০৪:৪৬ পি.এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। টক স্বাদযুক্ত নিম্নমানের খাবার নিয়ে সমালোচনার পর এবারে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যদের সম্মানি না দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। টানা আট ঘণ্টা ধরে শৃঙ্খলা রক্ষা, অতিথি প্রটোকল এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কাজ করেও তারা সম্মানি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, আর্থিক সংকটের কারণে এবার সম্মানির ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, সমাবর্তনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যরা সাধারণত সম্মানি পান। তবে এবারের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে টানা দায়িত্ব পালন করেও তারা কোনো আর্থিক সম্মানি পাননি। এর আগে নবীন শিক্ষার্থীরা ওরিয়েন্টেশনে পরিবেশিত নিম্নমানের ও টক খাবার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, অধিকাংশ শিক্ষার্থী খাবার শেষ করতে পারেননি; অনেকে বাধ্য হয়েছেন অর্ধেক খেয়ে অথবা পুরো প্যাকেটই ফেলে দিতে। ইবি রোভার স্কাউট গ্রুপ ইউনিট কাউন্সিলের সভাপতি খন্দকার আবু সাঈম বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেও কোনো সম্মানি দেওয়া হয়নি। খাবারের মান নিয়েও সদস্যরা অসন্তুষ্ট। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নিয়ম ভেঙে কিভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। বিএনসিসি সেনা শাখার ক্যাডেট আন্ডার অফিসার (সিইউও) মোসাদ্দেক হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, অনুষ্ঠানজুড়ে দায়িত্ব পালন করেও তারা সম্মানি পাননি। তিনি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের দায়িত্বের জন্য সম্মানি দেওয়া হয়, কিন্তু এখানে স্বেচ্ছাসেবার যুক্তি দিয়ে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। ভর্তির সময় রোভার স্কাউটস ও বিএনসিসির জন্য আলাদা ফি নেওয়া হয়, সেগুলো কোথায় যাচ্ছে সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসেন বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন এবং ফেসবুকে লিখেছেন, গত ১ আগস্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে দায়িত্ব পালনকারী রোভার, বিএনসিসি ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীদের প্রাপ্য সম্মানী প্রদান করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেছেন, তারা নিজেদের ক্লাস ও ব্যক্তিগত সময় বিসর্জন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন। তাদের প্রদান করা সামান্য সম্মানী কোনোভাবেই তাদের সেবার মূল্য নয়, বরং এটি তাদের শ্রম, সময় ও আন্তরিকতার প্রতি ন্যূনতম স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে আরও উৎসাহের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের একটি প্রেরণা। দুর্নীতি, চুরিচামারি চলতে থাকলেও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মানী দেওয়ার ক্ষেত্রে বাজেট সংকট প্রসঙ্গটি মেনে নেয়া যায় না। এ বিষয়ে ইবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আগের বছরগুলোতে রোভার সদস্যদের ২০০ টাকা করে সম্মানি দেওয়া হলেও এবারে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র খাবারের ব্যবস্থা ছিল, কোনো আর্থিক সম্মানি রাখা হয়নি। বিএনসিসি’র প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, আর্থিক সংকটের কারণে এবার বিএনসিসি ও রোভার সদস্যদের সম্মানি প্রদানের কোন সুযোগ তৈরি হয়নি। তারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় শুধুমাত্র দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন