০৬:৪১ এম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রফতানি প্রণোদনার ওপর উৎসে কর দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে নগদ প্রণোদনার ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ উৎসে কর বৃদ্ধি পেয়ে ২০ শতাংশ হতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরিকল্পনার আওতায় প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রেখে এই কর বৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রায় ৯০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থির পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে রফতানিকারকরা এ সিদ্ধান্তকে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ মনে করছেন।
রাষ্ট্রীয় প্রত্যাহারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ফলে রিজার্ভ ধরে রাখা এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা লক্ষ্য পূরণের জন্য সরকার তৈরি পোশাক খাত, পাটজাত পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ প্রায় ৪৩টি রফতানি খাতে প্রণোদনা প্রদান করে। এসব খাতে প্রণোদনার হার শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে।
বর্তমান ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রফতানি প্রণোদনার জন্য ৯ হাজার ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রফতানিকারকরা বর্তমানে এই অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর প্রদান করছেন। এনবিআর এই অর্থের পরিমাণ অপরিবর্তিত রাখতে চায়, কিন্তু উৎসে কর দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ক্ষমতার হিসাব হবে ৩ নভেম্বর
পোশাক রফতানিতে উদ্যোক্তারা শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ প্রণোদনা পান। কিন্তু স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার করলে প্রণোদনা ১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি রফতানিকারকদের ২ শতাংশ এবং অপ্রচলিত বাজারে রফতানিতে ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হয়ে থাকে।
কিন্তু এনবিআরের নতুন এই কর বাড়ানোর পরিকল্পনাকে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে অভিহিত করছেন রফতানিকারকরা। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু মন্তব্য করেন, মূল কারখানা একবার উৎসে কর দিচ্ছে, তারপরও যারা প্রক্রিয়াজাত করে সেখানেও ট্যাক্সেশন হচ্ছে, যা ডাবল ট্যাক্সেশন। তিনি আশাবাদী যে এনবিআর এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। প্রণোদনার অর্থ আট-নয় মাস ধরে বকেয়া থাকে, সেটি নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি রোমান মিয়া জানান, গত একটি বছরে ৩৫০ থেকে ৪০০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ব্যাংকিং সুবিধা না পাওয়াই বিষয়টির বড় কারণ। সরকারের এর প্রতি সজাগ দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
দ্বিতীয় বৃহৎ রফতানি খাত হিসেবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা প্রদান করা হয়। পাট ও পাটজাত পণ্যে ৩ থেকে ১০ শতাংশ প্রণোদনা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা মন্তব্য করছেন যে, বাণিজ্যে বাধা দূর না করে প্রণোদনার অর্থের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য সহায়ক নয়।
আরও পড়ুন: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলো ‘অর্ণব’, আঘাত হানবে বুধবার?
বিটিএর সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান জানান, ৬ শতাংশ প্রণোদনার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হতো। এখন যদি সেটি ২০ শতাংশ হয়ে যায়, তাহলে প্রণোদনার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। তিনি দাবি করেন যে উৎসে কর সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা উচিত।
অর্থনীতিবিদরা সরকারি কোষাগারে থাকা প্রণোদনার অর্থের সক্ষমতা বিবেচনায় অগ্রাধিকার খাতে নীতিসহায়তা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়েছেন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রণোদনার অর্থ সরকারকে বাজেট থেকে দিতে হয়। সেই অর্থ আহরণে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং যেখানে ট্রেড-অফ হবে সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১০ শতাংশ প্রণোদনা বর্তমানে রয়েছে, সেটি বাড়িয়ে সরকার রাজস্ব আহরণ থেকে কীভাবে সামলাবে তা নিয়েও খারাপ প্রশ্ন দেখা দেয়।
নতুন অর্থবছরে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: টোকিওতে তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির বৈঠক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন