শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৮ পি.এম
ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম বলেছেন, "যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; বরং সারা বছর নিয়মিতভাবে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করতে হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেছেন। আজ সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই প্রতিমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে চলমান কার্যক্রম পরিদর্শনে বের হন। তিনি ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক ও রাপা প্লাজা এলাকায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল এবং আশপাশের পরিবেশ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর সেচ ভবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। প্রতিমন্ত্রী আবারও বলেন, "যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; বরং সারা বছর নিয়মিতভাবে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।" সরকারি সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মীর শাহে আলম বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী তিন মাসের এ বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।" তিনি বলেন, এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু মশা নিধন নয়; বরং পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং নাগরিকদের মধ্যে স্থায়ী সচেতনতা গড়ে তোলা।
তিনি আরও বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।" এডিস মশা যাতে বংশবিস্তার করতে না পারে, সেজন্য বাড়ি-ঘর, নির্মাণাধীন ভবন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনার আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নির্মাণাধীন ভবনকে এডিস মশার প্রজননের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, "নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।" নির্মাণসামগ্রী, ড্রাম, বালতি, গর্ত বা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ভবন মালিক, নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়মিতভাবে এসব স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, "সংশ্লিষ্টদের সচেতন ও সতর্ক করার পরও কেউ যদি দায়িত্বে অবহেলা করেন এবং এডিস মশার প্রজননের পরিবেশ সৃষ্টি করেন, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড এবং প্রয়োজনে কারাদণ্ডের মতো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" তবে তিনি সবাইকে শাস্তির পরিবর্তে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং অন্যান্য অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আংশিক ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন একটি উপজেলা গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব প্রস্তুত করে বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশসহ স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণের জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ১০ সেপ্টেম্বর তারিখে জারি করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) সংসদীয় আসনের আওতাধীন সাতকানিয়া উপজেলার আংশিক ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন একটি আলাদা উপজেলা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ উদ্যোগটি চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমেদের পাঠানো ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০০৮ সালের ২৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্রে নির্ধারিত শর্ত ও নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করে বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশসহ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে অনুরোধ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন উপজেলা গঠনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সুবিধা, জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, আয়তন, স্থানীয় জনগণের সুবিধা এবং বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হবে।
জেলা প্রশাসনের প্রস্তাব পাওয়ার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
চিঠির অনুলিপি চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য, চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক ও উপপরিচালক, সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সুপারিশসহ প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর পর নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের সময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সাথে ধাক্কা লেগে নিখোঁজ হওয়া ঝিনাইদহের শৈলকুপার পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাকিবুজ্জামান রকির (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার সকালে নিখোঁজের ৩৫ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে ১৩০ জন যাত্রী বহনকারী বাল্কহেডের সাথে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সংঘর্ষের ফলে প্রথমে ৩ জন নিখোঁজ হয়। দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকি নিখোঁজ ছিলেন।
নৌকা ভ্রমণে অংশগ্রহণকারী যাত্রীরা জানিয়েছেন, ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাতলা গাড়ি ঘাট থেকে ১৩০ জন ভ্রমণকারী নিয়ে তারা ভেড়ামারা উপজেলার সোলাইমান শাহ মাজারে বেড়াতে আসেন। এছাড়াও ওই নৌকায় মাঝিসহ আরও বেশ কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন।
মাজার দর্শনের পর রাত সোয়া ৯টার দিকে তারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিকট পৌঁছান। এ সময় প্রবল স্রোতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের চার নম্বর পিলারের সাথে বাল্কহেডের পেছনের অংশের সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনার ফলে রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান। লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকি নিখোঁজ ছিলেন।
খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস, ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস এবং নৌ পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুর রহমান জানান, রকিকে উদ্ধারের জন্য নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বেশ কিছু ইউনিট কাজ করছিল। আজ সকালে দুর্ঘটনাস্থলের অদূরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে পদ্মা নদীতে তার মরদেহ ভেসে উঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ