০৩:১৪ পি.এম
উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার, গবেষক ও বহু গ্রন্থপ্রণেতা মাওলানা সৈয়দ সালমান হুসাইনি নদভী আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার (২৯ জুন) ভারতের লখনউয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
সালমান নদভী ১৯৫৪ সালে ভারতের লখনউয়ের এক ঐতিহ্যবাহী আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর বংশধারার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ৬ নতুন বাস রুটের উদ্বোধন, কমছে মোট রুট সংখ্যা
তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় লখনৌয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায়। সেখানে তিনি কোরআনে হাফেজ হন এবং ১৯৭৪ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৭৬ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে হাদিস শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সেখানে ১৯৮০ সালে প্রখ্যাত আলেম শেখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর তত্ত্বাবধানে হাদিস গবেষণায় পুনরায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির দাওয়াহ ও শরিয়াহ অনুষদের ডিন হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি দেশ-বিদেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষক ও দিকনির্দেশক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
নদভী ছিলেন একজন গবেষক ও সংগঠকও। আরবি ও উর্দু ভাষায় ইসলামি ইতিহাস, আকিদা ও হাদিস বিষয়ে তার বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ‘জামিয়াত শাবাবুল ইসলাম’ নামের যুব সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন। সাথেই তিনি বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বমূলক দায়িত্বেও যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে মেডিকেল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে বিজেপি-ইন্ডিয়া জোটের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, ব্যবসায়ীরা বিপাকে
সমসাময়িক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ও সাহসী মতামতের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাঁর বক্তব্য মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে আলোচিত হতো।
তার মৃত্যুর সংবাদে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের আলেম সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অসংখ্য ছাত্র-অনুরাগীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার লখনউয়ের নিকটবর্তী মালিহাবাদ এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ছাত্র রেখে গেছেন।
তথ্যসূত্র: কাশ্মির অবজার্ভার
আরও পড়ুন: বাস রুট রেশনালাইজেশন: সফল হবে কি এবার?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন