ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুসলিম দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে নতুন আঞ্চলিক চুক্তির আহ্বান ইরানের


মুসলিম দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে নতুন আঞ্চলিক চুক্তির আহ্বান ইরানের

ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মুসলিম দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নতুন আঞ্চলিক চুক্তি ও সহযোগিতার কাঠামো মুসলিম দেশগুলোর জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে সক্ষম হতে পারে।

ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে শনিবার প্রকাশিত বার্তায় গালিবাফ বলেছেন, ইরানে সুন্নি ও শিয়া মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য জাতীয় শক্তি ও নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি প্রমাণ করে যে বিদেশি শক্তিগুলো মুসলিম দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অক্ষম। সুতরাং, মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সদিচ্ছা, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা গড়ে তোলা উচিত।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

গালিবাফের মতে, নতুন আঞ্চলিক চুক্তি ও ব্যবস্থাগুলো মুসলিম প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিদেশিদের পরিবর্তে নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করার সুযোগ দেবে। একই সঙ্গে, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের পথ বেছে নেয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি মুসলিম ঐক্যের সুফল তুলে ধরেছে। মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিপক্ষের মোকাবিলা এবং আধিপত্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: তাসনিম নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে ট্রাম্পের চুক্তি, যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩১ এম


ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে ট্রাম্পের চুক্তি, যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে একটি বড় চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এই চুক্তিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তবে এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। পুরো চুক্তির নথি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

শুক্রবার রাতে ট্রাম্প এই চুক্তির কথা জানান। এতে উল্লেখ করা হয়েছে ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন, যেখানে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশটির তেলশিল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসাথে, ভেনেজুয়েলা ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে।

চুক্তির শর্তানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার একটি বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে নতুন একটি কোম্পানি গঠন করেছে। এই কোম্পানিকে অনুন্নত তেলক্ষেত্রগুলোর অধিকার ১০০ বছরের জন্য প্রদান করা হয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন কোম্পানির কার্যকর উৎপাদনের ৫৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে। এই অংশের মধ্যে মালিকানার অংশীদারিত্ব এবং উৎপাদন খরচে তেল কেনার অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই ৫৫ শতাংশের মধ্যে কতটা মালিকানা এবং কতটা তেল কেনার অধিকার, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

চুক্তির আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো বিনিয়োগের অর্থের উৎস কী হবে। ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে উৎপাদন বাড়াতে কয়েক বছর এবং বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর কথা বললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প সময়ে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি, ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ল্যাবের পরিচালক অ্যামি মায়ার্স জ্যাফে মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি সহায়ক হতে পারে। তবে দ্রুত উৎপাদন বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা জ্বালানির দামে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না।

ভেনেজুয়েলায়ও এই চুক্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির অনেকের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে এতদিন বলা হয়েছে যে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের মানুষের জন্য। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে তেলসম্পদে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হচ্ছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ভেনেজুয়েলার সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী রিকার্ডো হাউসমান চুক্তিটিকে ‘লজ্জাজনক চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এমন চুক্তি করার বৈধতা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রেও এই চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থকেরা এটিকে ঐতিহাসিক চুক্তি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পেছনে দেশটির তেলসম্পদ দখলের উদ্দেশ্য ছিল।

চুক্তির আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অজানা রয়ে গেছে। বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে কত অর্থ লাগবে এবং সেই অর্থ কে দেবে, সেটিও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্বের সঠিক কাঠামোও পরিষ্কার করা হয়নি।

ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় একমাত্র মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এক্সনমোবিলও কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও এত বড় বিনিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং বিনিয়োগের ঝুঁকির কারণে বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো এই খাতে কতটা আগ্রহী হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্র:

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬ মাসে ২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ এম


৬ মাসে ২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ৬ মাসের মধ্যে ২ লাখ শ্রমিক নেওয়া শুরু করবে।

তিনি রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এ তথ্য প্রদান করেন।

বিস্তারিত আসছে...

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রত্যেক গুমের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ এম


প্রত্যেক গুমের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রত্যেকটি গুমের ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি এই মন্তব্যটি করেছেন রোববার (৩০ আগস্ট) ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে, যা শনিবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশ পায়।

আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক মানুষ গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, "যারা গুমের শিকার এবং যারা এখন পর্যন্ত তাদের পরিবারের সদস্যদের সন্ধান পাননি, তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে, প্রত্যেকটি গুমের ঘটনার ন্যায়বিচার আমরা নিশ্চিত করব।" গুমের মতো অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের শিকার না হন। তিনি জানান, গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, "সমাজের যত বড় ব্যক্তি হোক, কাউকেই কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।" গুমের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদেরকে বিচারের সম্মুখীন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কারাগারে পাঠানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রিগেডিয়ার আযমী, ব্যারিস্টার আরমান ও বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের বিচার কার্যক্রমের আওতায় আছেন।

অন্যদিকে, গুমের শিকার প্রায় ২৫০ জনের পরিবারের অভিযোগ এসেছে। চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, "আমরা আশা করি এ বছরের মধ্যেই ২৫০ জন গুম পরিবারের সদস্যের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসব।"

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস রোববার পালিত হচ্ছে। জোরপূর্বক গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবার তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারে না এবং বিচার পাওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, স্মরণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন তেল চুক্তি নিয়ে ভেনেজুয়েলাবাসীর মধ্যে সংশয় থাকলেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের আশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


মার্কিন তেল চুক্তি নিয়ে ভেনেজুয়েলাবাসীর মধ্যে সংশয় থাকলেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের আশা

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ উত্তোলন ও ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রকে সুযোগ দিয়ে যে নতুন চুক্তি করা হয়েছে, তা নিয়ে দেশটির জনগণের মধ্যে সংশয় ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তবে, বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে, অনেকে চুক্তিটিকে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা হিসেবেও দেখছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার চুক্তিটিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল তেলসম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পাবে।

কারাকাসের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে বেসরকারি খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলসম্পদের দেশ ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শনিবার বলেন, চুক্তিটির লক্ষ্য হলো ভূগর্ভে পড়ে থাকা ‘নিষ্ক্রিয় ও অব্যবহৃত’ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে তা ভেনেজুয়েলার জনগণের ‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক কল্যাণের উৎসে’ পরিণত করা।

তবে, চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করায় ভেনেজুয়েলাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমনকি সরকারের সমর্থকদের মধ্যেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলার কম লাভ পাওয়ার সম্ভাবনা এবং এর রাজনৈতিক মূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

৬৮ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী যিশুস সালাজার বলেন, ‘এতে কার লাভ হবেÑভেনেজুয়েলার, নাকি যুক্তরাষ্ট্রেরÑআমরা জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সন্দেহ আছে। তবে কী হয়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

জানুয়ারিতে দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও আটক করার পর থেকেই ভেনেজুয়েলা ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে।

মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এর শর্ত হিসেবে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন দল শনিবার জানিয়েছে, তারা এমন অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে সমর্থন করে, যা ‘জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, একতরফা চাপমূলক ব্যবস্থা ও অন্যায্য অবরোধের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।’

ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ধসে পড়ার জন্য দেশটির সরকার দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করে আসছে।

রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার খনিজ ও জ্বালানি খাতে একাধিক সংস্কার এনেছেন। এর মাধ্যমে আগে কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব খাত বেসরকারি মূলধন ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন মাদুরো সরকারের আমলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর আরোপ করা কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদন ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। তবে, প্রায় ২৫ বছর আগে দেশটি যে দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত, বর্তমান উৎপাদন এখনো তার তুলনায় অনেক কম।

নতুন মার্কিন চুক্তির লক্ষ্য উৎপাদনকে আবার সেই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ লক্ষ্য অর্জনে সময় লাগবে।

কারাকাসের ইনস্টিটিউট অব হায়ার স্টাডিজ ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইইএসএ)-এর অধ্যাপক ও প্রকৌশলী অসওয়ালদো ফেলিজোলা বলেন, ‘উৎপাদন বাড়ার প্রভাব দেখতে অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে।’

ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্যারান্টার’ হিসেবে ভূমিকা রাখার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। কারণ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, এটি না হলে আগামী ১০ বা ১৫ বছরে এই ক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন হবে না। কারণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোলিওস দে ভেনেজুয়েলা (পিডিভিএসএ) কাছে এ কাজ করার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা নেই।

এত বড় একটি উদ্যোগ ভেনেজুয়েলার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করতে পারে। ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি ভয়াবহভাবে ৮০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। এতে লাখ লাখ ভেনেজুয়েলাবাসী দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যান।

দেশটির অনেক মানুষ এখন মাসে মাত্র ১৬ সেন্টের সমপরিমাণ ন্যূনতম মজুরি দিয়ে জীবনযাপন করেন। এর সঙ্গে সরকারি ভর্তুকি হিসেবে মাসে সর্বোচ্চ ২৪০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে। তারপরও পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কিনতে আনুমানিক ৭৩০ ডলার প্রয়োজন।

সংশয়ের পাশাপাশি আশাবাদও

৭৪ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা কার্লোস বাকো আশা করছেন, নতুন চুক্তির মাধ্যমে তেল থেকে আয় আসা শুরু হবে। তবে গত কয়েক মাসে তেল উৎপাদন বাড়লেও তার ব্যক্তিগত জীবনে এর কোনো সুফল তিনি দেখতে পাননি।

তিনি বলেন, ‘ভোগ্যপণ্য ও খাবারের দাম বেড়েই চলেছে, ডলারের দাম বাড়ছে, আর এর সঙ্গে পণ্যের দামও বাড়ছে। এখানে জীবনযাপন অসম্ভব।’

রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, নতুন চুক্তি থেকে সরকার ২০ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে। তবে কীভাবে এই রাজস্ব আসবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

অরিনোকো থিংকট্যাংকের বিশ্লেষক এলিয়াস ফেরারও চুক্তিটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যদিও এর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি আগের অবস্থার চেয়ে ভালো। আগে এই তেল উত্তোলন করা হচ্ছিল না। কেউ তেল উত্তোলন না করলে রয়্যালটি দেয় না, লাভও হয় না।’

ভেনেজুয়েলার সাবেক জ্বালানি উপমন্ত্রী ও আইনজীবী ডলোরেস ডোবারো বলেন, ‘সবকিছু সঠিকভাবে করা হলে এটি ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%