মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:২৩ পি.এম
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমের আগেই দেশে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্দেশ্যে গৃহস্থালি ও শিল্পের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ৩ ও ৪ নভেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই এক্সপো উদ্বোধন করবেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি এসব তথ্য প্রদান করেন।
ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি আলজেরিয়ার সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে জিটুজি ভিত্তিতে এলএনজি, এলপিজি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সোর্সিং সহজ হবে। নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলা করতে বিকল্প নবায়নযোগ্য শক্তির বিস্তার ঘটানো বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গত কয়েক সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে দেশব্যাপী কয়েক লাখ পিস ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। তিনি জানান, মাদকমুক্ত পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়তে এবং তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য একটি সুরক্ষিত ‘সমন্বিত স্বাস্থ্য ডেটা ভান্ডার’ ও হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ রোধে রাস্তার পাশের দোকানসহ ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রির অস্থায়ী দোকানগুলোতে নানা রকম জীবাণু ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার এই ক্ষেত্রগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করছে।’
ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ জানান, কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে সরকারি অফিসে ডে-কেয়ার সেন্টার বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবমুক্তকরণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দারিদ্র্য নিরসনে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টিচাল বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
ধর্মীয় উৎসব প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, এ বছর সরকারি সহায়তা, ছুটি বৃদ্ধি এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশের ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে অত্যন্ত আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে, যা সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের প্রতি জনগণের আস্থার বহিঃপ্রকাশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শেরপুর জেলা যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রাটি শেরপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়। পরে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা মোড়ে এসে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শোভাযাত্রা শেষে থানা মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন শেরপুর জেলা যুবদলের সভাপতি আতাহারুল ইসলাম আতা। এ ছাড়া আরো বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি মবিনুজ্জামান মিল্টন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মানিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাশেম আহমেদ সিদ্দিকী বাবুসহ জেলা যুবদলের অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তাঁরা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
শেরপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ শোভাযাত্রা ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেরপুর জেলা যুবদল তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতি তুলে ধরে। কর্মসূচিতে জেলা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ঘোষণা এসেছে। একই সাথে, তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রতি জাপানের দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টে সানায়ে তাকাইচি জানান, বাংলাদেশ সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধু হিসেবে, তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশের সরকারকে জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে। দুই দেশের ‘কৌশলগত অংশীদারি’ এবং ঘোষিত ‘নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতি’র ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও তিনি কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবেন।
সানায়ে তাকাইচি বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশকে একটি মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) অঞ্চলের বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা ‘বিগ-বি’ (BIG-B) উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন দুই দেশের নেতারা। তাকাইচি জানান, তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগটিকে নতুন কৌশলগত সহযোগিতামূলক কাঠামোয় রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিআইজি-বি’ হিসেবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, তারেক রহমানের কাছ থেকে তিনি জাপানের ‘শান্তিপ্রিয় জাতি’ হিসেবে পথচলা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম হওয়ার ইতিহাস শুনেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণের কাছে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপান সরকার ও জনগণের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাকাইচি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশ জাপানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ও তরুণ জনসংখ্যার দেশটিতে অপার সম্ভাবনা বিদ্যমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম মন্তব্য করেছেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কাজ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফকির মাহবুব আনাম এসব কথা বলেন।
ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ, উচ্চগতির ও সাশ্রয়ী ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে আধুনিক টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা আবশ্যক।
মন্ত্রী সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকার, দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।
হুয়াওয়ের দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে হুয়াওয়ে, সরকার এবং শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি সংযোগব্যবস্থা, ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন সেবা উদ্ভাবন এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইদা আফরোজ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে ‘ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও কানেক্টিভিটি’, ‘শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ভূমিকা’ এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বৈশ্বিক প্রবণতা, প্রভাব ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি’ শীর্ষক তিনটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্যানেল আলোচনায় ফাইভ জি ও সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্পখাতের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে বাংলাদেশের প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তৈরি পোশাকশিল্প, বন্দর, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে ফাইভ জি, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস এবং এন্টারপ্রাইজ কানেক্টিভিটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া ক্লাউড কম্পিউটিং, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয় হ্রাস এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
ব্যাংকিং, উৎপাদন, পণ্য পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা ও সরকারি সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য ক্লাউড অবকাঠামো, তথ্যের প্রস্তুতি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সহায়ক নীতিমালার গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা।
সম্মেলনের প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট এডুকেশন, ডিজিটাল পাওয়ার, স্মার্টফোন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক বিভিন্ন সমাধান প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ডিজিটাল পাওয়ার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও এন্টারপ্রাইজ এবং ডিজিটাল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে সরকারি কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, শিল্পোদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ পাঁচ শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের মন্তব্য, ‘সরকারের অনুমতি পেলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করতে পিছপা হবে না’ নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন তার পক্ষে সাফাই গেয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, ‘আইজিপির বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ, দৃঢ়, আপসহীন বাস্তবায়ন এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিতকরণ এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করার একটি সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।’
আইজিপি সোমবার রাজধানীর চকবাজারে পুলিশের মালিকানাধীন কমিউনিটি ব্যাংকের অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব, আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেইটাই আমরা করব। যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাও করে, আমরা সেইটা করব।’
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি এড়িয়ে গিয়ে সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. মোসলেহ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন শামীমা পারভীন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পুলিশের আইনানুগ কঠোরতাকে একদিকে নেতিবাচকভাবে দেখা এবং অপরাধ দমনে নিষ্ক্রিয়তাকে অন্যদিকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। অপরাধ দমনে পুলিশ যদি তার আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগে অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হয়, তবে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। অন্যদিকে, আইনের সীমা অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনই পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করার মূল ভিত্তি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব কালচার এবং গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আইন প্রয়োগে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি কমিউনিটি ব্যাংকের একটি সেবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মহোদয়ের বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো—আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ