০৯:০১ পি.এম
লিওনেল মেসি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন। সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেসের দাবি অনুসারে, স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালটি আর্জেন্টিনার জার্সিতে কিংবদন্তি মেসির শেষ ম্যাচ ছিল। তবে আলবিসেলেস্তেদের ২০২২ বিশ্বকাপের অন্যতম নায়ক অ্যানহেল ডি মারিয়া বিশ্বাস করেন, স্পেনের কাছে এই পরাজয় যেন দেশের সর্বকালের সেরা ফুটবলার মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি না ঘটে।
বিশ্বকাপ ফাইনালটি নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক স্বীকার করে নিয়েছেন, হয়তো এটি তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। তবে তিনি এখনও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি।
২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর গ্রহণ করতে চান ডি মারিয়া, তবে মেসিকে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ করছেন।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
ডি মারিয়া টিএনটি স্পোর্টসকে জানান, 'হ্যাঁ, লিও যতদিন ইচ্ছা ততদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাক। আমার মনে হয়, সে আরও অনেক বছর খেলার সামর্থ্য রাখে।'
এই রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির সাবেক উইঙ্গার বলেন, পুরো টুর্নামেন্টে মেসির পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে যে তার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়।
ডি মারিয়া বলেন, '৩৯ বছর বয়সেও সে দেখিয়ে দিয়েছে যে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা, বরং ইতিহাসের সেরা। তার সামর্থ্যের কোনো সীমা নেই।'
ফাইনালে ১০৬তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখার পর স্পেনের ফেরান তোরেস গোল করেন। এরপর আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে, ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় আলবিসেলেস্তেদের।
আরও পড়ুন: ঘিওরের ধলেশ্বরী নদীতে দুই দিন নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
তবে এই পরাজয় মেসির ব্যক্তিগত অবদানকে ম্লান করতে পারে না। পুরো টুর্নামেন্টে তার ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট ছিল। লিওনেল স্কালোনির দলের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন তিনি।
মেসির সৃজনশীলতা ও দুর্দান্ত ফিনিশিং আর্জেন্টিনাকে কঠিন নকআউট পর্ব পেরিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ ব্যবধানে জয়কে ডি মারিয়া এমন একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখেন, যা ফাইনালের ফলকেও ছাপিয়ে গেছে।
ডি মারিয়া বলেন, 'ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পুরো আর্জেন্টিনার জন্য অসাধারণ আনন্দের ছিল। তা স্পষ্ট ছিল এবং আমাকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। এই দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।'
তিনি আরও মন্তব্য করেছেন, 'প্রতিটি ম্যাচেই আমি দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে শক্তি খুঁজে পেয়েছে এবং জয় এনেছে। সব সময় ফাইনাল জেতা যায় না, কখনও ভাগ্যও সঙ্গে থাকে না। কিন্তু তারা জাতীয় দলের সম্মান অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে।'
আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে
ডি মারিয়ার মতে, ইংল্যান্ডকে হারানোর মধ্য দিয়েই আর্জেন্টিনা দেশের জনগণকে এমন এক আনন্দ উপহার দিয়েছে, যা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার কথায়, 'আমার কাছে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে সেই দিনই, যেদিন আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল। তারা পুরো দেশকে এমন আনন্দ দিয়েছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।'
এদিকে, ডি মারিয়া কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও দায়িত্বে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্বকাপ শেষে স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে, যদিও আর্জেন্টিনারে এখনও প্রতিভাবান একদল তরুণ ফুটবলার রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে শিরোপার জন্য লড়তে পারে।
তিনি বলেন, 'আমি আশা করি, সবার মঙ্গলের জন্য স্কালোনি দায়িত্বে থাকবেন। কারণ সামনে দারুণ এক প্রজন্ম অপেক্ষা করছে, যারা গৌরব অর্জন করতে চায়। শেষ সিদ্ধান্ত অবশ্যই তার নিজস্ব, তবে আমি চাই তিনি থাকুন।'
ফাইনালের পর থেকে মেসি জনসমক্ষে আসেননি এবং জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ঘোষণা দেননি। আপাতত তিনি ইন্টার মিয়ামিতে ফিরে এমএলএস মৌসুমে মনোযোগ দেবেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ জন
আরেকটি বিশ্বকাপে তাকে দেখা বাস্তবসম্মত না হলেও, ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা হতে পারে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় লক্ষ্য। ডি মারিয়ার বার্তা একটাই যে, মেসি যখন এখনো এমন উচ্চমানের ফুটবল খেলছেন, তখন তার ক্যারিয়ারের শেষের সময়সীমা অন্য কেউ ঠিক করে দেওয়া উচিত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন