ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাহিদ ইসলামের মতে, কবি ফররুখের ‘সাত সাগরের মাঝি’ ও ‘পাঞ্জেরী’ কালজয়ী সৃষ্টি


নাহিদ ইসলামের মতে, কবি ফররুখের ‘সাত সাগরের মাঝি’ ও ‘পাঞ্জেরী’ কালজয়ী সৃষ্টি

মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৯ অক্টোবর পালন করা হয়। ১৯৭৪ সালের এই দিনে তিনি রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম এই কবির স্মরণে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, "বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, মুসলিম জাগরণের অগ্রপথিক কবি ফররুখ আহমদের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।"

তিনি আরও বলেন, বাংলার মুসলমানের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও নবজাগরণের আকাঙ্ক্ষাকে কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করে ফররুখ আহমদ একটি অনন্য সাহিত্যিক ঐতিহ্য নির্মাণ করেছেন।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের লিডার কেন্তা ফিরোজ আটক

‘সাত সাগরের মাঝি’ এবং ‘পাঞ্জেরী’ এর মতো কালজয়ী সৃষ্টি দিয়ে তিনি ঘুমন্ত জাতিকে জাগরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কবিতায় হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং নতুন ভোরের প্রত্যাশা একই সঙ্গে ধ্বনিত হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, রাষ্ট্রীয় অবহেলা এবং চরম দারিদ্র্যও ফররুখ আহমদের কলমকে থামাতে পারেনি। তার জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত সাহিত্যিকের শক্তি ক্ষমতার আনুকূল্যে নয়, বরং আদর্শের প্রতি অবিচলতায় নিহিত। তার সাহিত্য ও জীবনদর্শন এখনও আমাদের আত্মপরিচয়ের সন্ধান দেয়।

মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন কবিকে জান্নাতের মেহমান করেন।

পোস্টে কবির ‘সাত সাগরের মাঝি’ কবিতার কয়েকটি লাইন অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেগুলো হলো-

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে ‘মুখে ল’ গ্রুপের সদস্য মো. দিদার গ্রেফতার

‘যে পথে যদিও পার হতে হবে মরু,

সে পথে যদিও দরিয়ার নোনা পানি,

তবুও সে পথে আছে মঞ্জিল,

জানি আছে ছায়াতরু

আরও পড়ুন: নাগরিক সমাজের আহ্বান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে পরামর্শ ও সংস্কার প্রয়োজন

পথে আছে মিঠে পানি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৮ পি.এম


সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি

সৌদি আরবে এক নারীসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। কাজের জন্য গিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বেতন না পাওয়া এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে অনেক নারী দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। যদিও শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য সৌদি আরবে কিছু আইন ও বিধিবিধান সংশোধন করা হয়েছে, তবুও নির্যাতনের অভিযোগ থামছে না।

গত দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া নারী কর্মীদের মধ্যে বেশির ভাগই সৌদি আরবে গেছেন। জর্ডানের অবস্থান এর পরের স্থানে রয়েছে, তবে সৌদি আরবের তুলনায় জর্ডানে যাওয়া নারী কর্মীর সংখ্যা তিন ভাগের এক ভাগেরও কম। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি নারী কর্মী বিদেশে গেছেন, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার সৌদি আরবে গেছেন।

অন্যদিকে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি নারী কর্মী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন, এবং তাদের মধ্যে প্রায় এক হাজার সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন। দেশে ফিরে আসা নারী কর্মীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বেতন না পাওয়া কিংবা বেতন চাইতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং যৌন নিপীড়নের কারণে অধিকাংশ নারী কর্মী দেশে ফিরতে বাধ্য হন।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম ওকাপের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "প্রতি বছর কত নারী বিদেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায় না।" তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরে আসা নারী কর্মীদের নিয়ে গত বছরের জুলাইয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের ৯০ শতাংশই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে দেশে ফিরেছেন।

সৌদি আরবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহের মতে, প্রায় এক দশক আগে দুই দেশের মধ্যে গৃহকর্মী নিয়োগ নিয়ে যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়গুলো যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

আইন বদলেছে, নির্যাতনের অভিযোগ থামেনি

সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় কয়েক বছর আগে শ্রম আইনে কিছু সংস্কার আনা হয়েছে। বিদেশি কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং চাকরি পরিবর্তন ও চলাচলের স্বাধীনতা বাড়ানো ছিল এসব সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সৌদি প্রেস এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গৃহকর্মী ও একই ধরনের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করেছে সৌদি আরব।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, নিয়োগকর্তারা কর্মীদের চুক্তিতে উল্লেখ নেই—এমন কোনো কাজ করতে বাধ্য করতে পারবেন না। তৃতীয় কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করানোও নিষিদ্ধ। একইভাবে, কর্মীদের স্বাস্থ্য, শারীরিক নিরাপত্তা কিংবা মর্যাদার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা যাবে না।

তবে এসব পরিবর্তনের পরও সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের যাওয়া শুরুর সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য খুব একটা পাওয়া যায় না। তবে কয়েকটি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই থেকে আড়াই দশক ধরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক নারী সেখানে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

গত বছরের ৬ অক্টোবর সৌদি আরবের তৎকালীন মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী আহমেদ আল-রাজহি এবং বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাধারণ শ্রমিক নিয়োগ নিয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি হবে। এর আওতায় কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের মধ্যকার চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে শ্রমিক পাঠানো শুরু হয়। এরপর থেকে প্রায় ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক দেশটিতে কাজ করছেন। সৌদি আরব বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের অন্যতম প্রধান উৎস।

২০১৫ সালের চুক্তিতেও ছিল সীমাবদ্ধতা

গত দশকের শুরুর দিকে বিপুলসংখ্যক নারী কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসার ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে গৃহকর্মী নিয়োগ নিয়ে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি হয়। দুই বছর মেয়াদি ওই চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়া নারী গৃহকর্মীদের মাসে ৮০০ সৌদি রিয়াল বেতন পাওয়ার কথা ছিল। চুক্তিতে বলা হয়েছিল, গৃহকর্মীরা বিনা খরচে সৌদি আরবে যেতে পারবেন।

তবে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, অনেক নারী কর্মী বেতন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বেতন চাইতে গিয়ে কেউ কেউ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একপর্যায়ে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতার ঘাটতি

সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা কেন কমছে না, তা নিয়ে রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রগুলো বলছে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা ছাড়াই অনেক নারীকে পাঠানো হচ্ছে। এতে সংকট আরো জটিল হচ্ছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, গৃহকর্মী নিয়োগের চুক্তিতে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষার বিষয়গুলো যথাযথভাবে রাখা হয়নি। অন্যদিকে, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রামাঞ্চল থেকে নারীদের নিয়ে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই সৌদি আরবে পাঠাতে শুরু করে।

তিনি বলেন, চুক্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এজেন্টরা গ্রামের সহজ-সরল নারীদের প্রশিক্ষণ ছাড়াই সৌদি আরবে পাঠানো শুরু করেন। ফলে তারা সেখানে গিয়ে বিপদের মুখে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ দূতাবাস নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা সেফ হোম চালু করেছিল। একপর্যায়ে সেখানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নারী আশ্রয় নিতে শুরু করেন।

জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়া ২০১১ সালের আগস্টে সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এরপর সৌদি আরব ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। নেপাল ও শ্রীলঙ্কা মাসে ১ হাজার ৭০০ রিয়ালের কম বেতনে কর্মী পাঠাতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, ফিলিপাইন তাদের নারী কর্মীদের নিয়োগকর্তার বাসার বাইরে সৌদি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত আবাসনে রাখার বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি করে।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের চাপে বাংলাদেশ মাসে সাড়ে ৮০০ রিয়াল বেতনে গৃহকর্মী নিয়োগের চুক্তিতে রাজি হয়। পরে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আনায় ২০১৯ সালের আগস্টে বাংলাদেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন সৌদি আরবের তৎকালীন শ্রম ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশি কর্মীরা কেন সৌদি নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং কেন দ্রুত দেশে ফিরতে চান, তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।

তখন সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন গোলাম মসিহ। তার ভাষ্য, প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতার অভাবকে সমস্যা হিসেবে দেখেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। মসিহ বলেন, সৌদি আরবে যাওয়ার আগে নারী কর্মীদের কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানানো এবং সেখানকার বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রপাতি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।

তিনি আরো বলেন, ফিলিপাইনের কর্মীরা যেভাবে নিয়োগকর্তার বাসার বাইরে নির্ধারিত আবাসনে থেকে কাজ করেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যও তেমন ব্যবস্থা করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

চলতি বছরের ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সৌদি আরবে ফিলিপিনের নারী কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে অতিরিক্ত কাজ করানো, শোষণ, মর্যাদাহানিকর আচরণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠে আসে।

‘একবার যখন তাদের বাড়িতে ঢুকি, তারপর আমরা আর মানুষ থাকি না’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে ১৯ জন ভুক্তভোগী নারীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। তাদের অধিকাংশই ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশে ফিরে গেছেন।

নারী গৃহকর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৯৮ সালে নেপাল সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ওই বছর কুয়েতে নির্যাতনের শিকার এক নেপালি গৃহকর্মীর আত্মহত্যার ঘটনা দেশটিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এরপর নেপাল সরকার সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে নারীদের কাজ করতে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও সৌদি আরবে নেপালি নারী গৃহকর্মী পাঠানো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নেপাল ও সৌদি আরব সাধারণ কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় একটি চুক্তি সই করে। তবে নারী গৃহকর্মীদের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সমঝোতা হয়নি। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন পথে নেপালি নারীদের গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার শ্রম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, দেশটির গৃহকর্মীদের জন্য উচ্চ বেতন, উন্নত জীবনযাত্রার মান ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার সম্ভাবনা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে শ্রীলঙ্কা সরকার নারীদের গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে পাঠাতে আগ্রহী নয় বলে ওই তথ্যে উল্লেখ করা হয়।

সৌদি সরকারের বক্তব্য ও জবাবদিহির প্রশ্ন

দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে সৌদি আরব আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে ফিলিপিনের নারী কর্মীদের নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে সৌদি সরকারের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে সৌদি সরকার বলেছে, বিদ্যমান বিধিবিধানের আওতায় গৃহকর্মীরা সুরক্ষিত। নির্যাতনের যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করা হয়।

গৃহকর্মীদের সুরক্ষা জোরদার এবং বিধিবিধানের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে সৌদি সরকার। এসবের মধ্যে রয়েছে মানসম্মত কর্মচুক্তি, মজুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা, বিমা কর্মসূচি, অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং নির্যাতন বা বিধিবিধান লঙ্ঘনের ঘটনায় নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের সুযোগ।

তবে সৌদি সরকারের এসব দাবি ও পদক্ষেপের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত চেয়ে পাঠানো অনুরোধের জবাব দেয়নি সৌদি সরকার। গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় নেওয়া সংস্কার ও অন্যান্য পদক্ষেপ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং সেগুলো কতটা কার্যকর, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত প্রশ্নের উত্তর দেয়নি দেশটির সরকার।

ফলে আইন ও বিধিবিধানে পরিবর্তন আনার পরও সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ অব্যাহত থাকা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে কুয়েতি ট্যাংকারে হামলা, নিরাপদে ২১ ভারতীয় নাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৮ পি.এম


হরমুজে কুয়েতি ট্যাংকারে হামলা, নিরাপদে ২১ ভারতীয় নাবিক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার হয়েছে কুয়েতের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার। জাহাজটির নাম ‘এমটি আল দাসমা’, যেখানে ২১ জন ভারতীয় নাবিকসহ অন্যান্য ক্রু সদস্য উপস্থিত ছিলেন। হামলার পর ট্যাংকারটিতে আগুন লেগে গেলেও নাবিকেরা তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ভারত সরকার জানায়, জাহাজে থাকা সবাই নিরাপদে রয়েছে। খবরটি *টাইমস অব ইন্ডিয়া* থেকে প্রাপ্ত।

যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ট্যাংকারটিতে একটি ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ আঘাত হানে। এই ঘটনা ঘটে ওমানের বুখা উপকূল থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে। তবে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ক্ষেপণাস্ত্র নাকি ড্রোন ছিল, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথবিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা ২১ জন ভারতীয় নাবিকসহ সকল ক্রু সদস্য নিরাপদে আছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় এ তথ্য প্রকাশ করেন।

হামলার পর ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়, কিন্তু জাহাজের কর্মীরা তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ইউকেএমটিও জানায়, হামলার পর জাহাজটি নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ হামলার কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামুদ্রিক সংবাদমাধ্যম সিট্রেড মেরিটাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ অক্টোবর ইরাকের আল ফাও বন্দরের দক্ষিণ-পূর্বে ‘সোইয়া’ নামের আরেকটি ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই জাহাজের নাবিকরাও নিরাপদ ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজার সৈকতে আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার, নিহতের সংখ্যা ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:০৯ পি.এম


কক্সবাজার সৈকতে আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার, নিহতের সংখ্যা ৪

কক্সবাজারের পেচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতে নিখোঁজ আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। বর্তমানে আরও একজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পেচারদ্বীপ সৈকতে মরদেহটি ভেসে আসে। প্রাথমিকভাবে মরদেহটি হারুনের বলে শনাক্ত করেছেন তার স্বজনরা, যিনি চট্টগ্রামের বাংলাবাজার বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা।

নিহত চারজনের মধ্যে রোহান ও জিশান ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা। অন্যদিকে আকাশ এবং হারুন চট্টগ্রামের বাংলাবাজার বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে ঢাকার উত্তরার নিবিড় একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

কক্সবাজার ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে নির্জন পেচারদ্বীপ সৈকতে চট্টগ্রাম থেকে আসা পাঁচ পর্যটক এবং ঢাকা থেকে আসা সাত পর্যটক পানিতে ছিলেন। তাদের একজন সমুদ্রে ভেসে যেতে থাকলে বাঁচার জন্য চিৎকার করেন। উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন অন্যরা। এক পর্যায়ে তারা পরস্পরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎ করে বড় ঢেউ আছড়ে পড়লে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

ঢেউয়ের তোড়ে কয়েকজন একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পানিতে তলিয়ে যান। ঘন্টাখানেক পর স্থানীয় জেলে, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে দুজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

দোলন আচার্য্য আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে বিপদে

নিহত রোহানের খালু মো. জাহিদ বলেন, তারা সমুদ্রে গোসল করতে নেমেছিলেন। তাদের থেকে কিছুটা দূরে থাকা এক পর্যটক পানিতে ভেসে যাওয়ার সময় ‘হেল্প, হেল্প’ বলে চিৎকার করছিলেন। তখন তারা চার-পাঁচজন বন্ধু তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যান। তারা একে অপরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে তাকে টেনে আনার চেষ্টা করেন।

জাহিদ বলেন, উদ্ধারের চেষ্টা চলার সময় হঠাৎ বড় একটি ঢেউ আছড়ে পড়ে। তখন তারা পানির নিচে পা রাখতে পারছিলেন না। ঢেউয়ের ধাক্কায় একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সবাই স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকেন। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, তাদের সাতজনের একটি দল ছিল। এ দলের দুজন মারা গেছেন, আরেকজন এখনো নিখোঁজ। বাকিদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে। তাদের কেউই ভালোভাবে সাঁতার জানতেন না। সমুদ্রে সাঁতার কাটা এবং সাধারণ পানিতে সাঁতার কাটার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হঠাৎ বড় ঢেউয়ের মুখে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সাঁতার না জেনেও সমুদ্রে নামেন পর্যটকেরা।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. আবু জাফর বলেন, সাঁতার জানেন না এমন ব্যক্তিদের তো বটেই, সাঁতার জানা ব্যক্তিদেরও বঙ্গোপসাগরের মতো উত্তাল সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

আবু জাফর বলেন, পর্যটকদের তারা সাঁতার জানেন কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন। তারা কেউই সাঁতার জানেন না বলে জানান। এরপর সাঁতার না জেনে এত বড় সমুদ্রে কেন নেমেছেন, জানতে চাইলে পর্যটকেরা তাকে বলেন, তারা যে রিসোর্টে উঠেছিলেন, সেখান থেকে জানানো হয়েছিল, সেখানে নামলে কোনো সমস্যা হবে না।

উদ্ধার অভিযান চলছে

রামুস্থ হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলাইমান জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ও রামু থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের নিষেধ সত্ত্বেও পর্যটকেরা ওই স্থানে পানিতে নামেন। এক পর্যায়ে দুর্ঘটনা ঘটলে অন্য পর্যটকেরা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যান।

ইউএনও আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট রিসোর্টের মালিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিখোঁজ একজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। তাদের সঙ্গে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরাও রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রিসোর্টগুলোর নিয়মকানুন না মানা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ কোরিয়াকে ভয়ংকর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিল উত্তর কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১১ পি.এম


দক্ষিণ কোরিয়াকে ভয়ংকর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিল উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করে বলেছে, যদি দেশটি হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তাহলে ‘ভয়ংকর ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির’ সম্মুখীন হতে হবে। একই সঙ্গে, দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে সীমান্তজুড়ে নতুন পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পুরো সীমান্ত এলাকায় সতর্কতার মাত্রা বৃদ্ধি করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে সীমান্তে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ানোর লক্ষণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেছেন, সিউল যদি হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তাহলে এর গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার কোন নির্দিষ্ট পদক্ষেপের জন্য এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সাম্প্রতিক এই ঘোষণাটি দুই কোরিয়ার সম্পর্কের আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের পর শান্তিচুক্তির পরিবর্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশ এখনো যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে পারেনি।

সূত্র: আনাদোলু

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%