ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

দেশের ৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, দমকা হাওয়ার সতর্কতা


দেশের ৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, দমকা হাওয়ার সতর্কতা

দেশের আটটি জেলায় আগামী ৩৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, এসব অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টা থেকে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ উপপরিচালকের পক্ষে কাজী জেবুন্নেছা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া এবং খুলনা অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে, এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: শীত নিয়ে নতুন বার্তা আবহাওয়া অধিদপ্তরের

ঝড়বৃষ্টির এই পূর্বাভাসের কারণে, এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুস খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০০ পি.এম


ঘুস খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও ঘুস খাওয়ার প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফালতু সফটওয়্যারের হয়রানিমূলক নিবন্ধন সিস্টেমকে আমূল সংস্কার করা উচিত। প্রবাসীদের বিএমইটি কার্ডের হয়রানি থেকে মুক্ত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে এসব কথা বলেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা একটি অভিযোগ পাচ্ছি যে, বিগত এক সপ্তাহ ধরে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-বিএমইটি কার্ড বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। ক্লিয়ারেন্স কার্ড পাচ্ছে না লোকজন, তাই আন্দোলনের ঘোষণাও এসেছে। কিন্তু ব্যাক-চ্যানেলে ঠিকই কার্ড দিচ্ছে বেশি টাকায়। নতুন সরকার আসার পরেও ঘুস খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে।"

বিএমইটি কেন প্রয়োজন-এমন প্রশ্ন রেখে তিনি লেখেন, "প্রবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে একটি কাজ অপরিহার্য তা হচ্ছে, শ্রমিকদের নিবন্ধনভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরি। আপনার দরকার ডেটাবেজ, প্লাস্টিক কার্ডের ব্যবসা জরুরি নয়। ডেটাবেজ হবে এনআইডি ও পাসপোর্ট উভয়ের ডেটার সমন্বয়ে। কোন নাগরিক কোন দেশে, কোন নিয়োগকর্তার অধীনে আছেন, এই তথ্য থাকলে প্রবাসী শ্রমিকের অসুস্থতা, কর্মহীনতা, সিরিয়াস দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুতে তাকে বা তার পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়া যায়। পাশাপাশি লাশ ফেরানো, যুদ্ধ বা আঞ্চলিক সংঘাতে সরিয়ে আনা, মজুরি না পেলে দূতাবাসের হস্তক্ষেপ ইত্যাদির জন্য নিখুঁত রেজিস্ট্রেশন দরকার। কিন্তু প্রবাসী কল্যাণ ও বিএমইটি কি সব কাজ ঠিকঠাক করছে? যদি না করে, তাহলে রেজিস্ট্রেশনের নামে তাদের হয়রানির অধিকার কে দিয়েছে?"

দাবি জানিয়ে হাসনাত লেখেন, "প্রবাসীদের ক্রমাগত হয়রানি থামাতে, বিএমইটিকে গেটকিপার থেকে রেজিস্ট্রারে রূপান্তর করতে হবে। অর্থাৎ, শ্রমিকদের নিবন্ধন প্লাস্টিক কার্ড থেকে সরিয়ে ডেটাবেজভিত্তিক করতে হবে। সঠিক ডেটাবেজের জন্য দরকার-

১. পাসপোর্ট, এনআইডির তথ্য সঠিকতা। এসব তথ্য ম্যানুয়াল ফিল হবে না, সার্ভার থেকে অটোমেটিক আসবে সিকিউর এপিআই করে।

২. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা (শিক্ষা বোর্ডের ও টিটিসির সঙ্গে সরাসরি এপিআই করা ভেরিফিকেশন)। এখানে হার্ডকপি সার্টিফিকেট যাচাই পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।

৩. ভিসা যাচাই এবং প্রবাসী দূতাবাসের এন্ডোর্সমেন্ট। এটা শতভাগ অনলাইন ও এপিআইভিত্তিক হতে হবে।

৪. হেলথ চেক। এখানেও ভিন্ন ভিন্ন দেশের অ্যাপ্রুভড ক্লিনিকের সঙ্গে রিয়েল-টাইম ডেটা ভেরিফিকেশন রাখতে হবে।

এরপরে আসবে-দুর্ঘটনা, অসুস্থতা ও লাশ ফেরানোর মতো বিমার তথ্য, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স সুবিধাদির তথ্য। বিদেশে কর্মহীন থাকার তথ্য এবং নেসেসারি সাপোর্ট।

কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য লেখেন, "সাবেক ও বর্তমান সরকার এপিআইভিত্তিক রিয়েল-টাইম সনদ যাচাই পদ্ধতি সম্পর্কে হয় জ্ঞান রাখে না, না হয় দুর্নীতি ও ঘুসচক্র জারি রেখে দালালচক্র পালাই তাদের উদ্দেশ্য। ফলে, তারা এখনো হার্ডকপি পেপার ভেরিফিকেশনের একটা হয়রানিমূলক ব্যবস্থা চালু রেখেছে। একের পর এক নিম্নমান সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেবার নামে হয়রানি চলছে।"

বিএমইটির কার্ডের পুরো জাস্টিফিকেশনটাই করা হয়েছিল প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিং আর অথেন্টিক ডকুমেন্টস (জব, ভিসা) বাধ্যতামূলক করতে। এমনটি উল্লেখ করে তিনি লেখেন, "অথচ বিএমইটি কার্ড দিয়ে ঘুস দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। শুধু বৈধ ভিসা যাচাই এবং মেডিকেল কিংবা লাশ ফেরানো ও বিমা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বিএমইটির জাস্টিফিকেশন থাকে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন টিটিসিগুলোর (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার) সার্টিফিকেশন রিয়েল-টাইম এপিআই ভেরিফিকেশনও করা যায়।"

তিনি আরও লেখেন, "যেহেতু হেলথ করানো হয় বিদেশি দূতাবাসগুলোর ট্রাস্টেড পার্টনার থেকে, তাই এসব ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট অনলাইন এপিআই দিয়ে যাচাই করা সহজ হওয়ার কথা। কিন্তু, বাংলাদেশে বিএমইটি ভিসার বৈধতা, দক্ষতার সনদ, পাবলিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট কিংবা মেডিকেল সনদ ইত্যাদির রিয়েল-টাইম ডেটাবেজ সাপেক্ষে যাচাই করতে পারে না। ফলে, এখানে জাল ডকুমেন্টের ছড়াছড়ি। এ অবস্থায় বিএমইটি থাকার যৌক্তিকতা কোথায়? বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি করা আর ম্যানপাওয়ার ব্যবসার নামে দালাল পোষার জন্য?"

ভারত ও নেপালের উদাহরণ দিয়ে তিনি লেখেন, "বাংলাদেশ ভারত-নেপালের প্রবাসী শ্রমিক ম্যানেজমেন্ট থেকে শিক্ষা নিতে পারে। ভারতের মডেলটিই সবচেয়ে শিক্ষণীয়, এবং কারণটি ফি নয় বরং সেবার পরিধি। ভারতে ছাড়পত্র লাগে কেবল তাদের, যাদের পাসপোর্টে ECR সিল আছে, অর্থাৎ যারা দশম শ্রেণি পাশ করেননি। মাধ্যমিক পাস করলেই ইসিএনআর (ECNR) ক্যাটাগরি, কোনো ছাড়পত্র লাগে না। ছাড়পত্র লাগলেও তা কেবল নির্দিষ্ট ১৮টি দেশের জন্য। পুরো প্রক্রিয়া (emigrate ডট gove ডট in) এ অনলাইন, ফি ২০০ রূপি, আবেদনের দিনই পিওই (POE) ছাড়পত্র দেন। অনলাইনে এবং হয়রানি ছাড়া। অর্থাৎ, ভারত প্রবাসী সেবা অনলাইন ও পলিসিভিত্তিক সহজ ও উন্মুক্ত করে সংস্থার আওতা সংকুচিত করেছে। শিক্ষার একটি ন্যূনতম মান পার হলেই রাষ্ট্র ধরে নিচ্ছে, নাগরিক নিজের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। বাস্তবে এটা কাজ করছে।"

এনসিপির এই নেতা আরও লেখেন, "২০১৫ সাল থেকে নেপাল তাদের ফ্রি ভিসা, ফ্রি টিকিট-নীতি বাস্তবায়ন করেছে, যেখানে সাতটি প্রধান গন্তব্যে ভিসা ও বিমানভাড়া নিয়োগকর্তার দায়। ফলে নেপালের প্রবাসী শ্রমিকও বেড়েছে, দালালের দৌরাত্ম্য ও খরচ দুটোই কমেছে। ভারতে POE / eMigrate (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) এর মাধ্যমে দূতাবাস-সত্যায়িত চুক্তিপত্র এবং নিয়োগকর্তার নিবন্ধন করে। কেবল ECR পাসপোর্টধারী, কেবল ১৮টি দেশের জন্য ছাড়পত্র লাগে। অদক্ষ শ্রমিক ও নারী শ্রমিকের ক্ষেত্রে ভারতীয় দূতাবাসের সত্যায়ন বাধ্যতামূলক।"

এতে করে যাচাইয়ের একটি প্রকৃত ভিত্তি থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি। হাসনাত লেখেন, "বাংলাদেশে সেই ভিত্তিটিই দুর্বল, ফলে ছাড়পত্র হয়ে দাঁড়ায় একটি সিল, যাচাই নয়। চাইলে ইমিগ্রেশনের ফোর-ট্র্যাক সফটওয়্যারেও একটি প্রবাসী সাপোর্ট ডেটা ফিল্ড খোলা যায়। এখানে ভিসা-পাসপোর্ট ম্যাপিং ডেটাবেজ, মেডিকেল রেকর্ড এবং টিটিসির সনদের রিয়েল-টাইম এপিআই যাচাই সম্ভব। কোনো নতুন প্রকল্প লাগে না, বিদ্যমান সিস্টেমের ইন্টারঅপারেবিলিটি করলেই হয়।"

শেষে তিনি লেখেন, "বিশ্বব্যাংকের হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যয় প্রায় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ-সৌদি আরব, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ-কাতার, বাংলাদেশ-আরব আমিরাত, বাংলাদেশ-কুয়েত করিডোরে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে গড় খরচ ৪ দশমিক ১৭ লাখ টাকা, যা তুলতে লাগে ১৭ দশমিক ৬ মাস। বাস্তবে ঘুস দালালচক্র এবং এয়ারপোর্ট কমিশনের পরে লাগে ৫ লাখের বেশি। অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের অবস্থা ভয়াবহ।"

প্রবাসীদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে, ফালতু সফটওয়্যারের হয়রানিমূলক নিবন্ধন সিস্টেম আমূল সংস্কার করুন। বিএমইটি কার্ডের হয়রানি থেকে প্রবাসীদের মুক্ত করুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসী প্রেমিকের প্রতি অভিমানে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০০ পি.এম


প্রবাসী প্রেমিকের প্রতি অভিমানে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

নাটোরের বড়াইগ্রামে এক কলেজছাত্রী, সিনথিয়া রহমান কাজল (১৯), প্রবাসী প্রেমিকের প্রতি অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। বৃহস্পতিবার তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। কাজল উপজেলার কালিকাপুর মহল্লার মৃত মিজানুর রহমানের ছোট মেয়ে ছিলেন। তিনি কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

মৃতের পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, কাজলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল চীন প্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে। ওই যুবক দেশে ফিরলে তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার রাতে মোবাইল ফোনে কোনো বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে কাজল নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে দেন। বৃহস্পতিবার সকালে কাজল ঘর থেকে বের না হওয়ায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে তাকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, মৃতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান, আটক নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০১ পি.এম


জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান, আটক নেই

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনী হঠাৎ করে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল বেলা এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় পুলিশ, এপিবিএন এবং বিজিবির বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এই অভিযানটি তিনটি টিমে বিভক্ত হয়ে পরিচালনা করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে কোনো অপরাধীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, সন্ত্রাসীদের প্রথম ও দ্বিতীয় সারির সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুরে নেই।

অভিযান শেষে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম মন্তব্য করেন, জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে পুলিশ, বিজিবি ও এপিবিএন সদস্যরা অবস্থান করছেন। এলাকাটি বড় ও দুর্গম হওয়ায় এখানে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এটি একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা। সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনাকারী এবং সাম্রাজ্য বিস্তারকারী ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে এই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

 

পুলিশ সুপার আরও জানান, আজকের অভিযানে তিনটি টিমে বিভক্ত হয়ে কাজ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা এবং তাদের একটি বার্তা দেওয়া—তাদের ক্ষতি হয় এমন কিছু করার জন্য আসা হয়নি। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই আমরা এখানে এসেছি। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল যে তাদের উচ্ছেদ করা হবে, কিন্তু এমন কিছু করা হবে না। তারা নিজেদের মতো করে নিরাপদে থাকতে পারে। আমরা তাদের সহায়তা করব।

তিনি বলেন, এই এলাকায় যারা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চায়, তাদের জন্য একটি বার্তা হচ্ছে—যদি তারা এখানে আসেন বা থাকেন, তাহলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। এখানে সন্ত্রাসীদের প্রথম বা দ্বিতীয় সারির সদস্যরা নেই। তারা পলাতক অবস্থায় রয়েছে। কিছু সদস্য রাতে হয়তো ফিরে আসতে পারে। তৃতীয় বা চতুর্থ সারির সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। নিয়মিত গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার বলেন, অভিযানের মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে—যদি কেউ কোনো ধরনের অপচেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। একবারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

অভিযানের সময় পুরো এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে গেছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—এই প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, এটি আতঙ্কের ফল হতে পারে। তবে আমরা অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা জানিয়েছেন, অনেক বাসিন্দা বিদেশে অবস্থান করছেন। আবার কেউ কেউ বাইরে কাজ করছেন এবং রাতে ফিরে আসতে পারেন। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা একটি শান্তির বার্তা দিতে চাই। সন্ত্রাসীরা যেন অপরাধ করতে না পারে। যদি তারা অপরাধ করে, তাহলে বাসিন্দাদের আমাদের জানানোর জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখানে যেন দেশের অন্যান্য অংশের মতো নিরাপদে বসবাস করা যায়, যাতে কোনো সমস্যা না হয়।

পুলিশ সুপার জানান, তিনটি রাস্তার কাজ করছে সেনাবাহিনী। রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হলে আমাদের চলাচল বৃদ্ধি পাবে। এরপর আর কোনো কানাঘুষা থাকবে না। যারা শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে, তারা পলাতক। নতুন কাউকে গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ গড়ে উঠতে চায়, তাহলে তাদের অঙ্কুরেই ধ্বংস করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে যুবকের ১ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০২ পি.এম


জামালপুরে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে যুবকের ১ বছরের কারাদণ্ড

জামালপুরের সরিষাবাড়ী এলাকায় স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত সুমন মিয়াকে (২৮) এক বছরের কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা প্রদান করেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের বারইপটল উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন মিয়া কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামের মুসলিম মিয়ার পুত্র। তিনি স্থানীয় একটি বেকারি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার সময় দীর্ঘদিন ধরে সুমন তাঁকে উত্ত্যক্ত করছিলেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় উত্ত্যক্ত হওয়ার পর, বিদ্যালয়ে পৌঁছে তিনি বিষয়টি শিক্ষক ও সহপাঠীদের জানিয়ে দেন। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্থানীয় বেকারি কারখানা থেকে সুমনকে আটক করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লিজা রিছিল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন। এরপর বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সুমনকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লিজা রিছিল মন্তব্য করেন, ‘স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক যুবককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়ে পুলিশে মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইভটিজিং বা যেকোনো ধরনের হেনস্তার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%