১১:৪৩ এম
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাস প্রায় দেড়শ বছর পুরনো। সেখানে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট হচ্ছে একশ বছর ধরে। শ্রীলঙ্কা ১৯৮১ সালে টেস্ট মর্যাদা অর্জন করে। তবে দেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং বোর্ড স্বীকৃত কোনো ক্রিকেটারদের সংগঠন কখনো ছিল না। সেই শূন্যতা পূরণ করতে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল শ্রীলঙ্কান প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (এসএলপিসিএ)। সংগঠনের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুসাল মেন্ডিস, যিনি বর্তমানে শ্রীলঙ্কার টেস্ট অধিনায়কও।
শ্রীলঙ্কার পেশাদার ক্রিকেটারদের জন্য একটি স্বাধীন ও সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে এই সমিতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম বড় তারকা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, নারী দলের অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু এবং আরও বেশ কজন তারকা এই সংগঠনটি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
এসএলপিসিএ পেশাদার ক্রিকেটারদের বৈশ্বিক ফেডারেশন, ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) সরাসরি অধিভুক্ত একটি সংস্থা। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা বছরের পর বছর ধরে ডব্লিউসিএ-এর আন্তর্জাতিক কর্মসূচি, কল্যাণমূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক খেলোয়াড়-অধিকার নেটওয়ার্কগুলো থেকে কাঠামোগত প্রবেশাধিকার পেতে বঞ্চিত ছিল। বর্তমানে এই সমন্বয় বৈশ্বিক ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে দৃশ্যমান, এবং চলতি বছরের শুরুতে তাপাত্তুকে ডব্লিউসিএ খেলোয়াড় পরামর্শক বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় এটির প্রমাণ মেলে।
আরও পড়ুন: মিষ্টির আসনে উপনির্বাচনের জন্য এমপিদের স্বাক্ষরের তালিকা চায় ইসি
এর আগে, ভারত (বিসিসিআই) এবং পাকিস্তান (পিসিবি) ছাড়া শ্রীলঙ্কাও ছিল হাতেগোনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউসিএ-কে স্বীকৃতি দেয়নি বা এর অধিভুক্ত হয়নি। এসএলপিসিএ চালু করার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা এখন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন, ইংল্যান্ডের প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতো সফল ক্রিকেটার সংগঠনগুলোকে অনুসরণ করবে।
যদিও ২০০১ সাল থেকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি পুরানো সংগঠন মাঝে মাঝে দেখা গেছে, তবে সেটি মূলত অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের দ্বারা পরিচালিত ছিল এবং সমালোচকদের মতে, কখনও এটি বোর্ড নিয়ন্ত্রিত এবং কখনও বোর্ডের চাপের শিকার হতো।
এসএলপিসিএ একটি স্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা করেছে, কারণ এটি নারী ও পুরুষ উভয় জাতীয় দলের সক্রিয়, বর্তমান অধিনায়ক এবং তারকা ক্রিকেটারদের মাধ্যমে সরাসরি পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ক্রিকেট ইউনিয়নের কাঠামোর মধ্যে নারী ক্রিকেট সম্পূর্ণ সমান অবস্থানে এসেছে।
একটি বিবৃতিতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য এবং কর্মপন্থা জানানো হয়েছে। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার মূল কারণ উল্লেখ করত। “শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের জন্য একটি যুগান্তকারী সময়ে এসএলপিসিএ গঠিত হলো, খেলাটির ক্ষেত্রে দেশজুড়ে ধারাবাহিক ইতিবাচক অগ্রগতি ও সংস্কারের পর। এতে খেলাটির রূপান্তর কমিটির শাসনব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ঘরোয়া কাঠামোর আধুনিকীকরণের কাজ অন্তর্ভুক্ত।”
আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) ও ক্রিকেটারদের মধ্যে বছরের পর বছর যাবত টানাপোড়েন ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যেমন, চলতি বছরের শুরুতে আইপিএলের মতো লীগে খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র পাওয়া এবং বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছিল। এসএলপিসিএ এখন এইসব দ্বন্দ্বগুলো মীমাংসার জন্য একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন