০৭:৫২ এম
জার্মানির কট্টর ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দল এএফডির বিরুদ্ধে পূর্বাঞ্চলীয় শহর এয়্যারফোর্টে বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।
তারা দলটির বার্ষিক সম্মেলনে যাওয়ার পথ অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। এর ফলে সম্মেলনস্থলে যাতায়াত কার্যত ব্যাহত হয়।
শনিবারের সম্মেলনে আল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) তাদের দুই নেতাকে পুনর্নির্বাচিত করে। যারা একটি জাতীয় শক্তি হিসেবে দলটির উত্থানের তত্ত্বাবধান করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, ৩৩০ রান করে ১ রানের লিড
বার্তা সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, এএফডির দুই দিনের সম্মেলনকে ঘিরে বিভিন্ন ইউনিয়ন, সামাজিক গোষ্ঠী এবং বামপন্থি পার্টির বিক্ষোভকারীরা এয়ারফোর্টে জড়ো হয়। তাদের পাশাপাশি সম্মেলনের আগেই পুরো জার্মানি থেকে আসা অতিরিক্ত সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ শহরটিতে মোতায়েন করা হয়।
দাঙ্গা দমনে প্রস্তুত পুলিশের নজরদারির মধ্যে, বিক্ষোভকারীরা এএফডির সম্মেলন কেন্দ্রে যাওয়ার মহাসড়ক ও সড়কগুলো অবরুদ্ধ করতে সারিবদ্ধভাবে বসে পড়েন। পুলিশের হিসাবে পূর্বাঞ্চলীয় ওই শহরটিতে ও এর আশপাশে বিক্ষোভগুলোতে ১৫ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিল।
সম্মেলনের শুরুতেই এএফডি পার্টি প্রধান পদে আলিস ভাইডল ও টিনো ক্রুপালাকে পুনর্নির্বাচিত করা হয়। এই দুই নেতার তত্ত্বাবধানে এএফডির উত্থান ঘটে। জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের সমর্থনের দিক দিয়ে এএফডি জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের রক্ষণশীল জোট থেকেও এগিয়ে আছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তারা বিক্ষোভকারীদের গণতন্ত্র-বিরোধী বলে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা ও উপহাস করেন। জরিপে এএফডির উত্থানের যেই আভাস সামনে এসেছে তা নিয়ে উল্লসিত এই নেতারা বলেন যে, চলতি বছরের আঞ্চলিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলটি ক্ষমতায় আসবে, এমন বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
তারা তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে ক্লান্ত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং জার্মানিকে পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
সম্মেলন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে, দলটির কঠোর অভিবাসন বিরোধী অবস্থানের জানান দিয়ে এএফডির সামাজিক মাধ্যম সম্প্রচারে তথাকথিত ‘সেন্ড দেম ব্যাক’ গান বাজানো হয়। সম্মেলন কেন্দ্রের ভেতরে পুরনো দিনের নকশা ও নান্দনিকতার অনুসরণে তৈরি করা কার্ড বিক্রি করা হয়, যেগুলোর কিছুতে লেখা ছিল, “তোমাকে নির্বাসিত করা হবে।”
সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, এএফডির জনসমর্থন বেড়ে ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে যেখানে মের্ৎসের সিডিইউ/সিএসইউ রক্ষণশীল জোটের সমর্থন প্রায় ২২ শতাংশের মতো।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন