বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৩৭ পি.এম
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংলাপ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার ও পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২২ সদস্যের বাংলাদেশি যুব প্রতিনিধিদল চীনে তাদের ১০ দিনের সফর সম্পন্ন করেছে।
গত ২১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডার্স ডেলিগেশন টু ভিজিট চায়না-২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (এসআইআইএস)-এর আমন্ত্রণে এ সফর সম্পন্ন হয়।
প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সফরকালে তারা চীনের নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিল্প খাতের নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক আগা মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।
দলের অন্য সদস্যরা হলেন—অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাওন শায়লা, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফকরুদ্দিন আল কবির, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সহকারী অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রভাষক জাকিয়া আহমদ ঝুমা, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. মিনহাজুল আবেদিন, সিপিডির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মো. তাকরিম হোসেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর রিসার্চ অফিসার মুহাম্মদ মাজেদুল হক, ইউল্যাবের প্রভাষক নুসরাত তাজকিয়া, দ্য ডেইলি স্টারের টেক অ্যান্ড স্টার্টআপ সম্পাদক জারিফ ফায়াজ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. মোকাররম হোসেন, চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সহকারী নিউজ এডিটর মো. লুৎফর কবির, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) স্টাফ রিপোর্টার ওসমান গণি রাসেল, ˆদনিক ইনকিলাবের সাংবাদিক মোস্তফা-ই-হাসনাত মাহমুদ চৌধুরী, প্রথম আলোর সাংবাদিক মো. সানাউল্লাহ সাকিব, ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের রিসার্চ অ্যানালিস্ট জোনায়েদ খান, সহকারী ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট চৌধুরী সাদিয়া জাহান ফারিহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আল খালিদ বিন ওয়ালিদ দীপু ও মো. জারিফ রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম সরকার এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাহাত জামান।
প্রতিনিধি দলটি কুনমিং, সাংহাই ও বেইজিং সফর করেন। সেখানে তারা বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, স্মার্ট নগর উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা এবং শিল্প আধুনিকায়নে চীনের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিনিধিদল প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও সংলাপের নতুন সুযোগও সৃষ্টি হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসআইআইএসের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ-এর নির্বাহী উপপরিচালক ড. লি হংমেই বলেন, এ সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ ও চীনের জনগণের মধ্যে, বিশেষ করে দুই দেশের তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে চীনের কূটনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সামাজিক শাসনব্যবস্ বাস্তবায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সংস্কৃতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করাও এর লক্ষ্য ছিল।
তিনি আরো বলেন, ‘এই কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো— চীন সম্পর্কে প্রতিনিধিদলের দৃষ্টিভঙ্গি ও উপলব্ধিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। প্রত্যক্ষ মতবিনিময়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা চীনের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পথযাত্রা সম্পর্কে আরো বিস্তৃত ও গভীর ধারণা লাভ করেছেন।’
ড. লি বলেন, সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এ সফরের দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাবের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এটি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ প্রতিবছরই বাংলাদেশি যুব নেতা প্রতিনিধি দলের চীন সফরের আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ এবং সীমান্তের ওপারে ঘটিত বিমান হামলার কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিরাপত্তা জোরদার করেছে। নাফ নদে নৌ টহল বাড়ানো হয়েছে, সেই সঙ্গে সীমান্তজুড়ে স্থল টহল এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফ ২ বিজিবির লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকার বিজিবি সদস্যরা টহল পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে নাফ নদীতে নৌ টহল এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সীমান্ত নজরদারি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপ ও হ্নীলা পর্যন্ত পুরো সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে, যাতে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানের ঘটনা না ঘটে। সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে মায়ানমারের মংডু এবং আশপাশের এলাকায় কিছু নির্দিষ্ট সময়ে বিমান হামলার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ টেকনাফ সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে আবারো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা সীমান্তবর্তী এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। অনেকেই প্রথমদিকে ভূমিকম্প হয়েছে মনে করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম জানান, বুধবার রাতে কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে আবার একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে সীমান্তের ওপারে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়।
এসব ঘটনার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নাফ নদীতে অনেক জেলেও মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে একটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজম উল্লাহ দাবি করেছেন, বুথিডং এলাকার চারলাইন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে বহু রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, চলমান হামলার কারণে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলগুলোর মধ্যে পরবর্তী পর্যায়ের পরোক্ষ আলোচনা ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কাতারের দোহায় পরোক্ষ আলোচনার পরে আল-হাদাস টেলিভিশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে, প্রতিবেদনে বৈঠকের স্থান সম্পর্কিত কোনও তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমটির একজন জ্যেষ্ঠ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার পরবর্তী পর্ব ১৮ জুলাই শুরু হবে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধি দলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’র মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাতার।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি পোস্টে উল্লেখ করেছেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তান আজ দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা কর্মীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক সম্পন্ন করেছে। লেক লুসার্ন সম্মেলনের ফলাফলগুলোর ওপর ভিত্তি করে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর বিষয়গুলোতে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষই আগামী সময়ে আলোচনা চলিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার পরেও প্রবেশপত্র না পাওয়ার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে চরম ভোগান্তির শিকার হন। কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে তারা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করতে বাধ্য হন, তবে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তারা শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সার্ভে অনুসারে দেখা গেছে, প্রবেশপত্র ছাড়া কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের আটকে দেন। এতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।
পরে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করার ফলে বোর্ডের বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে বিলম্বিত সময়ে ওই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, দেরিতে পরীক্ষায় অংশ নিতে হওয়ায় তারা মানসিক চাপের মধ্যে প্রতিস্পদ্ধা করেন। কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দিলেও সেটি তাদের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—মানবিক বিভাগের শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তী শীল এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তারসহ মোট ৯ জন। কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল এই ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, প্রবেশপত্র না আসার বিষয়টি তিনি জানতেন না। এ ঘটনার জন্য কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেব এবং নিজেকে দায়ী মনে করেন তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এটি স্পষ্টতই দায়িত্বহীনতার ফল। খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে এসে বিষয়টি তদন্ত করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বোর্ডের অনুমতি পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
তিনি আরো জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পরীক্ষার সময় এমন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়ে তারা শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সঙ্গে সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনে একটি ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করে নিহত হওয়া পাইলট মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার ডায়েরিতে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ ছিল।
গত শুক্রবার বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটের সময় বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে ৫২৮ মিটার উঁচু ‘সিআইটিআইসি’ টাওয়ারে একটি ছোট উড়োজাহাজ আছড়ে পড়ে। এতে ভবনের উপরের অংশের কাচ ভেঙে যায় এবং নিচে আগুন ধরে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়েছেন।
চীনের শীর্ষ নেতাদের বাসভবন থেকে এই ভবনের দূরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার। ফলে কঠোর নিরাপত্তার এই শহরে এমন দুর্ঘটনা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, ৬৬ বছর বয়সী ওই পাইলটের নাম লিউ। বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি বেইজিংয়ে একাই থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনিদ্রা ও হতাশায় ভুগছিলেন। তার ডায়েরিতে লেখা ছিল জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা। ব্যক্তিগত হতাশা থেকেই তিনি মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ করেছিলেন।
লিউ পেশায় ফ্রিল্যান্সার ছিলেন এবং উড়োজাহাজ চালানোর লাইসেন্স পেয়ে ছিলেন। ঘটনার দিন বিকালে তিনি দুই আসনের একটি ছোট উড়োজাহাজ নিয়ে একাই উড়ছিলেন। তবে হঠাৎ তিনি নির্ধারিত পথ ছেড়ে অন্যদিকে চলে যান এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেয় এবং ইন্টারনেট থেকে এই ঘটনার সব ছবি ও ভিডিও দ্রুত মুছে ফেলা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ