ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাদা থেকে উঠে আসছে একের পর এক লাশ, দীর্ঘ হচ্ছে মৃ’তের মিছিল


কাদা থেকে উঠে আসছে একের পর এক লাশ, দীর্ঘ হচ্ছে মৃ’তের মিছিল

নেপাল স্মরণকালের একটি ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। আকস্মিকভাবে হিমবাহ ধসের ফলে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের শহর ও গ্রামগুলো একসঙ্গে ভেসে গেছে। কাদায় ঢেকে গেছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনা। কাদা থেকে একের পর এক লাশ উঠে আসছে; প্রতি ঘণ্টায় মৃতের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন হাজারেরও বেশি মানুষ। বিবিসির খবর অনুযায়ী,

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, নেপাল পুলিশ সর্বশেষ ৩৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর দিয়েছে। এর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩৫৯। দেখা যাচ্ছে, মৃতের সংখ্যা ঘণ্টা ঘণ্টায় বেড়ে চলছে।

আরও পড়ুন: আ.লীগের এমপির বিরুদ্ধে পুনর্বাসনের অভিযোগ, মুখ খুললে মামলা করার হুমকি

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে হঠাৎ করে নেপালের রাসুয়া জেলার দিকে ধেয়ে আসে আকস্মিক ঢল। হিমবাহ ধসের পর চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীতে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ তীব্র গতিতে প্রবাহিত হলে এই বিপর্যয়ের সূচনা হয়। বন্যার তীব্র স্রোত ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে আঘাত হানে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায়।

উদ্ধার অভিযান চলাকালীন ওপর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে বন্যার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একসময় প্রাণবন্ত থাকা গ্রামগুলোর ঘরবাড়ি এখন কাদায় মাখামাখি হয়ে গেছে। নেপালের সেনাবাহিনী উপদ্রুত এলাকা থেকে আকাশপথে লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।

রেডক্রসের (আইএফআরসি) নেপাল প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, এই বন্যায় কিছু গ্রাম ও ব্যস্ততম বাজার এলাকা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।

নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া সহ বেশ কয়েকটি দেশের পর্যটকও নিখোঁজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

আরও পড়ুন: জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা টোকিওতে মারা গেছেন

এদিকে, একই এলাকায় নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্টের (ইসিমোড) জলবায়ুঝুঁকি বিশেষজ্ঞ চিয়াংগং ঝাং এই সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি জানান, চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী নদীর উজানে ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ আটকে আছে। এ কারণে সেখানে আরেকটি বন্যা দেখা দিতে পারে।

আটকে থাকা পানি হঠাৎ ধেয়ে এলে ভাটি অঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে। এই কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।

একই ধরনের ভয়াবহ সতর্কবার্তা এসেছে চীন থেকেও। দেশটি জানিয়েছে, নেপালে হঠাৎ একটি কৃত্রিম লেক তৈরি হয়েছে, যা উপচে পড়ে যে কোনো সময় নতুন আরেকটি ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানতে পারে।

চীনা কর্তৃপক্ষের মতে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ প্রাকৃতিক বাধায় আটকে গিয়ে প্রতিবন্ধক হ্রদটি তৈরি হয়েছে। যদি বাধটি ভেঙে যায়, তাহলে আটকে থাকা বিপুল পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নতুন আরেকটি ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন: ড. আবদুল মঈন খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

নতুন সৃষ্ট কৃত্রিম লেকটি ইতোমধ্যে পানিতে ভরে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে লেকটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল বলে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় হিসাব করেছে। আগামী তিন দিনে এতে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে।

তিব্বতে উৎপত্তি হওয়া নেপালের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে নতুন লেকটি তৈরি হয়েছে। এই লেকের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে এবং চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য বন্যা হলে কী হতে পারে, সেটি নিরূপণ এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তার বিষয়টি দেখছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার দিনে মুমিনের ১২ কাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৭ এম


জুমার দিনে মুমিনের ১২ কাজ

জুমার দিন ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় এ দিনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

 

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জুমার দিনের নামাজ, মসজিদে দ্রুত গমন, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা, দোয়া, দরুদ ও বিভিন্ন নেক আমলের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। একজন মুমিনের জন্য জুমার দিন কেবল একটি সাপ্তাহিক নামাজের দিন নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর স্মরণ এবং আখিরাতের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাবিক্রি বন্ধ কোরো, তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝো। এরপর নামাজ শেষ হলে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

 

’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ৯-১০)

জুমার দিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো—

১. জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা

আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন। তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন।

 

চার. এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন। যতক্ষণ সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না। পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)

২. জুমার দিন ফজরের নামাজে তিলাওয়াত

জুমার দিন ফজরের নামাজে বিশেষ সুরা দিয়ে তিলাওয়াত করা সুন্নত। হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন।

 

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৬৮)

জুমার দিন এই সুরা তিলাওয়াত করতেন, কারণ এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের কথা, কিয়ামতের দিন সবাইকে সমবেত হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এসব হবে জুমার দিন। সে জন্য এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

৩. জুমার দিন গোসল করা

জুমার দিন গোসল করা ও আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তার জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)

৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা

জুমার দিন সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮০)

৫. মসজিদে প্রথমে প্রবেশ করা

জুমার দিন মসজিদে আগে প্রবেশ করা ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, অতঃপর প্রথমে মসজিদে গেল সে যেন একটি উট কোরবানি করল। যে এরপর মসজিদে গেল, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। আর যে এরপর ঢুকল, সে যেন ছাগল কোরবানি করল, এরপর যে ঢুকল সে যেন মুরগি কোরবানি করল, আর যে এরপর ঢুকল সে ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪১)

৬. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৪০১)

৭. খুতবা শোনা ও জুমার নামাজ আদায় করা

জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে জুমার নামাজ আদায় করা। সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

অন্য হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩৩)

৮. জুমার নামাজে নির্ধারিত সুরা পাঠ করা

নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৩)

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।

৯. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত

জুমার দিন দোয়া কবুল হয় জুমার দিন একটি সময় আছে, যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আসরের পর অনুসন্ধান কোরো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কোরো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

১০. সুরা কাহাফ পাঠ

জুমার অন্যতম আমল সুরা কাহাফ পাঠ করা। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সহিহ তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)

১১. গুনাহ মাফের বিশেষ আমল

সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম কথা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮৩)

১২. দরুদ পাঠ

জুমার দিন নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা কর্তব্য। আউস বিন আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনে সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণ দরুদ পড়ো। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবারা বললেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ জমিনের জন্য আমার দেহের ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

জুমার দিনের আমলগুলো কেবল আনুষ্ঠানিক ইবাদতের সমষ্টি নয়; এর মধ্যে রয়েছে একজন মুমিনের আত্মশুদ্ধির গভীর শিক্ষা। এ দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও আল্লাহর জন্য সময় বের করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও পার্থিব ব্যস্ততা ছেড়ে নামাজের দিকে এগিয়ে যাওয়া, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা, দোয়া করা, কোরআন তিলাওয়াত এবং দরুদ পাঠের মাধ্যমে একজন মুসলিম নিজের ঈমানকে নতুন করে জাগ্রত করতে পারে।

জীবনের ব্যস্ততার কারণে যেন আমরা জুমার দিনের এই অমূল্য সুযোগ হারিয়ে না ফেলি। বরং প্রতি সপ্তাহের জুমাকে আত্মশুদ্ধি, তওবা, ইবাদত এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নতুন সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ এম


দেশে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

গত মঙ্গলবার, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোনার দাম সমন্বয় করেছিল। প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম (ভ্যাটসহ) ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল সংস্থার পক্ষ থেকে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেশের বাজারে সোনার দাম অপরিবর্তিত থাকায়, সোনা বিক্রি হচ্ছে একই দামে।

নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা। এছাড়াও, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২০ টাকা।

যদিও সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে, তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের দাম ৫ হাজার ২৪৯ টাকা। ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, ঘোষিত বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায়, ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদা করে কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে অলংকারের ডিজাইন বা নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে।

এছাড়াও, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ (বদল) ও পারচেজের (ক্রয়) ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়মই বহাল থাকবে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেক অন্টারিও’র নাম লেক আমেরিকা করে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ এম


লেক অন্টারিও’র নাম লেক আমেরিকা করে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জলসীমার নাম পরিবর্তন করে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছেন। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সীমান্তে অবস্থিত পঞ্চরদের অন্যতম ‘লেক ওন্টারিও’র নাম পরিবর্তন করে 'লেক আমেরিকা' রাখার জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। নতুন আদেশ অনুযায়ী, মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অফিশিয়াল ভূ-তাত্ত্বিক নথিপত্রে নতুন নামটি কার্যকর করতে হবে।

কানাডা সরকারের তরফ থেকে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে জানান, এই নামটির ঐতিহাসিক ভিত্তি প্রায় চারশত বছরের পুরোনো। তিনি উল্লেখ করেন, কানাডা সবসময় এই লেককে লেক ওন্টারিও বলেই ডাকবে। অন্যদিকে, কানাডার বেশ কয়েকজন রাজ্য প্রধান এবং মন্ত্রী ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেছেন। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক কোনো একক দেশের ইচ্ছায় চারপাশের জলসীমার ভৌগোলিক নাম পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধিতা শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধিরা এই পদক্ষেপকে অপ্রয়োজনীয় ও খামখেয়ালি বলে সমালোচনা করছেন। মিশিগানের এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের আদেশ বাতিল করতে কংগ্রেসে বিল আনার ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি, ওন্টারিও লেক সংলগ্ন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নরও জানিয়েছেন যে তারা এই নতুন নাম মেনে নেবেন না।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেলেগু অভিনেতা নারায়ণ রাওয়ের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৪ এম


তেলেগু অভিনেতা নারায়ণ রাওয়ের মৃত্যু

ভারতের হায়দরাবাদে হৃদরোগের কারণে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তেলেগু চলচ্চিত্রের প্রবীণ ও গুণী অভিনেতা জিভি নারায়ণ রাও। বুধবার রাতে ৭৩ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন সহশিল্পী ও অভিনেত্রী কারাতে কল্যাণী।

এই গুণী অভিনেতার প্রয়াণে তেলেগু চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) হায়দরাবাদের বৈকুণ্ঠ মহাপ্রস্থান শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।

জিভি নারায়ণ রাও ১৯৭৬ সালে কে বালচন্দরের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘আন্তুলেনি কথা’ দিয়ে সেলুলয়েডের জগতে প্রবেশ করেন। সূচনাতেই তিনি অভিনয়নৈপুণ্য প্রদর্শন করে দর্শকদের নজর আকর্ষণ করেন। প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি অন্তত ১০০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তেলেগু সিনেমাজগতে একটি অনন্য স্থান তৈরি করেন। মুখ্য অভিনেতা হিসেবে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৭ সালের ‘ওকা উরি কথা’, ১৯৮১ সালের ‘উ রুকিচ্ছিনা মাটা’ এবং ১৯৮২ সালের ‘মঞ্চু পাল্লাকি’।

প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি তিনি বহু ব্যবসায়িক সফল চলচ্চিত্রেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। ‘চিলকমা চেপ্পিন্দি’, ‘মুথিয়ালা পাল্লাকি’র পাশাপাশি চিরঞ্জীবী অভিনীত সুপারহিট ছবি ‘গ্যাং লিডার’ ও ‘হিটলার’-এ তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। কর্মজীবনে তিনি চিরঞ্জীবী ও রজনীকান্তের মতো দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার শীর্ষ তারকাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনাতেও সফলতা অর্জন করেছেন। ১৯৮১ সালে ‘চেত্তানিকি কাল্লু লেভু’, ১৯৮৪ সালে ‘দেবাস্তকুদু’ এবং ১৯৮৮ সালে সাড়া জাগানো ‘যমুদিকি মগুডু’র মতো জনপ্রিয় সিনেমাগুলো তার প্রযোজনায় নির্মিত হয়।

কেবল রুপালি পর্দাতেই নয়, ছোট পর্দাতেও জিভি নারায়ণ রাও ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় মুখ। ‘পাসুপু কুমকুমা’ এবং ‘সুন্দরকাণ্ড’-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি সাধারণ দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%