১১:৩৬ পি.এম
রাজশাহীর তানোর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কক্ষে মৃত এক গৃহবধূর কান থেকে সোনার গহনা (রিং) খুলে নিয়েছে হাসপাতালের মালি। বিষয়টির (প্রমাণ) সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে মালি রায়হান আলী লাপাত্তা রয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকাবাসী এবং আত্মীয়দের মধ্যে হতাশা ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পোষ্যতার ভাই বাদি হয়ে মালির বিরুদ্ধে টিএইচও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং নিহতের পরিবার জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তানোর উপজেলার তালন্দ ইউপির সুখদেবপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, যে তিন সন্তানের জননী, লিপি বেগম (৪২) পেশাগত কারণে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় আত্মীয়রা অটো ভ্যানের মাধ্যমে তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন, কিন্তু চিকিৎসারত অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু ঘটেছে। জরুরী বিভাগের বেডে থাকা গৃহবধূর (লাশের) কান থেকে সোনার গহনাটি খুলে নেয় মালি রায়হান আলী। পরে লাশ বাড়ি ফিরানোর পর, গৃহবধূর শ্বাশুড়ি দেখতে পান যে কানের গহনা রিংটি নেই এবং বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গৃহবধূর বাবার বাড়ির আত্মীয়দের জানানো হয়। পরবর্তীকালে, রাতেই গৃহবধূর আত্মীয়রা তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসককে বিষয়টি জানান এবং সন্দেহভাজন হিসেবে মালি রায়হান আলীকে উল্লেখ করেন। ঘটনার পর থেকে মালি রায়হান আলী হাসপাতাল আসেননি। বুধবার সকালে গৃহবধূর লাশ দাফনের পর, গৃহবধূর আত্মীয়রা তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে মালি রায়হান আলী গৃহবধূর কান থেকে সোনার গহনা রিং খুলে নেয়ার ঘটনার প্রমাণ দেখতে পান। এই ঘটনা নিয়ে গৃহবধূর ভাই মিঠুন বাদি হয়ে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মালির বিরুদ্ধে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার জোবাইদা রহমান বলেন, রোগীর অবস্থা খুবই আশংকাজনক ছিল। আমি এবং মেডিকেল অফিসার ওই রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছিলাম, এ অবস্থায় রোগী মারা যায়। চিকিৎসার ছাড়পত্র দেয়ার বিষয়ে আমরা ব্যস্ত ছিলাম। সেই ফাঁকে রোগীর কান থেকে সোনার গহনা রিং খুলে নেয় মালি রায়হান আলী। যা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। মালি রায়হান স্থানীয় হওয়ায় রোগী তার আত্মীয় বলে জানিয়ে জোর করে জরুরী বিভাগের কক্ষে প্রবেশ করে। বার বার বলাসত্ত্বেও তাকে বের করা যায়নি। রাত ১টার দিকে আমার কাছে খবর আসে মৃত রোগীর কান থেকে সোনার গহনা রিং হারিয়ে গেছে। ডাক্তার বলেন, মৃত রোগীর লাশ নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই মালি রায়হান হাসপাতলে আর আসেননি।
তারের মালি রায়হান আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে প্রথমে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন, তবে সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণ মিলেছে এমন আলোচনার পর বলেন, মৃতের পর আমি সোনার গহনা কান থেকে খুলে একজন মহিলাকে দিয়েছি। জানতে চাইলে তিনি জানান, কাকে দিয়েছেন তিনি মনে রাখতে পারেননি। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়বে না এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার বারনাবাস হাসদাক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং মালি রায়হানকে সাময়িকভাবে তার কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ হত্যা: ৫ দিন পর শুটার শামীমের ভাগনে গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন