ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকায় পায়ে ব্যথা ও ফোলা? সমাধান দেবে এই ব্যায়াম


দীর্ঘক্ষণ বসে থাকায় পায়ে ব্যথা ও ফোলা? সমাধান দেবে এই ব্যায়াম

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার ফলে পায়ে ব্যথা, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া এবং গোড়ালিতে অস্বস্তির সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ে ব্যথা, ফোলা কিংবা ঘন ঘন কালশিটে পড়া কখনো কখনো জটিল রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। তাই এসব সমস্যাকে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়া জরুরি।

পায়ের ব্যথা কমাতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকরা নিয়মিত ব্যায়ামের পরামর্শ দিচ্ছেন। এর মধ্যে একটি সহজ ব্যায়াম হলো ‘অ্যাঙ্কল বেন্ডিং’, যা চেয়ারে বসে করা সম্ভব। অফিসে কাজের ফাঁকেও এই ব্যায়াম অনুশীলন করা যায়।

আরও পড়ুন: পুরুষদের চেয়ে নারীরা কেন বেশি দিন বাঁচেন?

মাত্র কয়েক ধাপে এই ব্যায়ামটি করা সম্ভব। প্রথমে চেয়ারে সোজা হয়ে বসতে হবে, মাথা, ঘাড় ও পিঠ সোজা রাখতে হবে। এরপর দুই পা সামনে প্রসারিত করে শ্বাস নিতে নিতে গোড়ালি মাটিতে রেখে পায়ের আঙুল ওপরে তুলতে হবে। এরপর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে গোড়ালি তুলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিতে হবে। এইভাবে দুই ধাপ পর্যায়ক্রমে ৫ থেকে ৭ বার করতে হবে এবং প্রতিটি অবস্থানে কয়েক সেকেন্ড স্থির থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত অ্যাঙ্কল বেন্ডিং করলে হাঁটুর ব্যথা কমতে পারে, কাফ মাসলের যন্ত্রণা দূর হয় এবং সায়াটিকার ব্যথাতেও উপকার মেলে। আর দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা ব্যক্তিদের পায়ে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং পেশির শক্তি বৃদ্ধি পায়। হাই হিল জুতা পরার কারণে গোড়ালিতে ব্যথা হলেও এই ব্যায়াম সহায়ক হতে পারে।

যাদের হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ব্যায়াম করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত অনুশীলন পায়ের নানা সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন এআই প্রযুক্তি, সাফল্য অক্সফোর্ডের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০০ এম


উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন এআই প্রযুক্তি, সাফল্য অক্সফোর্ডের

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ১৩০ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনে ভুগছেন। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া এবং অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এটি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, কারণ এটি কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।

সাধারণত রক্তচাপ মেপে এই রোগ নির্ণয় করা হলেও তা শরীরের ভেতরে ইতোমধ্যেই ঘটে যাওয়া ক্ষতির প্রকৃত রূপ প্রকাশ করতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের গবেষকরা ‘হাইপ্রিভেন্ট’ নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এই প্রযুক্তি উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইনোভেশনসের তথ্যমতে, ‘হাইপ্রিভেন্ট’ প্ল্যাটফর্মটি একটি অভিনব কম্পিউটেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে এবং এটি এআই, কন্ট্রাস্টিভ লার্নিং এবং বিভিন্ন অঙ্গের ক্লিনিকাল ও ইমেজিং ডেটার সমন্বয়ে কাজ করে।

এটি কেবল রক্তচাপের রিডিংয়ের ওপর নির্ভর না করে, বরং বিভিন্ন অঙ্গের ডেটা বিশ্লেষণ করে রোগের তীব্রতার ধরন এবং এর গতিপ্রকৃতি মানচিত্রের মতো ফুটিয়ে তোলে। সুস্থ এবং উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত উভয় শ্রেণির মানুষের ডেটা দিয়ে এই এআই-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, ফলে এটি নিখুঁতভাবে রোগীর শারীরিক ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণ করতে পারে।

গবেষকদের মতে, একই রক্তচাপের রিডিং থাকা দুজন রোগীর অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতি এবং ভবিষ্যতের কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকির মাত্রা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। ‘হাইপ্রিভেন্ট’ ঠিক এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটিই ধরে ফেলে।

দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ শরীরের রক্তনালী এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মারাত্মক ক্ষতি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে মারা যান।

বিশেষজ্ঞরা উচ্চ রক্তচাপজনিত অঙ্গের ক্ষতি বা এইচএমওডি-কে চিহ্নিত করাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে হার্টের পেশি পুরু হয়ে যাওয়া, কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস, ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়া, মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম রক্তনালীর ক্ষতি, এবং চোখের রেটিনার সমস্যা। ‘জার্নাল অব হিউম্যান হাইপারটেনশন’-এ প্রকাশিত গবেষণা বলছে, এই অঙ্গগুলোর ক্ষতিই যেহেতু রোগীর ভবিষ্যৎ হার্ট অ্যাটাক বা মৃত্যুর সবচেয়ে বড় পূর্বাভাস, সাধারণ পরীক্ষায় এই ক্ষতিগুলো ধরা পড়ে না। এখন এই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে আগেভাগেই ধরা সম্ভব।

অক্সফোর্ডের এই উদ্যোগটি মূলত কার্ডিওভাসকুলার চিকিৎসায় এআই ব্যবহারের একটি ধারাবাহিক অংশ। এর আগে ২০২৪ সালে অক্সফোর্ডের র্যাডক্লিফ ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিনের গবেষকরা একটি এআই সিস্টেম তৈরি করেছিলেন যা নিয়মিত কার্ডিয়াক সিটি স্ক্যান বিশ্লেষণ করে ১০ বছর আগেই হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেইলিউরের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। সম্প্রতি আরেকটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষকরা উপসর্গ দেখা দেওয়ার অন্তত ৫ বছর আগেই ৮৬ শতাংশ নির্ভুলতায় হার্ট ফেইলিউরের পূর্বাভাস দিতে পেরেছেন।

ভবিষ্যতের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে সফল হলে ‘হাইপ্রিভেন্ট’ রোগীদের জন্য বেশ কিছু বড় সুবিধা নিয়ে আসবে। তাতে দ্রুত রোগ নির্ণয়, ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা, এবং নতুন ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়া সহজ হবে।

তবে প্রযুক্তিটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হলেও, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ চিকিৎসায় নিয়মিত ব্যবহারের আগে বিভিন্ন জাতি ও অঞ্চলের মানুষের ওপর এর ব্যাপক পরীক্ষা প্রয়োজন। এই এআই সিস্টেমটি যেন কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে এবং বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তা নিশ্চিত করার পরই এটি বিশ্বজুড়ে ব্যবহারের অনুমোদন পাবে।

সবশেষে, অক্সফোর্ডের ‘হাইপ্রিভেন্ট’ প্ল্যাটফর্মটি উচ্চ রক্তচাপের সুপ্ত শারীরিক প্রভাবগুলো বোঝার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। চিকিৎসা বিজ্ঞান যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আপন করে নিচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবেই উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের জীবন বাঁচাতে এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের ওপর উচ্চ রক্তচাপের চাপ কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুইংগাম চিবোলে কি সত্যিই মুখের চর্বি কমে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ এম


চুইংগাম চিবোলে কি সত্যিই মুখের চর্বি কমে?

মুখের গঠন আরও আকর্ষণীয় করতে বা জওলাইন স্পষ্ট দেখানোর উদ্দেশ্যে অনেকেই নিয়মিত চুইংগাম চাবান। যাদের মধ্যে এই বিশ্বাস রয়েছে যে, এতে মুখের অতিরিক্ত মেদ কমে যায় এবং মুখ আরও চিকন দেখায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেন এবং তারা বলেন, এই ধারণার পক্ষে তেমন কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

অর্থোপেডিক সার্জন ও ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এটি সম্পর্কে বলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চুইংগাম চাবানোর প্রভাব মুখের চর্বির ওপর নয়, বরং চোয়ালের পেশি ও জয়েন্টের ওপর বেশি পড়ে।

চোয়ালের দুই পাশে টেম্পোরোম্যান্ডিবুলার (টিএম) জয়েন্ট আমাদের কথা বলা, খাবার চিবানো এবং মুখ নড়াচড়া করার কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাঝে মাঝে চুইংগাম চাবানো সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একই কাজ করতে থাকলে চোয়ালের জয়েন্ট ও আশপাশের পেশিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এর ফলে এক ধরনের পুনরাবৃত্ত চাপজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত চুইংগাম চাবানোর কারণে চোয়ালে ক্লিক বা টিকটিক শব্দ হওয়া, জয়েন্টে অস্বস্তি বা শক্তভাব অনুভব করা, কানের পাশ কিংবা কপালে মাথাব্যথা এবং খাবার চাবানোর সময় ব্যথা হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

মুখের মেদ কমানোর বিষয়ে চিকিৎসকরা বলেন, চুইংগাম চাবানোর ফলে চোয়ালের পেশি কিছুটা সক্রিয় বা শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু এর মাধ্যমে মুখের চর্বি কমানো সম্ভব নয়। শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অংশের মেদ শুধুমাত্র সেই অংশ বেশি ব্যবহার করলেই কমে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। ফলে চুইংগাম চিবিয়ে মুখ চিকন করার দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, চোয়ালের জয়েন্টকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া উচিত। তাই মাঝে মাঝে চুইংগাম খাওয়া যেতে পারে, তবে দীর্ঘ সময় ধরে চাবানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো। মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে বা দ্রুত জওলাইন তৈরি করতে অতিরিক্ত চুইংগামের ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই বেশি কার্যকর। অতিরিক্ত চাবানোর ফলে বরং চোয়ালে ব্যথা ও অন্যান্য অস্বস্তি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এই স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো থাকলে গরমে বাড়তি সতর্কতা জরুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ এম


এই স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো থাকলে গরমে বাড়তি সতর্কতা জরুরি

প্রচণ্ড গরমে কেউ স্বাভাবিকভাবে দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, আবার কেউ অল্প সময় রোদে থাকলেই ক্লান্ত, দুর্বল কিংবা অস্বস্তিবোধ করেন। একই পরিবেশে থেকেও মানুষের গরম অনুভব করার মাত্রা কেন ভিন্ন হয়— এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে শরীরের ভেতরের নানা শারীরিক অবস্থার মধ্যে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আবহাওয়ার তাপমাত্রাই নয়, বরং কিছু স্বাস্থ্যসমস্যা শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। ফলে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি গরম অনুভূত হয়, অতিরিক্ত ঘাম হয়, মাথা ঘোরে কিংবা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই গরমের সময়ে নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১. থাইরয়েডের সমস্যা: শরীরের ভেতরেই তৈরি হয় অতিরিক্ত তাপ। বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) দ্রুততর হয় এবং স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপ উৎপন্ন হয়। ফলে— সবসময় গরম অনুভূত হতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। অস্থিরতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

২. ডায়াবেটিস: তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাধা। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস শরীরের স্নায়ুতন্ত্র ও ঘামগ্রন্থির কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে শরীর প্রয়োজনমতো ঘাম তৈরি করতে পারে না, যা স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে— গরমে অস্বস্তি বেড়ে যায়। শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে।

৩. হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ: রক্তসঞ্চালনের সীমাবদ্ধতা। হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের শরীরে রক্তপ্রবাহ অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। শরীরের অতিরিক্ত তাপ বাইরে বের করে দেওয়ার জন্য কার্যকর রক্তসঞ্চালন প্রয়োজন হয়। যখন এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে, তখন— শরীরে তাপ জমে থাকে। গরম বেশি অনুভূত হয়। ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে।

৪. স্থূলতা: শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত তাপ। অতিরিক্ত ওজন বা স্থুলতা গরমের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি প্রাকৃতিকভাবে তাপ ধরে রাখে, ফলে শরীর সহজে ঠান্ডা হতে পারে না। ফলে— দ্রুত ঘাম হয়। হাঁপিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। দীর্ঘ সময় গরম সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।

৫. অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা: গরমে বাড়ে দুর্বলতা। রক্তস্বল্পতায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে সমস্যা হয়। এর ফলে গরমের সময়ে শরীর দ্রুত শক্তি হারিয়ে ফেলে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো— মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা, অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া।

৬. মেনোপজ ও হরমোনজনিত পরিবর্তন: হঠাৎ গরম লাগার অন্যতম কারণ। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে ‘হট ফ্ল্যাশ’ নামে পরিচিত একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়। এ সময়— হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত ঘাম হয়। স্বাভাবিক আবহাওয়াতেও অস্বস্তি তৈরি হয়। এছাড়া গর্ভাবস্থা এবং মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়েও হরমোনের ওঠানামার কারণে শরীর তাপমাত্রার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

৭. পানিশূন্যতা: গরম সহ্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে ঘাম উৎপাদন কমে যায়। ফলে— শরীর ঠান্ডা হতে পারে না। গরম আরও বেশি অনুভূত হয়। হিট এক্সহস্টশন ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

৮. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অনেকেই জানেন না যে কিছু ওষুধও গরম সহ্য করার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে— উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধ, ডাইইউরেটিক (মূত্রবর্ধক) ওষুধ, মানসিক রোগের কিছু ওষুধ। এসব ওষুধ শরীরের পানি ও খনিজের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে, ফলে গরমে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

গরমে এসব সমস্যা থাকলে কী করবেন? যারা উপরের যেকোনো স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে, তাদের গরমের সময়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। করণীয়— পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করুন। প্রয়োজন হলে ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করুন। দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুন। হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান না করুন। অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। শীতল ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে থাকার চেষ্টা করুন।

আরও পড়ুন: শুধু পানি নয়, ডিহাইড্রেশন রোধে দরকার ইলেকট্রোলাইট

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন? গরমের কারণে যদি— মাথা ঘোরা, অত্যধিক দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ঘাম, বমিভাব, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন এর মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এগুলো গুরুতর পানিশূন্যতা বা হিট স্ট্রোকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

গরমের তীব্রতা সবার জন্য এক রকম হলেও তা সহ্য করার ক্ষমতা সবার সমান নয়। থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্থূলতা, রক্তস্বল্পতা, হরমোনজনিত পরিবর্তন কিংবা পানিশূন্যতার মতো বিভিন্ন শারীরিক অবস্থা একজন মানুষকে অন্যদের তুলনায় বেশি গরম অনুভব করাতে পারে। তাই শুধু আবহাওয়াকে দায়ী না করে নিজের স্বাস্থ্যগত অবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সচেতনতা, পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে গরমজনিত ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে সুস্থ ও নিরাপদ থাকা সম্ভব।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এনসিপিসহ ৭ দলকে শোকজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ এম


নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এনসিপিসহ ৭ দলকে শোকজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয়ের বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দেওয়ার কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ সাতটি রাজনৈতিক দলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ইসির মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক সাতটি চিঠি সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব দল প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর ৪৪গগগ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচন শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ইসি জানিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যয়ের বিবরণী জমা না পাওয়ায় গত ১৬ মার্চ চিঠি দিয়ে ১৩ মে’র মধ্যে তা দাখিলের অনুরোধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯ মে সতর্কীকরণ নোটিশ দিয়ে ১৩ জুনের মধ্যে হিসাব জমা দিতে বলা হলেও, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাবার পরও দলগুলো তা দাখিল করেনি।

আরপিওর ৪৪গগগ (৫) অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, নির্ধারিত সময়ে ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে কমিশন ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করে সময় বাড়াতে পারে। এরপরও যদি হিসাব দাখিল না করা হয়, তবে নিবন্ধন বাতিলের সুযোগ রয়েছে।

নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন ১০ হাজার টাকা জরিমানাসহ ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

যেসব দলকে শোকজ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এবং আমজনতার দল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%