ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের সংগঠনের নেতৃত্বে কুসাল মেন্ডিস


শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের সংগঠনের নেতৃত্বে কুসাল মেন্ডিস

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাস প্রায় দেড়শ বছর পুরনো। সেখানে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট হচ্ছে একশ বছর ধরে। শ্রীলঙ্কা ১৯৮১ সালে টেস্ট মর্যাদা অর্জন করে। তবে দেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং বোর্ড স্বীকৃত কোনো ক্রিকেটারদের সংগঠন কখনো ছিল না। সেই শূন্যতা পূরণ করতে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল শ্রীলঙ্কান প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (এসএলপিসিএ)। সংগঠনের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুসাল মেন্ডিস, যিনি বর্তমানে শ্রীলঙ্কার টেস্ট অধিনায়কও।

শ্রীলঙ্কার পেশাদার ক্রিকেটারদের জন্য একটি স্বাধীন ও সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে এই সমিতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম বড় তারকা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, নারী দলের অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু এবং আরও বেশ কজন তারকা এই সংগঠনটি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

এসএলপিসিএ পেশাদার ক্রিকেটারদের বৈশ্বিক ফেডারেশন, ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) সরাসরি অধিভুক্ত একটি সংস্থা। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা বছরের পর বছর ধরে ডব্লিউসিএ-এর আন্তর্জাতিক কর্মসূচি, কল্যাণমূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক খেলোয়াড়-অধিকার নেটওয়ার্কগুলো থেকে কাঠামোগত প্রবেশাধিকার পেতে বঞ্চিত ছিল। বর্তমানে এই সমন্বয় বৈশ্বিক ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে দৃশ্যমান, এবং চলতি বছরের শুরুতে তাপাত্তুকে ডব্লিউসিএ খেলোয়াড় পরামর্শক বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় এটির প্রমাণ মেলে।

আরও পড়ুন: মিষ্টির আসনে উপনির্বাচনের জন্য এমপিদের স্বাক্ষরের তালিকা চায় ইসি

এর আগে, ভারত (বিসিসিআই) এবং পাকিস্তান (পিসিবি) ছাড়া শ্রীলঙ্কাও ছিল হাতেগোনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউসিএ-কে স্বীকৃতি দেয়নি বা এর অধিভুক্ত হয়নি। এসএলপিসিএ চালু করার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা এখন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন, ইংল্যান্ডের প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতো সফল ক্রিকেটার সংগঠনগুলোকে অনুসরণ করবে।

যদিও ২০০১ সাল থেকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি পুরানো সংগঠন মাঝে মাঝে দেখা গেছে, তবে সেটি মূলত অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের দ্বারা পরিচালিত ছিল এবং সমালোচকদের মতে, কখনও এটি বোর্ড নিয়ন্ত্রিত এবং কখনও বোর্ডের চাপের শিকার হতো।

এসএলপিসিএ একটি স্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা করেছে, কারণ এটি নারী ও পুরুষ উভয় জাতীয় দলের সক্রিয়, বর্তমান অধিনায়ক এবং তারকা ক্রিকেটারদের মাধ্যমে সরাসরি পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ক্রিকেট ইউনিয়নের কাঠামোর মধ্যে নারী ক্রিকেট সম্পূর্ণ সমান অবস্থানে এসেছে।

একটি বিবৃতিতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য এবং কর্মপন্থা জানানো হয়েছে। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার মূল কারণ উল্লেখ করত। “শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের জন্য একটি যুগান্তকারী সময়ে এসএলপিসিএ গঠিত হলো, খেলাটির ক্ষেত্রে দেশজুড়ে ধারাবাহিক ইতিবাচক অগ্রগতি ও সংস্কারের পর। এতে খেলাটির রূপান্তর কমিটির শাসনব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ঘরোয়া কাঠামোর আধুনিকীকরণের কাজ অন্তর্ভুক্ত।”

আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) ও ক্রিকেটারদের মধ্যে বছরের পর বছর যাবত টানাপোড়েন ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যেমন, চলতি বছরের শুরুতে আইপিএলের মতো লীগে খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র পাওয়া এবং বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছিল। এসএলপিসিএ এখন এইসব দ্বন্দ্বগুলো মীমাংসার জন্য একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদির দুই অঞ্চলে বিস্ফোরণ, জুবাইলে গ্যাস স্থাপনায় আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


সৌদির দুই অঞ্চলে বিস্ফোরণ, জুবাইলে গ্যাস স্থাপনায় আগুন

সৌদি আরবের জুবাইল ও জিজান অঞ্চলে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি আঞ্চলিক সূত্রের মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, জুবাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে একটি গ্যাস স্থাপনায় হামলা হয়েছে। অন্যদিকে, জিজানে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগার-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আগুন লাগার খবর জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

রোববার জুবাইল এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানা গেছে। পরে বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে, জুবাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি গ্যাস স্থাপনায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

এদিকে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, জিজানে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগার-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আগুন লেগেছে। তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কিছু জানায়নি। তারা এই ঘটনায় বলে নিশ্চিত করেছে যে, কেউ নিহত হননি।

এর আগে কয়েকটি আঞ্চলিক সূত্রের দাবি ছিল যে, জিজানে সৌদি আরামকোর স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে জিজানে আগুন লাগার ঘটনা এবং জুবাইলে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নৌকায় ভীমরুলির ভাসমান পেয়ারা হাট দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ এম


নৌকায় ভীমরুলির ভাসমান পেয়ারা হাট দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ঝালকাঠির ভীমরুলি গ্রামের ভাসমান পেয়ারা হাট পরিদর্শন করেছেন। এর আগে তিনি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। রবিবার (৯ আগস্ট) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বরিশাল ও ঝালকাঠি ভ্রমণের বিভিন্ন ছবি পোস্ট করা হয়। ছবিগুলোর ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ভীমরুলি ভাসমান বাজারে নৌকায় ঘুরে আর পেয়ারার স্বাদ নিয়ে চমৎকার সময় কাটিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। এর আগে আরেক ক্যাপশনে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, ‘নৌকা দিয়ে মনোরম জলপথের দেশ পরিদর্শন। বরিশালে এসে দারুণ লাগছে!’ ভিমরুলির ভাসমান পেয়ারার বাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি ছোট একটি নৌকায় চরে ভাসমান পেয়ারা বাজার ঘুরে ঘুরে দেখেন। পরে একটি ট্রলারে করে এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে পেয়ারা বাগানে যান। এসময় তিনি পেয়ারা চাষি বাগান মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। ঘণ্টাকাল ভিমরুলি এলাকায় থেকে বহর নিয়ে ফিরে যান বরিশালে। এর আগে গতকাল শনিবার রাতে দুই দিনের সফরে বরিশাল গেছেন আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। প্রথমেই বরিশাল সার্কিট হাউসে যান তিনি। তার দুদিনের সফরের মধ্যে অন্য কর্মসূচিগুলো হলো বরিশালের মিয়া বাড়ির মসজিদ এবং নগরীর সকাল সন্ধ্যা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার পরিদর্শন। আজ দুপুরে বরিশালের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করবেন তিনি। পরে অক্সফোর্ড মিশন চার্জ এবং গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। সবশেষে ঢাকা যাওয়ার সময় পদ্মা ব্রিজ সার্ভিস এরিয়া পরিদর্শন করবেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধূমপায়ীদের রক্তে মিললো মাইক্রোপ্লাস্টিক, রয়েছে হার্ট অ্যাটাকের উচ্চ ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০০ পি.এম


ধূমপায়ীদের রক্তে মিললো মাইক্রোপ্লাস্টিক, রয়েছে হার্ট অ্যাটাকের উচ্চ ঝুঁকি

ধূমপায়ীদের রক্তপ্রবাহে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রাণঘাতী হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি সরাসরি বাড়ানোর সূচনা ঘটছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত ধূমপায়ী এবং দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের রক্তপ্রবাহে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক প্রবেশ করার ঝুঁকি বহু গুণ বেশি। একই সঙ্গে গবেষকেরা রক্তে এসব কণার উপস্থিতির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের জোরালো সংযোগও খুঁজে পেয়েছেন।

এই গবেষণা ইতালির রোমের সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্ত'আন্দ্রেয়া হাসপাতালের গবেষক পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে পরিচালিত। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল’–এ প্রকাশিত হয়েছে। অক্সফোর্ড একাডেমিকের প্রতিবেদনে এই গবেষণার সম্পর্কে নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণায় হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী থেকে ৬১ জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তেই মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ছিল। অন্যদিকে হৃদরোগ থাকলেও হার্ট অ্যাটাক হয়নি—এমন রোগীদের ৪০ শতাংশ এবং সুস্থ রক্তনালির ব্যক্তিদের ৩২ শতাংশের রক্তে এসব ক্ষতিকর কণা পাওয়া গেছে।

গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হলো ধূমপান ও বায়ুদূষণের সঙ্গে রক্তে প্লাস্টিক কণা জমার গভীর সম্পর্ক। তথ্যমতে, ধূমপায়ীদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। যারা ধূমপান এবং বায়ুদূষণ—দুই ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের রক্তেই উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। বিপরীতে, এই দুই ঝুঁকির বাইরে থাকা মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষের রক্তে এই কণা মিলেছে।

গবেষকেরা ধারণা করছেন যে, ধূমপান ও ক্ষতিকর বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে অতি ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক কণা সরাসরি রক্তপ্রবাহে মেশার সুযোগ পায়। যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাকেনস্যাক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ড. ক্রেইগ বাসম্যান জানিয়েছেন যে, এই গবেষণার ফল রক্তে প্লাস্টিক কণা ও হৃদরোগের ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায় কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেট জুড়ে বিষধর সাপ গুলো জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে আশ্রয় খুঁজছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট প্রতিনিধি

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৬ পি.এম


সিলেট জুড়ে বিষধর সাপ গুলো জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে আশ্রয় খুঁজছে

গোঠ সিলেট বিভাগ জুড়ে বিষধর সাপ গুলো জঙ্গল ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে লোকায়ে ঢুকে পড়ছে। সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বেশি সাপ গুলো মৌলভীবাজারে পাহাড়গুলোতে ঝুকি বাড়ছে বলে জানা গেছে। এদিকে হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় পাহাড়ি এলাকা থাকায় এমন দৃশ্যও চোখে পড়ছে প্রতিদিন স্যোশাল মিডিয়ায়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। একসময় যেখানে গভীর বনের ভেতরে সীমাবদ্ধ ছিল অজগরের বিচরণ, এখন সেই বিশালাকৃতির সাপ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে মানুষের বাড়ির আঙিনা, হাঁস-মুরগির খামার, বাঁশঝাড়, চা-বাগান, এমনকি হাইল হাওড়ের আশপাশেও। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১২ থেকে ১৮ ফুট দীর্ঘ অজগরের এমন ঘন ঘন উপস্থিতি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বনসংলগ্ন গ্রামগুলোতে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আতঙ্কের পেছনে দায়ী মূলত বন ধ্বংস, খাদ্যসংকট ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার মতো মানবসৃষ্ট কারণ। বনের বাসিন্দারা বাধ্য হয়েই আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।
দুই মাসেই উদ্ধার ১০ অজগর: বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুন ও জুলাইর এই দুই মাসেই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১০টি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সাপ গুলোর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ থেকে ১৮ফুট এবং ওজন ২০ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত।
তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারটি অজগর উদ্ধার করা হয়। এরপর ৯ জুলাই ভূরভূড়িছড়া চা-বাগান থেকে একটি, ১৬ জুলাই ভাড়াউড়া চা-বাগান ও সিন্দুরখান এলাকা থেকে পৃথক ভাবে দুটি, ২১ জুলাই উত্তর ভাড়াউড়া এলাকা থেকে একটি এবং ২৮ জুলাই কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী চা-বাগান ও শ্রীমঙ্গলের জাগছড়া চা-বাগান থেকে আরও দুটি অজগর উদ্ধার করা হয়।
প্রতিটি ঘটনার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্ধারকর্মীরা সাপ গুলো উদ্ধার করে পুণরায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করেন।
ভেঙে পড়ছে বনের খাদ্যশৃঙ্খল :  ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য চঞ্চল গোয়ালা বলেন, একসময় বনের হরিণ বা ছোট ছোট বন্যপ্রাণী লোকালয়ের আশপাশে দেখা যেত। এখন সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। হরিণের দেখা মেলাই কঠিন, অথচ প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে বিশাল অজগর।
তিনি বলেন, “বনের খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে। অজগর এখন খামারের হাঁস-মুরগি কিংবা গৃহপালিত প্রাণী সহজ শিকার হিসেবে পাচ্ছে। ফলে গ্রামবাসী সবসময় আতঙ্কে থাকেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন উজাড়, ফলদ গাছ কমে যাওয়া এবং গাছের কোটর ও ছড়ার পাশের প্রাকৃতিক গর্ত নষ্ট হওয়ার কারণে অজগরের নিরাপদ আবাসস্থল দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশগত ভারসাম্য হারাচ্ছে বন:  সিলেট বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল গুলোর একটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও বিরল বন্যপ্রাণীর কারণে এটি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। উন্নত  যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ পর্যটক শ্রীমঙ্গল হয়ে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় প্রবেশ করেন।
কিন্তু স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে বনটির আয়তন ও পরিবেশ গত ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দখল, অবৈধ জনবসতি, বিভিন্ন বাণিজ্যিক বাগান সম্প্রসারণ এবং মূল্যবান বৃক্ষ নিধনের কারণে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যের ওপর।
সড়ক ও রেলপথও বাড়াচ্ছে ঝুঁকি:  লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়েই শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার সংযোগ সড়ক চলে গেছে। একই ভাবে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেললাইনও বনাঞ্চল অতিক্রম করেছে।
বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের ভাষ্য, বনভূমির দুই পাশে বিচরণ করতে গিয়ে গ্রায়ই প্রাণী গুলো সড়ক ও রেললাইন পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিভিন্ন সময়ে ট্রেন কিংবা যানবাহনের ধাক্কায় সাপ, গন্ধগোকুল, বানরসহ নানা বন্যপ্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে বনের জীববৈচিত্র্য আরও হুমকির মুখে পড়ছে।
কেন লোকালয়ে আসছে বন্যপ্রাণী : শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ পাহাড়, টিলা, বনাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ চা-বাগানবেষ্টিত এলাকা। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের বন দীর্ঘ দিন ধরে অজগর, বানর, মেছোবাঘ, গন্ধগোকুল, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখির গুররুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। তবে বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা, জনবসতি সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক বাগানের বিস্তারের কারণে বন্যপ্রাণীর বিচরণক্ষেত্র ও খাদ্যের উৎস ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ফলে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারা লোকালয়, চা-বাগান এবং সড়কের কাছাকাছি চলে আসছে।
লোকালয়ে চলে আসা প্রাণীগুলোর একটি অংশ মানুষের হাতে মারা পড়ে। আবার সচেতন মানুষ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের মাধ্যমে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা: বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, অজগরের প্রধান খাদ্য ইঁদুর, পাখি, বনমোরগ ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী। এসব প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় খাদ্যসংকটে পড়ে অজগর লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় তাদের বিকল্প আশ্রয়ও কমে গেছে।
তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়লেও এটি শুধু উদ্ধার অভিযানের সফলতা নয় বরং বনাঞ্চলের ওপর বাড়তে থাকা চাপ এবং পরিবেশগত সংকটেরও স্পষ্ট ইঙ্গিত।
বন বিভাগের বক্তব্য:  বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং বনের ছড়া গুলোতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় অজগর লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। চা-বাগানও তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের একটি জায়গা হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও অজগর দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মজিবুর রহমান চৌধুরী লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও এর আশপাশের বনাঞ্চল পরিদর্শন করে বনভূমি দখল করে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা এবং বন উজাড়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার এবং লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
সংকটের মূল সমাধান কোথায় : দুই মাসে ১০টি অজগর উদ্ধারের ঘটনা শুধু কয়েকটি উদ্ধার অভিযানের পরিসংখ্যান নয়, এটি লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের পরিবেশগত বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। বনভূমি দখল বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুণরুদ্ধার, খাদ্যের উৎস সংরক্ষণ এবং বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত আরও বাড়বে, আর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%