০৮:৪৮ পি.এম
সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ করার আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধার অধিকারী হবেন না, বলে আপিল বিভাগের একটি রায়ে উল্লিখিত হয়েছে। এই রায়টি ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব রায়টি লিখেছেন।
এর পূর্বে হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের জারি করা আপিল মঞ্জুর করার মাধ্যমে গত ১১ মার্চ রায়টি প্রদান করেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক। তাদের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী মাহবুব মোরশেদ নিজেই।
আরও পড়ুন: অভ্যর্থনার অপেক্ষা না করেই জনতার ভিড়ে মিশে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
রায়ে বলা হয়েছে, আইনসভা প্রজ্ঞা ও যৌক্তিক বিবেচনার ভিত্তিতে এই বিধান প্রণীত হয়েছে যে ২৫ বছরের চাকরির সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ করলে তিনি কোনো সুবিধার অধিকারী হবেন না।
নথিপত্র থেকে জানা যায়, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগদান করেন। তিনি সার্ভিসের ১৯ বছর পূর্ণ করে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র দেন এবং সে সময় তিনি অতিরিক্ত জেলা জজ ছিলেন। ২০১৫ সালে ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক মঞ্জুরির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি।
প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে আগের চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হবে। অর্থাৎ, পদত্যাগের কারণে সেটা পেনশনের জন্য গণনাযোগ্য হবে না। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পেনশনার মাহবুব মোরশেদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়নি। ফলে তিনি সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে পেনশনের জন্য কোনো আবেদন করেননি।
এমন পরিস্থিতিতে বিধি-৩০০ এবং ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬ সালে মাহবুব মোরশেদ রিট করেন। হাইকোর্ট ২০২১ সালের ১৮ মার্চ সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০১৫ সালের ২৫ মার্চের চিঠিটি আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করেন। সেইসাথে ৯০ দিনের মধ্যে চাকরির মেয়াদ অনুসারে মাহবুব মোরশেদের পেনশনসহ অন্যান্য বকেয়া সুবিধা গণনা ও মঞ্জুর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে : তারেক রহমান
রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে এবং ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে। সেই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশও বহাল থাকে। ফলস্বরূপ রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী, রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন