১০:০৪ এম
ইরান ‘শক্ত প্রতিরক্ষাবলয়’ গড়ে তুলেছে এমন দাবি করেছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান আহমাদ ভাহিদি। তিনি জানান, দেশের প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল চালিয়ে যাওয়াই ইরানের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ও কার্যকর পথ।
দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস উপলক্ষে ভাহিদি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধানকে এক বার্তায় এসব কথা জানান। আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভাহিদি বলেছেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন ধরনের সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হচ্ছে। এইসব হুমকি মোকাবিলার জন্য শত্রু ও ক্ষতিকর উদ্দেশ্য পোষণকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
তাছাড়া তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের প্রশংসাও করেন। ভাহিদির মতে, কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান যেমন প্রতিরক্ষা শিল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা, আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আরও পড়ুন: কাতারের সতর্কতা: ইরানের হামলার শঙ্কায় বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট বিপর্যয়ের আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে ভাহিদির এই বক্তব্য এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তার ভাষায় ‘এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাত, যার মধ্যে রয়েছে তেল পাচারকারী নেটওয়ার্ক, অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন এবং বিভিন্ন নামে পরিচালিত ভুয়া প্রতিষ্ঠান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোস্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তেল পাচার, অর্থ বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এ অভিযানের নাম 'অর্থনৈতিক ডি-ডে' হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। সাথে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের হুমকি মোকাবেলা করতে এবং দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্রকে পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি পূর্বে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের সামরিক অবকাঠামো দুর্বল হয়েছে। ট্রাম্প পুনরায় বলেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। ৭৭ ডব্লিউএবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং শিগগিরই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেবে।
আরও পড়ুন: মার্কিন দূত উইটকফের পুতিনের সঙ্গে বৈঠক বুধবার
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের কৌশলকে ব্যর্থ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, গত ১৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন নামে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ করে আসছে। তিনি বলেন, এসব কোনো উদ্যোগও সফল হয়নি। নতুন করে ঘোষিত ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। তিনি মন্তব্য করেন, ইরান আগেও একই ধরনের চাপ এবং নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে। তার মতে, কৌশল একই, শুধু চাপ প্রয়োগকারীদের নাম ভিন্ন।
এ দিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘেইর গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ না করা পর্যন্ত তেহরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলবে না। ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
আরও পড়ুন: ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে, জানালেন ট্রাম্প
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন