রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী প্রতিনিধি
০১:২৯ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে দরিদ্র ও প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে হাঁস-মুরগি পালনবিষয়ক তিন দিনব্যাপী আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কাউখালী উপজেলা শাখার আয়োজনে বিআরডিবি মিলনায়তনে
প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মাসুম মিয়া, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সোমা সরকার এবং উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জিনারুল ইসলাম। প্রশিক্ষণে উপজেলার ৩০ জন প্রান্তিক নারী অংশ নিচ্ছেন।
প্রশিক্ষণ প্রদানকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার বলেন, গ্রামের নারীরা কেবল গৃহস্থালির কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অল্প পুঁজিতে হাঁস-মুরগি পালন করে কীভাবে সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেই পথ তৈরি করতেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধেও নারীদের সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। একজন সচেতন ও স্বাবলম্বী নারীই তাঁর পরিবার তথা পুরো সমাজকে বদলে দিতে পারেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারীরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। হাঁস-মুরগি পালনের সঠিক পদ্ধতি এবং অল্প পুঁজিতে স্বাবলম্বী হওয়ার নানা কৌশল সম্পর্কে তাঁরা নতুন নতুন তথ্য জানতে পারছেন। এসব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আদালতের নির্দেশে সন্দেহজনক একটি দলিলের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের পর আক্রোশে পড়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক। তার অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জেরে মামলার এক আসামি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই সাংবাদিক দাবি করেছেন, তাদের দলিল জাল নয়; সাব-রেজিস্ট্রার যথাযথ তদন্ত ছাড়াই প্রতিবেদন দিয়েছেন।
সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সাংবাদিক মো. সেলিম মিয়া, তার বাবা, আপন ভাই, চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভূয়া ও জাল দলিলের মাধ্যমে জমির নামজারি ও অন্যের জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ২১১/২০০১ নম্বর দলিলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংরক্ষিত রেকর্ডের অসংগতি পাওয়া যায়। এতে দলিলটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার মজিবুল হক দলিলটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে ১১৩/২০২৬ নম্বর মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রতিবেদন দাখিল করেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক।
সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, তদন্তে দলিলের সত্যতা, নামজারি প্রক্রিয়া ও জমির দখলসংক্রান্ত বিষয়ে অসংগতি উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জাল দলিল ব্যবহার করে নামজারি ও অন্যের জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালতের সিদ্ধান্তে মামলার সংশ্লিষ্ট আসামিরা প্রায় দুই মাস কারাভোগ করেন।
সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক অভিযোগ করে বলেন, মামলার আসামিরা সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কারাগারে যাওয়া স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম গত ৪ অক্টোবর তার কার্যালয়ে আসেন। “আদালতের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় আমাকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সংবাদটির ভাষা ও উপস্থাপনায় আমার পেশাগত অবস্থান, সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার করা হলে তা উদ্বেগজনক।” এ ঘটনায় পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক সেলিম বলেন, তাদের দলিল জাল নয়। সাব-রেজিস্ট্রারের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, কোনো ধরনের যথাযথ তদন্ত ছাড়াই একপেশেভাবে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
সোনাইমুড়ী উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সোহরাব হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জাল দলিলের অভিযোগে ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য কারাভোগ করেন।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জাল দলিল টেম্পারিং করে জমা খারিজের জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে সাব-রেজিস্ট্রারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তদন্তে জাল দলিলের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি প্রতিবেদন দেন। পরে ওই দলিলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্কুলগুলো বন্ধ রয়েছে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রাস্তা অবরুদ্ধ করতে শিপিং কন্টেইনার ব্যবহার করা হয়েছে। শহরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখোয়ায়, যেখানে বর্তমানে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে, তার দলের প্রাদেশিক সরকারও স্থগিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক এবং রাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বে এটি নতুন একটি নাটকীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, এর ফলে অস্থিতিশীলতা কমার পরিবর্তে বরং আরও বেড়ে যেতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধানসম্মত এই পদক্ষেপটি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল প্রদেশের জনগণকে সন্ত্রাসবাদের হুমকি থেকে রক্ষা করতে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাহ তারার গত রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘খাইবার পাখতুনখোয়ায় (কেপিকে) পিটিআই-এর সরকার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আঁতাত করে চলছিল।’
তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি বা কোনো প্রমাণও উপস্থাপন করেননি। যদিও তিনি শিগগিরই তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার দুই দিন পরেও নতুন কোনো খবর পাওয়া যায়নি, কিন্তু পেশোয়ার এবং এই প্রদেশের বেশিরভাগ অংশে স্কুলগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, ইন্টারনেট পরিষেবাও সচল করা হয়েছে।
পুলিশ কাউকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও, বিক্ষোভ রোধে যে একটি দমন অভিযান চলছে তা স্পষ্ট। এই প্রদেশের অধিকাংশ পিটিআই নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নিজ শহর খাইবার জেলার বারা শহরে কয়েক ডজন পিটিআই সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। ওই এলাকায় কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
রবিবার জরুরি অবস্থা জারির এই ঘোষণার সময়টি অনেক পর্যবেক্ষকের কাছে কাকতালীয় মনে হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তার হাজার হাজার সমর্থক খাইবার পাখতুনখোয়ায় মিছিল, সমাবেশ ও পদযাত্রা করেছে। এই প্রদেশে পিটিআই ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো ফারজানা শেখ বলেন, ‘এর প্রতিক্রিয়ায় যা বলা হচ্ছে, তা বেশ কপটতাপূর্ণ শোনাচ্ছিল।’ সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার আরিফা নূর বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আমি দেখতে পাচ্ছি না। এমনকি আমি এ ব্যাপারেও নিশ্চিত নই যে, এই লং মার্চটিই এর কারণ (জরুরি অবস্থা জারি) ছিল কি না। হয়তো এটাই ছিল শেষ আঘাত অথবা হয়তো তারা বলতে চেয়েছে যে, সরকার কোনো বিরোধী দলের হাতে থাকুক, তা আমরা মেনে নিতে রাজি নই।’
এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি, যার অবস্থান সম্পর্কে এখনো রহস্য রয়েছে। তার দল বলছে, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকার বলছে সুরক্ষা হেফাজতে রয়েছেন তিনি।
পিটিআই-এর পদযাত্রা শুরু হওয়ার আগেই দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বর মাসে ইমরান খানের তিন বোনকে সমর্থকদের সংগঠিত করাসহ অন্যান্য অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় থেকে এখনও আটক তারা।
গত এক বছরে পরিবার বা আইনজীবীদের সঙ্গে ইমরান খানের খুব কমই দেখা হয়েছে। গত আগস্টে তার দুই বোন তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে, এক বোন কারাগারেই ইমরানের সঙ্গে দেখা করেন। যখন সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন আরেক বোন তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরপরই তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়, যেখানে তিনি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি আছেন।
এই পিটিআই নেতা পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ক্ষমতা হারিয়েছেন বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়। তিনি ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি। বেশ কয়েকটি দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। যদিও এই মামলাগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
দলটি দুর্বল হয়ে পড়লেও কর্তৃপক্ষ কেন এমন প্রতিক্রিয়া দেখালো? আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র সাউথ এশিয়া ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, ‘ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পিটিআই-এর তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী ও সমর্থকরা ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে।’
তার মতে, ‘এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, সম্ভবত এখনই দলটিকে একটি অত্যন্ত কঠোর বার্তা দেওয়ার এবং তারা যে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে সেই বিষয়টি তাদের জন্য আরও কঠিন করে তোলার সময় এসেছে।’
সরকার এর আগে যুক্তি দিয়েছিল, ইমরান খান কারাগারের নিয়ম লঙ্ঘন করে তার সাক্ষাৎগুলোকে রাজনৈতিক আলোচনার জন্য ব্যবহার করছিলেন। জরুরি অবস্থা জারি প্রসঙ্গে তারার বলেছেন, ‘এর কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বা উদ্দেশ্য ছিল না। তারা চাইলে তাদের পদযাত্রা বা মিছিল চালিয়ে যেতে পারত।’
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই পক্ষের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছিল, সেটিকে তিনি আলোচনার চেষ্টার একটি সূচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু অন্যরা এটিকে ইমরান খান এবং তার দলকে সীমিত করার আরেকটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
সাংবাদিক নূর বলেন, ‘সরকারের কাছে মতবিরোধ বা ভিন্নমতের জন্য সুযোগ দিন দিন কমে আসছে এবং তারা কোনো ধরনের সংঘাত থেকে আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে চায় না।’
ইসলামাবাদভিত্তিক লেখক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জাহিদ হুসেন বলছেন, ‘এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারা রয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট। ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি সামরিক প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে গেছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বেশ আত্মবিশ্বাস বোধ করছে, কারণ তাদের বিশ্বাস, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তাদের একটি ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তি আলোচনায় তাদের ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
তবে, পাকিস্তানের সামনে মোকাবিলা করার মতো অনেক বড় বড় সমস্যা রয়েছে। দেশটিতে জঙ্গিবাদ বাড়ছে। ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬’, এ সন্ত্রাসবাদের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পাকিস্তান এক নম্বরে ছিল।
দেশটি তার দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও বিরোধে লিপ্ত। আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এনে দেশটি বারবার আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে, যদিও তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এছাড়া ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের চাপা সংঘাতকে পুনরায় উসকে দিতে সামান্য স্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট।
এদিকে, হুতিদের বিরুদ্ধে সংঘাত দিনকে দিন বিপজ্জনক হয়ে ওঠায়, সৌদি আরবকে হামলা থেকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তান। একটি সমস্যার সমাধান না করে এই জরুরি অবস্থা জারি আরও নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দিতে পারে বলে অনেকে সতর্ক করেছেন।
এর ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, কারণ ইসলামাবাদকে এখন এমন একটি প্রদেশের দায়ভার নিতে হবে, যার ওপর দোষ চাপানোর মতো কোনো রক্ষাকবচ অর্থাৎ প্রাদেশিক সরকার নেই।
কুগেলম্যান বলেন, ‘আমি বলব যে এটি আসলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আপনি আগুন নিয়ে খেলছেন, কারণ এই পদক্ষেপটি যদি সেখানকার অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দেয় তাহলে আপনি একটি খুব বড় সমস্যায় পড়বেন।’
ইসলামাবাদভিত্তিক লেখক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জাহিদ হুসেন বলেন, ‘দেশ যে বহুবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, তা বিবেচনায় এটি একটি বেপরোয়া পদক্ষেপ।’ তিনি আশঙ্কা করছেন, পাকিস্তানজুড়ে এই ধরনের আরও ক্ষমতা ব্যবহার করা হতে পারে।
এছাড়া, আরও সক্রিয় সেনা অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ দমনের প্রচেষ্টার নিজস্ব বিপদও থাকতে পারে বলে যুক্তি দেন চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো ফারজানা শেখ। তিনি বলেন, ‘যদি তারা এই অভিযানগুলো শুরু করতে যায়, তাহলে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হতাহতের ঘটনা মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যদি সেই হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হয়, তবে তা সামরিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে প্রশ্ন তুলতে পারে।’
সামরিক অভ্যুত্থানের ইতিহাস থাকায় পাকিস্তানের অতীতে এমন উদাহরণ রয়েছে যেখানে প্রাদেশিক বা জাতীয়, যে কোনো পর্যায়ের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা তিক্ত পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
‘এমন নয় যে পিএমএল-এন-এর (কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা দল) দলের শীর্ষ নেতারা উপলব্ধি করেন না যে এই বিষয়গুলোর কিছু ভবিষ্যতে তাদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে’, বলেন সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার আরিফা নূর।
তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে আমি মনে করি, পিটিআই কিছুটা হলেও বুঝতে পারছে যে, তারা বিক্ষোভ করে ইমরান খানকে বের করে আনতে পারবে না। আমার মনে হয়, আমরা যে জগাখিচুড়ির মধ্যে পড়েছি, তার সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক দিকটি হলো, আমরা সবকিছু জেনেবুঝেই এর মধ্যে জড়িয়ে পড়ছি।’
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে যথেষ্ট সময় হাতে রেখেও ইনিংস ডিক্লেয়ার করার পর বাংলাদেশ আফগানিস্তানকে পরাজিত করতে পারেনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চম দিনে ফিল্ডিংয়ে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয়ে যায়। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মনে করেন, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার ফলই ভোগ করতে হয়েছে তার দলকে।
ম্যাচের শেষ দিনে সেদিকউল্লাহ আতালের দীর্ঘ ইনিংসের অবসান ঘটানোর পর বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে ওঠে। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভুলের সুযোগ নিয়ে আফগানিস্তান লড়াই চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তারা দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে ম্যাচ ড্র করে। আফগানিস্তানের জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ৪৭৯ রান।
৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করা আতাল তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন। শেষ সেশনের ১১ ওভার পেরিয়ে তাইজুল ইসলামের বলে তার ব্যাটের ক্ষীণ স্পর্শে বলটি প্যাডে লেগে শর্ট লেগে থাকা তানজিদ হাসানের হাতে জমা পড়ে। এর মাধ্যমে শেষ হয় তার দীর্ঘ ইনিংস।
তখন আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ২৮১ রান। হাতে ছিল প্রায় ২৩ ওভার। বাংলাদেশ তখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল। কিন্তু এরপরই ফিল্ডিংয়ে একাধিক ভুল করে বসে দলটি।
ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল স্টাম্পে গড়িয়ে গেলেও বেলস না পড়ায় তিনি বেঁচে যান। পরের ওভারেই টানা দুই বলে রানআউটের দুটি সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। এছাড়া অপরাজিত ৪৯ রান করা কায়েস আহমেদ প্রথমে সিলি পয়েন্টে এবং পরে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান।
ম্যাচ শেষে শান্ত বলেন, "আমার মনে হয়, আমরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলাম, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। প্রতিপক্ষও দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। বিশেষ করে সেদিকউল্লাহ আতাল যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তার জন্য তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।"
তিনি আরও বলেন, "অবশ্যই কিছুটা হতাশ লাগছে। তবে আমি বলব না যে আমরা খুব খারাপ ক্রিকেট খেলেছি। পাঁচ দিনই আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। বিশেষ করে আজকের এই কন্ডিশন ও উইকেটে বোলাররা যেভাবে পরিশ্রম করেছে, তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে।"
সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যর্থতা স্বীকার করে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, "আমাদের সুযোগ এসেছিল, কিন্তু আমরা সেগুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। অবশ্যই আমরা ভুল করেছি, সেটা মেনে নিতে হবে। এমন কন্ডিশনে সুযোগ খুব কমই আসে। তাই যে ছোট ছোট সুযোগগুলো আসে, সেগুলো কাজে লাগানো জরুরি।"
কঠিন কন্ডিশনে পাঁচ দিনের টেস্টের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক দেখছেন শান্ত।
ম্যাচের ফল নিয়ে হতাশা থাকলেও পাঁচ দিনের টেস্টে কঠিন কন্ডিশনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে বলে মনে করেন শান্ত। বিশেষ করে এই সংস্করণে বাংলাদেশের তুলনামূলক কম খেলার অভিজ্ঞতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন তিনি।
শান্ত বলেন, "আমরা খুব কমই পাঁচ দিনের টেস্ট খেলি। তাই চতুর্থ বা পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে ম্যাচ শেষ হওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আমাদের দলের কম। দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচে টিকে থাকা, ক্লান্ত অবস্থায় সুযোগ তৈরি করা কিংবা আরও ভালো বোলিং করার এই অভিজ্ঞতা আগামী সিরিজগুলোতে কাজে দেবে।"
তিনি আরও বলেন, "অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে এমন কন্ডিশনে একটি ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল আমাদের। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তী সিরিজে সাহায্য করবে।"
ম্যাচ চার দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে, এমন ভাবনা শান্তর মনেও ছিল না। তার মতে, শেষ দিনেও উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। যদিও শেষ দিনে স্পিনাররা কিছুটা সহায়তা পেয়েছেন।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, "সত্যি বলতে, আমরা ভাবিনি ম্যাচটি চার দিনে শেষ হয়ে যাবে। চতুর্থ বা পঞ্চম দিনেও, এমনকি আজও উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। স্পিনাররা আজ কিছুটা সহায়তা পেলেও পাঁচ দিনই উইকেট ভালো ছিল।"
আফগান ব্যাটারদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আমাদের মানসম্পন্ন বোলিংয়ের বিপক্ষে এই কন্ডিশনে তাদের ব্যাটাররা যেভাবে খেলেছে, তার জন্য অবশ্যই তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে আমাদের মানসম্পন্ন স্পিনার ও পেসারদের এই ইনিংসে ১০টি উইকেট নেওয়া উচিত ছিল। মাঝখানে আমরা কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছি। এই ছোট ছোট ভুলের কারণেই ম্যাচটি ড্র হয়েছে।"
আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করলেও আসন্ন সিরিজগুলোতে এসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা বাংলাদেশের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত একটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, এমনটি জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। মন্ত্রণালয়ের সদস্য কিংবা বাইরের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে প্রশ্ন ফাঁসের কারণে পরীক্ষাটি বাতিল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের প্রতি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ১৫ জন তরুণকে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হবে এবং নিবন্ধিত ৪৩২টি যুব সংগঠনকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও অনুদানের চেক তুলে দেবেন।
আত্মকর্মসংস্থান, ক্রীড়া, সমাজসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, নারী ও শিশু উন্নয়ন, শিক্ষা, পরিবেশ ও জলবায়ু এবং কলা ও সংস্কৃতি—এই ৮টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ১৫ তরুণকে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হবে। প্রতিটি পদকের সঙ্গে এক লাখ টাকা, সম্মাননা ক্রেস্ট এবং সনদপত্র প্রদান করা হবে, এমনটি জানান প্রতিমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ