বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:২৬ পি.এম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ব্যাপক যাচাই-বাছাই করার পর প্রণয়ন করা হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
চিফ হুইপ আরো বলেন, এই ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনেক যাচাই-বাছাই করে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাজেটে ৬৩টি পণ্যের শুল্ক কমানো হয়েছে। এটি একটি জনবান্ধব বাজেট এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানিয়েছেন, বাজেটের ওপর আলোচনা করার জন্য বিরোধী দলকে ৩১ শতাংশ সময় দেয়া হয়েছে এবং বিরোধীদলও সরকারের এই বাজেটকে গ্রহণ করেছে। তাই এ বাজেট বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ যাতে কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পান করতে পারে, সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি এটিকে বাংলাদেশের জন্য একটি বাঁচানোর প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাজেটের ওপর কণ্ঠভোট গ্রহণ করে তা পাস করেন, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর হলে তিন দেশের জনগণই উপকৃত হবে, এমন বিশ্বাস পোষণ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক বৈঠক প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করতে দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা একসঙ্গে আলোচনায় বসেন। সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে যৌথ স্বার্থ নিয়ে সৌহাদ্যপূর্ণ আলোচনা চালানো হয়। দুই নেতার মধ্যে টু প্লাস টু আলোচনা ও সামরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে বিশ্বস্ততা জোরদার করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য জনগণের স্বার্থে নিজেদের মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে চায়না সমর্থন দেয়।
ইয়াও ওয়েন জানান, টেকসই তিস্তা মহাপরিকল্পনা তৈরি করতে বৈজ্ঞানিক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রক্রিয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। চায়না এ বিষয়ে জোর দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। অতীতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে চাইনিজ কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা হলেও, এবার দুই দেশের সরকারের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এ প্রকল্প এবং বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহযোগিতা করার জন্য চীনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রতিশ্রুতি এসেছে।
এ সময় ব্রিকসে বাংলাদেশের সদস্যপদ সমর্থনে চীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—এ কথাও জানান দেশটির রাষ্ট্রদূত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের টিকেট ক্রয়ের পর শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ায় স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমীর স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে। সেকেন্ডারি মার্কেটপ্লেস বা টিকেট পুনর্বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থাপনার কারণে কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সমর্থকরা খেলা না দেখেই দেশে ফিরছেন। বিশেষ করে ‘স্টাবহাব’ নামক জনপ্রিয় টিকেট বিক্রয়কারী ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের আগুন লেগেছে। ভুক্তভোগী দর্শকরা এটি টিকেট ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে এবারের বিশ্বকাপের আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবং এ নিয়েই শুরু হয়েছে টিকেট নিয়ে চরম অরাজকতা। ডালাসের বাসিন্দা সের্হিও এনরিকে আলভারাদো মোনতালভো, তার বাবাকে নিয়ে লিওনেল মেসির খেলা দেখানোর উদ্দেশ্যে স্টাবহাব থেকে ১৭০০ ডলারে আর্জেন্টিনার ম্যাচের টিকেট কিনেছিলেন। মেক্সিকো থেকে বাবা-মাকে উড়িয়ে আনা, হোটেল ও যাতায়াত বাবদ তার খরচ হয়েছিল প্রায় ৬০০০ ডলার। কিন্তু যাত্রার ঠিক আগের দিন স্টাবহাব তাকে জানায় যে, বিক্রেতা টিকেট সরবরাহ করতে পারছে না। টিকেটের উচ্চ মূল্যের অজুহাত তুলে তারা বিকল্প টিকেট দিতেও রাজি হয়নি। ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে বারবার যোগাযোগ করেও শেষমেষ কিছুই করতে পারেননি মোনতালভো।
বোস্টনের ইবেন পিংরের অভিজ্ঞতা একই রকম নির্মম। তার স্ত্রী ২৮০০ ডলার দিয়ে স্কটল্যান্ড বনাম হাইতি ম্যাচের টিকেট কিনেছিলেন ১১ বছর বয়সী ছেলেটিকে চমকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ম্যাচের দিন সেই টিকেট স্রেফ গায়েব হয়ে যায়, যার ফলস্বরূপ স্টেডিয়ামের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি।
খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন যে, এই সংকটের মূল কারণ হলো ‘স্পেকুলেটিভ টিকেটিং’ বা ফাটকা ব্যবসা। অনেক অসাধু বিক্রেতা নিজের কাছে টিকেট না থাকা সত্ত্বেও টিকেট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। পরে, যখন টিকেটের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায়, তখন তারা সাধারণ ক্রেতাদের টিকিট না দিয়ে, অধিক মুনাফার জন্য অন্য কোথাও তা চড়া দামে বিক্রি করে দেন। এর ফলে, সাধারণ ক্রেতারা টিকেটের মূল টাকা ফেরত পেলেও বিমান ভাড়া বা হোটেলের পিছনে নষ্ট হওয়া মোটা অঙ্কের টাকা আর ফেরত পান না।
এই চরম জালিয়াতির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জুলি রিকার মোগাল এবং রুবেন রেনতেরিয়া নামের দুই ফুটবল অনুরাগী স্টাবহাবের বিরুদ্ধে গণমামলা দায়ের করেছেন। আদালতে জমা দাখিল নথিতে তারা অভিযোগ করেছেন যে, টিকেট প্রদানের নাম করে হাজার হাজার দর্শকের কাছ থেকে দেদারলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রতারণার শিকার করেছেন। স্টাবহাবের এ কর্মকাণ্ডকে গ্রাহক সুরক্ষার ইতিহাসে ‘নতুন এক চরম বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়।
বিবদমান পরিস্থিতিতে দেখি এখন দায় চাপানোর খেলা শুরু হয়েছে। ফিফা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের বৈধ টিকেট তাদের অফিশিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় এবং তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে কেনা টিকেটের দায় তারা নেবে না। অন্যদিকে, স্টাবহাব দাবি করেছে যে, ফিফার নতুন টিকেট ট্রান্সফার অ্যাপটিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে টিকেট বাজারের বিশেষজ্ঞরা স্টাবহাবের এই অজুহাত সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। টিকেট টক নেটওয়ার্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্কট ফ্রিডম্যান জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে ৬০০-র বেশি লিখিত অভিযোগ সংগ্রহ করেছেন এবং এর জন্য সম্পূর্ণভাবে স্টাবহাবের ব্যর্থ কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন।
আইনজীবীরা বলছেন, স্টাবহাবের জটিল রিফান্ড বা ক্ষতিপূরণ নীতি সাধারণ মানুষকে ক্লান্ত ও নিরুৎসাহিত করার জন্য তৈরি করেছে, যাতে মানুষ একপর্যায়ে টাকা দাবি করা থেকে বিরত হয়। স্টাবহাবের পক্ষ থেকে তাদের ‘ফ্যানপ্রটেক্ট গ্যারান্টি’র কথা বলা হলেও হাজার হাজার ডলারের অ-ফেরতযোগ্য ভ্রমণ খরচ হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া ফুটবল ভক্তদের ক্ষোভ কোনোভাবেই কমছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজকের মুদ্রা বিনিময় হার সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।
অনলাইন ডেস্কের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে ০২ জুলাই, ২০২৬ তারিখে সকাল ১২:১৫ মিনিটে।
বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগতভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। এই বিস্তৃত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করছে।
দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আজকের (০২ জুলাই ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—
মুদ্রার নাম: বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার: ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
ইউরো: ১৩৯ টাকা ৭৫ পয়সা
পাউন্ড: ১৬৩ টাকা ০৩ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার: ৮৬ টাকা ৪০ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ৮৪ টাকা ৬৫ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন: ১৮ টাকা ০৮ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার: ৯৪ টাকা ৭৪ পয়সা
ভারতীয় রুপি: ১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ৩০ টাকা ১৭ পয়সা
সৌদি রিয়াল: ৩২ টাকা ৮৩ পয়সা
কাতারি রিয়াল: ৩৩ টাকা ৮১ পয়সা
কুয়েতি দিনার: ৩৯৮ টাকা ৪৮ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম: ৩৩ টাকা ৫৬ পয়সা
মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলা বাজার ও অফিসিয়াল রেটের মধ্যে ব্যবধান অনেকটাই কমেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে। এই পরিস্থিতি আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক মনে হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক জুন মাস অতিবাহিত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০১ সাল থেকে বৃষ্টি পরিমাণের হিসাব রাখা শুরু করার পর এটি পঞ্চম সবচেয়ে শুষ্ক জুন মাস ছিল। এক্ষেত্রে, জুলাই মাসেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির পূর্বাভাস ঘোষণা করা হয়েছে, যা কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ বৃদ্ধি করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রকাশিত তথ্যে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শেষ পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ফসলের আবাদ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কমে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ধান চাষে। এই বছরের শুরুতে, ধানের আবাদ প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গিয়েছে।
ভারতের প্রধান গ্রীষ্মকালীন ফসলের অন্তর্ভুক্ত ধান, ডাল, মোটা শস্য, তৈলবীজ, তুলা, আখ এবং পাট। এগুলোর বড় অংশই মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। তবে এ বছর বর্ষা তিন দিন দেরিতে শুরু হয়েছে এবং পশ্চিম ভারতের কিছু অঞ্চলে প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য বৃষ্টির অগ্রগতি ধীর ছিল। এই কারণে অনেক অঞ্চলে জমি প্রস্তুতি ও বীজ বপনে বিলম্ব ঘটে।
ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফসলের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল দুই কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর।
ধানের চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই বছরের জন্য, এখন পর্যন্ত ২৫ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩৪ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর।
ভারতের কৃষিজমির প্রায় অর্ধেক অংশে সেচের স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। তাই এসব জমি পুরোপুরি বর্ষার বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল থাকে। এ কারণে যদি সময়মতো বৃষ্টি না হয়, তাহলে কৃষি উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, কম বৃষ্টির কারণে তৈলবীজ উৎপাদনও কমে যেতে পারে, যার ফলে ভারত ভোজ্য তেল আমদানির ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
তবে মৌসুমি বৃষ্টি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। ফলে আগামী মাসগুলোতে যথেষ্ট বৃষ্টি হলে কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠার আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, সরকার জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই। সরকারি গুদামে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি ৯৭ লাখ টন চাল মজুত রয়েছে, যা প্রয়োজনীয় মজুতের প্রায় তিন গুণের মতো। এছাড়া, কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ধান মিলিং শেষ হলে আরও প্রায় দুই কোটি ৯৮ লাখ টন চাল মজুত হবে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, জুন মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টি হয়েছে। ১৯০১ সাল থেকে মাত্র চারটি জুন মাসে এতো কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
এখন আমাদের নজর জুলাই মাসের দিকে রয়েছে। কারণ বর্ষা মৌসুমের মধ্যে সাধারণত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি জুলাই মাসে হয়ে থাকে এবং এই সময়ে অধিকাংশ ফসলের বীজ বপন সম্পন্ন হয়।
সম্ভাব্য দুর্বল বর্ষা এবং এল নিনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার ইতোমধ্যে প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কম বৃষ্টিপ্রবণ ৩১৫টি জেলা চিহ্নিত করে সেখানকার জন্য স্বল্পমেয়াদি ফসল, কম পানি ব্যবহৃত হয় এমন জাত এবং পানি সংরক্ষণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ভারতের কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বিবিসিকে জানিয়েছেন, সংকটের জন্য অপেক্ষা না করে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এখনও ঝুঁকির সম্মুখীন হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ