ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে


সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তের প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একটি ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সম্পর্ক পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রবিবার (৩০ আগস্ট) তিনি নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান।

তবে, চিফ প্রসিকিউটর ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নাম প্রকাশ করেননি।

বেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্তের সময় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার কথা এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। তিনি উল্লেখ করেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইং আগে থেকেই অবহিত ছিল। এক ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জোহা বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ওই কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল, ‘একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

কিন্তু কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পরদিন সকালে তিনি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। প্রকাশিত এই খবরে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিক চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য জানতে চান। তখন আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাগর-রুনির ইনভেস্টিগেশনটা আমাদের (ট্রাইব্যুনালের) ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (তদন্ত সংস্থা) করছে না। এটা (সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে) করছে পিবিআই।’

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমরা একটি ইনভেস্টিগেশন করতে গিয়ে অনেক সময় অন্য কোনো ঘটনার ক্লু পেয়ে যাই। যেমনটা আমরা পেয়েছিলাম মুজাফফরের (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মুজাফফর হোসেন) ব্যাপারে। এখন যেমন আমরা সাগর-রুনির তদন্তের ব্যাপারে ক্লু পেয়েছি। তবে আমরা নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না। তবে এইটুকু বলতে পারছি যে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনির ঘটনার (হত্যাকাণ্ডে) একটা কানেকশন পাওয়া গেছে।’

মামলাসংশ্লিষ্ট সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) পর্যালোচনার সময় ‘এই কানেকশনটা পাওয়া যায়’ জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা সেগুলা যাচাই-বাছাই করে দেখছি। তার ওপর (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব) আমাদের নজরদারিতে আছেন। আরো ইনভেস্টিগেশন হওয়ার পরে আরো অথেন্টিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের যারা সংশ্লিষ্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার আছেন, তাদের আমরা হয়তো এই তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করব।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু এটা (সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে) ওয়াইডস্প্রেড (বৃহৎ পরিসরে) বা সিস্টেমেটিক (পদ্ধতিগত) অফেন্স (অপরাধ) না, এটা একটা ইন্ডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস, সে কারণে এটা সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে। এখন দেখা যাক, কোথায় যায় কী হয়!’

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ দেন।

২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের আদেশে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাবকে। চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন চেয়ে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানির পর আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন। বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করতে স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর ওই বছর অক্টোবরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এরপর গত দেড় বছরে আদালত থেকে তিনবার সময় নেয় টাস্কফোর্স। পরে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, যা গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্টে তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সেদিন টাস্কফোর্সের অগ্রগতি প্রতিবেদন থেকে প্রকাশযোগ্য কিছু তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হাইকোর্টকে বলেন, ‘ওই সময় (হত্যাকাণ্ডের সময়) দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, অন্যান্য দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তি, এমনকি ওই সময়ের পুলিশ প্রশাসনের তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কারো কাছে বর্তমান টাস্কফোর্স কোনো অ্যাকসেস পাচ্ছেন না। ওই সময় যাদেরকে আমরা সচরাচর টেলিভিশনে দেখতাম, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের আমরা পাইনি।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ শুরুতে একমত বাংলাদেশ-চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ শুরুতে একমত বাংলাদেশ-চীন

বাংলাদেশ ও চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে, হুমায়ুন কবির চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও মূল্যবান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বাংলাদেশের এক চীন নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর, দুই দেশের সম্পর্ক ‘ভাগাভাগি ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত হওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

চীনের রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে তার সহযোগিতা কামনা করেন। চীনের নির্বাহী উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও তিনি হুমায়ুন কবিরকে শুভেচ্ছা জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন ফলাফল তুলে ধরেন ইয়াও ওয়েন। এর মধ্যে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি সই এবং মোংলায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত জানান, সিইআইজেডে প্রায় ৩০টি চীনা কম্পানি বিনিয়োগ করতে পারে। এতে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এবং স্থানীয় বাংলাদেশিদের জন্য আনুমানিক এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

এর মধ্যে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর বিষয় ছিল।

এ ছাড়া, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর, রোহিঙ্গা সংকটে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিআইডিসিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী ভাইস গভর্নরের বাংলাদেশ সফরসহ আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফর ও বিনিময় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

এ সময়, চীনের রাষ্ট্রদূত আগামী অক্টোবর মাসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ম্যাডাম আর নেই, তবে তার শিক্ষা আমাদের হৃদয়ে চিরদিন রয়ে যাবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


‘ম্যাডাম আর নেই, তবে তার শিক্ষা আমাদের হৃদয়ে চিরদিন রয়ে যাবে’

‘ম্যাডাম আর নেই, কিন্তু তার শিক্ষা আমাদের বুকেই রয়ে গেল’

 

‘ম্যাডাম আমাদের খুব ভালোবাসতেন। স্কুলে না গেলে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতেন।

বলতেন—মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে, বৃত্তি পেতে হবে। আজ ম্যাডাম আর নেই... কিন্তু তার শেখানো শিক্ষা আর ভালোবাসা আমাদের বুকেই রয়ে গেল।’

এই কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার। প্রিয় প্রধান শিক্ষিকার নিথর মুখটি শেষবারের মতো দেখতে বিদ্যালয়ে এসেছে সে।

 

কিন্তু তার চোখের অশ্রু থামছে না।

সামিয়ার পাশে থমকে দাঁড়িয়ে আছে সহপাঠী মাহফুজা আক্তার। তার হাতে প্রধান শিক্ষিকার আঁকা একটি ছবি। ছবিটি বুকের ভেতরে আঁকড়ে ধরে সে বলে, ‘ম্যাম আমাদের কত খেয়াল রাখতেন! ঠিকমতো খেয়েছি কি না, খোঁজ নিতেন।

 

আজ ম্যাডাম নেই... শুধু তার আঁকা ছবি আর স্মৃতিগুলোই আমাদের কাছে রয়ে গেল।’

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকেই নেমে আসে গভীর নীরবতা ও শোকে নিমজ্জিত এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। প্রিয় প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনকে শেষ বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয় শত শত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সহকর্মী ও স্থানীয় মানুষ।

চোখের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ঢাকায় ছিনতাইকারীর নির্মমতায় প্রাণহানি।

৫৭ বছর বয়সী রনজিলা পারভীন বগুড়া শহরের রহমাননগরে বসবাস করতেন। দীর্ঘ ৩০-৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি ছিলেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত প্রিয় ও মমতাময়ী এক রূপকার।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে স্বামী আব্দুল মতিনের সঙ্গে চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। শনিবার ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে নেমে ফার্মগেটের ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশে রিকশায় ওঠেন এই দম্পতি।

সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার হাতব্যাগ ধরে সজোরে টান দেয়। ছিনতাইকারীদের নিষ্ঠুর টানে চলন্ত রিকশা থেকে ছিটকে শক্ত পিচঢালা রাস্তায় পড়ে যান রনজিলা পারভীন। মাথায় পান গুরুতর আঘাত। রক্তে ভেসে যায় পথ।

পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘আর মাত্র ৩০-৪০ সেকেন্ড পরেই হাসপাতালে পৌঁছাতাম...’

স্ত্রীর এমন বিভীষিকাময় মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বামী আব্দুল মতিন। কান্নায় রুদ্ধ হয়ে আসে তার কণ্ঠ, ‘আমরা তো প্রায় পৌঁছেই গিয়েছিলাম... আর হয়তো ৩০ বা ৪০ সেকেন্ড লাগতো হাসপাতালে পৌঁছাতে। তার আগেই দানবের মতো এসে মোটরসাইকেলের ছিনতাইকারীরা ব্যাগ ধরে টান দিল।’

হাহাকার ভরা গলায় তিনি বলেন, ‘চলন্ত রিকশার ধাক্কায় সে ছিটকে পড়ে প্রায় ১০ হাত দূরে গিয়ে আছড়ে পড়ে। দীর্ঘ দীর্ঘ বছর ধরে শিক্ষকতা করা একটা মানুষ সামান্য চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে, এটা কোন বিবেক মেনে নিতে পারে?’

মায়ের স্মৃতিকাতরতায় দিশেহারা মেয়ে, সুবিচারের ব্যাকুল আকুতি।

রনজিলা পারভীনের এই অকালমৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে তার পরিবার। সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছে মেয়ে রাইসা আক্তার। ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী এখন মাকে হারিয়ে শোকে যেন পাথর। অশ্রুসজল চোখে সে বলে, ‘আম্মু দেড় মাস ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। ২১ দিন আগে ঢাকায় ডাক্তার দেখিয়ে আবার ফলোআপের জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু ছিনতাইকারীরা সব শেষ করে দিল... আমাদের সব কেড়ে নিল।’

মায়ের ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে রাইসা আকুতি জানায়, ‘আমি সরকারের কাছে বিচার চাই। যেন আর কোনো সন্তানকে এভাবে অকালে মায়ের বুক খালি হতে না হয়।’

নিজের খরচে অসচ্ছলদের আলো দেখাতেন যিনি।

১৯৮৮ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে আলো ছড়ানোর যাত্রা শুরু করেছিলেন রনজিলা পারভীন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেননি, দরদি হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের দিকে। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পোশাক ও পড়ালেখার খরচ জোগাতেন তিনি।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও নাটোরের বনপাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. মোতাহার হোসেন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘ম্যাডাম আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। তার মতো একজন মানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব মানুষ সমাজে বিরল। এটি কেবল ছিনতাই নয়, স্পষ্ট একটি হত্যাকাণ্ড। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত কঠিন বিচার চাই।’

‘আমাদের ছাদটাই যেন ধসে গেল’

সহকারী শিক্ষক মেহেনাজ আফরিন বলেন, ‘আমাদের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এক বটবৃক্ষ। প্রতিদিন সকাল ৮টা-৯টার আগেই স্কুলে এসে বাচ্চাদের ভালোবাসতেন। আজ আমরা সত্যিই অভিভাবকহীন হয়ে পড়লাম।’

আরেক সহকারী শিক্ষক মোছা. মেরিনা খাতুন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবারই তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার ক্ষতি হবে ভেবে তিনি সহজে ছুটি নিতে চাইতেন না। সকালেই এসে নিজে স্কুলের তালা খুলতেন। সেই চিরচেনা হাসি আর দায়িত্ববোধের স্মৃতিগুলো এখন বুক ফেটে বেরিয়ে আসছে।’

গাবতলী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, রনজিলা পারভীন ছিলেন একজন অত্যন্ত আদর্শবান শিক্ষক। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে চরম শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

শ্রদ্ধা ও অশ্রুতে শেষ বিদায়

রবিবার জোহরের নামাজ শেষে বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রনজিলা পারভীনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অশ্রুসজল নয়নে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানায় তার প্রিয় শিক্ষার্থীরা।

এরপর আসরের নামাজ শেষে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে শ্বশুরবাড়ি দারাইল এলাকার তরফসরতাজ পারিবারিক কবরস্থানে পরম মমতায় তাকে দাফন করা হয়।

বিদ্যালয়ের মেহগনি গাছের পাতা থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ—সবখানেই এখন হাহাকার। শিক্ষার্থীরা নীরবে কেঁদে চলেছে, আর বুকের ভেতর আঁকড়ে ধরে রাখছে তাদের প্রিয় ‘ম্যাডাম’-এর স্মৃতিময় দিনগুলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে লালদিয়া টার্মিনাল মাইলফলক হবে : অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে লালদিয়া টার্মিনাল মাইলফলক হবে : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল একটি মাইলফলক হবে। এটি শুধু চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশেরই নয়; পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের ‘লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ডেনমার্কভিত্তিক বিশ্বসেরা টার্মিনাল অপারেটর ‘এপিএম টার্মিনালস্ ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার বিষয়ে প্রায়ই কথা উঠে। আসলে বাণিজ্যিক রাজধানী তো করার বিষয় নয়, হওয়ার বিষয়। চট্টগ্রামে এই ধরনের আরও অনেক প্রকল্প হবে, বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। এই ধরনের কার্যপরিধি বাড়তে বাড়তে চট্টগ্রাম সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে রূপ নিবে।’

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব সরকার। যার আছে উচ্চাকাক্সক্ষী অর্থনৈতিক কর্মসূচি। তবে আমরা সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামো ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি।’

ডেনমার্কের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এসপিএম বিশ্বের শীর্ষ বন্দরে অনেক টার্মিনাল পরিচালনা করছে। তারা চট্টগ্রামের এই টার্মিনাল নির্মাণে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং যতটুকু জানি, তা পর্যায়ক্রমে আরও বাড়তে থাকবে। এপিএম মুলারের বাংলাদেশে আসাটা একটা মাইলস্টোন। তারা লালদিয়ায় আধুনিক বন্দরও নির্মাণ করবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মিত হয়ে গেলে এটার সুবিধা শুধু চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ পাবে তা নয়; এই টার্মিনালটির সুবিধা ভোগ করতে পারবে পুরো অঞ্চল। আঞ্চলিক বন্দরগুলোও তাদের প্রয়োজনে লালদিয়ায় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে। সেটা হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবে।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন দেখি, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় দেখা যায়। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগের এখন যে গতি শুরু হয়েছে, বেসরকারি খাতও যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে অবশ্যই এই দেশ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এই দেশের অর্থনীতিকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই, এই দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন ঘটাতে চাই। সে জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের, অংশীদারদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এখানে বাণিজ্যিক হাব রয়েছে, সেটি আরও প্রসারিত হচ্ছে। বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহী আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আজ নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। আমাদের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আন্তর্জাতিক মানের হতে চলেছে। লালদিয়া এপিএম টার্মিনাল পিপিপি পদ্ধতিতে বড় বিনিয়োগ। এখানে অনেক ফ্যাসিলিটিজ থাকবে, যা জাতির জন্য সুসংবাদ।’

স্বাগত বক্তব্যে এপিএম টার্মিনালস এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড বলেন, ‘টার্মিনালে অ্যাডভান্সড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। টার্মিনালে ৭টি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর থাকবে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেনার হ্যান্ডেলিংয়ের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মেজর গেটওয়ে। এ বন্দর দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি রপ্তানি এবং ৯৮ শতাংশের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে। ডেনমার্কে গ্রিন টেকনোলজির কিছু টার্মিনাল দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ১০ বছরে আমাদের কনটেইনার হ্যান্ডলিং দ্বিগুণ হবে। আমরা বিদেশি বিনিয়োগ পার্টনারকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাই।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, এপিএম টার্মিনালসের বিভি’র গ্লোবাল হেড অব বিজনেস ইমপ্লেমেন্টেশন জ্যাক ক্রেইগ, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার।

অনুষ্ঠানের শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ অতিথিবৃন্দ মঞ্চে এসে লালদিয়া কন্টেইনাল টার্মিনাল ভিত্তিস্থাপন ও আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চিটাগং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিসের প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক, চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : সিটি কর্পোরেশন ও শহরাঞ্চলসহ সারাদেশে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সভায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা ই-রিকশার ব্যবস্থাপনা, চলাচল, নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। এর আগে এ বিষয়ে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ববর্তী সভাগুলোর বিভিন্ন সিদ্ধান্তের অগ্রগতিও সভায় পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় নগর ব্যবস্থাপনা, যান চলাচলে শৃঙ্খলা, ই-রিকশার ফিটনেস পরীক্ষা ও প্রত্যয়ন, গ্যারেজ ও চার্জিং ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণকে কোনোভাবেই ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না।’ 

তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে এ নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচলে শৃঙ্খলা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হলে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা হবে। একই সঙ্গে ফিটনেস, চার্জিং ও অন্যান্য কারিগরি বিষয়কে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে। বিদ্যমান ই-রিকশাগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা করে প্রত্যয়ন গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধিমালার খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

সভায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এহসান ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে মতামত দেন।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%