০৪:৪৯ পি.এম
ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, দেশের শিল্প ও অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য কেবল অর্থ উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করলেই হবে না, প্রয়োজন টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা।
আজ ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবা) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতে সংকট : সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে সেখানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন।
আরও পড়ুন: মেহেরপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি
মন্ত্রী বলেন, এলএনজি অবকাঠামোতে কোনো একটি স্থাপনায় দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে সারা দেশের শিল্প-কারখানায় এর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা এবং সময় নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, শিল্প-কারখানাগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তা, বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ খোঁজা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরে অল্প সময়ের মধ্যেই শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। জ্বালানি খাতের সংকট এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রয়োজন।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সতর্কতার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে কিছু রিজার্ভেশন রয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
তিনি বলেন, 'সুতরাং আমাদেরকে খুব সতর্কতার সঙ্গে এই পাওয়ার স্টেশনগুলোর দিকে এগোতে হবে।' সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার এগ্রেসিভ পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাত্র দুই মাসের মধ্যে একটি নতুন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নীতিতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ বছরের কর অবকাশও রয়েছে।
তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগকারীদের হয়রানি বন্ধে সরকার নীতিমালায় উল্লিখিত সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন করবে। 'আমাদের ইচ্ছা এবং মনে হয় এটা সম্ভবÑআমাদের যে টার্গেট ১০ হাজার মেগাওয়াট, সেটা আমরা করতে পারব।'
তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ করে ওপেক্স মডেলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা শহর থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগের পরিবর্তে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এআই ক্যামেরা স্থাপন হচ্ছে
এলাকাভিত্তিক জায়গা নির্ধারণ করে বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, কেবল টেলিভিশন বা ওয়াই-ফাই ব্যবসার মতো রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেও বিনিয়োগকারীরা গ্রাহকের কাছ থেকে বিল আদায় করতে পারবেন। ফলে সবকিছুর জন্য সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন নেই।
জমি দিয়ে বিনিয়োগে অংশীদার হওয়ার পরিকল্পনা বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে সরকারি জমি ব্যবহারের বিষয়ে একটি অংশীদারিত্বমূলক মডেলের কথাও জানান মন্ত্রী।
জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রকল্পের জন্য জমি দিতে পারে এবং বিনিয়োগের কাঠামোর মধ্যে ওই জমির মূল্যকে সরকারের শেয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আমার মনে হয়, এর চেয়ে ভালো প্রপোজাল আর হয় না।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জ্বালানি তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে আরও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও আতঙ্কে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। পরবর্তীতে কালোবাজারি ও অনলাইনভিত্তিক জ্বালানি বিক্রির ঘটনাও দেখা যায়।
এ পরিস্থিতির পর বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও সুযোগ দেওয়া হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহ: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়
তিনি বলেন, 'একটা সরকারি থাকুক, আরেকটা বেসরকারি থাকুক-যেমন ইন্ডিয়াতে আছে।' জ্বালানি আমদানির নীতিমালা কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ নাকচ করে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ আইন বা নীতিমালা হলে তা কোনো একটি কোম্পানির জন্য হবে না, সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
তিনি বলেন, 'একটা নির্দিষ্ট কোম্পানিকে দেওয়ার জন্য আমরা এটা করছি' এমন ধারণা ঠিক নয়। জ্বালানি খাত নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো ও সংকট বাড়ানোর চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিনিয়োগ প্রস্তাব আকর্ষণীয় ও শিল্পের জন্য সহায়ক হলে দ্রুত অনুমোদনের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, 'প্রপোজাল যদি অ্যাট্রাক্টিভ হয় এবং আমার ইন্ডাস্ট্রির জন্য হেল্পফুল হয়, অবশ্যই আমরা কোনো সময় নষ্ট করব না।'
আরও পড়ুন: আইফোনের জন্য বন্ধুকে খুন করেছে সায়েল মিয়া
মন্ত্রী আরও বলেন, বেসরকারি খাতের প্রস্তাব সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে। প্রস্তাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। পারফর্ম একা একা করা যায় না, সবাইকে নিয়ে করতে হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন