ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুড়িগ্রামে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযানে ১১১ কেজি জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা


কুড়িগ্রামে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযানে ১১১ কেজি জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিষিদ্ধ পলিথিনের অবাধ ব্যবহার, মজুদ ও বিক্রি বন্ধে কুড়িগ্রামে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। 

 
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জেলার সদরের দাদা মোড়সংলগ্ন বড় বাজারে যৌথভাবে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ক) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বড় বাজারের মেসার্স মিহির ট্রেডার্সে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ১১১ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্কতামূলকভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম।

অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশ সুরক্ষা ও নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টিভেজা বাবুছড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে জনতার পদযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০০ পি.এম


বৃষ্টিভেজা বাবুছড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে জনতার পদযাত্রা

মাদকবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দিতে যখন রাজপথে নামার প্রস্তুতি, তখনই শুরু হয় বৃষ্টি। কিন্তু তাতে থেমে থাকেনি আয়োজন। বৃষ্টিকে সঙ্গী করেই মাদকের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এমন দৃশ্য দেখা গেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ায়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বাবুছড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মাদকবিরোধী র‍্যালিটি বের করা হয়। দীঘিনালা থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী।

র‍্যালিতে দীঘিনালা থানার এসআই রাজিব শেখ, বাবুছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ওবাইদুল্লাহ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বৃষ্টির মধ্যেই র‍্যালিটি বাবুছড়ার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল মাদকবিরোধী বার্তা, কণ্ঠে ছিল সচেতনতামূলক স্লোগান। পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও র‍্যালির দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকান।

ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয়। এলাকাবাসীকে আগে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো মাদক কারবারি এলাকায় টিকে থাকতে পারবে না।

তিনি বলেন, মাদকসংক্রান্ত তথ্য গোপন না করে পুলিশকে জানানোর পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি পরিবারকে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে।

র‍্যালিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বৃষ্টির মধ্যেও পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মাদকের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। তবে তাদের মতে, শুধু সচেতনতামূলক র‍্যালি নয়, একই সঙ্গে নিয়মিত অভিযান ও সামাজিক নজরদারি প্রয়োজন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করার পাশাপাশি পুরো সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মাদক প্রতিরোধে পুলিশ মাঠে নামলে আমরা এলাকাবাসীও তাদের পাশে থাকব।

আরেক তরুণ বলেন, আমাদের প্রজন্মকে মাদক থেকে বাঁচাতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, খেলাধুলা ও ভালো কাজে তরুণদের যুক্ত করতে হবে। আজকের র‍্যালি সেই বার্তাই দিয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, বৃষ্টিভেজা এই পদযাত্রা শুধু একটি দিনের কর্মসূচি হয়ে থাকবে না; বরং বাবুছড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সূচনা করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ ঘরছাড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৬ পি.এম


ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ ঘরছাড়া

ইন্দোনেশিয়ায় পূর্বাঞ্চলীয় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে সোমবার জরুরি সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছেন। তারা স্কুল, পুলিশ স্টেশন এবং সরকারি দপ্তরে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন।

শনিবার ভোরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় ৫৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। উদ্ধার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনো নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি।

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উত্তর উপকূলে অবস্থিত ছোট শহর এমবে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

ম সোমবার সকাল পর্যন্ত বাড়িঘরে ফিরতে না পারা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১২ হাজার ৮০০-এ পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) এএফপিকে জানিয়েছে, ফ্লোরেস দ্বীপের বিভিন্ন শহরে তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন।

বিএনপিবির মুখপাত্র বার্টন সুয়ার পেলিতা পানজাইতান বলেছেন, ভূমিকম্পের পর বহু বাসিন্দা টানা দ্বিতীয় রাতেও বাড়ির বাইরে কাটাচ্ছেন। তারা বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।

এএফপি ফ্লোরেসের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের নাজেকেও রিজেন্সির ছোট শহর এমবেতে কয়েকজন বাসিন্দাকে ত্রিপল ও খুঁটি দিয়ে বানানো অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করতে দেখেছে। শহরের ৩২ বছর বয়সী বাসিন্দা জুনাইদিন এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের বাড়িগুলো আর বসবাসের উপযোগী নেই। অনেক বাড়ি ধসে পড়েছে এবং দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ফলে আমরা আর ভেতরে ঢুকতে পারছি না।’

তিনি জানান, নিজ হাতে তৈরি ওই তাঁবুর বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, সেখানে প্রায় ৩০ জন ঘুমাচ্ছেন। ‘আমরা শুধু পানি, কাপড় ও বালিশ নিতে বাড়িতে যাই। এরপর রাতটা এখানেই কাটাই।’

১৯৯২ সালে ফ্লোরেসে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্পের ভয়াবহ স্মৃতি বাসিন্দাদের মনে এখনও প্রতিভাসিত। ওই ভূমিকম্পের পর সুনামি আঘাত হানে এবং এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

‘এখানে আমরা নিজেদের মতোই আছি,’ বলেন জুনাইদিন। রাজধানী জাকার্তায় জাঁকজমকের সাথে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চলাকালীন দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জুনাইদিন বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে এখনও কোনো সহায়তা পাইনি। তাঁবু নেই, ওষুধ নেই, খাবার নেই, পান করার পানি নেই—কিছুই নেই।’

‘আমরা কিছুই সঙ্গে নিতে পারিনি’—এই মর্মাহত বিবৃতি দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দুটি হারকিউলিস পরিবহন বিমান এবং একটি বোয়িং বিমানে করে ১৩ টন জরুরি ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্তারা জানিয়েছে, কুপাংয়ের এল তারি বিমানঘাঁটির কমান্ডার বলেছেন, বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে সরাসরি জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হচ্ছে।

ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে খাদ্য, পোশাক, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত। প্রধান প্রধান কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণে সহায়তার জন্য সামরিক সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।

ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অগভীর ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের নিকটে ছিল। দুর্গত এলাকায় উঁচু ভবন খুব কম, কোথাও নেই বললেই চলে।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্টন জানিয়েছেন, দ্বীপটিতে অন্তত ৯১৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও কয়েকশ বাড়ি কম মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি দপ্তরের কয়েক ডজন ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এনজিও সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরে ৮ হাজারের বেশি শিশু ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি ও শিক্ষাজীবনে ব্যাঘাতের’ মুখোমুখি হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান রয়েছে। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকা পর্যন্ত বিস্তৃত এই অঞ্চলে তীব্র ভূমিকম্পের প্রবণতা রয়েছে এবং তাই ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়।

২০০৪ সালে সুমাত্রার উপকূলের কাছে ৯ দশমিক ১ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে পুরো অঞ্চলে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়াতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ মারা যায়।

রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপে দাবানল: সর্বশেষ পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৭ পি.এম


ইউরোপে দাবানল: সর্বশেষ পরিস্থিতি

গ্রিসের একটি দ্বীপে দাবানলে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনের আগুন নেভানোর সময়ে একটি সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে। আর জার্মানির সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বেলজিয়াম রেকর্ড দাবানল মোকাবিলায় ব্যস্ত রয়েছে। রবিবার ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে এ পরিস্থিতি ঘটেছে।

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে উষ্ণ গ্রীষ্মের কারণে ইউরোপে তীব্র তাপমাত্রা ও অত্যন্ত শুষ্ক পরিবেশ তৈরি করেছে। এর ফলস্বরূপ দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে এই গ্রীষ্মে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি:

-গ্রিসে দুইজনের মৃত্যু-

দেশটির দমকল বাহিনী জানিয়েছে, এথেন্সের নিকটে গ্রিসের সালামিস দ্বীপে দুটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ার কারণে দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। জনপ্রিয় সৈকতগুলোর কাছ থেকে কয়েক শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে।

এক কোস্টগার্ড মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘কোস্টগার্ডের টহল নৌকা ও অন্যান্য নৌযানে করে ৫৭০ জনের বেশি মানুষকে সরানো হয়েছে।’

-স্পেনে মৃত্যু-

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আরাগন অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল নেভানোর কাজের সময় রোববার একটি স্প্যানিশ সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এ অঞ্চলের নেতা জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্তৃপক্ষ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সোমবার আগুনটি ছড়িয়ে পড়েছে। এটি একটি এক হাজার বছরের পুরোনো মঠের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে যথাযথ সহায়তা প্রদানের জন্য ফ্রান্স থেকে অতিরিক্ত জনবল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

-পর্তুগালে দাবানল-

পর্তুগালে কয়েকটি দাবানল মোকাবিলা করছেন বেশ কয়েক শত দমকলকর্মী।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্পেনের সীমান্তের কাছে দিন নামক এক গ্রামের কাছে একটি দাবানলে একটি গাড়িতে আগুন লেগে যায়। এর ফলে পাঁচজন দমকলকর্মী সামান্য আহত হন।

দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থা এএনইপিসি জানিয়েছে, স্পেনের সীমান্তের কাছে আরও কয়েকটি দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছেন দমকল কর্মীরা। এর মধ্যে রয়েছে বোটিকাস ও শাভেজ অঞ্চলের আগুন।

-বেলজিয়ামের আগুন জার্মান শহরের জন্য হুমকি-

জার্মানির পাশে দুর্গম অঞ্চলে বেলজিয়ান ইতিহাসের আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বড় দাবানল মোকাবিলায় বিমান ও কৃষকদের ট্রাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে। আগুনের হুমকি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সীমান্তবর্তী একটি শহরের বাসিন্দাদের আংশিকভাবে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একটি দুর্গম প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকায় আগুন জ্বলছে। এটি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সামরিক হেলিকপ্টার এবং মাটিতে ট্রাক্টর ব্যবহার করে পানি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। শুক্রবার ৮০ হেক্টর এলাকায় ছড়িয়ে পড়া আগুন রোববার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকায় বিস্তৃত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

-ক্রোয়েশিয়ায় চারজন গ্রেফতার-

অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কয়েকটির সূত্রপাতের অভিযোগে ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

খরা ও তীব্র গরমের কারণে দাবানলের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, পাইনবন ও জলপাইবাগান পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

-ফ্রান্সে আগুন নিয়ন্ত্রণে-

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লাঁদ বিভাগে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর এলাকায় লাগানো আগুনটি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তিন দিন ধরে স্থল ও আকাশপথে অভিযান পরিচালনা করার পর আগুনটির নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা জিল ক্লাভরুল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ‘অনুকূলভাবে’ এগোচ্ছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে আগুনের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার বিকেলে এটি ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে গেছে।

স্থানীয় প্রিফেক্ট জানিয়েছেন, আগুনের কারণে সরিয়ে নেওয়া ৬৫০ জনের মধ্যে প্রথম দলটি রোববার সন্ধ্যায় নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিকম্পের পর স্বজনহারা কলম্বীয়দের শেষ সম্বল ছবি ও স্মৃতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৯ পি.এম


ভূমিকম্পের পর স্বজনহারা কলম্বীয়দের শেষ সম্বল ছবি ও স্মৃতি

কলম্বিয়ার ক্যালির আবাসিক এলাকা টোরেস দেল লিমোনারে গত সোমবার ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে ধসে পড়া স্থানে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। এখানে স্বেচ্ছাসেবকরা নিহতদের স্বজনদের জিনিসপত্র উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন। পরে স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার করা এসব জিনিস শোকাহত পরিবারের কাছে ফেরত দিচ্ছেন।

এই ঘটনার বিষয়ে খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

৭০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী মার্লেন নিনো বলেন, তিনি তাঁর বোন ডরিসকে হারিয়েছেন। মার্লেন ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি ছবি উদ্ধার করেছে, যা তাঁর বোনের। এ জন্য তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

ছবিতে তাঁর বোনের সঙ্গে নিজের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের একটি ছবি দেখিয়ে মার্লেন এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের কাছে এখন স্মৃতিগুলোই রয়ে গেছে। এগুলোর আবেগগত মূল্য অনেক বেশি।’

তিনি আরও জানান, তাঁর অনুভূতিতে একই সঙ্গে ‘আনন্দ, দুঃখ এবং নস্টালজিয়া’ কাজ করছে।

আশা যখন ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে জীবিত কাউকে উদ্ধারের, তখন ভবনটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ধ্বংসস্তূপ থেকে বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধারের কাজ পর্যবেক্ষণ করছে।

মার্লেনের বোন ডরিস নিনোর বয়স ছিল ৭২ বছর। ভূমিকম্পের সময় তিনি দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং তখনই তাঁর ভবনটি ধসে পড়ে।

ডরিসের কয়েকজন ভাগনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উদ্ধার অভিযানে যোগদান করেন। তাঁরা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর রান্নাঘরের ধ্বংসাবশেষের পাশে ডরিসের মরদেহ খুঁজে পান।

মার্লেন জানান, ‘যখন আমরা তাঁকে খুঁজে পাই, তখন তিনি মারা গেছেন। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তাঁর কোনো কষ্ট হয়নি।’

কলম্বিয়ার চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ডরিস নিনো একজন। এ ঘটনায় প্রায় ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছে এবং এখনো ১০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে অনেক ভবনে উদ্ধার অভিযান ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পের প্রায় এক সপ্তাহ পর স্বেচ্ছাসেবক এবং নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের ওপর ক্লান্তি, উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপের একটি বড় প্রভাব পড়েছে।

এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলম্বিয়া জাতীয় পর্যায়ে একটি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ব্যবস্থা চালু করেছে। এখানে অনলাইন ও সরাসরি—দুইভাবেই কাউন্সেলিং প্রদান করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানসিক সহায়তার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষজ্ঞরাও সেখানে গেছেন।

লিমোনারে স্বেচ্ছাসেবী মনোবিজ্ঞানী মানুয়েলা বারিওস বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিগত জিনিসপত্র মানুষকে তাদের প্রিয়জনের ‘স্মৃতি ধরে রাখতে’ সাহায্য করছে।

৩৮ বছর বয়সী এই মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী আরও জানান, ‘তারা যখন কোনো একটি জিনিস খুঁজে পান, তখন তাদের মুখের অভিব্যক্তি বদলে যায়। সেটিই আমার মনে থেকে যায়।’

অবশেষে, চোখের পানি মুছতে মুছতে মার্লেন নিনো জানিয়েছেন, বোনের আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে এবং তিনি নিজেকে অসহায় মনে করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তত তাঁর মরদেহ খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু অনেকেই তাদের স্বজনের মরদেহও খুঁজে পাননি। বিষয়টি আমার কাছে আরও বেশি কষ্টের।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%