০১:২৮ এম
টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম জেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এই দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জেলা প্রশাসনের অধীনে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিলা করা হয়েছে। আটকে পড়া লোকজনের উদ্ধারের জন্য চাওয়া হয়েছে ১০টি স্পিডবোট। বিপরীত দিকে, আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৮ হাজার মানুষ উঠেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার, সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব তথ্য জানান।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।
ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তদুপরি, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। প্রথম দফার বরাদ্দ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খাদ্যসংকটে না পড়েন।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে সড়ক অবরোধের চেষ্টা, ৫ জন গ্রেপ্তার
উদ্ধার কার্যক্রমের জোরদার করতে সাতকানিয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোট প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগও করা হয়েছে। স্পিডবোট পাওয়া গেলে পানিবন্দী মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং উদ্ধারকাজ আরো কার্যকর হবে। আপাতত নৌকার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চলছে।
বর্তমানে জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষদের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড়, শিশুদের জন্য কেক, বিস্কুট, ওরস্যালাইন এবং পাঁচ লিটার করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় আট হাজার মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে এসেছেন।
আরও পড়ুন: শিবগঞ্জে পুলিশের অভিযান: ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ দুইজন গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন