বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:০০ এম
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ২৩ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করেছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নতুন দাম সারা দেশে বুধবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত দামে স্বর্ণ বিক্রি হবে।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমানোর কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে গহনার নকশা ও ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি যুক্ত হবে।
এছাড়া, ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে স্বর্ণ ও রুপার গহনা বিনিময় বা বেচাকেনার ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে।
এর আগে, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ভরিতে ৪ হাজার ৭২৩ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯০৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর আবারও হামলা চালানোর জন্য দেশটি প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা যখন চাই, তখনই’ ইরানে আরেক দফা হামলা চালাতে সক্ষম।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইরানের সামরিক সরঞ্জামের ওপর যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। তার ভাষ্য অনুসারে, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী অঞ্চলে ইরান নতুনভাবে রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং মাইন পেতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম তৈরি করছিল। মার্কিন বাহিনী এসব সরঞ্জাম শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুব শক্ত নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে। মাঝে মাঝে ইরান ড্রোন হামলা করলেও সেগুলো প্রতিহত করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা গত রাতে তাদের ওপর খুব কঠোর আঘাত করেছি।’ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান নতুনভাবে যে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করেছিল, তার সবই ধ্বংস করা হয়েছে। তার মতে, এসব সরঞ্জামের মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ধরনের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ট্রাম্প ইরানকে আবারও সতর্ক করে বলেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, চলমান সংঘাত খুব বেশি দিন স্থায়ী নাও হতে পারে।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, তিনি কথাটি শুধুমাত্র ‘মজা করে’ বা ‘ভাবনা হিসেবে’ বলেছিলেন।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এরপর ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কেশম দ্বীপ, বন্দরে আব্বাস, সিরিক, চাবাহার ও কোনারাকে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে, ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানাচ্ছেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়ার কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। খবর আনাদোলুর।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিবিএস নিউজকে খানাল জানিয়েছেন, পুরো গ্রাম, শহর ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে তিনি ‘নিশ্চিতভাবেই’ আশঙ্কা করছেন যে প্রাণহানির সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।
বন্যা ও ভূমিধসের কারণে নেপালের উত্তরের দুর্গম জেলা নুয়াকোটে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে সড়ক ও সেতু সম্পূর্ণরূপে ভেসে যাওয়ায় অনেক এলাকার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোতে পৌঁছানোর প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে হেলিকপ্টার।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্যোগ আঘাত হানে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৭৫৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৪১ জন চীনের নাগরিক।
খানাল জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দল মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ধরনের পার্থক্য না করে কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা বিদেশি নাগরিক—সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
দুর্যোগের ফলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোর বহু জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকারীদের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং নিখোঁজদের সন্ধান করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে ফোন করেছিলেন। তিনি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জন্য ঢাকা–১০ আসন ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেছিলেন, এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
রাশেদ খান বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আসনটি জামায়াত না ছাড়ায় দলটিকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই সহকারী।
পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেছেন, আসিফ মাহমুদ কোন দুর্নীতি করেননি। তিনি শুধুমাত্র জামায়াতের আমিরকে প্রশ্ন করেছেন কেন আসিফকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়তে বলা হয়নি। নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে কিছু ব্যক্তির কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, জামায়াতের আমির অনেক দরকষাকষির পরেও আসিফ মাহমুদের আসনটি ছাড়েনি। নাহিদ ইসলামের ভাষায়, জামায়াতের আমিরের মন্তব্য ছিল যে, আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় জামায়াত নিতে রাজি হয়নি।
তিনি আরও লিখেছেন, আসিফ মাহমুদ আসনের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াতের আমিরকে ফোন করলে, জামায়াতের আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে আরও ২-৩টি আসন ছাড়বেন, কিন্তু আসিফ মাহমুদের বিষয়ে অনুরোধ করবেন না। রাশেদ খান বলেন, জামায়াতে আমিরের এই অবস্থানের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করতে পারেন।
রাশেদ খান পোস্টে উল্লেখ করেছেন, বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র কোনো নেতা আসিফের পাশে নেই কেন? এর মূল কারণ হলো আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টি এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট। এনসিপির অধিকাংশ নেতাকর্মী কষ্টে জীবন অতিবাহিত করেন, সেখানে আসিফ মাহমুদ মাত্র ১৮ মাসের উপদেষ্টা হয়ে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছিলেন। দুদকের কোনো কর্মকর্তার শব্দের হেরফের হওয়ার কারণে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যাননি। তিনি অন্তত একজনকে বড় অংকের অর্থ প্রদান করেছিলেন, যা তিনি নিজে জানেন। এ বিষয়ে একজন উপদেষ্টাকে জানালে, তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বেতন থেকে তো কেউ এত টাকা দিতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী লিখেছেন, আসিফ মাহমুদ তো ওমরাহ করে এসেছে, তার উচিত ছিল অল্প বয়সের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা। তিনি অন্তত তার এই ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতেন। তবে বিরোধিতার কারণে, বিরোধীদলের সবাই আসিফ মাহমুদের পক্ষে অবস্থান করলেও, তার কাছে যতটুকু তথ্য আছে, তাতে তিনি সবসময় বলবেন, আসিফ মাহমুদ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন!
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ