ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেরপুরে জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ২৯৪ সেবাপ্রার্থীর সমস্যা উপস্থাপন


শেরপুরে জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ২৯৪ সেবাপ্রার্থীর সমস্যা উপস্থাপন

শেরপুর, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়, যেখানে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মোট ২৯৪ জন সেবাপ্রার্থী তাদের সমস্যা ও আবেদন উপস্থাপন করেন। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬৯ জনকে মোট ৮০ হাজার নয়শ’ টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে প্রশাসনের সাথে তামাশা, দুই দফা অভিযানের পরও অসাধু ব্যবসায়ীদের দখলে ফুটপাত

এছাড়া, গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক বিভিন্ন সহায়তার জন্য আবেদন গ্রহণ করেন। এর মধ্যে সেলাই মেশিনের জন্য ৫ জন, ঢেউটিনের জন্য ১৬ জন, ঘরের জন্য ৪ জন, ভ্যানগাড়ির জন্য ১ জন, হুইলচেয়ারের জন্য ৪ জন, বিধবা ও বয়স্ক ভাতার জন্য ১০ জন, চাকরির জন্য ২ জন এবং নলকূপের জন্য ১ জনের আবেদন গ্রহণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালিয়াডাঙ্গীতে তিন অসচ্ছল পরিবারের মেয়ের যৌতুকমুক্ত গণবিবাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


বালিয়াডাঙ্গীতে তিন অসচ্ছল পরিবারের মেয়ের যৌতুকমুক্ত গণবিবাহ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১৩ কনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্টের (GRT) অর্থায়নে তিন অসচ্ছল পরিবারের মেয়ের যৌতুকমুক্ত গণবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ওয়েল বিং বাংলাদেশ সোসাইটির (WBS) তত্ত্বাবধানে এবং ইমপ্লিমেন্টর হাফেজ মাওলানা মো. শরিফুল ইসলামের মাধ্যমে এ গণবিবাহের আয়োজন করা হয়।
গণবিবাহে রাবেয়ার সঙ্গে নুরনবী, রুখসানার সঙ্গে সাগর এবং পারুলের সঙ্গে মাসুদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনটি বিয়েই কোনো ধরনের যৌতুক ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে তিন কনের জন্য ঘর সাজানোর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র ও সামগ্রী প্রদান করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের সামগ্রীই কনেদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, পুরো আয়োজনটি ছিল সম্পূর্ণ যৌতুকমুক্ত। তিন পরিবারের কাউকেই বিয়ের জন্য কোনো ধরনের অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। বিবাহের যাবতীয় খরচ গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্ট বহন করেছে।
বিবাহ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ১৩ কনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এতে কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিয়ে শেষে নবদম্পতিদের জন্য দোয়া মাহফিল ও অতিথিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
ইমপ্লিমেন্টর হাফেজ মাওলানা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্ট সারা বাংলাদেশে অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এ ধরনের গণবিবাহের আয়োজন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে তিনটি অসচ্ছল পরিবারের মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন বলেন, “অর্থের অভাবে অনেক অসচ্ছল পরিবার মেয়েদের বিয়ে দিতে সমস্যায় পড়েন। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য সহায়ক। ভবিষ্যতেও আরও অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হবে—এটাই প্রত্যাশা।”
আয়োজকরা জানান, অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং যৌতুকমুক্ত বিয়ের মাধ্যমে সামাজিকভাবে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রহস্যজনক কারণে বন্ধ শ্যামপুর সুগার মিল, বেকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


রহস্যজনক কারণে বন্ধ শ্যামপুর সুগার মিল, বেকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন

বছরের পর বছর রহস্যজনক কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকার ফলে রংপুর অঞ্চলের একমাত্র রাষ্টায়ত্ব ভারী শিল্প শ্যামপুর সুগার মিলের দেনার পরিমাণ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। গুনেগুনে ৫ বছর ধরে বন্ধ থাকার কারণে মিলটিতে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই, শ্রমিক-চাষি কিংবা দর্শনার্থীদের আনাগোনা নেই। এক সময়ের জমজমাট ও ব্যস্ততম এলাকা মিল চত্বরটি এখন সন্ধ্যা হলেই ভূতুড়ে পরিবেশে পরিণত হয়। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে মূল্যবান মেশিনপত্র ও যানবাহন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্যবহার না করায় মরিচা ধরে ভেঙে-খুলে পড়ছে একের পর এক ট্রাক্টর। লোকসান ঠেকাতে এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান বজায় রাখতে বিকল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের প্রস্তাবটিও আমলাতন্ত্রের লাল ফিতায় বন্দি হয়ে আছে, ফলে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। অনেকের ধারণা, মিলটিকে ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

যদিও এই মিলটি চালু হলে একদিকে কয়েক শত বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে রংপুর জেলার ৮টি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় আখ চাষের মাধ্যমে হাজার হাজার কৃষিজীবি ও কৃষক পরিবার উপকৃত হবে। শুধু কৃষক ও কৃষি সম্পৃক্ত মানুষ নয়, এর সাথে আয়ের পথ সুগম হবে আরও অনেক মানুষের।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকায় প্রায় ১’শ ৪৫ একর জমির ওপর নির্মিত হয় শ্যামপুর সুগার মিল। রংপুর অঞ্চলের একমাত্র ভারী শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই মিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মাড়াই শুরু হয় ১৯৬৭ সালে। মিলটির দৈনিক আখ মাড়াইয়ের ক্ষমতা ১ হাজার ১৬ মেঃ টন। সে হিসেবে বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ধরা হয় ১০ হাজার ১’শ ৬১ টন। বছরে আখ মাড়াই মৌসুমে মিলটি চালু থাকে তিন মাস। চালুর পর থেকেই মিলটি অত্যন্ত সাফল্যের সাথে লাভের মুখ দেখলেও কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা/কর্মচারীর অনিয়ম-দুর্নীতি, অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা এবং নানা কারণে ২০০০ সাল থেকে টানা লোকসানের মুখে পড়ে মিলটি। ব্যাংক ঋণ, ঋণের সুদ, বকেয়া বেতন ও শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন খাত মিলে শেষ পর্যন্ত লোকসান বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬’শ কোটি টাকায়। এ অবস্থায় শিল্প, বাণিজ্য, অর্থ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি মিলটির মাড়াই কার্যক্রম বন্ধের সুপারিশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০-২১ মাড়াই মৌসুমে মিলের কার্যক্রম বন্ধ করে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন। এই বন্ধের ঘটনাটির শেষ পরিণতি কী আদমজী পাটকলের অনুরুপ হতে চলেছে? এমন মন্তব্য সচেতন মহলের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিলটি চালু থাকা অবস্থায় ৪শ ৯৩ জন স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন। বন্ধের পর অনেকেই অবসর গ্রহণ করেছেন এবং কিছু জনবল অন্য মিলে বদলি করা হয়েছে। অনেকেই এখনও বকেয়া বেতন না পেয়ে এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

সরেজমিনে মিলটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, লোকসানের অজুহাতে বন্ধ করে দেয়া মিলটি এখন গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নিরবে-নিভৃতে পড়ে আছে সব মেশিনপত্র ও পরিবহনগুলো। মিল চত্বরে কর্মচাঞ্চল্য নেই, শ্রমিক-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা নেই। ফাঁকা জমিগুলোতে শ্রমিকরা ভুট্টা, আলু ও ধানসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। মিল চত্বরে চরে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগল আর ভেড়া। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকার মেশিনগুলোতে মরিচা ধরে ভেঙে পড়ছে। বাইরে পড়ে থাকা আখ পরিবহনে ব্যবহৃত অসংখ্য ট্রাক্টর রোদ-বৃষ্টিতে মরিচা ধরে ভেঙে পড়ছে। ছাউনি ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে মূল্যবান মেশিনগুলির যন্ত্রপাতি মরিচায় ক্ষয়ে যাচ্ছে। গোটা কারখানার ভিতরে গজিয়ে উঠেছে জঙ্গল। দুস্কৃতিকারীরা মেশিনসহ পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টরগুলোর যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে। এলাকাবাসী জানায়, মিলটি বন্ধের পর থেকে এর মূল্যবান সম্পদগুলো নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বেহাত হয়ে যাচ্ছে এবং এখনও যাচ্ছে। এগুলো যেন দেখার কেউ নেই। যে যেভাবে পারছে যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা হলেই মিল চত্বরে ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মাদক সেবিদেরও আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে মিল চত্বরটি।

এদিকে, বিষয়গুলি নিয়ে মিল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ চাষিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। মিল এলাকায় আখ উৎপাদন কমে যাওয়া ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে লোকসানের বোঝা বাড়ছে বলে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও তা মানতে নারাজ শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ চাষিরা। শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ চাষীদের দাবী- সাবেক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, অদক্ষ জনবল ও অব্যবস্থাপনা সহ নানা কারণে লোকসানে পড়ে মিলটি। আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, পুরনো মেশিনপত্র মেরামত এবং সর্বোপরি দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে চালু করলে যথেষ্ট লাভের মুখ দেখবে। পাশাপাশি মিলের নিজস্ব জায়গায় আলুর কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন এবং পিপি ব্যাগ ও চিনির প্যাকেট তৈরির কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিত্যক্ত সম্পদ ব্যবহার করা যেতে পারে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা বেশ কিছুদিন আগে দেয়া হলেও এখনও তার আলোর মুখ দেখছে না।

মিলের একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিকল্প আয়ের উৎস করতে না পারায় অনেকেই কৃষিকাজ কিংবা অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। চরম আর্থিক সমস্যা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন শ্রমিক-কর্মচারীগণ।

মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, চিনিকলটি সচল থাকাকালে এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক গতি ছিল। মিল চত্বর এবং আশপাশের এলাকা মিলে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেন-দেন হতো। কিন্তু এখন এলাকা নিরব-নিস্তব্ধ। কর্মচঞ্চল এলাকাবাসী এখন দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। আখচাষিরা বেকার, পরিবহন শ্রমিক ও কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে মিলটি চালু হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে। বদলে যাবে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-যাত্রা।

মিলের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম একটি ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্যামপুর সুগার মিল। এই মিলের সাথে জড়িত ছিল কয়েক হাজার পরিবার। কিন্তু মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ চাষীদের মাঝে দুর্বিষহ অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে মিলটি উৎপাদনমুখী করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মিলের নিজস্ব জায়গায় আলুর কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন এবং পিপি ব্যাগ ও চিনির প্যাকেট তৈরির কারখানা স্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেসব প্রস্তাবনা আলোর মুখ দেখছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড, আবদুল মজিদ ইনকিলাবকে বলেন, শ্যামপুর চিনিকলের আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। যত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ততই হবে মঙ্গলজনক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় পাগলা শিয়ালের কামড়ে শিশুসহ ১১ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ পি.এম


পাবনায় পাগলা শিয়ালের কামড়ে শিশুসহ ১১ জন আহত

পাবনার সাঁথিয়ায় লোকালয়ে প্রবেশ করে একটি ‘পাগলা’ শিয়ালের কামড়ে শিশু ও নারীসহ মোট ১১ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে সাঁথিয়া পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড শালঘর মহল্লা এবং সাতবিলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শালঘর মহল্লার মো. রফিকের বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে বাঁধা একটি ছাগল প্রথমে শিয়ালের আক্রমণের শিকার হয়। এরপর শিয়ালটি একের পর এক গ্রামে প্রবেশ করে আরও কয়েকজনকে কামড়ে আহত করে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন শালঘর এলাকার বাদশার মেয়ে জুবাইদা (৪), মংলা খাতুন (৭০), আলেয়া (২৫), ওয়াজ কুরুনি (৭), শাহিদা (৫০), সোনিয়া (১৪)।

এছাড়া গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের সাতবিলা গ্রামের সাব্বিরের মেয়ে সিনহা (৩), লাকি (৩০), বায়জিদ (০৬), রেহেনা (৪২), সামসুর (২২) পাগলা শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন।

পরে স্থানীয়রা শিয়ালটিকে একটি ঝোপ থেকে সাড়ে পাঁচটার দিকে ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাহফুজ আহমেদ জানিয়েছেন, আহতদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাইমা রহমান জাতিসংঘে মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন: মাহ্দী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


জাইমা রহমান জাতিসংঘে মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন: মাহ্দী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই পি-৩ পজিশনে নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তার পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে এই পদটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও জানান, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর নিয়ে ব্রিফিংয়ের সময় মাহ্দী আমিন বলেন, "আপনারা নিজেরাই তো বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।" তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে কোনো চাকরি দেয়া হয়নি, এমনকি জাতিসংঘের বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনেও তার কোনো পদায়ন হয়নি। তিনি চাকরি পেয়েছেন সরাসরি জাতিসংঘের সদরদপ্তরে, ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে।

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়মকানুন ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার অধীনে তাদের নির্বাহী কার্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্সেস টিম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই আন্তর্জাতিক নিয়োগটি সম্পন্ন করেছে। তার নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া ও আর্থিক সুবিধাদি জাতিসংঘ সরাসরি বহন করে, যেখানে সরকারের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, "যে কেউ চাইলে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখলেই এই পদের যাবতীয় তথ্য ও নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাই করতে পারবেন।"

মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘের প্রফেশনাল কাঠামোতে পি-১ হলো নতুন স্নাতকদের জন্য, পি-২ এর জন্য ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা লাগে এবং পি-৩ পদের জন্য প্রয়োজন হয় অন্তত পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতা। এর ওপরে পি-৪, পি-৫ বা ডিরেক্টর লেভেলের উচ্চপদ রয়েছে। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এই পি-৩ পজিশনে নিযুক্ত হয়েছেন। তার পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে এই পদটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, অতীতে আমরা যে ধরনের রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক মিশনে পদায়ন কিংবা প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্তির সংস্কৃতি দেখেছি, তিনি কিন্তু সেভাবে যাননি। তিনি বাংলাদেশ সরকারি প্রতিনিধিদলেরও কোথাও সম্পৃক্ত হননি। তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব পেশাগত সক্ষমতা ও যোগ্যতায় বিশ্বদরবারে জাতিসংঘের মতো সংস্থায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। নিজের মেধার জোরে আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানোকে আমাদের বরং সাধুবাদ জানানো উচিত। এই ধরনের সফলতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের একটি ঐতিহাসিক সফর শেষে সম্প্রতি বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি বহরে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সফর করেন। তিনি জানান, "আমরা টার্কিশ এয়ারওয়েজে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাই এবং ফেরার সময় এমিরেটস এয়ারলাইন্সে দেশে ফিরে আসি।" আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ছিল মাত্র ৩৫ জন, যার মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ পদমর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এর বাইরে সাধারণত যে ধরনের অত্যাবশ্যকীয় নিরাপত্তা কর্মী, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা থাকেন, কেবল তারাই উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও পুরো সফরজুড়ে এই চার দিনে প্রায় ৫০টির মতো পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। ফলে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টিরও অধিক বিভিন্ন ধরনের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আমাদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ততার কারণে প্রতিনিধিদলের বড় একটি অংশ নিয়ে দেশে ফিরে এলেও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে একটি টিম ক্যালিফোর্নিয়ায় গেছেন। সেখানে টেকনোলজি, ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে জাতিসংঘের বাইরে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁদের ধারাবাহিক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও জাতিসংঘে অত্যন্ত ব্যস্ত ও কার্যকর সময় অতিবাহিত করেছেন। তিনি ৮টি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ৩টিতে বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘ উইমেন লিডার্স প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করে তিনি বিশ্ব নারী নেতৃত্বের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। ওয়ার্ল্ড ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডিদের উপস্থিতিতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য দর্শনের কথা উপস্থাপন করেন। এছাড়া মিডওয়াইফারি সাইড ইভেন্টে একজন চিকিৎসক হিসেবে তার মূল্যবান সমাপনী বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশ্বের শীর্ষ ফার্স্ট লেডিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ে নির্বাচিত একটি সরকারের সরকারপ্রধান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক বিশাল ও বলিষ্ঠ পদচারণা ছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থকে তিনি অক্ষুণ্ণ রেখেছেন, সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার মাধ্যমে বিশ্বদরবারে দেশকে উজ্জ্বল করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে প্রতিটি দেশের সঙ্গে আমরা সুদৃঢ় অংশীদারিত্ব চাই, বিনিয়োগ চাই এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ চাই; যার মাধ্যমে আমরা দেশের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে পারব, স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে পারব এবং প্রতিটি মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারব ইনশাআল্লাহ।

বৈশ্বিক কূটনীতিতে এই সফরটি ছিল আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার এক দৃঢ় প্রত্যয় উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সমতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আজ এক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের হাত ধরে শুধু বাংলাদেশের ভেতরেই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ বড় ভূমিকা পালন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা দেখেছি বিশ্বসভায় বাংলাদেশ কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিল। আমাদের জাতীয় আত্মমর্যাদা, আত্মপ্রত্যয় এবং আত্মপরিচয় প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তার প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিফলিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রযাত্রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%