ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
ঠাকুরগাঁও-১

বিএনপিতে একাধিক নাম, আগের প্রার্থী জামায়াতের


বিএনপিতে একাধিক নাম, আগের প্রার্থী জামায়াতের

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব নেওয়ার কারণে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে তিনি প্রায় ৯৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন এক লাখ ৪১ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এর ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হতে চলেছেন এবং জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন এগিয়ে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: নাব্যতা সংকটে হবিগঞ্জের সুতাং নদী মরা খালে পরিণত

এর পাশাপাশি জেলা বিএনপির দুই সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ এবং সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরীও মনোনয়ন চাইতে পারেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, মির্জা ফখরুলের মেয়ে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী চিকিৎসাবিজ্ঞানী শামারুহ মির্জার নামও আলোচনা হচ্ছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী কে হবেন সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে হাইকমান্ড। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার জন্য নেতাকর্মীরা সমর্থন দেবেন।

মির্জা ফয়সল আমিনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেলাওয়ার হোসেন প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি।

আরও পড়ুন: বরিশালে দুই যুবককে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা ফারুকের বিরুদ্ধে

ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেছেন, মাঠে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হলে তারা নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন। দেলাওয়ার হোসেনের প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে একটি পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ভোটে প্রভাব ফেলেছে কি না, উপনির্বাচনে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। বিএনপির নতুন প্রার্থীকে তার প্রাপ্ত ভোটের বড় অংশ ধরে রাখতে পারার সক্ষমতা দেখাতে হবে, এবং এই ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অপরদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, যদি মির্জা ফয়সল আমিন প্রার্থী হন, তাহলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি তার পক্ষে থাকবে। তবে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত ইমেজ ও তার ছোট ভাইয়ের ইমেজ এক নয়। এজন্যে বিএনপির ভোট কিছুটা কমতে পারে।

তিনি বলেছেন, দেলাওয়ার হোসেন গত নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। জামায়াতও সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাবে। তবে সার্বিকভাবে মির্জা ফয়সল আমিনের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ডাকাতিয়ায় সেতু না থাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

এদিকে, যদিও বিএনপির প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি, উভয় দলের মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ভোটার উপস্থিতি কম হলে সংগঠন ও কর্মীদের সক্রিয়তা উপনির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমার ভাগনের লাশ খাটের নিচে, বড় বোনকে ফেলে রাখে সিঁড়িতে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১২ এম


‘আমার ভাগনের লাশ খাটের নিচে, বড় বোনকে ফেলে রাখে সিঁড়িতে’

‘আমার স্বামী অফিস থেকে আসার পর বললাম, দিদিদের চারটা ফোন কী কারণে বন্ধ আছে? চলো তাহলে যাই ওদের বাসায়। আমরা আসলাম, কিন্তু কলিং বেলও বাজলো না।

দেখলাম, পুরো বাড়ি অন্ধকারে ঢাকা। দিদি, দিদি, আগামী (প্রার্থী), প্রিয়ম নাম ধরে চিৎকার করতে করতে প্রতিবেশীদের কয়েকজন চলে আসলো। তখন এক প্রতিবেশী বললেন, আজকে দুপুরের দিকে কী যেন অর্ডার করছিল, পার্সেল আসছিল। তখন কলিং বেল চাপানোর পর কেউ খোলেনি, ওই লোকটা ফিরে গেছে।

পরে পাশের একটি বাড়িতে গেলাম। তখন দুই বাড়ির মাঝের ছোট্ট প্রাচীর টপকিয়ে আমরা উঠলাম। জোরে জোরে জানালার থাই গ্লাসে ধাক্কা দেওয়ার পর জানালাটি খুলে গেল। মোবাইলের আলোর সাহায্যে দেখি, ওদের ওয়্যারড্রবের ড্রয়ার খুলে কাপড়সহ যা যা ছিল সব ছড়ানো-ছিটানো পড়ে আছে।

এমন অবস্থায় আমি চিৎকার করতে শুরু করলাম।’

গতকাল শনিবার রাতে নিজের বড় বোনের বাসায় বোন ও তার স্বামী-সন্তানদের মরদেহ দেখতে পেয়ে কান্নায় ভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পূজা চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার রাতে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তিনি বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ফোন করেছিলেন। বোনের ফোন বন্ধ পাওয়ার পর একে একে বোনের স্বামী গণপতি চক্রবর্তী, তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও তাদের শিশু পুত্র প্রীয়ম চক্রবর্তীর ফোনে তিনি ফোন করেন। তবে সবারই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পূজা চক্রবর্তী উল্লেখ করেন, ‘বৃহস্পতিবার ভাগনি আগামী ফোন দিয়েছিল, রাত একটা-দেড়টার দিকে। কেবল কুশল বিনিময় ছিল। শনিবার আবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ফোন দিছি। কিন্তু আমার দিদির ফোনেও ফোন ঢোকে না, দুঃখিত বোঝায়। জামাইবাবুর ফোনেও ফোন ঢোকে না। ভাগনির ফোনেও ফোন ঢোকে না। আর প্রিয়ম ক্লাস ফাইভে পড়ে, তার কাছে একটি বাটন ফোন আছে, সেটাতেও ফোন ঢোকে না।’

তিনি আরও বলেন, পরে তাদের বাড়িতে এসে দেখি আমার ভাগনের ম corpse খাটের নিচে। আমার বড় বোনকে সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়েছে। বড় বোনের ওপর ভাগনিকে ফেলে রেখেছে।’

ঘটনার বিচার দাবি করে পূজা বলেন, ‘উনি জিলা স্কুলের একজন শিক্ষক ছিলেন। একজন খুব ভালো মানুষ। অনেক কষ্ট করে এই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। তিনি খুব শান্ত মানুষ ছিলেন। তাদের সবাইকে এমনভাবে হত্যা করা হলো। আমাদের জীবনের নিশ্চয়তা কী? আমরা চাই, এর সুষ্ঠু বিচার হোক।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়ির কাজ এখনো শেষ হয়নি। সেই দোতলায় সম্প্রতি পরিবার নিয়ে থাকা শুরু করেছিলেন গণপতি চক্রবর্তী। বাড়ির নীচতলাটা খালি ছিল। তারা নতুন এসেছেন বলে এখনো প্রতিবেশীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠতে পারেনি।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী এসে ডাকাডাকি করেন। বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ফটক বন্ধ দেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে ডাকতে বাধ্য হন। ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে সহায়তা করে।

রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলছেন, ‘তাদের খুন করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তাদের গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুরো ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থায় রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এটি একটি ডাকাতির ঘটনা হতে পারে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরিফুলে ওয়াসিম আকরামের ছায়া, ৩৩ বছর পর এমন কীর্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ এম


শরিফুলে ওয়াসিম আকরামের ছায়া, ৩৩ বছর পর এমন কীর্তি

ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশর আশা টিকে আছে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণে, যা বাজে ব্যাটিংয়ের পরে ঘটে। প্রথম দিনে ৬ উইকেট শিকার করার পর শরিফুলের বোলিং তোপ দ্বিতীয় দিনেও থামেনি।

অজি ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে তিনি সাজঘরে ফেরান, যা দেখে সাবেক অজি ক্রিকেটার ব্রেন্ডন জুলিয়ান মন্তব্য করেছেন, ‘যেন নব্বইয়ের দশকে ওয়াসীম আকরামের দেখা মিলল।’

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে শরিফুলের ওই ডেলিভারিটি ইয়র্কার লেন্থে পড়ে শেষ মুহূর্তে ইনসুইং করে গ্রিনের বুটের ডগায় আঘাত করে। বাংলাদেশের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত রিভিউ নেন। রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি মিডল স্টাম্পে আঘাত করত, ফলে ১০৫ বলে ৬৭ রান করা গ্রিনকে বিদায় নিতে হয়।

এই উইকেটের মধ্য দিয়ে শরিফুল প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে অজিদের মাটিতে টেস্টে ৭ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়লেন। গত ৩৩ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টের এক ইনিংসে কোনো সফরকারী বোলার ৭ উইকেট পাননি। সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে ক্যারিবীয় কিংবদন্তি কার্টলি অ্যামব্রোস এই কীর্তি গড়েছিলেন।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে দেশের বাইরে টেস্টে সর্বোচ্চ বোলিং ফিগারটি ছিল স্পিনার তাইজুল ইসলামের (১৩৮ রানে ৭ উইকেট)। এখন সেটি শরিফুলের দখলে।

এছাড়া, টেস্ট ক্রিকেটে দেশের প্রথম পেসার হিসেবেও ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শাহাদাত হোসেন রাজীবের ২৭ রানে ৬ উইকেট ছিল এতদিনের সেরা, যা কদিন আগে ডারউইন টেস্টে হাসান মাহমুদ (৫৫/৬) স্পর্শ করেছিলেন। এবার শরিফুল সেই পুরোনো রেকর্ড ভেঙে শীর্ষে বসলেন।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে এখন এটি টেস্টে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার। মিরপুরে তাইজুল ইসলামের ৩৯ রানে ৮ উইকেট এখনও শীর্ষে রয়েছে, চট্টগ্রামে সাকিবের ৩৬ রানে ৭ উইকেটের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে তালিকার তিনে জায়গা করে নিলেন এই বাঁহাতি তারকা পেসার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সবাইকে এভাবে মেরে ফেলল, আমাদের জীবনের নিশ্চয়তা কী’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ এম


‘সবাইকে এভাবে মেরে ফেলল, আমাদের জীবনের নিশ্চয়তা কী’

পূজা চক্রবর্তী খোঁজ নিতে বোন, বোনের স্বামী ও সন্তানদের ফোনে ফোন করেন। কিন্তু কারোর ফোনেই কল যাচ্ছিল না।

এ অবস্থায় তাকে সন্দেহ হতে শুরু করে। পরে নিজের স্বামী অফিস থেকে ফিরে আসার পর পূজা তাকে নিয়ে বোনের বাড়িতে আসেন। সেখানে গিয়ে দেখেন, তাদের বাসার কলিং বেল বাজছে না। পুরো বাড়ি অন্ধকার দেখছেন। ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। ঘটনা সম্পর্কে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে একে একে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে।

গতকাল শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় কান্না জড়িতকণ্ঠে পূজা চক্রবর্তী বলেন, "আমার স্বামী অফিস থেকে আসার পর বললাম, দিদিদের চারটা ফোনই বন্ধ কেন? চলো তো যাই ওদের বাসায়।"

ওদের অবস্থা দেখে পূজা বলেন, “আমরা এলাম, কলিং বেলও বাজলো না। পুরো বাড়ি অন্ধকার। দিদি, দিদি, আগামী (প্রার্থী), প্রিয়ম করে চিল্লাতে চিল্লাতে প্রতিবেশী কিছু আসলো। তখন এক প্রতিবেশী বললেন, আজকে দুপুরের দিকে কী জানি অর্ডার করছিল, পার্সেল আসছিল। তখন কলিং বেল চাপছে, কেউ খোলে না, লোকটা ঘুরে গেছে। পরে পাশের একটা বাসায় গিয়ে দুটো বাড়ির মাঝের ছোট্ট প্রাচীর টপকিয়ে উঠে গেলাম। জোরে জোরে জানালার থাই গ্লাসে ধাক্কা দেওয়ার পর দেখা গেল, সেটা খুলে গেছে। মোবাইলের আলো দিয়ে দেখি, ওদের ওয়্যারড্রবের ড্রয়ার খুলে কাপড়সহ যা যা ছিল সব ছড়ানো-ছিটানো। তখন আমি চিৎকার করে ফেললাম।"

পূজা চক্রবর্তী জানান, "বৃহস্পতিবার ভাগনি আগামী ফোন দিয়েছিল, রাত একটা-দেড়টার দিকে। এমনি কুশল বিনিময়। শনিবার আবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ফোন দিয়েছি। আমার দিদির ফোনে ফোন ঢোকে না, দুঃখিত বলে। জামাইবাবুর ফোনেও ফোন ঢোকে না। ভাগনির ফোনেও ফোন ঢোকে না। আর প্রিয়ম যে ক্লাস ফাইভে পড়ে ওর একটা বাটন ফোন আছে, সেটাতেও ফোন ঢোকে না।"

তিনি আরো বলেন, পরে যখন তাদের বাড়িতে এসে দেখি, আমার ভাগনের লাশ খাটের নিচে। আমার বড় বোনকে সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়েছে। বড় বোনের ওপর ভাগনিকে ফেলে রাখা হয়েছে।"

পরবর্তী সময়ে গুলিতে প্রাণ হারানোর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বক্সার তেতের ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার বিচার দাবি করে পূজা বলেন, "উনি জিলা স্কুলের একজন শিক্ষক ছিলেন। খুব ভালো মানুষ। অনেক কষ্টে এই বাড়িটি তৈরি করেছেন। খুব শান্ত মানুষ ছিলেন। তাদের সবাইকে এভাবে মেরে ফেলা হলো। আমাদের জীবনের নিশ্চয়তা কী! আমরা চাই, এর সুষ্ঠু বিচার হোক।"

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শহরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়ির নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। এই বাড়ির দোতলায় সম্প্রতি পরিবারের লোকজন থাকার শুরু করেছিলেন গণপতি চক্রবর্তী। বাড়ির নীচতলাটা ফাঁকাই ছিল। তারা নতুন এসেছেন বলে এখনো প্রতিবেশীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠেনি।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী এসে ডাকাডাকি করে। বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ফটক বন্ধ দেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে ডেকে পাঠায়। ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে সহায়তা করে।

রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, "তাদের খুন করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তাদের গলায় দড়ি প্যাঞ্চানো রয়েছে। তাদের পুরো ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থায় রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এটি ডাকাতি হতে পারে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েতে শেষ হচ্ছে বিশেষ ভিসার সুবিধা, প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২০ এম


কুয়েতে শেষ হচ্ছে বিশেষ ভিসার সুবিধা, প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

কুয়েতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হচ্ছে ভিজিট ভিসা এবং দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বিশেষ সুবিধা। বিশেষ পরিস্থিতিতে কুয়েত সরকারের দেয়া এই সুবিধার জন্য প্রবাসীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে এই সুবিধা বন্ধ হওয়ার পর ভিসা ও ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তার কারণে কুয়েতের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে অক্ষম হয়েছেন। একইভাবে, ভিজিট ভিসায় কুয়েতে আসা অনেকের পক্ষে নির্ধারিত সময়ে দেশ ছাড়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ হয়নি। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, ভিসা ও আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে কুয়েত সরকার বিশেষ সুবিধা চালু করেছিলেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে কুয়েত সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আকামার মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা দিয়েছিল। যারা দেশে ছিলেন এবং যারা পরিবার নিয়ে কুয়েতে এসেছিলেন, তারা সবাই এই সুবিধা পেয়েছেন। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট তারিখের পর আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানো হবে না।

বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভিজিট ভিসায় অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদও বাড়ানো হয়। ফলে ভিসা বা ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য অনেককেই আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে আবেদন করতে হয়নি।

প্রবাসীদের মতে, কঠিন সময়ে কুয়েত সরকারের এই সিদ্ধান্ত ছিল মানবিক এবং সময়োপযোগী। তারা জানান, কুয়েত সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে আগে যাদের জরিমানা আসত, তাদের আর জরিমানা দিতে হয়নি। এজন্য তারা কুয়েত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিশেষ সুবিধা শেষ হচ্ছে। এর পর থেকে, ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হলে আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। একইভাবে, কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত বৈধতার সময়সীমা কার্যকর হবে।

এ কারণে প্রবাসীদেরকে সাহেল অ্যাপে নিজেদের আবাসন ও ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধতা যাচাই করার এবং শেষ তারিখ নিশ্চিত করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীরা বলছেন, নির্ধারিত তারিখের আগেই যেন সবাই আইন অনুযায়ী কর্মস্থলে বা গন্তব্যে ফেরার ব্যবস্থা করেন।

বিশেষ সুবিধা বন্ধের মাধ্যমে স্বাভাবিক ভিসা ও ছুটির ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছে কুয়েত। তাই, দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভিসা ও আবাসনসংক্রান্ত সব সেবা নিতে হবে প্রবাসীদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%