটি ঢাকা শহরের বাতাসেও বেড়েছে দূষণের মাত্রা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে সেনেগালের রাজধানী ডাকার। ওই সময় শহরটির বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ৮৭০, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, একই সময়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। ঢাকার বায়ুমান সূচক ছিল ১৭৪, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এর আগের দিন শুক্রবার একই সময়ে ঢাকার বায়ুমান সূচক ছিল ১৪৪। অর্থাৎ, এক দিনের ব্যবধানে ঢাকার বাতাসের মানের অবনতি ঘটেছে এবং দূষণের মাত্রা বেড়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা
বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য শহরের বাতাস অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। এসব শহরের মধ্যে রয়েছে ভারতের মুম্বাই, কলকাতা ও দিল্লি, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর, চীনের বেইজিং, পাকিস্তানের লাহোর, কাতারের দোহা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং মিশরের কায়রো।
এদিকে, সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের শহরের তালিকায় রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং, উজবেকিস্তানের তাসখন্দ, উগান্ডার কামপালা, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, চীনের চেংদু, কুয়েতের কুয়েত সিটি, মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর, ভিয়েতনামের হ্যানয়, বাহরাইনের মানামা এবং নেপালের কাঠমান্ডু।
একটি শহরের বাতাসের মান কতটা নির্মল বা দূষিত, তাৎক্ষণিকভাবে জানায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুমান সূচক বা একিউআইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন শহরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করে থাকে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা মাঝারি বা সহনীয়। সূচক ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি হলে বাতাসের মানকে বিপজ্জনক বা দুর্যোগপূর্ণ পর্যায়ে ধরা হয়।
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়
বায়ুদূষণ বাড়লে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। এ অবস্থায় দূষিত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেয়া হয়। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বাইরে গেলে উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন