ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনলে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা কী?


চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনলে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা কী?

বাংলাদেশ প্রথম যে যুদ্ধবিমান চীন থেকে কিনেছিল, তার আনুষ্ঠানিক নাম এফ-৬। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ চীন থেকে এসব যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছিল।

ঢাকার বিজয়স্মরণী থেকে জিয়া উদ্যানের দিকে গেলে রাস্তার মোড়ে যে মাঝারি আকারের যুদ্ধবিমান দেখা যায়, সেটি এ ধরনের বিমান। বিমানটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর উন্মুক্ত প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক নাম এফ-৬ হলেও চীনে বিমানটি জে-সিক্স নামে পরিচিত।

বাংলাদেশ বর্তমানে চীন থেকে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে, যার নাম জে-টেন সি ই। সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে আলোচিত এই যুদ্ধবিমানটি দিয়েই পাকিস্তান তার প্রতিপক্ষ ভারতের অত্যাধুনিক রাফাল বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

রাফাল ভূপাতিত করার দাবি নিয়ে তখন আলোচনা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও চীনের জে-টেন বিমান নিয়ে খবর-বিশ্লেষণ উঠে আসে।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহের কথা বলছে, যেখানে চীনের এই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান জে-টেন কেনার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, ইতোমধ্যেই এই বিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে গেছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের পরিকল্পনায় শুধু যুদ্ধবিমানই কি যথেষ্ট? আকাশ প্রতিরক্ষা, প্রশিক্ষণ, যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবকাঠামো বিবেচনায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত?

আর চীনের এই যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতায় কতটা পরিবর্তন আনবে?

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

বাংলাদেশের প্রথম যুদ্ধবিমান কোন দেশের?

বাংলাদেশ ১৯৭৭ সালে চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনে, এটি সত্য। তবে প্রথম যুদ্ধবিমানের বহর এসেছিল আরও কয়েক বছর আগে ১৯৭৩-৭৪ সালে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন তখন বাংলাদেশকে বিনামূল্যে যুদ্ধবিমান উপহার দিয়েছিল। এটি ছিল তখনকার অত্যাধুনিক সুপারসনিক যুদ্ধবিমান মিগ-২১।

‘এগুলো ছিল একেবারে ফ্যাক্টরি ফ্রেশ। কারখানা থেকে বের হয়েই আমরা পেয়েছিলাম। মানে রাশান বিমানবাহিনীর বাইরে আমরাই প্রথম পেয়েছিলাম। এমনকি ভারতও আমাদের কয়েক বছর পর মিগ-২১ পেয়েছিল। তখনকার এই অত্যাধুনিক বিমান আমাদের এগিয়ে দিয়েছিল অনেক’, বলছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী, যিনি তখন বিমানবাহিনীর একজন তরুণ অফিসার ছিলেন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

‘শুধু যুদ্ধবিমান নয়, এর সঙ্গে যত ধরনের মিসাইল, বোমা, রকেট - সব আমাদের দিয়েছিল। তখন থেকেই বিমানবহর শুরু হলো বলা যায়। তখন তো আমাদের কিছুই ছিল না। যুদ্ধের পর এয়াফিল্ডগুলো মেরামত হচ্ছিল। এমনকি ব্যাচের পর ব্যাচ প্রশিক্ষণের জন্য রাশিয়া পাঠানো হয়েছিলো’, যোগ করেন ইশফাক ইলাহী চৌধুরী।

বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে এখন কী আছে?

বাংলাদেশ প্রথম যুদ্ধবিমান পায় সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে, সেটি হচ্ছে মিগ-২১। এরপর বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান সংগ্রহের মূল উৎস পরিবর্তিত হয়ে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ১৯৭৭ সালে চীন থেকে এফ-৬, এরপর আশির দশকে আনা হয় এফ-৭।

বাংলাদেশ এরপরও যুদ্ধবিমান কিনেছে। তবে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে একটি বড় পরিবর্তন আসে ১৯৯৯ সালে। তখন রাশিয়া থেকে আটটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনে বাংলাদেশ। সেগুলো ছিল সেসময়ে পৃথিবীর অন্যতম সেরা আকাশ প্রতিরক্ষা ফাইটার জেট।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

কিন্তু ২০২৬ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর বহর বেশ পুরনো হয়ে পড়েছে। একটি অংশ এখন অচল, আরেকটি অংশ পুরনো হয়ে অচল হওয়ার পথে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের বিমানবহরে এখন আসলে কী আছে? সরকারিভাবে অবশ্য এর কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না।

তবে সামরিক তথ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট 'ওয়ারপাওয়ার বাংলাদেশ' এর হিসেবে এর একটি চিত্র পাওয়া যায়। যেখানে দেখা যায় বাংলাদেশের বিমান বাহিনী বহরে এখন বিমান আছে ২১২টি। এর মধ্যে যুদ্ধ বিমান রয়েছে ৪৪টি।

এই ৪৪টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে রাশিয়ার মিগ-২৯ আছে আটটি। আর চীনের নির্মিত এফ-৭ যুদ্ধবিমান ৩৬টি। এই মডেলগুলো কিছুটা পুরনো।

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের

এছাড়াও আছে ১৪টি ইয়াক-১৩০ বিমান। যেগুলো প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হলেও হালকা আক্রমণ চালানোর উপযোগী। রাশিয়া থেকে বিমানগুলো কেনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

চীনের এফটি সেভেন প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান, যুক্তরাষ্ট্রের লকহিডের দুটি সিরিজের কৌশলগত পরিবহণ বিমানও আছে বাহিনীতে।

বিমানবাহিনীর বহরে ৭৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে বলেও ওয়ারপাওয়ার বাংলাদেশে তথ্য দেওয়া আছে। এর মধ্যে রাশিয়ার এমআই সিরিজের ৩৬টি হেলিকপ্টার আছে।

আর যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত সেসনা, বেলের বিভিন্ন মডেলের হেলিকপ্টার আছে ২৪টি।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এর পাশাপাশি ফ্রান্স, ইতালি, চেকোস্লোভাকিয়া (চেক রিপাবলিক) থেকে কেনা কিছু প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টারও ব্যবহার করে বাংলাদেশ।

এছাড়া বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর কাছে ৪৪টি ড্রোন রয়েছে বলে জানাচ্ছে ওয়েবসাইটটি। এর মধ্যে ৩৬টিই স্লোভেনিয়ায় নির্মিত ব্রামর সি ফোর আই।

তুরস্কের তৈরি বায়রাক্তার টিবি টু আছে ছয়টি। গত বছরই এগুলো যুক্ত হয়।

‘বাংলাদেশের মিগ-২৯ একটু আধুনিক। কিন্তু সেটাও এখনকার যুগে পুরোনো। এর বাইরে আমাদের বাকি যা আছে সবগুলো আরো পুরনো থ্রি-জি প্রযুক্তির। অথচ এখন যে যুদ্ধ হচ্ছে, সেখানে ফোর পয়েন্ট ফাইভ-জি এমনকি ফাইভ-জি প্রযুক্তির স্টেলথ বিমানও ব্যবহার হচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশের বিমানবহর আধুনিকায়ন করার বিকল্প ছিল না। এখন চীন থেকে যে বিমানগুলো আনা হচ্ছে সেগুলো আধুনিক ফোর পয়েন্ট ফাইভ জি প্রযুক্তির। সুতরাং এটা একটা ভালো সিদ্ধান্ত’, বলেন বিমান বাহিনীর সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার।

শুধু যুদ্ধ বিমান কেনাই কি যথেষ্ট?

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের ২০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ। এগুলোকে বলা হচ্ছে মাল্টিরোল ফাইটার জেট।

অর্থাৎ বিমানগুলো আকাশ প্রতিরক্ষায় একইসঙ্গে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী। যেমন-

এয়ার টু এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ এটি আকাশসীমায় শত্রুবিমানকে প্রতিরোধ করতে ব্যবহার করা যায়।

এয়ার টু গ্রাউন্ড অর্থাৎ শত্রু দেশের মাটিতে কোনো টার্গেট থাকলে সেখানে বোমবর্ষণে দক্ষ।

ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ সেনাবাহিনী কোথাও যুদ্ধরত আছে, এই বিমান গিয়ে তাদেরকে সাপোর্ট দিতে পারে। মেরিটাইম এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ সমুদ্রে নৌবাহিনীকে সাপোর্ট দেওয়া।

‘এই একটা বিমান, যেটা আমরা কিনতে যাচ্ছি, এটা একাই সব ধরনের কাজ করতে পারে’, বলেন বিমান বাহিনীর সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার।

তিনি এটাও বলেন যে, আধুনিক যুদ্ধপরিস্থিতিতে শুধু যুদ্ধবিমানই যথেষ্ট নয়। রাডার, জ্যামিং প্রযুক্তি, মিসাইলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার দেখা যায়। এছাড়া বিমান-নৌ-সেনা অস্ত্র সরঞ্জামের মধ্যে একধরণের 'রিয়েল টাইম' সমন্বয়ের উপরও যুদ্ধের সফলতা নির্ভর করছে।

সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার অবশ্য বলছেন, বাংলাদেশ শুধু যুদ্ধ বিমান কিনছে না, বরং এর সঙ্গে 'ফুল প্যাকেজ' আনা হচ্ছে।

‘এটা আসলে একটা ফুল প্যাকেজ। শুধু এয়ারক্রাফট কিনলে তো হবে না। এখানে স্পেয়ার পার্টস থাকে, মেইনটেন্যান্স থাকে, এসবের জন্য দশ বছরের একটা কন্ট্রাক্ট থাকে। প্লাস এরসঙ্গে বাড়তি ইক্যুইপমেন্ট নেওয়া হয় সামনে কী সিনারিও হতে পারে, কী কী লাগতে পারে সেটা হিসেব করে।’

‘এই এয়ারক্রাফটে জ্যামার তো ইনবিল্ড থাকবে, রাডার থাকবে। এর সঙ্গে সার্ভেইল্যান্স ক্যাপাসিটি চাইলে সেটা নেওয়া যায়। এগুলোর জন্য আলাদা ইক্যুইপমেন্ট প্যাকেজে থাকে। আরও থাকে মিসাইল অর্থাৎ লং রেঞ্জ মিসাইল যেটা হচ্ছে বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ। চোখে দেখা যায় না। কিন্তু টার্গেট করে হামলা করা যায়। পাকিস্তান এটা ভারতের সঙ্গে ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে। সেই একই এয়ারক্রাফটই তো আমরা কিনছি’, তিনি বলেন।

এছাড়া বাংলাদেশে এখন আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য 'গ্রাউন্ড বেইজড রাডার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা' সম্প্রতি চালু হয়েছে বলে জানান বাশার।

এটা শত্রু বিমান আক্রমণের আগাম সতর্কতা দেবে এবং টার্গেট নির্ধারণ করে প্রতিরোধ গড়তে সাহায্য করবে।

‘আমরা এখন এয়ারক্রাফটের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাটা নিয়ে আসব এবং এটা সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করব। এছাড়া আমাদের কাছে ড্রোন আছে। আমরা অলরেডি চীনের সঙ্গে চুক্তি করেছি। আমাদের কেনা এয়ারক্রাফটগুলো রাডার ব্যবস্থা থেকে যে ছবি পাবে, সেটার ভিত্তিতে এই ড্রোনগুলোকে গাইড করে নির্দিষ্ট দিকে পাঠাতে পারবে।’

অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আছে?

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিমান থাকলেই হয় না। এগুলো পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো লাগে।

তাছাড়া বিমানগুলোকে কোথায়, কীভাবে রাখা হবে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিমান ওড়ার আগে অর্থাৎ মাটিতে থাকার সময়ই যদি শত্রুপক্ষের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে সেই বিমান কোনো কাজে লাগবে না। ফলে বিমানগুলোকে লুকিয়ে রাখা এবং এর জন্য শক্ত অবকাঠামো দরকার হয়।

একইসঙ্গে দরকার হয় একাধিক রানওয়ে। কারণ রানওয়ে ধ্বংস হলে বিমান তখন আর উড্ডয়নেরই সুযোগ পাবে না।

একাত্তর সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঠিক একই পরিস্থিতিতে পড়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী। সেই সময় ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বোমা হামলায় তেজগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়েতে বড় বড় গর্ত বা ফাটল তৈরি হয়।

যার ফলে পাকিস্তানি বিমানগুলোর পক্ষে উড্ডয়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

রানওয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে পাকিস্তানের ১৪ নং স্কোয়াড্রনের অত্যাধুনিক স্যাবর ফাইটার জেটগুলো মাটির ওপর একরকম অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

বিমানগুলো ভারতীয় বিমানের সহজ টার্গেটে পরিণত হয় এবং মাটিতে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস হয়।

কিন্তু বাংলাদেশের এক্ষেত্রে বিমান পরিচালনা বা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কী আছে?

এমন প্রশ্নের উত্তরে বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী অবকাঠামো দুর্বলতা আছে বলে জানান।

‘আমাদের বিমানবাহিনীর সবচেয়ে বড় একটা সমস্যা হচ্ছে যে, এর নিজস্ব কোনো এয়ারফিল্ড নেই। আমাদের প্রত্যেকটি এয়ারফিল্ড যেগুলো আমরা এখনো ব্যবহার করছি যেমন-ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর - এগুলো বেসামরিক যানবাহনের সঙ্গে মিলে ব্যবহার করছি। যশোরে বেসামরিক ব্যবহার কম। কিন্তু সেটা আবার ভারতীয় সীমান্তের খুব কাছে। আর ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তো সামরিক-বেসামরিক বিমান, হেলিকপ্টার সবই চলাচল করে।’

এছাড়া যুদ্ধ বিমান লুকিয়ে রাখার জন্য কংক্রিটের শক্ত অবকাঠামোও সেভাবে নেই বলে জানান তিনি।

‘এগুলো খুব ব্যয়বহুল। বোমার বিরুদ্ধে টিকে থাকার উপযোগী করে বানাতে হয়। সুতরাং খরচ অনেক বেশি। কিন্তু এগুলো আমাদের বানাতে হবে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া আলাদা অন্তত একটা বিমানঘাঁটি দরকার যেটা সামরিক ডিজাইন মেনে সামরিক ব্যবহারের জন্য থাকবে। সেখানে মাল্টিপল রানওয়ে থাকবে যেন একটা রানওয়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়’, বলেন ইশফাক ইলাহী চৌধুরী।

বাংলাদেশের বর্তমানে যুদ্ধবিমানের জন্য ব্যবহার উপযোগী এয়ারফিল্ড আছে ১৩টি।

‘এরমধ্যে সবগুলোকে আমরা হয়তো সবসময় অপারেশনাল রাখতে পারব না। কারণ সেই সক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের এখন চারটা এয়ারবেইজ - ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, কক্সবাজার - এই চারটা থেকে সহজেই অপারেট করতে পারি। আরও ২/৩টি এয়ারফিল্ড আছে, যেগুলো আমার জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারি। এই রানওয়েগুলোকে অ্যাকটিভ রাখতে হবে।’

বলেন সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার। একইসঙ্গে তিনি জোর দেন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হার্ড এয়ারক্রাফট শেল্টার থাকতে হবে। বিপদের সময় যেন লুকিয়ে রাখা যায় কিংবা কন্টিনিউয়াস মুভমেন্টে রাখা যায়। এছাড়া ঘাঁটিগুলোতে আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম থাকতে হবে যেন শত্রু বিমান আসার খবর পেলেই বিমানগুলো আকাশে উঠে যেতে পারে। এটাতে আমাদের হয়তো শতভাগ সক্ষমতা নেই। কিন্তু অন্তত ৫০ থেকে ৬০ ভাগ সক্ষমতা আছে আমাদের।’

চীনা নির্ভরতার কারণ কী?

বাংলাদেশ বহুমাত্রিক সামরিক সক্ষমতা তৈরি করতে চায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এর জন্য দেশটি মূলত চীনা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।

নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে শুরু করে রণতরী কিংবা সেনাবাহিনীর ট্যাংক, সাঁজোয়া যান থেকে শুরু করে আকাশ প্রতিরক্ষা - সবকিছুর বড় অংশটাই আসে চীন থেকে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সাবমেরিন রয়েছে দু'টি। দুটিই চীনের তৈরি এবং ২০১৭ সালে এগুলো নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়।

এছাড়া গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সব মিলিয়ে নৌযান রয়েছে ১১৭টি। এর মধ্যে সাতটি ফ্রিগেট বা রণতরী আছে বাংলাদেশের।

সঙ্গে আরও আছে ছয়টি কর্ভেট যুদ্ধজাহাজ। কর্ভেট জাহাজগুলোর মধ্যে চারটি চীনের, দুটি যুক্তরাজ্যের।

ফ্রিগেটগুলোর চারটির নির্মাতা চীন, দুইটির যুক্তরাষ্ট্র আর একটি দক্ষিণ কোরিয়ার। কিন্তু চীন কীভাবে বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের প্রধান উৎস হয়ে উঠলো?

এর কয়েকটি কারণ আছে-

প্রথমটি হচ্ছে, কম টাকায় আধুনিক অস্ত্র। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, চীনের যুদ্ধবিমানগুলোর সমমানের যেসব বিমান ইউরোপ বা আমেরিকায় আছে, সেগুলোর তুলনায় চীনের যুদ্ধবিমানগুলো ‘অর্ধেকেরও কম বা ওয়ান থার্ড খরচে পাওয়া সম্ভব’।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে, প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত-মিয়ানমারের থেকে ভিন্ন ধরনের বিমান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা। যেটা বাংলাদেশকে কৌশলগত সুবিধা দেবে। ভারত ও মিয়ানমার দুটি দেশই রাশিয়ার তৈরি বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। বাংলাদেশ ভিন্ন ধরনের বিমান ব্যবহার করলে সেটা দুই দেশের কাছেই 'অচেনা' থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

তৃতীয় কারণ হচ্ছে, চীন-বাংলাদেশ দুই দেশের ধারাবাহিক উষ্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।

আর চতুর্থটি হচ্ছে, চীনা অস্ত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর মতো শর্তের বেড়াজাল নেই।

‘ইউরোপ বা আমেরিকা কিন্তু শর্ত দেয়- কার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন, কখন ব্যবহার করছেন। যেমন পাকিস্তান এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কিনেছে। তারা কিন্তু এটা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে না। যেখানে এফ-১৬ আছে, এরকম প্রত্যেক ঘাঁটিতেই আমেরিকার লোক আছে। তারা সর্বক্ষণ মনিটর করে। কিন্তু চীন এরকম কোনো শর্ত দেয় না’, বলেন ইশফাক ইলাহী চৌধুরী.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ শিগগিরই হামলার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ এম


ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ শিগগিরই হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুব শিগগিরই রয়েছে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সতর্কতা দেন।

এক প্রতিবেদনে আরব নিউজ

উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের নিকটবর্তী পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা। সেখানে মাটির অনেক গভীরে দুটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স নির্মিত রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধ একটি ‘ছোটখাটো বিষয়’। এর এক দিন আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি এই সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করবেন না।

ভ্যান্সের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলে মনে করেন না। আমি এটিকে সামরিক সংঘাত বলি, কারণ এটি আমাদের জন্য একটি ছোট বিষয়। এটি বড় কিছু নয়। আমরা ভেনেজুয়েলায় করেছি, এটিও করেছি।

প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’-এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘যুদ্ধে’ নিহত বা আহত সেনাদের তথ্যকে ‘বিদেশি সামরিক অভিযান’ (ওভারসিস অপারেশনস) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরান ব্যাপক সামরিক অভিযানের মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি প্রয়োজনে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি—এই দুই কৌশল একসঙ্গে অনুসরণ করছে।

তবে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার আলোচনা নিয়ে অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। আবার বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে শেষ মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থেকেও সরে এসেছেন।

কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশেষজ্ঞ অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ট্রাম্প একই সঙ্গে দুটি বিষয় এড়াতে চাইছেন—ইরানের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণে ফিরে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানকে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া।

মিলার বলেন, ‘হোয়াইট হাউস বড় ধরনের যুদ্ধ চায় না। আবার বড় ধরনের ছাড় দিচ্ছে—এমন ধারণাও তৈরি করতে চায় না। তারা যে কৌশল নিয়েছে, তাতে দুটিই এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার বাধা দিলে লংমার্চের ৬ দফা এক দফাতে পরিণত হবে: নাহিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


সরকার বাধা দিলে  লংমার্চের ৬ দফা এক দফাতে পরিণত হবে: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, "আমরা লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব। যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে এই লংমার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।"

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হওয়ার পূর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, "এই সকাল বেলা আমরা উপস্থিত হয়েছি ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক লংমার্চ, এই ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। আমরা ঢাকাবাসী থেকে বিদায় নিতে এসেছি। এই ঐতিহাসিক লংমার্চের জন্য আপনারা আমাদের জন্য দোয়া রাখবেন। আজকে যত বাধা বিপত্তি আসুক না কেন আমাদের এই লংমার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই পৌঁছাবে, ইনশাআল্লাহ।"

তিনি আরও বলেন, "২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সবাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশে লংমার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য।"

নাহিদ ইসলাম আরও যোগ করেন, "আমাদের এই লংমার্চ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লংমার্চ। এই লংমার্চ যারা তেল গ্যাস বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ। এই লংমার্চ যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ।"

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, "আপনারা দলে দলে এই লংমার্চ অংশগ্রহণ করুন। এই লংমার্চ কোনো ১১ দলের নয়। এই লংমার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুস নেওয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


ঘুস নেওয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে গ্রেফতার

শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসার পুত্র ও সংসদ সদস্য নামাল রাজাপাকসাকে দেশটির দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ২০১৩ সালের একটি এয়ারবাস চুক্তির সাথে সম্পর্কিত ৮ লাখ ডলার ঘুস নেওয়ার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলম্বোর প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট আসঙ্গা বোদারাগামা রাজাপাকসাকে আরও তদন্তের জন্য দুই সপ্তাহের জন্য আটক রাখার নির্দেশ দেন। দুর্নীতি বা ঘুষের অভিযোগ তদন্তকারী কমিশন (সিআইএবিওসি) তাকে গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করে। ২৩০ কোটি ডলারের এয়ারবাস লেনদেনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সিআইএবিওসি জানায়, চুক্তিটি নিশ্চিত করার জন্য ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি শ্রীলঙ্কার রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাদের যে অর্থ প্রদান করেছিল, তার অংশ হিসেবে রাজাপাকসা ৮ লাখ ডলার গ্রহণ করেছিলেন। আদালতে জানানো হয়, একজন শ্রীলঙ্কান ব্যবসায়ী দুটি সিঙ্গাপুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রাজাপাকসাকে নগদ অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। রাজাপাকসার আইনজীবী নিশান্ত দয়ানন্দ জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়।

রাজাপাকসার আইনজীবী নিশান্থা দয়ানন্দ জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা মঞ্জুর করেনি। গত মে মাসে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তার বিরুদ্ধেও বিমান কেনার ঘটনায় ঘুস নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের সাবেক প্রধান নির্বাহী কপিলা চন্দ্রসেনা মার্চ মাসে তদন্তকারীদের জানান যে, তিনি প্রেসিডেন্টকে প্রায় পাঁচ লাখ ডলার ঘুস দিয়েছিলেন। মে মাসে পুনরায় গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগে চন্দ্রসেনাকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেরালায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


কেরালায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থী নিহত

ভারতের কেরালা রাজ্যের ত্রিশুর জেলায় একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের সম্পর্কে পুলিশ ধারণা করছে, তারা প্রতিবেশী রাজ্য তামিলনাড়ুর শিক্ষার্থী। এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনা ঘটেছে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে।

শুক্রবার রাতের প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে কৈপামঙ্গলম এলাকার পানাম্বিকুন্নুতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তরুণদের বহনকারী গাড়িটি মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এই ঘটনায় গাড়িতে থাকা আটজনই ঘটনাস্থলে মারা যান।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ কর্মী এবং পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা গাড়ি থেকে নিহতদের বের করে আনেন। পরে তাদের লাশ ত্রিশুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটির নম্বরপ্লেট তামিলনাড়ুর। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা তামিলনাড়ুর শিক্ষার্থী। গাড়িটি গুরুভায়ুর থেকে কোডুঙ্গাল্লুরের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%