সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৫০ পি.এম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রবাসী সংগঠন পরিচালনার জন্য ‘ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপ-কমিটি’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দলের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ডায়াস্পোরা উপকমিটির নেতৃত্বে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রধান করা হয়েছে। মনিরা শারমিনকে উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, এনসিপির ডায়াস্পোরা উপকমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন রাফে সালমান রিফাত, তানজিল মাহমুদ, আয়মান রাহাত এবং তারেক রেজা। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রিদওয়ান হেসেন অক্ষর, আরাফাত হোসেন আলিফ, জসিম উদ্দিন ও আলমগীর চৌধুরী আকাশ। ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদকে উপকমিটির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের অনুমোদনের মাধ্যমে দলের ডায়াস্পোরা বিষয়ক কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করার পাশাপাশি, দলীয় কার্যক্রমের সমন্বয় এবং প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক কার্যক্রমকে সুসংহত করার উদ্দেশ্যে ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কেরানীগঞ্জের একটি প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ফলে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নারিকেল বাগের আমান প্লাস্টিক কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তির নাম এবং পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এদিকে, দুপুর ২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১২টা ২৫ মিনিটে নারিকেল বাগের আমান প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগার খবর তাদের কাছে আসে। ৭টি ইউনিট কাজ করে দুপুর ২টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিস তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মদ পান করে অসুস্থ হয়ে কৃষ্ণ বাড়ৈ (৩৪) এবং মনোতোষ হালদার (৩৮) নামের দুই যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। এছাড়া, মদ পান করে অসুস্থ অনিল বাড়ৈ নামে আরও এক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তারা মদ পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
নিহত কৃষ্ণ বাড়ৈ কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘলীয়া গ্রামের গেদু বাড়ৈর ছেলে এবং নিহত মনোতোষ হালদার একই গ্রামের মহেন্দ্র হালদারের ছেলে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় নেওয়ার পর সেখানে তাদের মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজার সময় ওই গ্রামের কয়েকজন যুবক স্থানীয়ভাবে তৈরি চুল্লিমদ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে রবিবার কৃষ্ণ বাড়ৈ এবং মনোতোষ হালদারের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার মধ্যে অনিল বাড়ৈ নামে আরেক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মৃত কৃষ্ণ বাড়ৈর ভাই বিষ্ণু বাড়ৈ বলেন, ‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমার ভাইসহ তিনজন ডেকোরেটরের কাজ করতে পাশের গ্রাম খাগবাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে কয়েকজন মিলে মদ পান করে। মদ পানের কয়েক ঘণ্টা পর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা কৃষ্ণকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করি। গত রবিবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ ব্যাপারে আমরা থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করিনি।’
মনোতোষ হালদারের ভাই উত্তম হালদার বলেন, ‘আমার ভাই মনোতোষ হালদার পূজায় ডেকোরেটরের কাজে গিয়ে পানি জাতীয় কিছু খেয়েছিল। যার কারণে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এরপরে এখানে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় গত শনিবার তার মৃত্যু হয়।’
রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিম চরণ বাগচী বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় সমবয়সী চার-পাঁচজন তরুণ তরল জাতীয় কিছু একটা পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরো একজন নিখোঁজ আছেন বলে শুনেছি, তবে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. রিয়াদ মাহামুদ বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের কেউ জানায়নি। আমরাও এ বিষয়ে অবগত নই। কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুয়েতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও, সেই তুলনায় প্রবাসী শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি পায়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী কর্মীদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফ আল-সাবাহ। তিনি নিয়োগকর্তাদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন যে, জাতীয়তা নির্বিশেষে সকল কর্মীর বেতন যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) কুয়েতের ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনা চলাকালীন মন্ত্রী প্রশ্ন করেন, কুয়েতি কর্মীদের বেতন নিশ্চিত করা হলেও বিদেশি কর্মীদের বেতন দিতে দেরি করা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? তার মতে, কোনো কর্মীর জাতীয়তার ভিত্তিতে বেতন পরিশোধে বৈষম্য করা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করা প্রত্যেক কর্মীরই ন্যায্য পাওনা যথাসময়ে পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফ বলেন, খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু অনেক প্রবাসী কর্মীর বেতন সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। এ অবস্থায় তারা কীভাবে নিজেদের ও পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করবেন—এমন প্রশ্ন তুলে নিয়োগকর্তাদের মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বেতন বকেয়া থাকাকে শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের গত আড়াই বছরে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি সরাসরি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে বেতন পরিশোধের অবস্থা জানার চেষ্টা করেছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে অবহেলা, মানবপাচার ও অর্থপাচারের মতো কর্মকাণ্ড কুয়েতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে। তাই শ্রম আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বেতন না পেয়ে শ্রমিকেরা যেন প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে বাধ্য না হন, সে জন্য আগেভাগেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। কর্মীদের পাওনা পরিশোধ এবং তাদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা নিয়োগকর্তাদের আইনগত ও মানবিক দায়িত্ব।
কুয়েতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী কর্মী বেসরকারি খাতে কাজ করছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে বেতন নিয়মিত পরিশোধ ও শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় মন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রবাসী কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এবং নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার সীমানা ঘেঁষে বয়ে চলা আড়িয়লখাঁ নদে প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অন্তত ১৮ থেকে ২০টি অবৈধ জালের বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এসব জালের বাঁধ নদীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত আড়াআড়ি ভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব জালে আটকা পড়ছে ছোট ছোট পোনা মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। এর পাশাপাশি, নৌযান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উক্ত নদে বাঁশ, কাঠ ও বাঁশের বানা দিয়ে উঁচু কাঠামো তৈরি করে কারেন্ট জাল বসানো হয়েছে। জাল ফেলার অংশ ছাড়া নদে মাছের চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও নদীর এক পার থেকে অন্য পার পর্যন্ত কারেন্ট জাল টানানো হয়েছে। এসব জালে দেশীয় প্রজাতির মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও ধরা পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব জালের কারণে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ধরা পড়ছে। এর ফলে মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, জালের কারণে নদে আটকে থাকতে হচ্ছে মালবাহী নৌযানকেও।
এ ব্যাপারে কটিয়াদী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ কাউসার মিয়া বলেন, "খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" অপরদিকে, মনোহরদী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাফি আফরোজ সনি জানান, "নতুন করে বিভিন্ন স্থানে জালের বাঁধ দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, "প্রবাহমান নদে জালের বাঁধ আইনত নিষিদ্ধ। অবৈধ জালের বাঁধ থাকলে অভিযান চালানো হবে।" নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, "বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খুঁজছি, সত্যতা প্রমাণে আইনগতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ