১০:৪৯ এম
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী দাবি করেছে, গত কয়েক দিনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে তারা শত শত হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধার নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই দাবি করা হয়েছে সরকারপন্থি বাহিনীর পক্ষ থেকে।
সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি শনিবার জানান, হুথিদের অবস্থান, সামরিক তৎপরতা ও সক্ষমতার উপর লক্ষ্য রেখে ২৫৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আল-নাজিলি বলেন, এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে। তার মতে, হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং ১৭০টি সামরিক যান ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ২০২৩ সালে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
তবে সরকারি বাহিনীর কতজন সদস্য হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য তিনি প্রদান করেননি। অন্যদিকে, হুথিরাও এই হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।
আল-নাজিলি আরও জানান, সানা, মিদি ও বাকিমসহ আল-জাওফ, মারিব, আল-বায়দা ও লাহিজের বিভিন্ন ফ্রন্টে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে তাইজ এলাকায়।
এক দিন আগে সরকারি বাহিনী দাবি করেছিল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযানে ১ হাজার ৫৪০ হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে।
তাইজে তীব্র লড়াই
আরও পড়ুন: ইসরাইলি নির্বাচনে উগ্রপন্থি বেন-গভিরের হাতিয়ার: মসজিদে জরিমানা ও বাড়িঘর উচ্ছেদ
সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর তাইজ গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহরের আশপাশে সরকারি বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক গোলাবর্ষণ চলছে। বিভিন্ন ফ্রন্টেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সংঘাতে বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন। ধুবাব এলাকায় একটি আবাসিক এলাকায় গোলার আঘাতে ছড়িয়ে পড়া ধাতব টুকরার আঘাতে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সরকারি বাহিনী আরও জানিয়েছে, তীব্র লড়াইয়ের পর তাইজের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সামা দুর্গের নিয়ন্ত্রণ তারা নিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তাইজের আল-হুবান ক্রসিংও বন্ধ করে দিয়েছে ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি হুথিদের নিয়ন্ত্রিত আল-হুবান এলাকার সঙ্গে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ শহরকে সংযুক্ত করে।
সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, তাইজে হুথি যোদ্ধাদের ঢোকার একটি চেষ্টা, ওই এলাকায় হামলা এবং সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে ক্রসিংটি বন্ধ করা হয়েছে। মানবিক কারণে ২০২৪ সালে বেসামরিক মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার আগে ক্রসিংটি টানা নয় বছর বন্ধ ছিল।
আরও পড়ুন: গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলা, যুদ্ধবিরতির পর নিহত ১৫২২
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন