মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:০৫ পি.এম
সুইটির বিয়ে হয়েছে প্রায় ছয় বছর আগে। গত দুই সপ্তাহ ধরে আমার মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। ১৫ দিন আগে ফোনে জানায়, সে দুই মাস পর বাড়ি ফিরবে। আমার মেয়ের সুইটির সঙ্গে কী ঘটেছে, এ বিষয়ে আমি এখনও পরিষ্কার কিছু জানি না। তবে আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাই, আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। সে জীবিত হোক বা মৃত, আমি আমার মেয়েকে চাই।
এভাবে কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন সম্প্রতি সৌদি আরবের মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া সুইটির মা জহুরা বেগম।
সৌদি আরবে দুই প্রবাসীর মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকরের পর থেকে বাংলাদেশে এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরবে যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। প্রথম ৫ মাস তিনি বাড়িতে টাকা পাঠান। পরে ফোন করে জানান, তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। ১৫ দিন আগে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তিনি জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যে।
মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীদের ভিড়। তারা জানতে পেরেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে এবং সম্প্রতি তা কার্যকরও করেছে। সুইটির বাবা বিছানায় শুয়ে রয়েছেন। মা পরিবারের কাজ করছেন। সুইটির বাবা দিন মজুরের কাজ করেন। ফজল মিয়ার ৫ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি। ৪ বছর আগে ধার-দেনা করে মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন।
ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। এজন্য দেড় লাখ টাকা ধার করেছিলাম। প্রথম ৫ মাস সে বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিল। পরে একদিন ফোন করে জানায়, তাকে জেলে নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুইটি জানিয়েছিল, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। এরপর এক বছর সুইটির খোঁজ পাইনি। ১৫ দিন আগে আবার একদিন মেয়ে জেল থেকে ফোন করে। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি। শেষদিকে ফোনে জানিয়েছিল, দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে পারে।’
তবে, দুদিন আগে তারা জানতে পারেন যে সৌদি সরকার সুইটির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছে। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু জানানো হয়নি।
ফজল বলেন, ‘আমার মেয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে, আমরা জানি না। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।’
স্থানীয় মহেরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটির বিষয়ে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি চীনা নাগরিকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউনিফর্ম পরা চার পুলিশ কর্মকর্তা একটি সহযোগীর সঙ্গে মিলে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছেন।
গত ২৯ আগস্টের পর থেকে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে এটি ছিল চতুর্থ ডাকাতির ঘটনা। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় অপরাধীরা নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। দুটি ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট পুলিশের সদস্যদের সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে যখন পুলিশের পোশাক পরা ডাকাতের একটি দল একটি বাড়িতে প্রবেশ করে ২০ লাখ রুপি নগদ অর্থ এবং ১৫ হাজার রুপি মূল্যের একটি মোবাইল ফোন লুট করে। এ ঘটনায় পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই বাড়িতে দুই চীনা নাগরিক বসবাস করতেন। রাতের প্রায় ২টা ২০ মিনিটে পুলিশের পোশাক পরা একজন ব্যক্তি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে কর্মচারীদের থাকার কক্ষে যান। সেখানে ঘুমিয়ে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষী ও এক চালককে ডেকে বাইরে নিয়ে আসেন। পরে তাদের পুলিশের একটি গাড়ির কাছে নিয়ে যান।
গাড়িটিতে চারজন ছিল, যার মধ্যে তিনজন পুলিশের পোশাক পরা এবং অস্ত্রধারী ছিল। পরে তারা নিরাপত্তারক্ষী ও চালককে গাড়িতে তুলে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর অস্ত্রধারীরা জানালা দিয়ে বাড়িতে ঢুকে দুই চীনা নাগরিককে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে। তারা বাড়ির ড্রয়িংরুমে ওই দুই নাগরিক, নিরাপত্তারক্ষী ও চালককে আটকে রেখে ২০ লাখ রুপি নগদ অর্থ লুট করে।
মামলা নথিভুক্ত করার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। এরপর কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গত মাসে ইসলামাবাদে ডাকাতির একটি চক্র পরিচালনার অভিযোগে তিন কর্মরত পুলিশ সদস্য ও তাদের কয়েকজন সহযোগীর নাম উঠে আসে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বরের ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তাদের জড়িত থাকার তথ্য সামনে আসে। ওই দিন পুলিশের পোশাক পরা অস্ত্রধারীরা জি-১০/৪ এলাকায় দুই চীনা নাগরিকের বাড়িতে ঢুকে ৮০ লাখ রুপি লুট করে নিয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের তৎপরতায় চুরি হওয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) ফেরত পেলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ মোঃ নুরুজ্জামান। জীবনের শেষ বয়সে এই অটোরিকশাটিই ছিল তার পরিবারের একমাত্র জীবিকার সম্বল। অটোরিকশাটি উদ্ধার শেষে নুরুজ্জমানের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৬:২০ মিনিটের দিকে বারইয়ারহাট বাজার থেকে গণকছড়া যাওয়ার কথা বলে দুই ব্যক্তি নুরুজ্জমানের অটোরিকশায় ওঠে। সকাল ৬:৪০ মিনিটের দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের গণকছড়া রোডের একটি কালভার্টের ওপর পৌঁছালে যাত্রীরা সিগারেট জ্বালানোর কথা বলে গাড়িটি থামাতে বলে। অটোরিকশা থামানো মাত্রই তারা বৃদ্ধ নুরুজ্জামানকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের খালে ফেলে দেয় এবং আনুমানিক ১ লাখ টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি নিয়ে চম্পট দেয়।
ঘটনার পর জোরারগঞ্জ থানায় একটি চুরি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নেমে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ পার্শ্ববর্তী ছাগলনাইয়া থানা এলাকা থেকে চুরি হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পরবর্তীতে আদালতের আদেশে আজ ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোহাম্মদ আব্দুল হালিম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধারকৃত অটোরিকশাটি বৃদ্ধ মোঃ নুরুজ্জমানের জিম্মায় তুলে দেন। নুরুজ্জামান ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খিলমুরারী গ্রামের মৃত মোঃ ইদ্রিছের ছেলে।
হস্তান্তরকালে অফিসার ইনচার্জ বৃদ্ধ চালককে ভবিষ্যতে সতর্কতার সঙ্গে অটোরিকশা চালানোর পরামর্শ দেন। বৃদ্ধ নুরুজ্জমানের একমাত্র সম্বল উদ্ধার করে তার হাতে ফিরিয়ে দিতে পেরে পেশাগত জায়গা থেকে গভীর আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করেন ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম।
জীবিকার একমাত্র সম্বলটি ফিরে পেয়ে কান্নাভেজা চোখে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বৃদ্ধ নুরুজ্জামান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অতিরিক্ত ডিআইজি (রিয়েপার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া করা বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে নারীও রয়েছেন। সেই অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা একটি অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত ডিআইজি (রিয়েপার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তবে, তাকে কেন সংযুক্ত করা হয়েছে, সে সম্পর্কে আদেশে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে, সোমবার ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এলাকায় জহিরের বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের একটি দল। অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ৮৪ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ২৬ জন নারী, ৫৮ জন পুরুষ এবং একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের তারকা দম্পতি দীপিকা পাডুকোন ও রণবীর সিং তাদের দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের নাম প্রকাশ করেছেন। নবরাত্রির উৎসবে তারা ছোট মেয়ের প্রথম ঝলক অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। তাদের দ্বিতীয় কন্যার নাম রাখা হয়েছে দেবী পাডুকোন সিং। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বড় মেয়ে দুয়া পাডুকোন সিং ছোট বোনের গালে স্নেহচুম্বন দিচ্ছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাধাষ্টমীর দিনে দীপিকা ও রণবীর দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্মের সুখবর দিয়েছিলেন। এবার উৎসবের আবহে পরিবারের চার সদস্যের একটি ছবি প্রকাশ করে তারা ছোট মেয়ের নাম ঘোষণা করেছেন। ছবিতে দীপিকার কোলে নবজাতক দেবী রয়েছে, অন্যদিকে রণবীরের কোলে বড় মেয়ে দুয়া রয়েছে। ছোট বোনের গালে আদর করে চুমু দিচ্ছে বড় মেয়ে।
ছবিতে চারজনের পরনে ঘিয়ে ও সোনালি রঙের পোশাক রয়েছে। পরিবারের এই মিষ্টি মুহূর্তটি অনুরাগীদের মন জয় করেছে। অনেকে মনে করছেন, দেবীপক্ষের আবহে মেয়ের নাম ‘দেবী’ রাখার পেছনে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
বড় মেয়ে দুয়ার প্রথম ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রেও দীপিকা ও রণবীর উৎসবের আবহকে বেছে নিয়েছিলেন। দুয়ার জন্মের পর তারা বেশ কিছু দিন মেয়েকে আড়ালে রেখেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের দীপাবলিতে তারা মেয়ের নাম প্রকাশ করেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার মা-বাবা হওয়ার খবর ঘোষণা করেছিলেন দীপিকা ও রণবীর। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর তাদের ঘরে আসে প্রথম সন্তান দুয়া। মেয়ের জন্মের পর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছুদিন গোপনীয়তা বজায় রাখলেও ধীরে ধীরে তারা মেয়েকে ঘিরে নানা মুহূর্ত অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শুরু করেন।
দুই মেয়েকে ঘিরে দীপিকা ও রণবীর বিশেষ কিছু রীতি পালন করছেন। দুয়ার জন্মের আগের দিন তারা সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয় কন্যার জন্মের আগেও তারা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। দেবীর জন্মের আগের দিনও সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে গিয়ে আশীর্বাদ নেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ