০৭:১০ পি.এম
বরিশাল মহানগরীর ৩০টি খাল এবং ১০টি পুকুর পুণঃখনন ও সংস্কারসহ ১৯টি ঘাটলা নির্মাণের উদ্যোগে সৌন্দর্য বর্ধন করে পরিপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ৭৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অনুমোদনে নগরবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের গত প্রায় ৯ মাসে বরিশালবাসীর জন্য এটি প্রথম কোন সুসংবাদ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বরিশালের সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন প্রকল্পটির অনুমোদনে তারেক রহমানের প্রতি বরিশাল নগরবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ‘প্রাচ্যের ভেনিস বরিশাল’র ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে স্মরণ করেন। তিনি প্রকল্পটির কাজ সমাপ্তির পর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে সরকার প্রধানকে আগাম আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছেন।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির নির্বাহী কমিটি-একনেক’র সভায় ‘বরিশাল সিটি করপোরেশন’র বিভিন্ন খাল সমুহের পাড় সংরক্ষণসহ পুনঃরুদ্ধার ও পুনঃখনন প্রকল্প’টির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের ৯০ ভাগ অর্থায়ন করবে সরকার। অবশিষ্ট ৭৩ কোটি টাকা সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করতে হবে বলে জানা গেছে।
এই প্রকল্পের আওতায় বরিশাল মহানগরীর ৩০টি খাল খনন ও পুনঃখননের পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধনসহ পূর্ণাঙ্গ প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১০টি খালের দুপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বৃক্ষ রোপণসহ নান্দনিক বিজলী বাতি স্থাপন করা হবে। প্রতিটি খালে পাশের কীর্তনখোলা নদী থেকে জোয়ার ভাটার পানি চলাচল ও পয়ঃ নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথাও রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন, তাই ভাঙা রাস্তায় পড়ছে নতুন পিচ!
একই প্রকল্পের আওতায় নগরীর ১০টি পুকুর ও লেক পুনঃখনন এবং সৌন্দর্য বর্ধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পুকুর ও লেকের প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ পাড় সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণসহ টেকসই ও নান্দনিক বিজলী বাতি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য স্থানগুলোতে বিজলীবাতির পরিবর্তে সৌরবাতি স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
প্রকল্পের আওতায় নগরীর নবগ্রাম রোড-চৌমহনী লেক ও গোল পুকুর ছাড়াও ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন বধ্যভূমির পাশের পুকুর, গড়িয়ার পারের ত্রিকোণ পুকুর ও আমনতগঞ্জ পুকুরসহ সংস্কারবিহীন জনগুরুত্বপূর্ণ পুকুরগুলো রয়েছে।
এছাড়া, প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিশেষ জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানের পুকুরগুলোতে ১৯টি ঘাটলাও নির্মিত হবে। বাংলার অতীত ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে গণমুখী ব্যবহারের লক্ষ্যে এসব বিশেষ বৈশিষ্টমণ্ডিত ঘাটলা নির্মাণের কথা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হুমায়ুন কবির।
এছাড়া, একই প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৫৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণসহ পরিপূর্ণ সংস্কার করা হবে বলেও জানা গেছে। এসব ড্রেন সংস্কার ও পরিচালনক্ষম হলে বরিশাল মহানগরীর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন নগর পরিকল্পনাবিদসহ।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা
এটি বরিশাল মহানগরীর জন্য সাম্প্রতিককালে একটি অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প। ২০০২ সালে সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে এ মহানগরীর অবকাঠামো উন্নয়নে ২শ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে ৭৮০ কোটি টাকার অপর একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। বর্তমান সরকারের আমলে নতুন এ প্রকল্পটি নগরবাসীর মনে আশার আলো দেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে নগর প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বুধবার বিকেল ইনকিলাব’কে জানান, আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য। তিনি বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বরিশালকে তার নিজের জেলা মনে করতেন। তার যোগ্য উত্তরসূরি বেগম খালেদা জিয়া বরিশালের উন্নয়নে পরিপূর্ণ আন্তরিক ছিলেন। তার হাত দিয়েই বরিশাল বিভাগ, বরিশাল সিটি করপোরেশন, বিমান বন্দরসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিল। আজ জিয়া পরিবারের আরেক সুযোগ্য উত্তরসূরি বরিশালের উন্নয়নে তার আন্তরিকতার ছাপ রাখলেন। বরিশাল মহানগরীর উন্নয়নে প্রকল্পটি অনুমোদনে নগর প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মহানগরীসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে বর্তমান সরকার আমলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন