বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১৪ পি.এম
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই দেশটিতে কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের (জামালপুর-৩) লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে দেশটির শ্রমবাজারে নতুন বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট আরো ৫ শতাংশ কমানোর আলোচনা চলছে
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে সরকার দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ২৪ জুন ২০২৬ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ডেমি-অফিশিয়াল (ডিও) চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
আরিফুল হক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান- বর্তমানে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, সেশেলস, সার্বিয়া, ফিজি, রোমানিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, মরিশাস, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট বা পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কাতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে সপ্তম যৌথ কমিটির সভা গত ১৮ মে ২০২৬ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কাতার ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডার হিসেবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া ও ওমানের শ্রমবাজার বন্ধ বা সীমিত থাকায় এসব দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে কম বা কোনো খরচ ছাড়াই নিয়মিতভাবে ব্রুনেই, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, হংকংসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) ও চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ওপরও সরকার গুরুত্ব দিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ১ লাখ চালককে প্রশিক্ষণ দিতে ‘প্রোভাইডিং ড্রাইভিং ট্রেনিং ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যাট হোম অ্যান্ড অ্যাব্রড’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
এছাড়া জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীন ঢাকা কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ডিটিটিআই) একটি বিদেশি ভাষা ও দক্ষতা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, গন্তব্য দেশগুলোতে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এই কেন্দ্রে জাপানি, কোরিয়ান, ইংরেজি, চীনা (ক্যান্টনিজ ও ম্যান্ডারিন), আরবি, ইতালিয়ান, জার্মানসহ বিভিন্ন ভাষায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা-২০২৬ সম্পর্কিত শর্তের কারণে লক্ষাধিক শিক্ষক সমস্যায় পড়েছেন। তারা আবেদন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না, কারণ ‘সমমানের বা সমস্তরের মাদরাসা’ সংক্রান্ত শর্তের জটিলতা রয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৭ আগস্ট জানানো হয়েছে যে, সফটওয়্যারভিত্তিক বদলি কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত জনস্বার্থে এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষকদের ম্যানুয়্যাল আবেদন করতে হবে। ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি মাদরাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬’-এর ৩.১৯ বিধি অনুযায়ী শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে মোট ৪১ হাজার ৯৬৬টি শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে নতুন বদলি নীতিমালার ৩.৫ ধারা অনুযায়ী, শিক্ষকগণ কেবল নিজ মাদরাসার সমমানের বা সমস্তরের প্রতিষ্ঠানে সমপদে বদলির আবেদন করতে পারবেন। দাখিল স্তরে কর্মরত শিক্ষকরা আলিম, ফাজিল বা কামিল স্তরের মাদরাসায় পদ শূন্য থাকলেও আবেদন করতে পারবেন না। তারা শুধুমাত্র দাখিল স্তরের মাদরাসার সমপদে আবেদন করতে পারবেন।
সাময়িক বেতন-ভাতা বন্ধ যেসব শিক্ষকের, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। একইভাবে আলিম, ফাজিল বা কামিল মাদরাসার কোনো শিক্ষক চাইলে তার নিচের বা ওপরের স্তরের কোনো মাদরাসায় পদ শূন্য থাকলেও আবেদন করতে পারবেন না। শুধুমাত্র সমমান মাদরাসার সমপদে বদলির আবেদন করতে হবে।
বদলি নীতিমালার সমমান/সমস্তর সম্পর্কিত ৩.৫ ধারাটি সংশোধনের বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত একজন কর্মকর্তা জানান, নীতিমালা জারি এবং নীতিমালা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও ব্যাখ্যা প্রদান করার ক্ষমতা শুধুমাত্র কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের। বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রতিপালন করেই বদলির আবেদন করার সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে টিএমইডি থেকে সমমান/সমস্তর সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা আসলে সেই মোতাবেক বদলির আবেদনের সুযোগ প্রদান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস দিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই আবহাওয়া সতর্কতা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম) কর্তৃক।এনসিএমের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাজান, আসির, আল বাহা এবং মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
জাজান ও আসিরের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নাজরানের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জাজান প্রদেশের আল রাইত, হারুব, আল দাইর, আল হাইদাবি, ফাইফা, আল আরিদাহ, আল হারিস, আল তুওয়াল, আল দারব, বাইশ, সাবিয়া, দামাদ, আবু আরিশ, আহাদ আল মাসারিহাহ এবং সামতাহ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, জাজান শহর ও ফরাসান দ্বীপপুঞ্জে বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আসির প্রদেশের আভা, খামিস মুশাইত, আহাদ রুফাইদাহ, সারাত উবাইদাহ, আল হারজাহ, দাহরান আল জানুব, আল নামাস, আল ফারশাহ, তানোমাহ, রিজাল আলমা, বারিক, মাহায়িল আসির, আল মাজারদাহ এবং বলকারন এলাকাতেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
এই বৈরী আবহাওয়ার ফলে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এবং উপত্যকাগুলোতে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢল দেখা দিতে পারে।
ভারী বৃষ্টিপাতের সময় উপদ্রুত এলাকার বাসিন্দা এবং গাড়িচালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং উপত্যকা ও বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজয়ী কোরআনে হাফেজদের সরকার সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মন্তব্য করেন, "বিশ্বজয়ী এই হাফেজে কোরআনদের সম্মানিত করলে দেশও সম্মানিত হবে।"৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে বিজয়ীদের এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
জামায়াত আমির বলেন, "ক্রীড়া সাংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরলে তাদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেই, সম্মানিত করি। কিন্তু কোরআনের হাফেজরা বারবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উজ্জ্বল করছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেরকম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।"
বুধবার সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এই দাবি জানিয়েছেন এবং তিনি বলেন, "যদি তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানিত করা হয়, তাহলে দেশ সম্মানিত হবে। আমি এই দাবিটি আবার জানালাম। আশা করি সরকার এটা করবে।"
তিনি আরও বলেন, "তাদেরকে সংবর্ধনা দেওয়াই শুধু শেষ নয়, বরঞ্চ আরো যত ধরনের সম্মানিত করার সুযোগ আছে সেটাও যেন করা হয়, এটাও আমাদের দাবি।" তিনি বলেন, "আমরা বিরোধী দল হিসাবে বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই সুযোগটা আজকে পাওয়ার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।"
ডা. শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, "অচিরেই এযাবতকালে যত হাফেজে কোরআন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে বিজয়ী হয়েছেন, তাদের জন্য একটা সংবর্ধনার ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।"
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি জানান, "এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চারজন প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রথম এবং তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।"
তিনি বলেন, "বিশ্বমঞ্চে তাদের এ সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে।"
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "নৈতিক শিক্ষার বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ভালো ও নৈতিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।" তিনি বলেন, "কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কোরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা থাকা উচিত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার।"
জামায়াত আমির মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, "বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশাপাশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা গ্রহণ করছে।" তিনি বলেন, "এ সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।"
তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি নৈতিক শিক্ষার যত বেশি বিকাশ হবে রাষ্ট্রে তত বেশি ভালো নাগরিক তৈরি হবে।" তিনি বলেন, "আর একটা ভালো দেশ গড়তে হলে ভালো নাগরিক আমাদের লাগবে। কিন্তু আমাদের ইসলামী শিক্ষাটা অনেকটা উপেক্ষিত।"
জামায়াত আমির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সহযোগিতাকারী বিদেশি শিক্ষককে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "হাফেজদের এ অর্জন যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।"
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে একটি গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ইনশাআল্লাহ, সেই বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দৃষ্টান্ত।"
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রা লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে একটি মহলের সমালোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, "আমাদের কর্মসূচি কোন দল এবং গোষ্ঠীর জন্য নয়। আমাদের কর্মসূচি ন্যায় এবং ইনসাফের ভিত্তিতে যে সমাজটা আমরা চেয়েছিলাম চব্বিশের আগস্টের পরে সেই সমাজটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না বলেই আমাদের পেরেশানির জায়গা থেকে জনগণের পক্ষ হয়ে নৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য আমাদের এই কর্মসূচি।"
এ সময় বিশ্বজয়ী হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "আমরা মক্কায় সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সম্মান পেয়েছি। কিন্তু এদেশের রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা কোন সংবর্ধনা পাইনি। তবে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা দেখিয়েছেন, এজন্য আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই।"
জাকারিয়ার শিক্ষক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, "আমরা রাষ্ট্রীয় কোন সহযোগিতা চাইনি, পাইওনি। তবে আগামীতে যত হাফেজ বিশ্বজয় করবে, তাদের যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান দেয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
‘১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ’ সম্পর্কে যে তথ্য জানাল পুলিশ
র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইনের বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কামিটিকে যাচাই-বাছাই শেষে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংসদে ফেরত পাঠাতে বলা হয়।
বিলে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একইসঙ্গে এ বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
বিলের ১ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।
বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে।’
সরকার প্রয়োজনের নিরিখে পুলিশ বাহিনী, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। ইউনিটের সদর দফতর থাকবে ঢাকায়।
এসআরবি’র একজন মহাপরিচালক থাকবেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। মহাপরিচালক ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
যেসব দায়িত্ব পালন করবে এসআরবি
বিলের ১০ ধারায় এসআর-এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
“জননিরাপত্তা রক্ষা’, ‘সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন’, ‘বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার’ এবং ‘মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।”
এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুসারে এসব অপরাধের তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি।
তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা
বিলের ১২ ধারায় এসআরবি-কে কোনও স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিদ্যমান অন্যান্য আইনের বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রয়োগ করতে হবে।
১৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘তল্লাশি, আটক, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার যে ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি রয়েছে, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন—এমন ইউনিটের কর্মকর্তা তা প্রয়োগ করতে পারবেন।’
তবে গ্রেফতার বা আলামত জব্দ করার পর তা এসআরবি-এর কাছে আটকে রাখা যাবে না। বিলের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, “গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করবেন।” একই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
ফৌজদারি মামলার তদন্ত করতে পারবে
আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনও সময় এসআরবি মহাপরিচালককে কোনও ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। মহাপরিচালক পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কোনও সদস্যকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন।
তদন্তের সময় ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে এসআরবি-এর হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার কথাও বিলে বলা হয়েছে।
সদস্যদের যেসব কাজ শৃঙ্খলা লঙ্ঘন
বিলের ১৭ ধারায় এসআরবি সদস্যদের বিভিন্ন শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীকে আঘাত বা অসদাচরণ করা, অনুমতি ছাড়া গার্ড, চৌকি বা পেট্রোল ত্যাগ করা, আটক বা গ্রেফতার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করা রয়েছে।
এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বা সরঞ্জাম ক্ষতি বা হারানো, অসুস্থতার ভান করা, বলপূর্বক অর্থ আদায়, বেআইনিভাবে জমি দখল, সম্পদ চুরি বা ধ্বংস, অপরাধীকে আটক করতে ব্যর্থ হওয়া এবং জুয়া বা অবৈধ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকাকেও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি ৭ দিনে প্রতিবেদন
কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগ বা আশঙ্কার যৌক্তিক কারণ থাকলে তাকে আটক করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তবে আটকাদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আটক সদস্যকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে।
কোনও সদস্য ১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি সাত দিন অন্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। আর “আটককৃত সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাথমিক কোনও প্রমাণ না থাকিলে তাহাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হইবে।”
শাস্তি হিসেবে বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর ও পদাবনতি
এসআরবি সদস্যদের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের জন্য গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অব্যাহতি, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদাবনতি, পদোন্নতি বন্ধ, সর্বোচ্চ এক বছরের জ্যেষ্ঠতা বা বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার বিধান রয়েছে।
লঘুদণ্ড হিসেবে অনূর্ধ্ব এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ জরিমানা, তিরস্কার, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য কোয়ার্টার গার্ডে আটক, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য ব্যাটালিয়নে আটক রেখে অতিরিক্ত ড্রিল, গার্ড বা অন্য দায়িত্ব এবং দৈনিক দুই ঘণ্টা করে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের জন্য শাস্তিমূলক ড্রিলের বিধান রাখা হয়েছে।
তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনও সদস্যকে এসব শাস্তি দেওয়া যাবে না।
শাস্তির বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল
বিভাগীয় কার্যধারায় দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের আদেশের বিরুদ্ধে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালকের কাছে এবং মহাপরিচালকের আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে আপিল করা যাবে। আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ